ভারত ফেরতদের কোয়ারেন্টাইনের জায়গা নেই খুলনা বিভাগে, কোয়ারেন্টাইন সেন্টারগুলোতে বিজিবি মোতায়েন

100

খুলনা ব্যুরো।।

বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে আগত বাংলাদেশী নাগরিকদের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে রাখার কোন জায়গা নেই খুলনায়। বিভাগের ১০জেলার মধ্যে ৮জেলায় ইতিমধ্যেই সংরক্ষিত প্রতিষ্ঠানের জায়গাগুলো পরিপূর্ণ হয়ে গেছে। সেখানে আর কাউকে রাখা সম্ভব নয়। এখন ভারত থেকে কেউ দেশে ফেরত এলে তাদেরকে কোয়ারেন্টাইনে রাখার মত কোন স্থান খালি নেই।ইতিমধ্যেই খুলনার ৮টি জেলায় ব্যবহারযোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোতে আড়াই হাজারেরও বেশী ভারত ফেরত মানুষকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। এসব কোয়ারেন্টাইন সেন্টারগুলো এখন অনেকটাই অনিরাপদ অবস্থায় চলে গেছে। সেজন্য রবিবার থেকে যশোরের কোয়ারেন্টাইন সেন্টারগুরোতে বিজিবি মোতায়েন করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে বিভাগের ৮জেলার সবগুলো সেন্টারে বিজিবি মোতায়েণ করা হবে। রবিবার দুপুরে খুলনায় বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে আগত বাংলাদেশী নাগরিকদের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিতকরণ ও গৃহীত কার্যক্রম বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের অবহিতকরণ সভায় বিভাগীয় কমিশনার মো: ইসমাইল হোসেন এসব কথা জানান।খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার সুবাস চন্দ্র সাহা, অতিরিক্ত ডিআইজি একেএম নাহিদুল ইসলাম, খুলনা স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক ডাঃ রাশেদা সুলতানা,  খুলনার আঞ্চলিক উপপ্রধান তথ্য অফিসার জিনাত আরা আহমেদ, প্রেসক্লাবের সভাপতি এসএম জাহিদ হোসেন, সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মুন্সি মোঃ মাহবুব আলম সোহাগ, খুলনা টিভি রির্পোটার্সি ইউনিটির সভাপতি সুনীল দাসসহ ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকগণ উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বিভাগীয় কমিশনার মো: ইসমাইল হোসেন জানান, বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে আগত বাংলাদেশী নাগরিকদের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিতকরণে সার্বিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এ বন্দর দিয়ে ২৬ এপ্রিল থেকে ৮ মে পর্যন্ত ভারত থেকে দুই হাজার পাঁচশত ৬৪ জন বাংলাদেশী নাগরিক দেশে এসেছেন। তাদের প্রথমত যশোরের বিভিন্ন কোয়ারেন্টাইন্টন সেন্টারে রাখা হয়। পরে যাত্রীর সংখ্যা বেশী হওয়ায় পর্যায়ক্রমে যশোর, খুলনা, নড়াইল, ঝিনাইদহ, মাগুরা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট ও কুষ্টিয়া জেলার কোয়ারেন্টাইন্ট সেন্টারে রাখা হয়েছে। জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ ও জেলা সিভিল সার্জনের সমন্বয়ে গঠিত কমিটি কোয়ারেন্টাইনে থাকা নাগরিকদের দেখাশোনা করা হচ্ছে। এরমধ্যে যশোরে ভারতীয় করোনা ভাইরাসের ভেরিয়েন্ট পাওয়া যাওয়ায় রবিবার থেকে এ জেলার কোয়ারেন্টাইন্ট সেন্টারগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে রবিবার থেকে বিজিবি মোতায়ন করা হয়েছে। এছাড়া অন্য জেলাগুলোর সেন্টারে পর্যায়ক্রমে বিজিবি মোতায়েন করা হবে।

তিনি জানান, ০৮মে যশোরে সাসপেক্টদের পরীক্ষা করে দুইজনের শরীরে ভারতীয় করোনা ভেরিয়েন্ট এবং আরও ৯জনের শরীরে সংক্রমন পাওয়া গেছে। তাদেরকে সম্পূর্ণভাবে আলাদা করে রাখা হয়েছে এবং চিকিৎসাধীন রয়েছে। এটা যেন আরও সংক্রমিত হতে না পারে সেজন্য প্রয়োজণীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, যাত্রী আনা নেয়া এবং খাবারসহ অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিতকরণে বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসন সার্বিক সমন্বয় করছে। কোয়ারেন্টাইন্টনে থাকা ব্যক্তিরা সুস্থ্য আছেন। যাদের করোনা পজেটিভ রয়েছে তাদের সংক্রমণজনিত জটিলতা নেই। তবে সংক্রমিত ব্যক্তিদের সম্পূর্ণ আলাদা করোনা ইউনিটে রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, গতকাল ৮মে পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের ভার্চুয়াল সভায় এবং মন্ত্রিপরিষদের সিদ্ধান্ত অনুসারে রবিবার ও সোমবার বেনাপোল বন্দর দিয়ে কাউকে দেশে ঢুকতে দেয়া হবে না। এমনকি আগামীতে নতুন কোন করোনা সংক্রমিত যাত্রীকে দেশে আনা হবে না। মঙ্গলবার থেকে প্রতিদিন সর্বোচ্চ একশো জন দেশে আসবে বলে সিদ্ধান্তের কথা জানান বিভাগীয় কমিশনার।ভারত থেকে আসা বন্ধ না করা হলে মারাত্নক পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলে তিনি মনে করছেন।

সভায় জানানো হয়, আগামী ১১মে একশো জন ও ১২মে তিনশো জন কোয়ারেন্টাইন্টন সাফল্যের সাথে করার সার্টিফিকেট পাবেন।সেখানে পরবর্তিতে ভারত থেকে ফিরলে কোয়ারেন্টাইনের ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে। এখনও পর্যন্ত খুলনা বিভাগের ৮জেলায় কোয়ারেন্টাইনে থাকা ব্যক্তিদের কোন সমস্যা হয়নি। সবকিছুই শান্তির্পূনভাবে ব্যবস্থাপনা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে গনমাধ্যম কর্মীদের সহযোগীতা কামনা করেন বিভাগীয় কমিশনার।

উল্লেখ্য, যশোর জেলায় এক হাজার একশত ৪০ জন, খুলনায় পাঁচশত ২৮ জন, নড়াইল জেলায় ৯৯ জন, ঝিনাইদহে একশত ৬৩ জন, সাতক্ষীরায় তিনশত ৩০ জন, মাগুরাতে ৫০ জন এবং বাগেরহাট ও কুষ্টিয়ায় ২৫৪জন ভারত ফেরত যাত্রী কোয়ারেন্টাইন্টন সেন্টারে রয়েছেন।##

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here