বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর শ্রেষ্ঠ উপহার : জমি ও গৃহহীন প্রায় একলাখ পরিবার পাচ্ছে জমিসহ নতুন বাড়ি

29

খুলনা অফিস ।।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন বাস্তবায়নে মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার হিসেবে দেশের প্রায় একলাখ জমি ও গৃহহীন পরিবার পাচ্ছেন জমিসহ নতুন বাড়ি।ইতিমধ্যেই এসব জমি ও ঘরবাড়িহীন পরিবারের জন্য দেশের ৬৪টি জেলায় ৬৯হাজার ৯০৪টি দুইকক্ষ বিশিষ্ঠ বাড়ি নির্মান কাজ সমাপ্ত হয়েছে।আগামী শনিবার ২৩ জানুয়ারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একযোগে দেশের সকল উপজেলার এ জমিসহ বাড়ি প্রদান কাযর্ক্রমের উদ্বোধন করবেন। দেশের ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে জমিসহ বাড়ি প্রদান কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সারাদেশের মতো খুলনা জেলার ৯টি উপজেলায় প্রথম পর্যায়ে ৯২২টি পরিবারকে দ্বি-কক্ষবিশিষ্ট নবনির্মিত ঘরসহ জমি প্রদান করা হবে।বৃহষ্পতিবার দুপুরে খুলনার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে মতবিনিময় ও প্রেস ব্রিফিং এ এসব তথ্য জানান।

মতবিনিময় সভায় তিনি আরও জানান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন ছিল দেশের ভুমিহীন,গৃহহীন, ছিন্নমূল ও অসহায় মানুষের পূণর্বাসনের মাধ্যমে সোনার বাংলা গড়ে তোলা। এজন্য তিনি ১৯৭২ সালের ২০ফেব্রুয়ারী বতর্মান লক্ষীপুর জেলার চরপোড়াগাছা গ্রামে ভুমিহীন,গৃহহীন,ছিন্নমূল মানুষের পূনর্বাসন কাযর্ক্রম শুরু করেন। জাতির পিতার এই স্বপ্ন পুরনে ১৯৯৭ সালে প্রধানমন্ত্রী আশ্রায়ন প্রকল্পের মাধ্যমে ভুমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের পূনর্বাসন কাযর্ক্রম শুরু করেন। তখন দেশের বিভিন্ন এলাকায়েআশ্রায়ন প্রকল্পের মাধ্যমে ৩লাখ ২০হাজার ৫২টি ভুমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে পূনর্বাসন করা হয়। পরে বতর্মান সরকারের সময়ে মুজিববর্ষে ‘দেশের একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না’ মর্মে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা করেন। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষনা বাস্তবায়নে আশ্রয়-২ প্রকল্পের আওতায় জেলা প্রশাসকগণের মাধ্যমে বাংলাদেশের সকল গৃহহীন ও ভূমিহীন পরিবারের তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। তালিকা অনুযায়ী বর্তমানে দেশে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের সংখ্যা ২লাখ ৯৩ হাজার ৩৬১ এবং ‘যার জমি আছে কিন্তু ঘর নাই’ এমন পরিবারের সংখ্যা ৫লাখ ৯২ হাজার ২৬১সহ মোট ৮লাখ ৮৫হাজার ৬২২টি পরিবার রয়েছে। এরমধ্যে মুজিববর্ষে প্রথম পর্যায়ে ৬৬ হাজার একশ ৮৯টি পরিবারের প্রত্যেককে দুই শতক সরকারি খাস জমি বন্দোবস্ত প্রদানসহ দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট সেমিপাকা ঘর নির্মাণ করে দেয়া হয়েছে। এছাড়াও ২১জেলার ৩৬ উপজেলার ৪৪টি প্রকল্পে ৩ হাজার সাতশ ১৫টি  পরিবারসহ মোট ৬৯হাজার ৯০৪টি পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছে। খুলনা জেলায় ক’শ্রেণির তালিকাভুক্ত আরও ভুমিহীন ও গৃহহীন ৫’হাজার ৮৮টি পরিবারকে পর্যায়ক্রমে জমিসহ বাড়ি প্রদান করা হবে।

