ঢাকা ০৮:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২২, ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

সুন্দরবনের দুবলার চরে তিন’শ বছরের ঐতিহ্যবাহী ‘রাশমেলা’ শুরু, দর্শক-পুণ্যার্থী ও ভক্তদের ভীড়

###   বঙ্গোপসাগর পরিবেষ্টিত সুন্দরবনের কুংগা নদীর মোহনায় দুবলার চরের আলোরকোলে ৩’শ বছরের প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী ‘রাশ মেলা’ আজ রবিবার শুরু হয়েছে।এদিন সকালে মাঙ্গলিক পূজার মধ্য দিয়ে ৩’দিনব্যাপী এ রাস উৎসব শুরু হয়। রাশমেলা উপলক্ষ্যে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে দর্শক-পুণ্যার্থী ও ভক্তের ভিড় জমাতে শুরু করেছে। ইতিমধ্যে হাজার হাজার পুণ্যার্থী নারী-পুরুষের আগমনে মুখরিত হয়ে উঠেছে দুবলাচর ও সংলগ্ন এলাকা। সোমবার ভরা পুর্ণিমার প্রভাতে অনুষ্ঠিত হবে পুন্যস্নান। পুন্যভিক্ষা ও মনোবাঞ্চনা পুরনের আশায় গোট দক্ষিণাঞ্চলসহ দেশ-বিদেশের অগণিত মানুষ এখানে ছুটে আসে। পূর্নিমার পূন্য তিথিতে সাগরের পবিত্র জলে অবগাহন করে পুত-পবিত্র হয়ে মনোবাসনা পুরনের লক্ষ্যে পূন্যার্থী ও ভক্তরা ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করে থকে। হিন্দু-মুসলিমসহ সকল ধর্মের অগনিত মানুষের পদভারে মুখরিত হয়ে ওঠে সৌন্দর্য্যরে রানী সুন্দরবন বক্ষের এ চর আঙ্গিনা। এ মেলায় গ্রামীন কারু শিল্পের মনমুগ্ধকর পন্য সম্ভারের ব্যাপক আয়োজনে চলে বিকিকিনি।

দুবলার চরের রাসমেলার প্রাচীন ইতিহাস নিয়ে নানা মত প্রচলিত আছে।জানা গেছে, ঠাকুর হরচিাঁদের অনুসারী হরি ভজন নামে এক হিন্দু সাধু এ মেলার শুরু করেছিলেন ১৯২৩ সালে। এই সাধু চব্বিশ বছরেরও বেশী সময় ধরে সুন্দরবনে গাছের ফল-মূল খেয়ে জীবন ধারণ করছেনে। আবার কারো কারো মতে শারদীয় র্দুগোৎসবের পর র্পূনিমার রাতে বৃন্দাবনবাসী গোপীদের সঙ্গে রাসনৃত্যে মেতেছিলেন হিন্দু র্ধমাবলম্বীদের অবতার শ্রীকৃষ্ণ। এটাকেই স্মরণ করে দুবলায় পালিত হয়ে আসছে রাস উৎসব। অঅনেকে এটাও মনে করনে, শ্রীকৃষ্ণ কোনো এক পূর্নিমা তিথিতে গঙ্গাস্নানের স্বপ্নাদেশ পান। পরে তার স্বপ্নাদেশকে সম্মান জানাতে েএ রাসমলোর সূচনা হয়েছিল।

ঐতিহ্যবাহী এ রাশমেলার অপর নাম সাগরমেলা। এটা হিন্দু ধর্মের বৃহত্তম পুণ্যস্নানের মেলা হিসাবেও খ্যাত। এখানে একদা ভারত, নেপাল, মায়ানমার ও শ্রীলংকা থেকে অসংখ্য পুণ্যার্থীদের আগমন ঘটত। পুণ্যস্নানের এ মেলায় নি:সন্তান দম্পতিদের আগমন উল্লেখযোগ্য। এ মেলায় যোগদানের জন্য মাসাধিককাল আগে থেকেই গোট দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের হিন্দু সম্প্রদায়ের পুণ্যার্থী মানুষের মধ্যে চলে নানা আয়োজন। চলে পুণ্যভিক্ষা, মনোবাঞ্চা পুরণ, আর পাপমোচনের অভিক্ষায় সাগর মোহনার এ রাশ মেলায় যোগদানের আয়োজন।

