সোমবার, ২৭ জুন ২০২২, ০৫:৩০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
খুলনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবের ১০১তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর অনুষ্ঠান ০১জুলাই পদ্মা সেতুতে মোটরসাইকেল চলাচল নিষিদ্ধ ঘোষণা পদ্মা সেতুতে হ-য-ব-র-ল অবস্থা : নাটবোল্ট খোলা যুবক বিএনপি কর্মী বাইজীদ আটক খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে সিটিজেন চার্টার এন্ড জিআরএস-১ শীর্ষক প্রশিক্ষণ টেকসই অর্থায়ন বিষয়ক প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল নেত্রী রুমার বাড়িতে হামলা,  জেলা ছাত্রদলের নিন্দা  নগরীতে হিজড়া ও লিঙ্গ বৈচিত্রময় জনগোষ্টির বৈষম্য দুরীকরনে নেটওয়ার্কিং মিটিং অনুষ্ঠিত সিটি মেয়রের কাছে নাগরিক ফোরাম প্রস্তাবিত উন্নয়ন পরিকল্পনা উপস্থাপন ফকিরহাটে মাতৃত্বকালীন ভাতা গ্রহণকারী মায়েদের প্রশিক্ষণ ন্যাপ নেতা তপন রায় ছিলেন নির্মোহ, নির্লোভ, নিবেদিত প্রাণ

যুক্তরাষ্ট্রের ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক প্রতিবেদন-২০২১ : বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘু উচ্ছেদ ও জমি দখল রোধে সরকারের উদ্যোগ ’কার্যকর’ ছিল না

সংবাদদাতার নাম :
  • প্রকাশিত সময় শনিবার, ৪ জুন, ২০২২
  • ৪৮ পড়েছেন

আর্ন্তজাতিক ডেক্স।।

বাংলাদেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠিীর সদস্যদের জোরপূর্বক উচ্ছেদ কিংবা জমি দখল রোধে সরকারের ভূমিকা অকার্যকর ছিল বলে উল্লেখ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় উপাসনালয়ে, ধর্মীয় উৎসবে সম্ভাব্য ধর্মীয় সহিংসতা ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েনসহ কিছু পদক্ষেপ নেয়ার পরও ২০২১ সালে বাংলাদেশে বেশ কিছু হামলা, সংঘাত এবং জোর করে উচ্ছেদ ও জমি দখলের ঘটনা ঘটেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ২০২১সালের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা প্রতিবেদনে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে এমনটা বলা হয়েছে। দুই হাজার পৃষ্ঠার বেশি কলেবরের প্রতিবেদনে ২০২১সালের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ে বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে ১৬পৃষ্ঠার একটি পর্যালোচনাও রয়েছে। প্রতিবেদনে বাংলাদেশের ধর্মীয় স্বাধীনতার বিষয়ে বলা হয়েছে, ‘হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টানসহ বিভিন্ন ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের জোরপূর্বক উচ্ছেদ ও জমি দখল রোধে সরকার অকার্যকর ছিল। এদের অনেকে আবার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠিীর সদস্য।’ মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন আনুষ্ঠানিকভাবে ওই প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। বৈশ্বিক ওই প্রতিবেদন প্রকাশের অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক বিশেষ দূত রাশাদ হুসাইন। তারা দুজন এবারের প্রতিবেদনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন বলেন, ‘বিশ্বের প্রায় ২০০টি দেশ ও অঞ্চলের ঘটনাগুলো পর্যালোচনা করে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। এবারের প্রতিবেদনে বেশ কিছু দেশের পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।’

এতে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সংবিধানে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে উল্লেখ করা হলেও ধর্ম নিরপেক্ষতার নীতিকে সমর্থন করে। ধর্মীয় বৈষম্য নিষিদ্ধ এবং সব ধর্মের সমতার কথাও বলা রয়েছে। ধর্ম নিরপেক্ষ আদালতে বিভিন্ন ধর্মীয় গোষ্ঠীর জন্য পৃথক পারিবারিক আইনের বিধান রয়েছে। ২০২১ সালের ১৩ থেকে ২৪ অক্টোবর দেশব্যাপী হিন্দুবিরোধী সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় মুসলিম ও হিন্দু ধর্মের বেশ কয়েকজন নিহত হয়েছিলেন। এতে সরকার হামলার নিন্দা জানিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়কে সাহায্য এবং অতিরিক্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে। এ ঘটনায় ২০ হাজারেরও বেশি মানুষের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়। ওই বছর ধর্মীয় ইস্যুতে ৩টি ‘হাই-প্রোফাইল’ মামলার রায় হয়, যেখানে ২০১৫ সালে একজন প্রকাশককে হত্যার দায়ে ৮ জঙ্গিকে, একই বছর একজন নাস্তিক ব্লগারকে হত্যার দায়ে ৫ জনকে এবং ২০০০ সালে প্রধানমন্ত্রীকে হত্যাচেষ্টার ষড়যন্ত্রের দায়ে নিষিদ্ধ ইসলামি গোষ্ঠীর ১৪ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ এবং ‘উসকানিমূলক’ বার্তা দেওয়া বন্ধে মসজিদগুলোতে পর্যবেক্ষণ এবং সারা দেশের ইমামদের খুতবার বিষয়বস্তু সম্পর্কে নির্দেশিকা দিয়েছে সরকার বলে উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে। তা ছাড়া বছরজুড়ে সংখ্যালঘুদের অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়া, গুজব ছড়িয়ে হামলা, ধর্মীয় কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের তথ্যও তুলে ধরেছে যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদকে উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বছরজুড়ে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা অব্যাহত ছিল। এতে আরও বলা হয়, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টানসহ বিভিন্ন ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সদস্যরা, যাদের অনেকে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্য, তারা জানিয়েছেন—জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে জোরপূর্বক উচ্ছেদ ও জমি দখল রোধে সরকার অকার্যকর ছিল। এ ছাড়া সরকার ধর্মীয় স্থাপনা, উৎসব এবং সহিংসতার সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুগুলোতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের মোতায়েন অব্যাহত রাখে। যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা প্রতিষ্ঠান ফ্রিডম হাউসের মতে সেপ্টেম্বরে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সদস্যরা বিশেষ করে হিন্দু, খ্রিষ্টান, বৌদ্ধ, শিয়া ও আহমদিয়া মুসলিমসহ তাদের উপাসনালগুলোতে সহিংসতা ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খৃষ্টান ঐক্য পরিষদ ও হিন্দু আমেরিকান ফাউন্ডেশনের (এইচএএফ) তথ্য অনুসারে, জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক আক্রমণ সারা বছরই চলেছে।