জেলা প্রশাসক হেলাল হোসেন আরও জানান, জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে জেলার ৯টি উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের প্রত্যক্ষ মনিটোরিংয়ে প্রথম পর্যায়ে ৯২২টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের জন্য দুইকক্ষ বিশিষ্ট একটি করে সেমিপাকা ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ২৩ জানুয়ারি নবনির্মিত ঘরগুলো জমিসহ পরিবারগুলোর কাছে হস্তান্তর প্রক্রিয়ার উদ্বোধন করবেন।দ্বিতীয় পর্যায়ে খুলনা জেলার ভুমি ও গৃহহীন আরও দেড় হাজার পরিবারের ঘর নির্মাণের প্রস্তাবনা প্রেরণ করা হয়েছে।দ্রুতই এগুলোর অনুমোদন পাওয়া যাবে বলেও তিনি জানান।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো: জিয়াউর রহমান জানান, ভুমিহীন ও গৃহহীনদের তালিকা প্রনয়ন, যাচাই-বাছাই ও ঘর নির্মানের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বজায় রাখা হয়েছে। বাড়ি নির্মানের জন্য ইট, সিমেন্ট ও টিন সবকিছুই প্রস্তুকারী কারখানা থেকে নায্যমূল্যে ক্রয় করা হয়েছে।প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের নক্সা অনুযায়ী ঘরের মান বজায় রাখার ক্ষেত্রে কোন ধরনের ত্রুটি করা হয়নি।খুলনার ৯টি উপজেলার জমি ও গৃহহীন উপকারভোগীদের মধ্যে ৫৭০জন দিনমজুর, শ্রমিক ৩২জন, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ৩জন, কৃষক ২০১জন, গৃহিনী ৫৮জন, প্রতিবন্ধী ৪জন, ভ্যানচালক ২৮জন, ভিক্ষুক ১২জন ও অন্যান্য পেমার রয়েছে ১৪জন।এরমধ্যে জেলার তেরখাদা উপজেলার ৪০টি পরিবার, দিঘলিয়ার ৭০টি, ডুমুরিয়ার ১৪০টি, ফুলতরার ৪০টি, রূপসার ৭২টি, পাইকগাছার ২২০টি, বটিয়াঘাটার ১৫০টি, কয়রার ৫০টি ও দাকোপ উপজেলার ১৪০টি পরিবার এসব জমি ও বাড়ি পাচ্ছেন। ইতিমধ্যেই সরকারের অবৈধ দখলে থাকা খাস জমি উদ্ধার করে ভুমিহীন পরিবারকে বরাদ্ধ পত্র প্রদান করে সেখানেই বাড়ি নির্মান করে দেয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যেই এসব জমির দলিল, বন্দোবস্ত পত্র ও নামজারি সনদ প্রস্তুত করা হয়েছে। বাড়ির সাথে এসব কাগজপত্রও তাদেরকে হস্তান্তর করা হবে।

মতবিনিময় অনুষ্ঠানে খুলনা আঞ্চলিক তথ্য অফিসের উপপ্রধান তথ্য অফিসার জিনাত আরা আহমেদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(রাজস্ব) জিয়াউর রহমান, খুলনা প্রেসক্লাবের সভাপতি এসএম জাহিদ হোসেন, খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মুন্সী মাহবুব আলম সোহাগ, খুলনা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হাসান আহমেদ মোল্লা, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সিনিয়র সাংবাদিক মকবুল হোসেন মিন্টু, খুলনা টিভি রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি সুনীল দাস, সাধারন সম্পাদক এএইচএম শামিমুজ্জামান, প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারন সম্পাদক সাহেব আলী, রকিবউদ্দিন পান্নু, ডানিয়েল ‍সুজিত বোস, পিআইডির মো: মঈন উদ্দিন, আতিকুর রহমানসহ সরকারি কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।##

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here