নিখোঁজ সন্তান উদ্ধারের নামে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মূলহোতা সোহাগ দেওয়ান গ্রেফতার

16

ঢাকা অফিস।।

খুলনায় নিখোঁজ শিশু সন্তানকে উদ্ধারের নামে এক নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মূলহোতা সোহাগ দেওয়ান(৩৭) কে আটক করেছে সিআইডি।বৃহস্পতিবার ঢাকার যাত্রাবাড়ি এলাকা থেকে সিআইডির একটি বিশেষ টিম তাকে গ্রেপ্তার করে। সে ঢাকার মুগদা থানার নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় ফেরারী আসামী। গ্রেফতারকৃত সোহাগ দেওয়ানের বাড়ি খুলনার সোনাডাঙ্গা থানার সবুজবাগ এলাকায়। ধর্ষণের শিকার ওই নারীর বাড়িও খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গা এলাকায়।

ঢাকা সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধর জানান, থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় গ্রেফতারী পরোয়ানা হলেও আসামী সোহাগ দেওয়ান দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন। ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষন ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে আসামীর সম্ভাব্য লুকিয়ে থাকার সকল স্থানে অভিযান চালানো হয়। কিন্তু তাকে পাওয়া যায়নি। পরে সিআইডির একটি চৌকস দল আসামীর অবস্থান সনাক্ত করে গ্রেপ্তার করে।

ভুক্তবোগী নারীর সূত্রে জানা যায়, খুলনার সোনাডাঙ্গা এলাকার ওই নারী সন্তান জন্ম নেওয়ার দুই মাসের মধ্যেই তার স্বামী সন্তান মৌসুম হাসান নীল’কে নিয়ে পালিয়ে যায়। সন্তানকে ফিরে পেতে খুলনা প্রেসক্লাবে  সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি। লিখিত বক্তব্যে ওই নারীর মোবাইল নম্বর পেয়ে সোহাগ দেওয়ান যোগাযোগ করেন এবং সন্তানকে উদ্ধারের আশ্বাস প্রদান করেন। সরকারের বিভিন্ন উচ্চ পর্যায়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নাম ব্যাবহার করে সন্তানকে উদ্ধার করে দেওয়ার নামে সোহাগ দেওয়ান হাতিয়ে নেয় কয়েক লক্ষ টাকা। সন্তান উদ্ধারের কাজে ব্যার্থ হওয়ায় টাকা ফেরত চাওয়ায় কৌশলে নিজ বাসায় ডেকে নিয়ে শরবতের সঙ্গে চেতনানাশক পিল খাইয়ে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করেন সোহাগ দেওয়ান ও তার সহযোগী এডভোকেট মেহেদী হাসান। ধর্ষণকালীন ভিডিও ধারন করে একাধিকবার ধর্ষণ চেষ্ট করে তারা।পরবর্তীতে টাকা চাইলে ভিডিও ফাঁস করে দেওয়ার ভয়ভীতি প্রদর্শন করতে থাকে সোহাগ। ভয়ে খুলনা ছেড়ে ঢাকায় পালিয়ে আত্মগোপন করে থাকেন ভুক্তভোগী ওই নারী।তাতেও রেহাই পাননি তিনি। তাকে খুঁজে বের করে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ঢাকায় গিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করে সোহাগ।

পরে কোনো উপায় না পেয়ে এক পর্যায়ে আইনের আশ্রয় নেয় ওই নারী। পরে এই ঘটনায় ঢাকার মুগদা থানায় ২০০০সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (সংশোধনী ২০০৩)-এর ৯(৩)/১০/৩০ ধারায় মামলা করেন তিনি। ইতিমধ্যেই মামলার সূত্র ধরে বেসরকারি টিভি চ্যানেল আরটিভি ও একুশে টিভিতে এবং খুলনার স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিকে খুলনার স্থানীয় একটি পত্রিকার সাংবাদিক সোহাগ দেওয়ানের বিভিন্ন কুকর্মের তথ্য উপাত্ত তুলে ধরে খবর প্রকাশিত হয়।

পরবর্তীতে সিআইডি ঘটনাটির ছায়া তদন্ত আরম্ভ করে।ঢাকা সিআইডি বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধরের তত্ত্বাবধানে ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে আসামি সোহাগ দেওয়ানের সম্ভাব্য লুকিয়ে থাকবার সকল স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হয়।কিন্তু তাকে পাওয়া যায়নি। অতঃপর সিআইডি’র একটি টিম অবস্থান শনাক্তের মাধ্যমে ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে আটক করে সোহাগ দেওয়ানকে।মামলার অন্য আসামী এডভোকেট মেহেদী হাসান পলাতক থাকলেও মূল আসামী সোহাগ দেওয়ানকে আটক করতে পারা সিআইডি’র শ্রেষ্ট অর্জন বলে জানান পুলিশের এই স্পেশাল টিম।##