ঢাকা ০৮:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২২, ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

ডুমুরিয়ার লাইন বিলপাবলায় সংখ্যালঘু পরিবারে হামলা-মারপিট করে সর্বস্ব লুট, আটক-০৩

কঠোর শাস্তি ও পূর্নবাসনের আশ্বাস স্থানীয় সংসদ সদস্যের :

###    খুলনার ডুমুরিয়ায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একটি পরিবারের বসত-ভিটায় হামলা চালিয়ে বসতবাড়ি ভাঙচুর, মারধর, লুটপাট করে সন্ত্রাসিরা। বুধবার সকাল ১১টার দিকে উপজেলার গুটুঁদিয়া ইউনিয়নের সিকদারপাড়া গ্রামে দৌলতপুরের সন্ত্রাসী মোল্যা জাকির হোসেন, মফিজুর রহমান টুকু এবং আলমগীর হোসেন আলোর নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা এ হামলা ও লুটপাট করে।এ সময় সন্ত্রাসীরা বাড়ির মালিক বিকাশ নন্দীর স্ত্রীকেও অত্যাচার-নির্যাতন করে। নারকীয় হামলা, ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনার খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার সকালে খুলনা-১ আসনের এমপি নারায়ন চন্দ্র চন্দ, পুলিশের কর্মকর্তা ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এবং আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ বিকাশ নন্দি বাদী হয়ে ৫জনের নাম উল্লেখসহ ১৫/২০ জনের নামে মামলা দায়ের করেছেন।পুলিশ হামলা ও লুটপাটের ঘটনার প্রধান তিন আসামী  মোল্যা জাকির হোসেন, মফিজুর রহমান টুকু ও আলমগী হোসেনকে আটক করেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ডুমুরিয়া উপজেলার গুটুদিয়া ইউনিয়নের সিকদারপাড়া গ্রামে বিকাশ নন্দির বাড়িতে রান্নাঘর, গোয়ালঘর, ধানের গোলাসহ সকল আসবাবপত্র ভাংচুর ও লুটপাট করেছে হামলাকারীরা। পরিবারের কোন কিছুই অবশিষ্ঠ নেই। সবকিছুই সন্ত্রাসীরা লুটপাট করে নিয়ে গেছে। হামলার শিকার হওয়া বিকাশ নন্দি  জানান, তিনি কৃষি কাজে বাইরে ছিলেন। এ সময় মোল্যা জাকির হোসেন, মফিজুর রহমান টুকু এবং আলমগীর হোসেন আলোর নেতৃত্বে শতাধিক সন্ত্রাসী এ হামলা করেছে। তার বাড়ীর সবকিছুই তারা লুটে নিয়ে গেছে। তার স্ত্রীকেও অত্যাচার-নির্যাতন এবং মারপিট করেছে।এই সন্ত্রাসীরা এরআগেও এমন হামলা ও লুটপাট করেছে। তিনি আরো জানান, মোল্যা জাকির হোসেন  প্রায় ২০বছর আগে ৮১হাজার টাকা নিয়ে জমি বিক্রি করে। কিন্তু প্রতারণা করে তাকে জমি দলিল করে না দিয়ে সন্ত্রাসী দিয়ে উচ্ছেদ করতে চায়। এই জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। তিনি এই হামলা, লাটপাট ও অথ্যাচারের সঠিক বিচার চান।