সুন্দরবনের দুবলার চরে প্রতি বছরের মতো এবারও রাস পূর্ণিমা উপলক্ষে ৬থেকে ৮নভেম্বর পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী ‘রাস পূর্ণিমা পূজা ও পুণ্যস্নান’ অনুষ্ঠিত হবে।পুণ্যস্নানে নিরাপদে যাতায়াতের জন্য দর্শনার্থী ও তীর্থযাত্রীদের জন্য সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগ পাঁচটি পথ নির্ধারণ করেছে। এ সকল পথে বন বিভাগ, পুলিশ, বিজিবি ও কোস্টগার্ডের টহল দল তীর্থযাত্রী ও দর্শনার্থীদের জানমালের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবে। অনুমোদিত পাঁচটি পথ হলো-বুড়িগোয়ালিনী, কোবাদক থেকে বাটুলানদী-বল নদী-পাটকোষ্টা খাল হয়ে হংসরাজ নদী হয়ে দুবলার চর,  কয়রা-কাশিয়াবাদ-খাসিটানা-বজবজা হয়ে আড়ুয়া শিবসা, অতঃপর শিবসা নদী-মরজাত হয়ে দুবলার চর, নলিয়ান স্টেশন হয়ে শিবসা-মরজাত নদী হয়ে দুবলার চর, ঢাংমারী অথবা চাঁদপাই স্টেশন-তিনকোনা দ্বীপ হয়ে দুবলার চর এবং বগী-বলেশ্বর-সুপতি-কচিখালী-শেলার চর হয়ে দুবলার চর। সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবু নাসের মো: মহসীন জানান, রাস পূর্ণিমা পুণ্যস্নান উপলক্ষ্যে ৬ থেকে ৮ নভেম্বর এ তিন দিনের জন্য সনাতন ধর্মাবলম্বী দর্শনার্থী ও তীর্থযাত্রীদের অনুমতি প্রদান করা হবে।  কোভিড-১৯ এর কারণে স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে এবং মাস্কবিহীন কোন তীর্থযাত্রী-পুণ্যার্থী পুণ্যস্নানস্থলে গমন করতে পরবে না। প্রবেশের সময় প্রতিটি এন্ট্রি পয়েন্টে লঞ্চ, ট্রলার ও নৌকার প্রবেশ ফি, অবস্থান ফি, লোকের সংখ্যা অনুযায়ী বিধি মোতাবেক রাজস্ব আদায় পূর্বক পাশ প্রদান করা হবে এবং জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপিসহ তীর্থযাত্রীদের আবেদন করতে হবে।  প্রতিটি অনুমতিপত্রে সিল মেরে পথ বা রুট উল্লেখ করা হবে ও যাত্রীরা নির্ধারিত রুটগুলোর মধ্যে পছন্দমতো একটি মাত্র পথ ব্যবহারের সুযোগ পাবেন। ৬নভেম্বর তারিখ দিনের ভাটায় যাত্রা শুরু করতে হবে এবং নৌযানগুলো কেবল দিনের বেলায় চলাচল করতে পারবে। বনবিভাগের চেকিং পয়েন্ট ছাড়া অন্য কোথাও নৌকা, লঞ্চ বা ট্রলার থামানো যাবে না। প্রতিটি ট্রলারের গায়ে রং দিয়ে বিএলসি অথবা সিরিয়াল নম্বর লিখতে হবে। সুন্দরবনের অভ্যন্তরে অবস্থানকালীন সবসময় টোকেন ও টিকেট নিজের সঙ্গে রাখতে হবে। প্রতিটি লঞ্চ, নৌকা ও ট্রলারকে আলোরকোলে স্থাপিত কন্ট্রোলরুমে রির্পোট করতে হবে। রাসপূর্ণিমা পুণ্যস্নানের সময় কোন বিস্ফোরকদ্রব্য, আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার ও বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কারো কাছে আগ্নেয়াস্ত্র, বিস্ফোরকদ্রব্য, হরিণ মারার ফাঁদ, দড়ি, গাছ কাটা কুড়াল, করাত ইত্যাদি অবৈধ কিছু পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ট্রলারে কোন প্লাস্টিকের খাবারের প্লেট বহন করা যাবে না। লঞ্চ, ট্রলার, নৌকায় এবং পুণ্যস্নান স্থালে মাইক বাজানো, পটকা, বাজি ফোটানোসহ কোন প্রকার শব্দ দূষণ করা যাবে না। রাস পূর্ণিমায় আগত পুণ্যার্থীদের সুন্দরবনে প্রবেশের সময় জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের নিকট হতে প্রাপ্ত নাগরিকত্বের সনদপত্রের মূলকপি সাথে রাখতে হবে।  এছাড়া বনবিভাগ তীর্থযাত্রীদের নির্ধারিত রাজস্ব ফি দিয়ে বন বিভাগের স্থানীয় অফিস হতে অনুমতিপত্র সংগ্রহ করতে অনুরোধ করেছেন। বনবিভাগের নির্ধারিত চেকিং পয়েন্ট ছাড়া অন্য কোথাও যাত্রীদের লঞ্চ, ট্রলার বা নৌকা না থামানো এবং দূর্ঘটনারোধে ভাটার সময় পানিতে না নামার জন্য সকলকে সতর্ক করা হয়েছে। মাইক বাজিয়ে কিংবা পটকা ফুটিয়ে শব্দ দূষন না করা এবং কোন প্রকার আগ্নেয়াস্ত্র, বিষ্ফোরক দ্রব্য, হরিণ মারার ফাঁদ, দড়ি, গাছ কাটার কুড়াল-করাত বহনও নিষিদ্ধ ঘোনা করেছে বনবিভাগ।

