রবিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২১, ০২:১৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা, শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ সাংবাদিকতা ও গনমাধ্যমের সুষ্ঠু নীতিমালা জরুরি  মোরেলগঞ্জে খুলনা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারন সম্পাদক রাসেলকে সংবর্ধনা ভোমরা স্থলবন্দর সিএন্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের এডহক কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ দৈনিক খুলনা টাইমস’র ৩য় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন মুজিব বর্ষে মোল্লাহাটে ৭০ ভূমিহীন-গৃহহীনের আপন ঠিকানা খুলনায় চাঁদাবাজি মামলায় তিন পুলিশসহ ৫ জনের আট বছরের কারাদন্ড খুলনায় সোনালী ব্যাংকের ৫কোটি টাকা আত্নসাত মামলায এজিএমসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা খুলনায় আনসার ও ভিডিপি বাহিনীর উদ্যোগে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে পতাকা র‌্যালী অনুষ্ঠিত মানসিক নির্যাতনে কুয়েট শিক্ষকের মৃত্যুর অভিযোগ; ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন

দাকোপের লাউডোবে রাস্তায় টয়লেট নির্মান এবং মহিলা এমপির বিরুদ্ধে অপপ্রচারে এলাকাবাসীর ক্ষোভ, দখল উচ্ছেদ করে সড়ক উন্নয়নের দাবী

সংবাদদাতার নাম :
  • প্রকাশিত সময় শুক্রবার, ২২ অক্টোবর, ২০২১
  • ৪৫ পড়েছেন

বিশেষ প্রতিনিধি,খুলনা।।

খুলনার দাকোপের লাউডোবে দুই ইউনিয়নের মধ্যে সংযোগকারী মিশনবাড়ী মোড় থেকে কালিকাবাড়ী ঘাট সড়কের জায়গা অবৈধভাবে দখল করে টয়লেট নির্মান ও সরকারী প্রজেক্টের আওতায় রাস্তা নির্মান কাজে বাঁধা সৃষ্টি করছে দখলবাজ চক্র। একই সাথে এলাকার মানুষের সুবিধার্থে রাস্তার উন্নয়নে সহায়তা করায় সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি এ্যাড. গ্লোরিযা ঝর্নার বিরুদ্ধে মিথ্যাচারসহ অপপ্রচারও করছে ওই চক্রটি।এ ঘটনায় দখলবাজ বিষ্ণু বাছাড়, সাগর বাছাড় ও পবিত্র সরকার গংয়ের বিরুদ্ধে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে এলাকাবাসী। ফলে রাস্তার উন্নয়ন কাজে বিঘ্ন ঘটায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।এ ঘটনার নিরসনে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেণ। ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যভস্থা গ্রহনেরও দাবী জানিয়েছেন।

সরেজমিন ঘটনাস্থলে গিয়ে এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, খুলনার দাকোপ উপজেলার লাউডোব ও বানীশান্তা ইউনিয়নের ১৫টি গ্রামের অর্ধলক্ষাধিক মানুষ মিশনবাড়ী মোড় থেকে কালিকাবাড়ী ঘাট সড়কটি ৩০বছর ধরে চলাচল করে আসছে।এ সড়কের আশপাশে দুটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৩টি মসজিদ, মন্দির, গীর্জা, একটি সাইক্লোন শেল্টারসহ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের অফিস রয়েছে। এই রাস্তা দিযে লাউডোব ইউনিয়নের লাউডোব, মধ্যপাড়া, পশ্চিমপাড়া, খুটাখালী দক্সিণ পাড়া, লাউডোব দক্ষিণপাড়া, রঞ্জনখালী, কালিকাবাটি, বুড়িরডাবুর, হরিনটানা, বাজুয়া, উত্তর বানীশান্তা এবং বানীশান্তা ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের মানুষ চলাচল করে। কিন্তু গত ৩০বছরেও এই রাস্তাটির সংস্কার না হওয়ায় এলাকার মানুষ হাটুপানি ও কাদায় চলাচল করতে হয়। চরম বিপাকে পড়ে এলাকার স্কুলগামী শিশুরা। এছাড়া কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পন্যসামগ্রী বাজারজাত করতেও ব্যাপক অসুবিধায় পড়ছে। বিশেষ করে প্রাকৃতিক দূর্যোগ ও বর্ষাকালে এলাকার মানুষের চরম অসুবিধায় পড়তে হয়।

