শুক্রবার, ১২ অগাস্ট ২০২২, ০৬:৪১ অপরাহ্ন
শিরোনাম
মোংলায় নাসা অ্যাপস চ্যালেঞ্জ বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন দলনেতা সুমিতকে সংবর্ধনা আমাদের শিক্ষা ও সংস্কৃতির ঐতিহ্য অন্তর্ভুক্ত করেই কারিকুলা বিশ্বমানের করতে হবে : খুবি উপাচার্য খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের  উপাচার্য সম্পাদিত গবেষণা গ্রন্থ প্রকাশ বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দর্শন বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে : সিটি মেয়র খুলনায় জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচি কুয়েটের বঙ্গবন্ধু চেয়ার প্রফেসর নিয়োগ পেলেন প্রফেসর ড. খুরশীদা বেগম রূপসায় বিভিন্ন অনিয়মের প্রতিবাদে প্রধান শিক্ষককে ৩ ঘন্টা অবরুদ্ধ, মানববন্ধন এবং ভাঙচুর নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মানোন্নয়নে সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন : সিটি মেয়র চুকনগরে কথিত সাংবাদিক ও সহযোগীদের চাঁদা দাবী : যুবকের আত্মহত্যা সময়ের চাহিদা অনুযায়ী আইন শিক্ষায় প্রযুক্তির সংশ্লেষ ঘটাতে হবে : খুবি উপাচার্য

সুন্দরবনে বাঘ সংরক্ষণ ও গবেষণা কার্যক্রম দ্রুত শুরু করা হবে  : পরিবেশ ও বনমন্ত্রী

সংবাদদাতার নাম :
  • প্রকাশিত সময় শনিবার, ৩০ জুলাই, ২০২২
  • ৯ পড়েছেন

ঢাকা অফিস।।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো: শাহাব উদ্দিন বলেছেন, সুন্দরবনের বাঘ সংরক্ষণের জন্য তিন বছর মেয়াদী ‘সুন্দরবন বাঘ সংরক্ষণ প্রকল্প’ শীর্ষক একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।এই প্রকল্পের আওতায় সুন্দরবনে তৃতীয়বারের মতো ক্যামেরা ট্র্যাপিংয়ের মাধ্যমে বাঘের জরিপ, বাঘের খাদ্যের সহজপ্রাপ্যতা বিশেষ করে হরিণ ও শূকর গণনা, সুন্দরবনের লোকালয় সংলগ্ন ৬০কিলোমিটার এলাকায় ফেন্সিং বা বেষ্টনী তৈরিসহ বাঘ সংরক্ষণ ও গবেষণা সংক্রান্ত কার্যক্রম দ্রতরই শুরু করা হবে।শুক্রবার বিশ্ব বাঘ দিবস উপলক্ষে বন অধিদফতর আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।প্রধান বন সংরক্ষক মো: আমীর হোসাইন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী বেগম হাবিবুন নাহার, সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ এবং অতিরিক্ত সচিব(প্রশাসন) ইকবাল আব্দুল্লাহ হারুন।অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইইউসিএন বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ রাকিবুল আমিন এবং প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবু। আলোচনা সভায় বিষয় ভিত্তিক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম মনিরুল এইচ খান, এবং খুলনার বন সংরক্ষক মিহির কুমার দো প্রমুখ।

বনমন্ত্রী বলেন, ২০১০সালে রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে অনুষ্ঠিত বাঘ সমৃদ্ধ ১৩টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের সম্মেলনে বাঘ সংরক্ষণকে বেগবান করার জন্য তৈরি ঘোষণাপত্রের আলোকে প্রতিবছর ২৯জুলাই বিশ্ব বাঘ দিবস পালন করা হচ্ছে। এ বছর বিশ্ব বাঘ দিবসের প্রতিপাদ্য ‘বাঘ আমাদের অহংকার, রক্ষার দায়িত্ব সবার’, যা সময়োপযোগী বলে আমি মনে করি।