দুবলার রাসমেলায় দেশের বিভিন্ন জায়গা ছাড়াও বিদেশ থেকে প্রচুর পুর্ণ্যাথী ও র্পযটকের সমাগম ঘটে। লক্ষ লক্ষ মানুষ প্রতি বছর এ উৎসবে যোগ দেয়। রাসমেলায় প্রদীপ জ্বালিয়ে র্প্রাথনায় বসেন পুর্ণ্যাথীরা। তারা সাগরকে সামনে রেখে নির্জনে কৃষ্ণপূজার সঙ্গে দেবতা নীলকমল আর গঙ্গাদেবীর আরাধনায় মগ্ন হন। পাপমোচন করনে সমুদ্রস্নানে। র্সূযাদয়ে পানিতে ভাসিয়ে দেন ফল-ফুল। এরপর ঢাক-ঢোলক-কাসা-মন্দিরা বাজিয়ে ভজন-র্কীতন করনে চারপাশ। পূজা-র্অচনার ফাঁকে র্সূযাস্তের পর সাগরকে সাক্ষী রেখে আকাশের বুকে উড়িয়ে দেয়া হয় ফানুস। সন্তানহীন র্ধমনুরাগী হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ দুবলার মেলায় মানত করেন এবং মেলায় এসে মানতকারীরা আনুষঙ্গিক অনুষ্ঠানাদি সম্পন্ন করে থাকেন। রাসমেলায় শ্রীকৃষ্ণের প্রতিমায় পূজা-অর্চনা, বাদ্য, নৃত্য, গীত ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়ে থাকে। এ মেলায় তিন দিনের গ্রামীন কুঠির শিল্পের মালাও বসে। দুবলার চরের রাসমেলায় বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা ছাড়াও  ভারত, আমরেকিা, মিয়ানমার, শ্রীলংকা, ভুটানসহ আশপাশের বিভিন্ন দেশের র্পযটক সমাগম ঘটে। ##