কথা হয় লা্উডোব পশ্চিমপাড়ার তুহিন রহমান, লাউডোবের সুশান্ত সরকার, মধ্যপাড়ার সুশান্ত সরকার, অমিত বিশ্বাস, দীলিপ সরকারসহ অনেকের সাথে। তারা জানান, লাউডোব মিশনপাড়া মোড় থেকে তিন কিলোমিটার দীর্ঘ এই রাস্তাটি পশ্চিমপাড়া, কালিকাবাটি ঘাট ও খুটাখালীর রাস্তায় মিশেছে। এলাকার দুই ইউনিযনের ২০টি গ্রামের মানুষের সহজ যাতায়াতে এ রাস্তাটি খুবই গুরুত্বপূর্ন।কিন্তু তিন দশকেও রাস্তাটির উন্নয়ন না হওয়ায় মানুষ চরম দূর্ভোগের মধ্যদিয়ে চলাচল করে।বিগত সময়ে জনপ্রতিনিধিদের কাছে বার বার আবেদন করেও কোন লাভ হয়নি। এই রাস্তাটি তাদের এলাকার জন্য খুবই প্রয়োজন। রাস্তার সংস্কার ও উন্নয়ন হলে পাল্টে যাবে মানুষের জীবনযাত্রা ও আর্থিক পরিস্থিতি। তাই এলাকাবাসী স্থানীয় সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদষ্যের কাছে রাস্তাটির সংস্কারের দাবী জানায়।

লাউডোব গ্রামের প্রশান্ত বৈদ্য, শ্যামল সরকার, স্তানীয় মিশনের কাটিকিষ্ট সুজন সরকার, নারী  সংগঠক সঞ্চিতা বিশ্বাসসহ আরও অনেকে জানান, এলাকার মানুষের আবেদনের প্রেক্ষিতে যোগাযোগ ব্যবস্থার সংস্কারে গত ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে জাতীয় সংসদের মহিলা সদস্য এমপি এ্যাড. গ্লোরিয়া সরকার ঝর্ণা চেষ্টা করেন। পরে ওই বছরে সরকারের এলজিএসপি-৩ প্রকল্পের আওতায় রাস্তাটির উন্নয়নে স্থানীয় লাউডোব ইউনিয়ন পরিষদ পাঁচ লাখ টাকার প্রকল্প নেয়।কিন্তু গ্রামের দখলবাজ বিষ্ণু বাছাড়, সাগর বাছাড় ও পবিত্র সরকারগং নিজেদের জমি দাবী করে অবৈধভাবে রাস্তা দখল করে টয়লেটসহ স্থাপনা গড়ে তোলে।সম্প্রতি রাস্তার উন্নয়নে দখলবাজদের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরু হলে দখলদাররা কাজে বাঁধাদান করে।স্থানীয় মহিলা এমপি এ্যাড. গ্লোরিয়া সরকার ঝর্ণার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করে মিথ্যাচারসহ অপপ্রচার শুরু করে।ফলে রাস্তার কাজ বন্ধ হয়ে ঊন্নয়ণ কাজ চরম অনিশ্চতায় পড়ে।এতে চরম বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে এলাকাবাসী।অবৈধ দখলকারী ও রাস্তার উন্নয়ন কাজে বাধা সৃষ্টিকারীদের শাস্তিরও দাবীও জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয় ইউপি মেম্বর ও রাস্তার উন্নয়ন কাজের পিআইস‘র সভাপতি প্রদীপ সরদার জানান, গত ২০১৮-১৯ সালে রাস্তাটির উন্নয়নে মহিলা এমপি প্রকল্প বরাদ্ধ করিয়েছেন।কয়েকজন দখলদার অবৈধ স্থাপনা নির্মান, বাধা সৃষ্টি এবং মিথ্যা অভিযোগের কারনে কাজ করা যায়নি। সম্প্রতি এলাকাবাসীর উদ্যোগে ও আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা রাস্তার অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে রাস্তার কাজ শুরু করে। গত শনিবার স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শেখ যুবরাজসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা এবং এলাকাবাসী যৌথভাবে রাস্তার কাজে পিআইসিকে সহায়তা করে রাস্তার নিমানা ঠিক করার পর কাজ শুরু হয়। এখানে অবৈধ দখল উচ্ছেদ ও রাস্তার কাজ শুরুর বিষয়ে স্থানীয় মহিলা এমপি এ্যাড. গ্লোরিয়া সরকার ঝর্ণার কোন দায় নেই। তিনি কারো বৈধ স্থাপনার ক্ষতি না করে এবং সমঝোতার ভিত্তিতে কাজ করার নিদের্শনা দেন।পিআইস সেইবাবে কাজ করছে। রাস্তায় জোর করে টয়লেট ও স্থাপনা নির্মানকারী বিষ্ণু বাছাড়, সাগর বাছাড় ও পবিত্র সরকার গং জটিলতার সৃষ্টি করছে। ইতিমধ্যেই এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে দাকোপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিন্টু রঞ্জন বিশ্বাস, থানার অফিসার ইনচার্জ(তদন্ত) আশরাফ হোসেন, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শেখ যুবরাজসহ গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।এলাকাবাসীর চাহিদার প্রেক্ষিতে অবৈধ স্থাপনা অপসারন ও রাস্তার কাজ সুষ্ঠভাবে করার নিদের্শনাও দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিন্টু রঞ্জন বিশ্বাস বলে জানা তিনি।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শেখ যুবরাজ জানান, তিনি ১০বছর আগে চেয়ারম্যান থাকাকালীন এই রাস্তাটি সংস্কারের উদ্যোগ নেন। কিন্তু সে সময়ে বরাদ্ধ না থাকায় সম্ভব হয়নি।তিনি আবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পরে এলাকাবাসীর আবেদন এবং মহিলা এমপির নিদের্শনায় দুই বছর আগে প্রকল্প বরাদ্ধ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেন। গত শনিবার তিনি নিজে থেকে এলাকাবাসীকে সাথে নিয়ে রাস্তার কাজের নিশানা ঠিক করে দেন এবং অবৈধ স্থাপনা ও গাছপালা সরিয়ে নিতে দখলদারদেরকে বলেন। কিন্তু তারা রাস্তা থেকে স্থাপনা না সরিয়ে পরিকল্পিতভাবে সংবাদ সম্মেলন করে এমপিসহ রাস্তার কাজে সংশ্লিষ্ঠদের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করে জটিলতা তৈরীর চেষ্টা করে।পরে স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিন্টু রঞ্জন বিশ্বাস, থানার অফিসার ইনচার্জ(তদন্ত) আশরাফ হোসেন এবং এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে সমস্যার সমাধান করা হয়েছে। একই সাথে এলাকাবাসীর মধ্যে উত্তেজনা ও ক্সোভ প্রশমনের চেষ্টা করা হচ্ছে। অচিরেই রাস্তার উন্নয়নের কাজ সম্পন্ন হবে বলেও তিনি জানান।

সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি এ্যাড. গ্লোরিয়া সরকার ঝর্ণা জানান, তিনি এলাকার মানুষের যোগাযোগ সুবিধা বৃদ্ধি এবং দূর্ভোগ লাঘবে গত ৩০বছরের অবহেলিত রাস্তার উন্নয়নে সরকারী বরাদ্ধ করিয়েছেন। পিআইসি’র মাধ্যমে রাস্তার উন্নয়ন কাজ হবে। রাস্তার সংস্কার কাজ ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের বিষয়ে তার কোন সংশ্লিষ্ঠতা নেই। তিনি মানুষের ও এলাকার উন্নয়ন চান।রাস্তা সম্প্রসারনে এক পাশের খ্রীষ্টান মিশন জমি ছেড়েছে যথাযথভাবে।অপর পাশের মাত্র তিনটি পরিবার রাস্তার জমি না ছেড়ে দিয়ে এবং এলাকাবাসীর উন্নয়নের কথা বিবেচনা না করে জটিলতা ও সমস্যা তৈরী করছে। এতে উত্তেজনা ও সংঘাতময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও জনপ্রতিনিধিদেরকে সমস্যা সমাধানের জন্য বলা হয়েছে। তারাই বিষয়টির সমাধান করবেন বলেও তিনি আশা করেন। ##

সংবাদটি শেয়ার করার জন্য অনুরোধ করা হলো

এ ধরনের আরো সংবাদ
© All rights reserved by www.banglardinkal.com (Established in 2017)
Hwowlljksf788wf-Iu