গ্রামের প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বসতভিটার পিছনে বিলান জমি ও বিলের মধ্যে দিয়ে শতাধিক লোক হাতে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা করে। ঘরবাড়ি ভেঙ্গে মাটির সাথে ১০-১৫ মিনিটের মধ্যে মিলিয়ে দিয়েছে। টিনের ঘরের ৪ কোনায় দড়ি বেধে সকলে মিলে হ্যাচকা টান দিয়ে ঘর ভেঙ্গে ফেলে। বিকাশ নন্দীর স্ত্রীকে মারধর করে এবং জায়গা ছেড়ে দেওয়ার জন্য হত্যারও হুমকি দেয়। এরপরে গ্রামবাসী টের পেয়ে চলে আসার আগেই তারা বিলের মধ্য দিয়ে আবার চলে যায়।সিকদারপাড়া গ্রামে দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশি সময়কাল যাবৎ বিকাশ নন্দি তার পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন। তাদের বসতভিটার জায়গা জমি নিয়ে দীর্ঘ দিন একটা বিরোধ চলে আসছে দৌলতপুর দেয়ানা এলাকার টুকুর সাথে। তারই জের ধরে বুধবার সকালে প্রায় শতাধিক লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বিল পাড়ি দিয়ে এসে বসতবাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা একটি টিনসেডের বসতঘরসহ, রান্নাঘর, গোয়ালঘর, ধানের গোলা, ধারির ঘর, হাঁস-মুরগির ঘর ভাংচুর ও ঘরে থাকা নগদ দেড় লাখ টাকা, সোনার গহনা লুট করে বিভিন্ন আসবাবপত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে নষ্ট করে স্থান ত্যাগ করে। এসময়ে বিকাশ নন্দির স্ত্রী ছনেকা নন্দিকে মারপিট করে আহত করে। তিনি এখন খুলনা মেডিকেলে কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসারত আছেন।

গুটুঁদিয়া ইউনিয়নের স্থানীয় মেম্বর পলাশ হাওলাদার জানান, হামলাকারীরা মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যে বসতবাড়িসহ ৬টি ঘর ভাংচুর করে মাটিতে সমান করে দিয়েছে। এলাকাবাসী বুঝে উঠার আগেই তারা ভাঙচুর করে পালিয়ে যায়। দিবালোকে এমন সন্ত্রাসী তান্ডব আগে কখনোই দেখেনি বলে তিনি জানান। এরকম ভয়াবহ হামলার ঘটনায় ভয়ে স্থানীয়রা মুখ খুলতেও সাহস পায়নি।আড়ংঘাটা থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ ওহিদুজ্জামান জানান, কেএমপির আড়ংঘাটা থানার লাইনবিল পাবলা শিকদার পাড়ার বিমল নন্দীর ছেলে বিকাশ নন্দী(৫০) সাথে দৌলতপুরের দেয়ানা দক্ষিণপাড়া বন্দপাড়া মেইন রোড এলাকার লোকমান হাকিমের ছেলে মোল্যা জাকির হোসেন(৫৫) ও শেখ মোকছেদ আলীর ছেলে মফিজুর রহমান লাইনবিল পাবলা শিকদার পাড়ার ০৯ কাঠা জমি নিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ বিরোধীতা চলছিলো। প্রায় ১৮/২০ বছর পূর্বে বিকাশ নন্দী ০৯ কাঠা জমি বাবদ জাকির হোসেনকে ৮১হাজার টাকা পরিশোধ করে সেখানে বসতবাড়ি করে বসবাস করছিলো। জাকির হোসেন জমির দখল দিলেও তালবাহানা করে রেজিস্ট্রি করে দেয়নি। ফলে উভয়ের মধ্যে ০৩ টি ফৌজদারী মামলা ও ০১ টি দেওয়ানী মামলা চলমান আছে। এ বিষয় নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে শালিস দরবার হয়েছে। কিন্তু মামলা বা শালিস দরবারে কোন সমাধান আসেনি। এমতাবস্থায় মোল্যা জাকির হোসেন ও মফিজুর রহমান টুকু বুধবার(১৬নভেম্বর) সকালে ১০/১৫ জন লোক লাঠি সোটা নিয়ে বিকাশ নন্দীর বাড়ীতে অতর্কিত হামলা করে। এসময় বিকাশ নন্দী বাড়ীতে না থাকায় তার স্ত্রীকে জীবননাশের হুমকি দিয়ে তাদের বসতঘর, রান্নাঘর, গোয়াল ঘর, গোলা ঘর এবং কাঠের ঘর ভাংচুর করে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেয়। নগদ টাকা-পয়সাসহ অন্যান্য জিনিসপত্র লুটপাট করে নিয়ে যায়। বিকাশ নন্দীর স্ত্রীর ডাক চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে আসামীরা পালিয়ে যায়। মর্মান্তিক এ ঘটনা ও অতর্কিতভাবে হামলা করে সন্ত্রাসিরা পরিবারটিকে নি:শেষ করে দিয়েছে। পরে ন্যাক্কারজনক এ হামলা ও লুটপাটের ঘটনার খবর পেয়ে আড়ংঘাটা থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ ওহিদুজ্জামান, খালিশপুর জোনের সহকারি পুলিশ কমিশনার ও ডেপুটি পুলিশ কমিশনার(উত্তর) মোল্যা জাহাঙ্গীর হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পুলিশ এ ঘটনার প্রধান আসামী মোল্যা জাকির হোসেন, মফিজুর রহমান টুকু ও  মোঃ আলমগীর হোসেনকে গ্রেফতার করেছে এবং অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতারের জন্য বিশেষ অভিযান চলমান রয়েছে বলে জানান ওসি মোঃ ওহিদুজ্জামান।

ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার শরীফ আসিফ রহমান জানান, খবর পেয়ে বুধবার সন্ধ্যা ৭ টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে  যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। গুটুদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শেখ তুহিনুল ইসলাম তুহিন বলেন, হামলার ঘটনাটি ঘটার সাথে সাথেই জানতে পেরে  বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন, এমপিকে অবগত করেছেন। এবং ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারকে সার্বিক দিক থেকে সহায়তা করা হয়েছে।

বৃহষ্পতিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে স্থানীয় এমপি নারায়ন চন্দ্র চন্দ ও পুলিশ কর্মকর্তারা সঠিক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন। এ সময় নারায়ন চন্দ্র চন্দ জানান, ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারকে পূনর্বাসনের জন্য সহায়তা করা হবে। এছাড়া হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কটোর ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, পুলিশ কমিশনার ও প্রশাসনের সকল স্তরের কর্মর্তাকদেরকে তিনি অবহিত করে নির্দেশনা দিয়েছেন।##

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Banglar Dinkal

ডুমুরিয়ার লাইন বিলপাবলায় সংখ্যালঘু পরিবারে হামলা-মারপিট করে সর্বস্ব লুট, আটক-০৩

প্রকাশিত সময় ১২:৩১:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ নভেম্বর ২০২২

কঠোর শাস্তি ও পূর্নবাসনের আশ্বাস স্থানীয় সংসদ সদস্যের :

###    খুলনার ডুমুরিয়ায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একটি পরিবারের বসত-ভিটায় হামলা চালিয়ে বসতবাড়ি ভাঙচুর, মারধর, লুটপাট করে সন্ত্রাসিরা। বুধবার সকাল ১১টার দিকে উপজেলার গুটুঁদিয়া ইউনিয়নের সিকদারপাড়া গ্রামে দৌলতপুরের সন্ত্রাসী মোল্যা জাকির হোসেন, মফিজুর রহমান টুকু এবং আলমগীর হোসেন আলোর নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা এ হামলা ও লুটপাট করে।এ সময় সন্ত্রাসীরা বাড়ির মালিক বিকাশ নন্দীর স্ত্রীকেও অত্যাচার-নির্যাতন করে। নারকীয় হামলা, ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনার খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার সকালে খুলনা-১ আসনের এমপি নারায়ন চন্দ্র চন্দ, পুলিশের কর্মকর্তা ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এবং আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ বিকাশ নন্দি বাদী হয়ে ৫জনের নাম উল্লেখসহ ১৫/২০ জনের নামে মামলা দায়ের করেছেন।পুলিশ হামলা ও লুটপাটের ঘটনার প্রধান তিন আসামী  মোল্যা জাকির হোসেন, মফিজুর রহমান টুকু ও আলমগী হোসেনকে আটক করেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ডুমুরিয়া উপজেলার গুটুদিয়া ইউনিয়নের সিকদারপাড়া গ্রামে বিকাশ নন্দির বাড়িতে রান্নাঘর, গোয়ালঘর, ধানের গোলাসহ সকল আসবাবপত্র ভাংচুর ও লুটপাট করেছে হামলাকারীরা। পরিবারের কোন কিছুই অবশিষ্ঠ নেই। সবকিছুই সন্ত্রাসীরা লুটপাট করে নিয়ে গেছে। হামলার শিকার হওয়া বিকাশ নন্দি  জানান, তিনি কৃষি কাজে বাইরে ছিলেন। এ সময় মোল্যা জাকির হোসেন, মফিজুর রহমান টুকু এবং আলমগীর হোসেন আলোর নেতৃত্বে শতাধিক সন্ত্রাসী এ হামলা করেছে। তার বাড়ীর সবকিছুই তারা লুটে নিয়ে গেছে। তার স্ত্রীকেও অত্যাচার-নির্যাতন এবং মারপিট করেছে।এই সন্ত্রাসীরা এরআগেও এমন হামলা ও লুটপাট করেছে। তিনি আরো জানান, মোল্যা জাকির হোসেন  প্রায় ২০বছর আগে ৮১হাজার টাকা নিয়ে জমি বিক্রি করে। কিন্তু প্রতারণা করে তাকে জমি দলিল করে না দিয়ে সন্ত্রাসী দিয়ে উচ্ছেদ করতে চায়। এই জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। তিনি এই হামলা, লাটপাট ও অথ্যাচারের সঠিক বিচার চান।

