বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৩:৩৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
পঞ্চগড়ের নৌকাডুবিতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৫, নিখোঁজ আরো ক্ষিপ্ত হয়ে ট্রফি ভাঙা সেই ইউএনওকে ঢাকায় বদলি প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী তিন ফসলি কৃষিজমি ধ্বংস করে কোন কিছু করা যাবে না বাংলাদেশ ও ভারতের মানুষের মধ্যে ঐতিহ্য, কৃষ্টি ও সংস্কৃতির সাদৃশ্যে নানা উৎসবে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ : ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ও নিয়োগের ক্ষেত্রে ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে : উপাচার্য শ্যামনগরের কাঁশিমাড়িতে বজ্রপাত প্রতিরোধে তিন কিলোমিটার রাস্তায় তালবীজ বপন রামপালে বিনামূল্যে চিকিৎসা পেলেন ৩ সহস্রাধিক রোগী  খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে রিসার্চ সোসাইটির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা আমাদের সকলের দায়িত্ব : মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী রামপাল তাপ বিদ্যুত কেন্দ্রের মালামালসহ ০৬ ডাকাত গ্রেফতার

খুলনা-সাতক্ষীরাসহ উপকুলের প্রায় ৫হাজার ৭০০ কি.মি. বাঁধ খুবই নাজুক, চরম দূর্ভোগে ২কোটি মানুষ

পরিতোষ কুমার বৈদ্য, শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি।।
  • প্রকাশিত সময় শনিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২২
  • ২৬ পড়েছেন