Tag :
About Author Information

Banglar Dinkal

সুন্দরবনের দুবলার চরে তিন’শ বছরের ঐতিহ্যবাহী ‘রাশমেলা’ শুরু, দর্শক-পুণ্যার্থী ও ভক্তদের ভীড়

প্রকাশিত সময় ০১:১২:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ নভেম্বর ২০২২

###   বঙ্গোপসাগর পরিবেষ্টিত সুন্দরবনের কুংগা নদীর মোহনায় দুবলার চরের আলোরকোলে ৩’শ বছরের প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী ‘রাশ মেলা’ আজ রবিবার শুরু হয়েছে।এদিন সকালে মাঙ্গলিক পূজার মধ্য দিয়ে ৩’দিনব্যাপী এ রাস উৎসব শুরু হয়। রাশমেলা উপলক্ষ্যে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে দর্শক-পুণ্যার্থী ও ভক্তের ভিড় জমাতে শুরু করেছে। ইতিমধ্যে হাজার হাজার পুণ্যার্থী নারী-পুরুষের আগমনে মুখরিত হয়ে উঠেছে দুবলাচর ও সংলগ্ন এলাকা। সোমবার ভরা পুর্ণিমার প্রভাতে অনুষ্ঠিত হবে পুন্যস্নান। পুন্যভিক্ষা ও মনোবাঞ্চনা পুরনের আশায় গোট দক্ষিণাঞ্চলসহ দেশ-বিদেশের অগণিত মানুষ এখানে ছুটে আসে। পূর্নিমার পূন্য তিথিতে সাগরের পবিত্র জলে অবগাহন করে পুত-পবিত্র হয়ে মনোবাসনা পুরনের লক্ষ্যে পূন্যার্থী ও ভক্তরা ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করে থকে। হিন্দু-মুসলিমসহ সকল ধর্মের অগনিত মানুষের পদভারে মুখরিত হয়ে ওঠে সৌন্দর্য্যরে রানী সুন্দরবন বক্ষের এ চর আঙ্গিনা। এ মেলায় গ্রামীন কারু শিল্পের মনমুগ্ধকর পন্য সম্ভারের ব্যাপক আয়োজনে চলে বিকিকিনি।

দুবলার চরের রাসমেলার প্রাচীন ইতিহাস নিয়ে নানা মত প্রচলিত আছে।জানা গেছে, ঠাকুর হরচিাঁদের অনুসারী হরি ভজন নামে এক হিন্দু সাধু এ মেলার শুরু করেছিলেন ১৯২৩ সালে। এই সাধু চব্বিশ বছরেরও বেশী সময় ধরে সুন্দরবনে গাছের ফল-মূল খেয়ে জীবন ধারণ করছেনে। আবার কারো কারো মতে শারদীয় র্দুগোৎসবের পর র্পূনিমার রাতে বৃন্দাবনবাসী গোপীদের সঙ্গে রাসনৃত্যে মেতেছিলেন হিন্দু র্ধমাবলম্বীদের অবতার শ্রীকৃষ্ণ। এটাকেই স্মরণ করে দুবলায় পালিত হয়ে আসছে রাস উৎসব। অঅনেকে এটাও মনে করনে, শ্রীকৃষ্ণ কোনো এক পূর্নিমা তিথিতে গঙ্গাস্নানের স্বপ্নাদেশ পান। পরে তার স্বপ্নাদেশকে সম্মান জানাতে েএ রাসমলোর সূচনা হয়েছিল।

ঐতিহ্যবাহী এ রাশমেলার অপর নাম সাগরমেলা। এটা হিন্দু ধর্মের বৃহত্তম পুণ্যস্নানের মেলা হিসাবেও খ্যাত। এখানে একদা ভারত, নেপাল, মায়ানমার ও শ্রীলংকা থেকে অসংখ্য পুণ্যার্থীদের আগমন ঘটত। পুণ্যস্নানের এ মেলায় নি:সন্তান দম্পতিদের আগমন উল্লেখযোগ্য। এ মেলায় যোগদানের জন্য মাসাধিককাল আগে থেকেই গোট দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের হিন্দু সম্প্রদায়ের পুণ্যার্থী মানুষের মধ্যে চলে নানা আয়োজন। চলে পুণ্যভিক্ষা, মনোবাঞ্চা পুরণ, আর পাপমোচনের অভিক্ষায় সাগর মোহনার এ রাশ মেলায় যোগদানের আয়োজন।

