বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০২:২৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
পঞ্চগড়ের নৌকাডুবিতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৫, নিখোঁজ আরো ক্ষিপ্ত হয়ে ট্রফি ভাঙা সেই ইউএনওকে ঢাকায় বদলি প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী তিন ফসলি কৃষিজমি ধ্বংস করে কোন কিছু করা যাবে না বাংলাদেশ ও ভারতের মানুষের মধ্যে ঐতিহ্য, কৃষ্টি ও সংস্কৃতির সাদৃশ্যে নানা উৎসবে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ : ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ও নিয়োগের ক্ষেত্রে ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে : উপাচার্য শ্যামনগরের কাঁশিমাড়িতে বজ্রপাত প্রতিরোধে তিন কিলোমিটার রাস্তায় তালবীজ বপন রামপালে বিনামূল্যে চিকিৎসা পেলেন ৩ সহস্রাধিক রোগী  খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে রিসার্চ সোসাইটির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা আমাদের সকলের দায়িত্ব : মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী রামপাল তাপ বিদ্যুত কেন্দ্রের মালামালসহ ০৬ ডাকাত গ্রেফতার

খুলনা এলজিইডিতে কমিশন বানিজ্য ও দূর্নীতির সিন্ডিকেট : দুই বছরে অর্ধশত কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ

বিশেষ প্রতিনিধি।।
  • প্রকাশিত সময় মঙ্গলবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২২
  • ৮০ পড়েছেন

##   খুলনা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর-এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী মো: কামরুজ্জামানের নেৃতত্বে অনিয়ম, ঘুষ, কমিশন বানিজ্য ও দূর্নীতির সিন্ডিকেট নানান ভাবে সরকারী বিভিন্ন প্রকল্পের তহবিলের ও ঠিকাদারদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিশেষ করে এলজিইডির তালিকাভুক্ত ঠিকাদারদের কাছ থেকে নানান খাত ও অজুহাত দেখিয়ে অবৈধভাবে ০৩শতাংশ থেকে ১০শতাংশ কমিশন নেয়া, ঠিকাদারদের নাম ব্যবহার করে অফিসের মেরামতসহ বিভিন্ন কাজ অফিসের কর্মচারীদের সিন্ডিকেটের মাধ্যমে যেনতেনভাবে করিয়ে সরকারী টাকা আত্নসাত এবং বিজ্ঞাপন প্রদান ও বিল দিতে কমিশন বানিজ্যের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এই সিন্ডিকেট।। এলজিইডি অফিসের এই ঘুষ, কমিশন বানিজ্য ও দূর্নীতির সিন্ডিকেটে নির্বাহী প্রকৌশলী মো: কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে হিসাব সহকারী মো: আমিরুল ইসলাম, মাষ্টাররোল কর্মচারী কার্য-সহকারী নাসির উদ্দিন, ম্যাকানিক্যাল ফোরম্যান নরেশ চন্দ্রসহ ৬/৭জন আস্থাভাজন সরাসরি জড়িত রয়েছে। খুলনার নির্বাহী প্রকৌশলী মো: কামরুজ্জামান যোগদান করার পর এই সিন্ডিকেট অর্ধশতাধিক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে গাড়ী, বাড়ীসহ বিপুল পরিমান সম্পদের মালিক হয়েছেন তারা। সম্প্রতি খুলনা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো: কামরুজ্জামান, তার সিন্ডিকেটের সহযোগী হিসাব সহকারী আমিরুল ইসলাম, মেকানিক্যাল ফোরম্যান নরেশ চন্দ্র সাহা, কার্য-সহকারী নাসির উদ্দিনসহ এই সিন্ডিকেটের হাতে হয়রানি, অত্যাচার-নির্যাতন, অমানুষিক আচরন, ঘুষ, দূর্নীতি, অনিয়ম ও প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার প্রতিকার ও বিচারের দাবীতে এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী ও দূর্নীতি দমন কমিশন(দুদক)সহ বিভিন্ন দপ্তরে একাধিক ঠিকাদার অভিযোগ দায়ের করেছেন। দায়েরকৃত অভিযোগে জানা গেছে, ২০২০ সালের অক্টোবরে খুলনা এলজিইডিতে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে মো: কামরুজ্জামান যোগদান করেন।