##   উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ স্থান পরিদর্শন শেষে মিট দ্যা প্রেস করেছে জলবায়ু অধিপরামর্শ ফোরাম। শনিবার (১০সেপ্টেম্বর) বিকালে শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে লিডার্স এর সহযোগিতায় সাতক্ষীরা জেলা জলবায়ু অধিপরামর্শ ফোরাম, শ্যামনগর উপজেলা জলবায়ু অধিপরামর্শ ফোরাম ও শ্যামনগর উপজেলা যুব ফোরাম মিট দ্যা প্রেসের আয়োজন করে।
মিট দ্যা প্রেসে মূল বক্তব্য তুলে ধরেন ফোরামের সদস্য সচিব মাধব চন্দ্র দত্ত। অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন, লিডার্সের কার্যকরী পরিষদের সভাপতি ও উপজেলা জলবায়ু অধিপরামর্শ ফোরামের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাষ্টার নজরুল ইসলাম, ফোরামের সদস্য ও সাতক্ষীরা নাগরিক কমিটির আহবায়ক মোঃ আনিসুর রহিম, ফোরামের সদস্য ও সাতক্ষীরা নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব আবুল কালাম আজাদ, লিডার্সের নির্বাহী পরিচালক মোহন কুমার মন্ডল, শ্যামনগর প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি এস.এম মোস্তফা কামাল, ফোরামের সদস্য ও সাংবাদিক শরিফুল্লাহ কায়সার সুমন, সদস্য ও সাংবাদিক আমিনা বিলকিস ময়না, সাংবাদিক আনিসুজ্জামান সুমন, সাংবাদিক এম কামরুজ্জামান প্রমূখ।
মিট দ্যা প্রেসে বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন আজকের বিশ্বে মানবতার জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও লবনাক্ততা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। আইপিসিসির তথ্য অনুযায়ী, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পৃথিবীতে দুর্যোগ বেড়েছে ১০ গুন। ভৌগলিক অবস্থানের কারনে বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগরে সৃষ্ট দুর্যোগ বাংলাদেশে আঘাত করে। দেশের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া সামুদ্রিক দুর্যোগে সমুহের ৭০%+ বয়ে যায় সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাট জেলার উপর দিয়ে। কিন্তু এ অঞ্চলের অবকাঠামো খুবই দুর্বল। প্রায় ৫৭০০ কি. মি. বাঁধ খুবই নাজুক। এখনও অনেক স্থান রয়েছে যা সামান্য জোয়ারেই ভেঙে গিয়ে এলাকা প্লাবিত হবে। এ অঞলের মানুষের ঘর বাড়ি মাটি, কাঠ ও টিন দিয়ে তৈরি যা দুর্যোগ সহনশীল নয়। জনসংখ্যার অনুপাতে আশ্রয়কেন্দ্র খুবই অপ্রতুল। প্রতিটি দুর্যোগে ভেসেযায় মানুষের তিলে তিলে গড়া সঞ্চয় ও সম্পদ। ক্রমবর্ধমান দুর্যোগের ফলে দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের মানুষের খাদ্য সংকট, স্বাস্থ্য ঝুঁকি, জীবিকার উৎস হ্রাস, অপুষ্টি, সুপেয় পানির অভাবে রোগ ব্যধি বৃদ্ধিসহ প্রতি বছর প্রচুর আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির সমুক্ষীন হবে। উপকূলীয় অঞ্চলে গত ৩৫ বছরে লবণাক্ততা পূর্বের তুলনায় ২৬% বৃদ্ধি পেয়েছে। উপকুলের ৭৩% মানুষ সুপয়ে পানি থেকে বঞ্চিাত। লবণাক্ততার কারনে কৃষি ফসলের উৎপাদন কমে যাচ্ছে আশংকাজনকভাবে। এছাড়া লবাণাক্ততা বৃদ্ধিও ফলে এ এলাকায় বসবাসকারীদের গর্ভবতী মায়েদের প্রি-একলেম্পশিয়া, উচ্চ রক্তচাপ ও জরায়ু সংক্রমন বেড়েছে আশঙ্কাজনকভাবে।
মিট দ্যা প্রেসে আরও বলা হয়, গতবছর ৩টি মেগা প্রকল্প একনেকে অনুমোদন হলেও তার কাজ এখনও শুরু হয়নি। উপকূলের মানুষ এখনও অরক্ষিত এবং মানবেতর জীবন যাপন করছে। এই প্রেক্ষাপটে আমরা আজ উপকূলের কিছু স্থান পরিদর্শন করেছি। সেখানে বেড়িবাঁধ খুবই নাজুক। যেকোন সময়ে ভেঙে যেতে পারে। পানি উন্নয়ন বোর্ড গত মাসে ভাঙনের বেড়িবাঁধ সংস্কারের জন্য যে বিল তুলেছে বাস্তবে তার কোন মিল নেই। উচ্চ জোয়ারে এসব ঝুঁকিপূর্ণ স্থান যেকোন সময় প্লাবিত হতে পারে। এছাড়া অবৈধ নাইন্টি পাইপ বসিয়ে অসাধু মাছ চাষীরা লবণ পানি তুলছে। যাতে বেড়িবাঁধের ক্ষতি হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তাতে কোন ভ্রুক্ষেপ নেই। আজ দূর্গাবাটী ভুক্তভোগী মানুষের সাথে কথা বলে জানা যায় বাঁধ মেরামত হয়েছে স্বেচ্ছাশ্রমে আর পানি উন্নয়ন বোর্ড সেই টাকা খরচ দেখাচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের এই স্বেচ্চাচারিতার কারনে উপকূলের মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে। অবিলম্বে পানি উন্নয়ন বোর্ডের এই স্বেচ্চাচারিতা প্রতিরোধ করতে না পারলে বেড়িবাঁধ এর কারনে নিঃস্ব মানুষ আরও নিঃস্ব হতে থাকবে।
উত্থাপিত সুপারিশে বক্তারা বলেন, উপকূলে টেকসই বেড়িবাঁধ দিতে হবে, সুপেয় পানির স্থায়ী সমাধান করতে হবে এবং উপকূল সুরক্ষায় দ্রুত সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। ##

সংবাদটি শেয়ার করার জন্য অনুরোধ করা হলো

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ ধরনের আরো সংবাদ

© All rights reserved by www.banglardinkal.com (Established in 2017)

Hwowlljksf788wf-Iu