ঢাকা ০৭:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২২, ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে রিসার্চ সোসাইটির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘তোমার থিসিস কেমন হওয়া উচিত’ শীর্ষক কর্মশালার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করলো শিক্ষার্থীদের সংগঠন বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্চ সোসাইটি। সোমবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু একাডেমিক ভবনের সাংবাদিক লিয়াকত আলী মিলনায়তনে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপাচার্য প্রফেসর ড. মাহমুদ হোসেন বলেন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ডিসিপ্লিনের পাঠ্যক্রম এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যেখানে গবেষণা বা থিসিসের একটি অংশ রয়েছে। ফলে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে গবেষণার ব্যাপারে হাতে-কলমে শেখার সুযোগ তৈরি করে দেয়। একই সাথে তাদের বিশ্লেষণের সামর্থ্য করে তোলে।তিনি আরও বলেন, কৌতুহল ও আগ্রহ গবেষণায় আকৃষ্ট করে। এটা একটি একান্ত মনের ভাবনাকে অন্যভাবে প্রকাশ করে। গবেষণায় যুক্ত হতে হলে শিশুর মতো কৌতুহলী মানসিকতা থাকতে হবে। অনেক বেশি অনুসন্ধিৎসু হতে হবে। সাধারণত সমস্যা নিয়েই গবেষণা করে সমাধানের পথ নির্দেশনা দেওয়া হয়। আমাদের দেশে, সমাজে বা বৈশ্বিক ক্ষেত্রে সমস্যার অন্ত নেই। কিন্তু অনেক সময় গবেষণার বিষয় খুঁজতে গিয়ে শিক্ষার্থীরা হিমশিম খায়। প্রকৃতভাবে গবেষণার প্রাথমিক কিছু বিষয়বস্তু, পদ্ধতি জানতে পারলে শিক্ষার্থীদের গবেষণাভীতি দূর হয়।  উপাচার্য বলেন, প্রযুক্তি এখন আড্ডা, একসাথে বসে আলাপ-আলোচনার মতো কমিয়ে দিয়েছে। অথছ ভালো আড্ডা থেকেই জন্ম নেয় অনেক উদ্ভাবন চিন্তা। শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পারিক চিন্তার আদান-প্রদান, ভাবনা, চর্চা ও সমস্যা নিয়ে আলোচনা ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। এ থেকে গবেষণার বিষয়বস্তু উঠে আসে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্চ সোসাইটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে গবেষণা মনষ্কতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অনন্য ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি আশাবাদ করেন। একই সাথে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন।এরমধ্যে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি অটোমেশন, বইয়ের সংখ্যা বৃদ্ধি, ই-বুক এক্সেস ফ্রি-করণ, কম্পিউটার ব্যবহার সুবিধা বৃদ্ধিতে ৪০টি জিরো ক্লায়েন্ট কম্পিউটার স্থাপন, ভবনের আরও একটি ফ্লোরে লাইব্রেরি সম্প্রসারণ, একই ভবনের চতুর্থ তলায় ইনোভেশন হাব স্থাপন, মাস্টার্স এবং পিএইচডি শিক্ষার্থীদের গবেষণা সহায়তা প্রদান, সেন্ট্রাল ল্যাবরেটরিতে হাইস্পিড কম্পিউটিং ল্যাব স্থাপনের কথা উল্লেখযোগ্য। তিনি ছাত্র বিষয়ক পরিচালকের দপ্তরের উদ্যোগে প্রতিবছর বিশ্ববিদ্যালয়ে ইনোভেশন আইডিয়া কম্পিটিশন আয়োজনের দিকনির্দেশনা দেন। যাতে করে শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে নতুন নতুন উদ্ভাবন চিন্তা বের হয়ে আসে। কেইউআরএস এর প্রতি উপাচার্য তাদের এমন কর্মশালা নিয়মিত আয়োজনের আহ্বান জানান।
কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ছাত্র বিষয়ক পরিচালক প্রফেসর মো. শরীফ হাসান লিমন। টেকনিক্যাল সেশনে কি-নোট স্পিকার হিসেবে আলোচনা করেন এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের শিক্ষক প্রফেসর ড. মো. মনিরুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা মো. ইয়াসিন আহমেদ। কর্মশালায় মিনহাজুল আবেদীন সম্পদকে সভাপতি ও তাওসিফ অনিককে সাধারণ সম্পাদক করে গঠিত ১৯ সদস্যের কার্যনির্বাহী কমিটিকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। এসময় সংগঠনের সাধারণ সদস্য বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।##