যোগদানের পর থেকে তিনি অফিসের অনিয়ম ও দূর্নীতির সাথে জড়িত বেশ কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আস্তায় নিয়ে চরম অনিয়ম-দূর্নীতি শুরু করেন।ইতিমধ্যেই নির্বাহী প্রকৌশলী মো: কামরুজ্জামান খুলনা এলজিইডির সবগুলো প্রকল্প থেকে গত প্রায় দুই বছরে কমিশন ও ঘুষ নিয়ে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। কিনেছেন দামী গাড়ী, করেছেন বাড়ীসহ অঢেল সম্পদ। নির্বাহী প্রকৌশলী মো: কামরুজ্জামান দপ্তরের প্রতিটি কাজ থেকে ৩শতাংশ থেকে ১০শতাংশ কমিশন নিয়ে থাকে। বিশেষ করে গত এক বছরে(২০২১-২২ অর্থবছরে) কেবিএস-আরআইডিপি, কেডিআরআইডিপি, টিইউএলও বা থানা ইউনিয়ন ল্যান্ড অফিস নির্মান প্রকল্প, এফডিআরআইডিপি বা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ গ্রামীন অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প, পিইডিপি-৪ বা প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন প্রকল্প-৪, এনবিডিআইএনএনজিপিএস বা নতুন জাতীয়করনকৃত সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় উ্ন্নয়ণ প্রকল্প, এনবিআইডিজিপিএস বা জাতীয়করনকৃত সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় উন্নয়ন প্রকল্প,  সিআরএমআইডিপি বা বাজার উ্ন্নয়ন প্রকল্প(পাইকগাছা ও বটিয়াঘাটাসহ ৪টি উপজেলায়), ভিআরআরপি, আইআরআইডিপি-৩, ইউটিএমআইডিপি বা ননমিউনিসিপ্যাল অবকাঠামো উন্নয়ণ প্রকল্প, ইউএমসি বা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স নির্মান প্রকল্প ও সিএএফডিআরআইআরপি বা ঘূর্নিঝড় আম্ফান ক্ষতিগ্রস্থ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পসহ ১৩টি প্রকল্প থেকে শতাধিক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এ সকল প্রকল্পে গত অর্থবছরে প্রায় এক হাজার ৯শো কোটি টাকার বরাদ্ধ এসেছে বলে জানা গেছে।

ঠিকাদারদের অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, কোন কোন ঠিকাদার ফান্ডের টাকা দিতে রাজি না হলে তাদের বিল মাসের পর মাস আটকে রেখে হয়রানি করছে। অথচ দুই-একজন ঠিকাদার যারা সরকার বিরোধী ও বিএনপি-জামায়াতের রাজনীতির সাথে জড়িত তাদের কাছ থেকে ফান্ডের জন্য বেশী টাকা নিয়ে অগ্রীম বিলও দিয়ে দিচ্ছে নির্বাহী প্রকৌশলী মো: কামরুজ্জামান।কিন্তু সাধারন ও মুক্তিযুদ্ধের সমর্থক ঠিকাদাররা তার কাছে গেলে বা অন্যদের বেশী ও অগ্রীম বিল পরিশোধের প্রতিবাদ করলে খারাপ ব্যবহার করে। এবং অনেক সময় হিসাব সহকারী ও নির্বাহী প্রকৌশলী মো: কামরুজ্জামান তাদের নথিও ছুড়ে ফেলে দিয়ে অত্যাচার করে। গত ২০২১সালের সেপ্টেম্বরের ০২তারিখ ঠিকাদার ম্যানেজমেন্ট মিটিংয়ে বিষয়গুরো তুলে ধরলে নির্বাহী প্রকৌশলী মো: কামরুজ্জামান সেইসব ঠিকাদারকে ধমক দিয়ে শায়েস্তা করেন। এভাবে সবার মুখ বন্ধ রেখে নির্বাহী প্রকৌশলী মো: কামরুজ্জামান সিন্ডিকেট চরমভাবে ঘুস ও