সুন্দরবনের দুবলার চরে প্রতি বছরের মতো এবারও রাস পূর্ণিমা উপলক্ষে ৬থেকে ৮নভেম্বর পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী ‘রাস পূর্ণিমা পূজা ও পুণ্যস্নান’ অনুষ্ঠিত হবে।পুণ্যস্নানে নিরাপদে যাতায়াতের জন্য দর্শনার্থী ও তীর্থযাত্রীদের জন্য সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগ পাঁচটি পথ নির্ধারণ করেছে। এ সকল পথে বন বিভাগ, পুলিশ, বিজিবি ও কোস্টগার্ডের টহল দল তীর্থযাত্রী ও দর্শনার্থীদের জানমালের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবে। অনুমোদিত পাঁচটি পথ হলো-বুড়িগোয়ালিনী, কোবাদক থেকে বাটুলানদী-বল নদী-পাটকোষ্টা খাল হয়ে হংসরাজ নদী হয়ে দুবলার চর,  কয়রা-কাশিয়াবাদ-খাসিটানা-বজবজা হয়ে আড়ুয়া শিবসা, অতঃপর শিবসা নদী-মরজাত হয়ে দুবলার চর, নলিয়ান স্টেশন হয়ে শিবসা-মরজাত নদী হয়ে দুবলার চর, ঢাংমারী অথবা চাঁদপাই স্টেশন-তিনকোনা দ্বীপ হয়ে দুবলার চর এবং বগী-বলেশ্বর-সুপতি-কচিখালী-শেলার চর হয়ে দুবলার চর। সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবু নাসের মো: মহসীন জানান, রাস পূর্ণিমা পুণ্যস্নান উপলক্ষ্যে ৬ থেকে ৮ নভেম্বর এ তিন দিনের জন্য সনাতন ধর্মাবলম্বী দর্শনার্থী ও তীর্থযাত্রীদের অনুমতি প্রদান করা হবে।  কোভিড-১৯ এর কারণে স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে এবং মাস্কবিহীন কোন তীর্থযাত্রী-পুণ্যার্থী পুণ্যস্নানস্থলে গমন করতে পরবে না। প্রবেশের সময় প্রতিটি এন্ট্রি পয়েন্টে লঞ্চ, ট্রলার ও নৌকার প্রবেশ ফি, অবস্থান ফি, লোকের সংখ্যা অনুযায়ী বিধি মোতাবেক রাজস্ব আদায় পূর্বক পাশ প্রদান করা হবে এবং জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপিসহ তীর্থযাত্রীদের আবেদন করতে হবে।  প্রতিটি অনুমতিপত্রে সিল মেরে পথ বা রুট উল্লেখ করা হবে ও যাত্রীরা নির্ধারিত রুটগুলোর মধ্যে পছন্দমতো একটি মাত্র পথ ব্যবহারের সুযোগ পাবেন। ৬নভেম্বর তারিখ দিনের ভাটায় যাত্রা শুরু করতে হবে এবং নৌযানগুলো কেবল দিনের বেলায় চলাচল করতে পারবে। বনবিভাগের চেকিং পয়েন্ট ছাড়া অন্য কোথাও নৌকা, লঞ্চ বা ট্রলার থামানো যাবে না। প্রতিটি ট্রলারের গায়ে রং দিয়ে বিএলসি অথবা সিরিয়াল নম্বর লিখতে হবে। সুন্দরবনের অভ্যন্তরে অবস্থানকালীন সবসময় টোকেন ও টিকেট নিজের সঙ্গে রাখতে হবে। প্রতিটি লঞ্চ, নৌকা ও ট্রলারকে আলোরকোলে স্থাপিত কন্ট্রোলরুমে রির্পোট করতে হবে। রাসপূর্ণিমা পুণ্যস্নানের সময় কোন বিস্ফোরকদ্রব্য, আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার ও বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কারো কাছে আগ্নেয়াস্ত্র, বিস্ফোরকদ্রব্য, হরিণ মারার ফাঁদ, দড়ি, গাছ কাটা কুড়াল, করাত ইত্যাদি অবৈধ কিছু পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ট্রলারে কোন প্লাস্টিকের খাবারের প্লেট বহন করা যাবে না। লঞ্চ, ট্রলার, নৌকায় এবং পুণ্যস্নান স্থালে মাইক বাজানো, পটকা, বাজি ফোটানোসহ কোন প্রকার শব্দ দূষণ করা যাবে না। রাস পূর্ণিমায় আগত পুণ্যার্থীদের সুন্দরবনে প্রবেশের সময় জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের নিকট হতে প্রাপ্ত নাগরিকত্বের সনদপত্রের মূলকপি সাথে রাখতে হবে।  এছাড়া বনবিভাগ তীর্থযাত্রীদের নির্ধারিত রাজস্ব ফি দিয়ে বন বিভাগের স্থানীয় অফিস হতে অনুমতিপত্র সংগ্রহ করতে অনুরোধ করেছেন। বনবিভাগের নির্ধারিত চেকিং পয়েন্ট ছাড়া অন্য কোথাও যাত্রীদের লঞ্চ, ট্রলার বা নৌকা না থামানো এবং দূর্ঘটনারোধে ভাটার সময় পানিতে না নামার জন্য সকলকে সতর্ক করা হয়েছে। মাইক বাজিয়ে কিংবা পটকা ফুটিয়ে শব্দ দূষন না করা এবং কোন প্রকার আগ্নেয়াস্ত্র, বিষ্ফোরক দ্রব্য, হরিণ মারার ফাঁদ, দড়ি, গাছ কাটার কুড়াল-করাত বহনও নিষিদ্ধ ঘোনা করেছে বনবিভাগ।