গ্রামের প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বসতভিটার পিছনে বিলান জমি ও বিলের মধ্যে দিয়ে শতাধিক লোক হাতে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা করে। ঘরবাড়ি ভেঙ্গে মাটির সাথে ১০-১৫ মিনিটের মধ্যে মিলিয়ে দিয়েছে। টিনের ঘরের ৪ কোনায় দড়ি বেধে সকলে মিলে হ্যাচকা টান দিয়ে ঘর ভেঙ্গে ফেলে। বিকাশ নন্দীর স্ত্রীকে মারধর করে এবং জায়গা ছেড়ে দেওয়ার জন্য হত্যারও হুমকি দেয়। এরপরে গ্রামবাসী টের পেয়ে চলে আসার আগেই তারা বিলের মধ্য দিয়ে আবার চলে যায়।সিকদারপাড়া গ্রামে দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশি সময়কাল যাবৎ বিকাশ নন্দি তার পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন। তাদের বসতভিটার জায়গা জমি নিয়ে দীর্ঘ দিন একটা বিরোধ চলে আসছে দৌলতপুর দেয়ানা এলাকার টুকুর সাথে। তারই জের ধরে বুধবার সকালে প্রায় শতাধিক লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বিল পাড়ি দিয়ে এসে বসতবাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা একটি টিনসেডের বসতঘরসহ, রান্নাঘর, গোয়ালঘর, ধানের গোলা, ধারির ঘর, হাঁস-মুরগির ঘর ভাংচুর ও ঘরে থাকা নগদ দেড় লাখ টাকা, সোনার গহনা লুট করে বিভিন্ন আসবাবপত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে নষ্ট করে স্থান ত্যাগ করে। এসময়ে বিকাশ নন্দির স্ত্রী ছনেকা নন্দিকে মারপিট করে আহত করে। তিনি এখন খুলনা মেডিকেলে কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসারত আছেন।