এতে বলা হয়, ফেসবুকে ১৩ অক্টোবর দেওয়া এক পোস্টে দেখা যায় একটি মন্দিরে এক দেবীর পায়ের কাছে পবিত্র কুরআনের একটি কপি রাখা। এ ঘটনায় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ওপর হামলা চালান মুসলিমরা। তাদের অভিযোগ, এর মধ্য দিয়ে পবিত্র কুরআনকে অবমাননা করা হয়েছে। মিডিয়া, অধিকারকর্মী ও সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এ নিয়ে সহিংসতায় কমপক্ষে চার জন নিহত ও ১৪ জন আহত হয়েছেন। দেশজুড়ে মন্দির এবং হিন্দুদের সহায়-সম্পত্তিতে হামলা হতে থাকে। এ ধারা চলতে থাকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত। হিন্দু নেতারা বলেছেন, আরও সহিংসতার ভয়ে আতঙ্কিত তারা। ফলে ৪ নভেম্বর প্রকাশ্যে দিওয়ালি উদযাপন থেকে তারা বিরত থাকেন। একই সঙ্গে মন্দিরে এবং ঘরে ঘরে এ উৎসব করার কথা বলেন তারা। হিন্দুদের নিরাপত্তার অভাবের প্রতিবাদে উপাসনাকারীরা তাদের মুখ কালো কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখেন।  যদিও এ সব ঘটনার নিন্দা জানিয়ে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা সহিংসা ও ভাঙচুরের ঘটনাকে অ-ইসলামিক বলে উল্লেখ করেন। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে হিন্দু সম্প্রদায়ের পরিবারগুলোকে বাড়ি-ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়। ২৬ অক্টোবরের মধ্যে পুলিশ ৫৮৩ জন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করে। ২০ হাজার ৬১৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। ১৭ অক্টোবর ইসলামবিরোধী বক্তব্য অনলাইনে প্রচার করার অভিযোগে কর্তৃপক্ষ এক হিন্দু যুবককে ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনের আওতায় আনে। রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায় হামলার ওই ঘটনায় ২০ অক্টোবর সরকার জাতীয় মানবাধিকার কমিশন প্যানেল গঠনের ঘোষণা দেয়।

আলজাজিরার জুনের এক রিপোর্ট অনুযায়ী, জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একজন সদস্য ধর্মান্তরিত হয়ে ইসলাম গ্রহণ করেন। এ জন্য অবাঙালি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একটি গ্রুপ তাদের ওই সদস্যকে হত্যা করে। মে মাসের মিডিয়ার রিপোর্ট অনুযায়ী, অনলাইনে একটি ভিডিও গেম নিয়ে বিরোধে খ্রিষ্টান চারজন শিক্ষার্থীকে ভয়াবহভাবে আহত করে মুসলিম শিক্ষার্থীরা। পরে আহত এক শিক্ষার্থী মারা যান। একই মাসে স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমের সূত্র অনুযায়ী, পার্বত্য চট্টগ্রামে একজন বৌদ্ধ ভিক্ষুর ওপর হামলা চালিয়ে মারাত্মক আহত করেছে দু’ব্যক্তিকে। হিন্দু সম্প্রদায়ের সংগঠনগুলোর মতে, সংখ্যালঘুদের উপর সারা দেশে হামলা, হত্যা ও জমিজমা-সম্পত্তি জবর দখলের বিষয়ে সরকারের নেওয়া উদ্যোগ পর্যাপ্ত ছিল না। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত, দূতাবাস প্রতিনিধি ও পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বাংলাদেশে সরকারি কর্মকর্তা, নাগরিক সমাজের সদস্য ও ধর্মীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক এবং বিবৃতিতে ধর্মের নামে সহিংসতার বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। সংখ্যালঘু ধর্মীয় গোষ্ঠীর অধিকার এবং সহনশীলতার পরিবেশ গড়ে তুলতে তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। ##

সংবাদটি শেয়ার করার জন্য অনুরোধ করা হলো

এ ধরনের আরো সংবাদ

© All rights reserved by www.banglardinkal.com (Established in 2017)

Hwowlljksf788wf-Iu