তিনি আরও বলেন, সর্বশেষ ২০১৭-২০১৮সালে পরিচালিত জরিপের তথ্যানুযায়ী আমাদের সুন্দরবন অংশে ১১৪টি রয়েল বেঙ্গল টাইগার রয়েছে এবং ২০২০-২০২১ সালের জরিপ অনুসারে ভারতের সুন্দরবন অংশে আছে ৯৬টি বাঘ। আইইউসিএন গ্রোবাল স্পিশিজ রেড লিস্ট-২০২০ অনুসারে, বিশ্বে বাঘের সংখ্যা ৪হাজার ৪৮৫টি। কিন্তু অতীব দুঃখের বিষয় বন উজাড় ও অবৈধ শিকারের ফলে বেঙ্গল টাইগার বিশ্বে ‘বিপন্ন’ প্রজাতি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, বাঘ সংরক্ষণে বাংলাদেশ টাইগার অ্যাকশন প্ল্যান (২০১৮-২০২৭) প্রণয়ন করা হয়েছে। বাঘের অবাধ বিচরণ ও বংশবিস্তারের লক্ষ্যে সুন্দরবনের ৫২ শতাংশ এলাকাকে সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। একই সাথে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী(সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২-এর ধারা-৩৬তে বাঘ হত্যার জন্য ২বছর থেকে সর্বোচ্চ ৭বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং ১লাখ থেকে ১০লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড করা এবং একই অপরাধের পুনরাবৃত্তিতে ১২বছর কারাদণ্ড এবং ১৫লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। বাঘ হত্যাকে জামিন অযোগ্য অপরাধ বলে গণ্য করা হয়েছে। এছাড়া ‘অপরাধ উদঘাটনে তথ্য প্রদানকারীকে পুরস্কার প্রদান বিধিমালা, ২০২০’ জারি করা হয়েছে। এই বিধিমালায়, বাঘের ক্ষেত্রে, বনাঞ্চলের ভেতরে অপরাধী ধৃত হলে প্রদত্ত তথ্যের জন্য সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা এবং বনাঞ্চলের বাইরে ধৃত হলে প্রদত্ত তথ্যের জন্য সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা আর্থিক পুরস্কারের বিধান রাখা হয়েছে।

বনমন্ত্রী সুন্দরবনের বাঘ রক্ষার জন্য পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয় আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করেন এবং বাংলাদেশে ‘মহাবিপন্ন’ বাঘ সংরক্ষণের জন্য সরকার যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন তার উল্লেখ করে জানান, বাঘ-মানুষ দ্বদ্ধ নিরসনের লক্ষ্যে গঠিত ৪৯টি ভিলেজ টাইগার রেসপন্স টিমের কর্মতৎপরতার ফলে লোকালয়ে বাঘ আসামাত্র সংলগ্ন গ্রামগুলোতে দ্রততম সময়ে তা জানানো এবং সে অনুযায়ী সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে। সুন্দরবনের চারটি রেঞ্জে স্মার্ট পেট্রোলিং পদ্ধতি ও ড্রোন প্রযুক্তির মাধ্যমে বাঘসহ অন্যান্য বন্যপ্রাণীর শিকার, পাচার ও নিধন বন্ধের কার্যক্রম চলমান আছে। অন্যদিকে,  ‘বন্যপ্রাণীর আক্রমণে জানমালের ক্ষতিপূরণ বিধিমালা-২০২১’ অনুযায়ী বর্তমানে নিহত ব্যক্তির পরিবারকে ৩লাখ এবং আহত ব্যক্তির পরিবারকে সর্বোচ্চ ১লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হচ্ছে। বাঘসহ অন্যান্য বন্যপ্রাণীর জন্য সুপেয় মিঠাপানির চাহিদা মেটাতে সুন্দরবনে ৮০টি পুকুর নতুন খনন ও বিদ্যমান পুকুর সংস্কারের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। বাঘের প্রধান আবাসস্থল সুন্দরবন সংরক্ষণে বলিষ্ট ভূমিকা পালনে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান বনমন্ত্রী। ##

সংবাদটি শেয়ার করার জন্য অনুরোধ করা হলো

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ ধরনের আরো সংবাদ

© All rights reserved by www.banglardinkal.com (Established in 2017)

Hwowlljksf788wf-Iu