Tag :
About Author Information

Banglar Dinkal

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে রিসার্চ সোসাইটির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু

প্রকাশিত সময় ০৮:৩৪:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘তোমার থিসিস কেমন হওয়া উচিত’ শীর্ষক কর্মশালার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করলো শিক্ষার্থীদের সংগঠন বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্চ সোসাইটি। সোমবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু একাডেমিক ভবনের সাংবাদিক লিয়াকত আলী মিলনায়তনে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপাচার্য প্রফেসর ড. মাহমুদ হোসেন বলেন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ডিসিপ্লিনের পাঠ্যক্রম এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যেখানে গবেষণা বা থিসিসের একটি অংশ রয়েছে। ফলে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে গবেষণার ব্যাপারে হাতে-কলমে শেখার সুযোগ তৈরি করে দেয়। একই সাথে তাদের বিশ্লেষণের সামর্থ্য করে তোলে।তিনি আরও বলেন, কৌতুহল ও আগ্রহ গবেষণায় আকৃষ্ট করে। এটা একটি একান্ত মনের ভাবনাকে অন্যভাবে প্রকাশ করে। গবেষণায় যুক্ত হতে হলে শিশুর মতো কৌতুহলী মানসিকতা থাকতে হবে। অনেক বেশি অনুসন্ধিৎসু হতে হবে। সাধারণত সমস্যা নিয়েই গবেষণা করে সমাধানের পথ নির্দেশনা দেওয়া হয়। আমাদের দেশে, সমাজে বা বৈশ্বিক ক্ষেত্রে সমস্যার অন্ত নেই। কিন্তু অনেক সময় গবেষণার বিষয় খুঁজতে গিয়ে শিক্ষার্থীরা হিমশিম খায়। প্রকৃতভাবে গবেষণার প্রাথমিক কিছু বিষয়বস্তু, পদ্ধতি জানতে পারলে শিক্ষার্থীদের গবেষণাভীতি দূর হয়।  উপাচার্য বলেন, প্রযুক্তি এখন আড্ডা, একসাথে বসে আলাপ-আলোচনার মতো কমিয়ে দিয়েছে। অথছ ভালো আড্ডা থেকেই জন্ম নেয় অনেক উদ্ভাবন চিন্তা। শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পারিক চিন্তার আদান-প্রদান, ভাবনা, চর্চা ও সমস্যা নিয়ে আলোচনা ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। এ থেকে গবেষণার বিষয়বস্তু উঠে আসে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্চ সোসাইটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে গবেষণা মনষ্কতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অনন্য ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি আশাবাদ করেন। একই সাথে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন।এরমধ্যে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি অটোমেশন, বইয়ের সংখ্যা বৃদ্ধি, ই-বুক এক্সেস ফ্রি-করণ, কম্পিউটার ব্যবহার সুবিধা বৃদ্ধিতে ৪০টি জিরো ক্লায়েন্ট কম্পিউটার স্থাপন, ভবনের আরও একটি ফ্লোরে লাইব্রেরি সম্প্রসারণ, একই ভবনের চতুর্থ তলায় ইনোভেশন হাব স্থাপন, মাস্টার্স এবং পিএইচডি শিক্ষার্থীদের গবেষণা সহায়তা প্রদান, সেন্ট্রাল ল্যাবরেটরিতে হাইস্পিড কম্পিউটিং ল্যাব স্থাপনের কথা উল্লেখযোগ্য। তিনি ছাত্র বিষয়ক পরিচালকের দপ্তরের উদ্যোগে প্রতিবছর বিশ্ববিদ্যালয়ে ইনোভেশন আইডিয়া কম্পিটিশন আয়োজনের দিকনির্দেশনা দেন। যাতে করে শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে নতুন নতুন উদ্ভাবন চিন্তা বের হয়ে আসে। কেইউআরএস এর প্রতি উপাচার্য তাদের এমন কর্মশালা নিয়মিত আয়োজনের আহ্বান জানান।
কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ছাত্র বিষয়ক পরিচালক প্রফেসর মো. শরীফ হাসান লিমন। টেকনিক্যাল সেশনে কি-নোট স্পিকার হিসেবে আলোচনা করেন এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের শিক্ষক প্রফেসর ড. মো. মনিরুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা মো. ইয়াসিন আহমেদ। কর্মশালায় মিনহাজুল আবেদীন সম্পদকে সভাপতি ও তাওসিফ অনিককে সাধারণ সম্পাদক করে গঠিত ১৯ সদস্যের কার্যনির্বাহী কমিটিকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। এসময় সংগঠনের সাধারণ সদস্য বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।##