দুবলার রাসমেলায় দেশের বিভিন্ন জায়গা ছাড়াও বিদেশ থেকে প্রচুর পুর্ণ্যাথী ও র্পযটকের সমাগম ঘটে। লক্ষ লক্ষ মানুষ প্রতি বছর এ উৎসবে যোগ দেয়। রাসমেলায় প্রদীপ জ্বালিয়ে র্প্রাথনায় বসেন পুর্ণ্যাথীরা। তারা সাগরকে সামনে রেখে নির্জনে কৃষ্ণপূজার সঙ্গে দেবতা নীলকমল আর গঙ্গাদেবীর আরাধনায় মগ্ন হন। পাপমোচন করনে সমুদ্রস্নানে। র্সূযাদয়ে পানিতে ভাসিয়ে দেন ফল-ফুল। এরপর ঢাক-ঢোলক-কাসা-মন্দিরা বাজিয়ে ভজন-র্কীতন করনে চারপাশ। পূজা-র্অচনার ফাঁকে র্সূযাস্তের পর সাগরকে সাক্ষী রেখে আকাশের বুকে উড়িয়ে দেয়া হয় ফানুস। সন্তানহীন র্ধমনুরাগী হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ দুবলার মেলায় মানত করেন এবং মেলায় এসে মানতকারীরা আনুষঙ্গিক অনুষ্ঠানাদি সম্পন্ন করে থাকেন। রাসমেলায় শ্রীকৃষ্ণের প্রতিমায় পূজা-অর্চনা, বাদ্য, নৃত্য, গীত ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়ে থাকে। এ মেলায় তিন দিনের গ্রামীন কুঠির শিল্পের মালাও বসে। দুবলার চরের রাসমেলায় বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা ছাড়াও  ভারত, আমরেকিা, মিয়ানমার, শ্রীলংকা, ভুটানসহ আশপাশের বিভিন্ন দেশের র্পযটক সমাগম ঘটে। ##