খুলনা নগরবাসীকে আরো দুই বছর ওয়াসার লবনপানিই খেতে হবে, সুরক্ষিত হয়নি ওয়াসার সরবরাহ লাইন

45

খুলনা ব্যুরো।।

খুলনা মহানগরীর ১৫লক্ষাধিক নগরবাসীর সুপেয় পানি সরবরাহের জন্য খুলনা ওয়াসা আড়াই হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করলেও নিরাপদ ও সুপেয় পানি পাচ্ছে না নগরবাসী। ওয়াসা যে পানি সরবরাহ করছে সেটি লবন পানি। আগামী আরো দুই বছর এই লবন পানিই খুলনা মহানগরবাসীকে খেতে হবে। লবন পানি পরিশোধন করে খাবার উপযোগী পানি সরবরাহ করতে এ সময় প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন খুলনা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: আবদুল্লাহ। মঙ্গলবার সকালে খুলনা ওয়াসা ভবনে মহানগরীতে পানি সমস্যা বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান তিনি। এ সময় লিখিত বক্তব্যে ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: আবদুল্রাহ জানান, ২০০৮ সালে খুলনা ওয়াসা প্রতিষ্ঠার পর পানি সরবরাহের পরিধি ও গ্রাহক সংখ্যা বেড়ে যায়। যার প্রেক্সিতে ২০১১ সালে গোপালগঞ্জ ও মোল্লাহাটের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত মধুমতি নদী থেকে পানি এনে ট্রিটমেন্টের মাধ্যমে খুলনা মহানগরীতে পানি সরবরাহের জন্য জাইকা ও এডিবির আর্থিক সহযোগীতায় ২’হাজার ৫৫৮কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেয়। এই প্রকল্প গ্রহনের আগে ২০০৯-২০১০ সালে সম্ভব্যতা যাচাই করা হয়। সেখানে শুষ্ক মৌসুমেই ১৫দিন নদীর পানিতে লবনাক্ততা মাত্রা বাড়বে বলেও উল্লেখ করা হয়। সেটিকে বিবেচনায় নিয়েই রির্জাভারে পানি সংরক্ষন করে লবনপানির সংমিশ্রনে পানিতে লবনাক্ততার মাত্র কমিয়ে খাবার উপযোগী করে সরবরাহের পরিকল্পনা নেয়া হয়। ইতিমধ্যেই ওয়াসা পানি সরবরাহ শুরু করেছে। ওয়াসা প্রতিদিন খুলনা মহানগরীতে নির্মিত ০৭টি ডিষ্ট্রিবিউশন রির্জাভার ও ১০টি ওভারহেড ট্যাংকির সাহায্যে ৩১টি ওয়ার্ডের ১০টি জোনে ৬৫০ কিলোমিটার পাইপ লাইনের মাধ্যমে ৩৭’হাজার ৩০০ গ্রাহককে ২‘কোটি ৭০লাখ লিটার পানি সরবরাহ করা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, চলতি বছরের শুষ্ক মৌসুমে অনাবৃষ্টি অস্বাভাবিকভাবে দীর্ঘায়িত হওয়ায় মধুমতি নদীর পানিতে লবনাক্ততার ামত্রা অনেক বৃদ্ধি পায়। সেকারনে নিরাপদ ও সুপেয় পানি সরবরাহে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। কিছু কিছূ এলাকায় লবন পানিও সরবরাহ হচ্ছে। এই সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই শুষ্ক মৌসুমে পানিতে লবনাক্ততা বেড়ে গেলে সেটিকে হ্রাস করার জন্য বড় রির্জাভার নির্মান এবং লবন পানির সমস্যা সমাধানের জন্য মন্ত্রনালয়ে একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।সেটির অনুমোদন পাওয়া গেলে সমস্যার সমাধান হবে। তিনি আরও জানান, এখনও পর্যন্ত খুলনা ওয়াসার পানির সরবরাহ লাইন সুরক্সা করা সম্ভব হয়নি। শুষ্ক মৌসুম ছাড়া অন্য সময়ে পানি সংরক্ষিত করার পরিমান বাড়িয়ে লবন পানির সমাধান করা সম্ভব হবে। তবে এটি করতে আরো দুই বছর সময় লাগবে। মহানগরীর চাহিদা মত বেশ পরিমান ধারণ ক্ষমতার রির্জাভার তৈরীর পর ওয়াসার লবন পানির সমস্যা কেটে যাবে।

তিনি ওয়াসার বিরুদ্ধে নগরবাসীর অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ কঠোরভাবে ব্যভস্থা গ্রহনের আশ্বাস দেন। ইতিমধ্যেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনজন মিটার রিডারকে চাকুরীচ্যুত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। ওয়াসার পানির নতুন লাইন নিতে কেউ আবেদন করলে দুই সপ্তাহের মধ্যেই তাদের লাইন প্রদান করা হবে। এছাড়া উপকুলীয় এলাকা খুলনায় নিরাপদ ও সুপেয় পানি সরবরাহের চ্যালেঞ্জ থাকবে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিগত কয়েক বছরের অভিজ্ঞতা ও কার্যক্রমের পর্যালোচনার মাধ্যমে সকলের সহযোগীতায় এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে উন্নত ও মানসম্মত সেবা প্রদানের মা্যধমে নগরবাসীর সন্তোষ্টি অর্জন করবে বলেও সংবাদ সম্মেলনে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সংবাদ সম্মেলনে খুলনা ওয়াসার ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো: কামাল উদ্দিন আহমেদসহ কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। ##

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here