গুটুঁদিয়া ইউনিয়নের স্থানীয় মেম্বর পলাশ হাওলাদার জানান, হামলাকারীরা মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যে বসতবাড়িসহ ৬টি ঘর ভাংচুর করে মাটিতে সমান করে দিয়েছে। এলাকাবাসী বুঝে উঠার আগেই তারা ভাঙচুর করে পালিয়ে যায়। দিবালোকে এমন সন্ত্রাসী তান্ডব আগে কখনোই দেখেনি বলে তিনি জানান। এরকম ভয়াবহ হামলার ঘটনায় ভয়ে স্থানীয়রা মুখ খুলতেও সাহস পায়নি।আড়ংঘাটা থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ ওহিদুজ্জামান জানান, কেএমপির আড়ংঘাটা থানার লাইনবিল পাবলা শিকদার পাড়ার বিমল নন্দীর ছেলে বিকাশ নন্দী(৫০) সাথে দৌলতপুরের দেয়ানা দক্ষিণপাড়া বন্দপাড়া মেইন রোড এলাকার লোকমান হাকিমের ছেলে মোল্যা জাকির হোসেন(৫৫) ও শেখ মোকছেদ আলীর ছেলে মফিজুর রহমান লাইনবিল পাবলা শিকদার পাড়ার ০৯ কাঠা জমি নিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ বিরোধীতা চলছিলো। প্রায় ১৮/২০ বছর পূর্বে বিকাশ নন্দী ০৯ কাঠা জমি বাবদ জাকির হোসেনকে ৮১হাজার টাকা পরিশোধ করে সেখানে বসতবাড়ি করে বসবাস করছিলো। জাকির হোসেন জমির দখল দিলেও তালবাহানা করে রেজিস্ট্রি করে দেয়নি। ফলে উভয়ের মধ্যে ০৩ টি ফৌজদারী মামলা ও ০১ টি দেওয়ানী মামলা চলমান আছে। এ বিষয় নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে শালিস দরবার হয়েছে। কিন্তু মামলা বা শালিস দরবারে কোন সমাধান আসেনি। এমতাবস্থায় মোল্যা জাকির হোসেন ও মফিজুর রহমান টুকু বুধবার(১৬নভেম্বর) সকালে ১০/১৫ জন লোক লাঠি সোটা নিয়ে বিকাশ নন্দীর বাড়ীতে অতর্কিত হামলা করে। এসময় বিকাশ নন্দী বাড়ীতে না থাকায় তার স্ত্রীকে জীবননাশের হুমকি দিয়ে তাদের বসতঘর, রান্নাঘর, গোয়াল ঘর, গোলা ঘর এবং কাঠের ঘর ভাংচুর করে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেয়। নগদ টাকা-পয়সাসহ অন্যান্য জিনিসপত্র লুটপাট করে নিয়ে যায়। বিকাশ নন্দীর স্ত্রীর ডাক চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে আসামীরা পালিয়ে যায়। মর্মান্তিক এ ঘটনা ও অতর্কিতভাবে হামলা করে সন্ত্রাসিরা পরিবারটিকে নি:শেষ করে দিয়েছে। পরে ন্যাক্কারজনক এ হামলা ও লুটপাটের ঘটনার খবর পেয়ে আড়ংঘাটা থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ ওহিদুজ্জামান, খালিশপুর জোনের সহকারি পুলিশ কমিশনার ও ডেপুটি পুলিশ কমিশনার(উত্তর) মোল্যা জাহাঙ্গীর হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পুলিশ এ ঘটনার প্রধান আসামী মোল্যা জাকির হোসেন, মফিজুর রহমান টুকু ও  মোঃ আলমগীর হোসেনকে গ্রেফতার করেছে এবং অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতারের জন্য বিশেষ অভিযান চলমান রয়েছে বলে জানান ওসি মোঃ ওহিদুজ্জামান।

ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার শরীফ আসিফ রহমান জানান, খবর পেয়ে বুধবার সন্ধ্যা ৭ টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে  যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। গুটুদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শেখ তুহিনুল ইসলাম তুহিন বলেন, হামলার ঘটনাটি ঘটার সাথে সাথেই জানতে পেরে  বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন, এমপিকে অবগত করেছেন। এবং ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারকে সার্বিক দিক থেকে সহায়তা করা হয়েছে।

বৃহষ্পতিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে স্থানীয় এমপি নারায়ন চন্দ্র চন্দ ও পুলিশ কর্মকর্তারা সঠিক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন। এ সময় নারায়ন চন্দ্র চন্দ জানান, ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারকে পূনর্বাসনের জন্য সহায়তা করা হবে। এছাড়া হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কটোর ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, পুলিশ কমিশনার ও প্রশাসনের সকল স্তরের কর্মর্তাকদেরকে তিনি অবহিত করে নির্দেশনা দিয়েছেন।##