দূর্নীতির মাধ্যমে সরকারের কোটি কোটি টাকা লোপাট করে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন। ২০২০-২১ এবং ২০২১-২২ অর্থবছরে মোবাইল মেইন্টেনেন্স, আবাসিক ও অনাবাসিক ভবন মেরামত কাজ ঠিকাদারদের নাম দিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী মো: কামরুজ্জামান নিজে যতসামান্য কাজ করে ৫কোটি টাকা আত্নসাত করেছেন। এছাড়া মেকানিক্যাল পোরম্যান নরেশ চন্দ্র সাহা জ্বালানী ও মোটরযান মেরামতের ভুয়া বিল করে আরো দুই কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। সরকারী প্রতিটি রোলার বরাদ্ধ নিলে ফোরম্যান নরেশ সাহাকে ঘুষ দিতে হয় ১০হাজার টাকা। আর রোলার চললে নরেশ সাহাকে প্রতিদিনের জন্য ৫’হাজার টাকা করে ঘুষ দিতে হয়। এভাবে গত ৪/৫বছর ধরে নরেশ চন্দ্র সাহা প্রায় ৫/৬কোটি টাকা ঘুষ হাতিয়ে নিয়েছে।যে কারনে সরকারের রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে। এছাড়া  নির্বাহী প্রকৌশলী মো: কামরুজ্জামান অফিসের আর্থিক গুরুত্বপূর্ণ কাজ দপ্তরের মাষ্টাররোল কর্মচারী কার্যসহকারী নাসির উদ্দিন ও মাষ্টাররোল কর্মচারী লিপিকা সাহাকে দিয়ে করাচ্ছেন। একই সাথে টেন্ডার, চুক্তিপত্র, লাইসেন্স প্রদান ও নবায়নকরন, ইথ্যাদি বিষয়ও তাদেরকে দিয়ে করাচ্ছেন নির্বাহী প্রকৌশলী মো: কামরুজ্জামান। এবাবে তার ঘুষ ও দূনীতির সিন্ডিকেটের সদস্যদেরকে দিয়ে সকল কাজ করিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। এ বিষয়ে কেউ কোন প্রতিবাদ করলে তাকে বদলী করাচ্ছেন নির্বাহী প্রকৌশলী মো: কামরুজ্জামান। ইতিমধ্যেই কয়েকজনকে নির্বাহী প্রকৌশলী মো: কামরুজ্জামান খুলনা সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন স্থানে বদলী করিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া গত ২০২০-২১ অর্থবছরের মেরামত কাজের ৩০লাখ টাকা এবং ২০২১-২২ অর্থবছরের আরও ৩০লাখ টাকা কোন ঠিকাদারকে দিয়ে কাজ করেননি। নাম স্বর্বস্য কয়েখটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যভহার করে নিজে ও তার সিন্ডিকেটের লোকজনকে দিয়ে নামমাত্র কাজ করে অধিকাংশ টাকা আত্নসাত করেছেন। নির্বাহী প্রকৌশলী মো: কামরুজ্জামান ২০২১সালের ১৮মার্চ নির্বাহী প্রকৌশলীর অফিস ভবন মেরামত ও সংস্কার কাজের জন্য ১৫লাখ ৫০হাজার টাকার কাজ দেন ফাতেমা এন্টারপ্রাইজ নামে একটি প্রতিষ্টানকে। এ প্রতিষ্টান থেকে তিনি ৭লাখ ৫০হাজার টাকা নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। যে টাকা নির্বাহী প্রকৌশলী মো: কামরুজ্জামান এলজিইডির সরকারী ব্যাংক হিসাব (সোনালী ব্যাংক, সাউথ সেন্ট্রাল রোড শাখা,-চলতি হিসাব ণং-৩৩০০১৪৯৬, নির্বাহী প্রকৌশলী, এলজিইডি, খুলনা) নাম্বারে ২০২১সালের ১০এপ্রিল জমা করেন। পরে তিনি ওই টাকা তুলে অন্য কাজ দেখিয়ে আত্নসাত করেন। যদিও নির্বাহী প্রকৌশলী মো: কামরুজ্জামান বা অফিসের অন্য কেহ অফিসের ব্যাংক হিসাবে কোন টাকা জমা করার কোন নিয়ম নেই।এছাড়া মোবাইল মেনন্টেনেন্স ও আবাসিক ও অনাবাসিক ভবন মেরামতের জন্য বরাদ্ধকৃত টাকা মেসার্স সুন্দরবন এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স সাথী এন্ড ব্রাদার্স ও মেসার্স নূরজাহান এন্টারপ্রাইজ নামে তিনটি প্রতিষ্ঠানের নামে নির্বাহী প্রকৌশলী মো: কামরুজ্জামান ও তার সিন্ডিকেটের সদস্যরা নামমাত্র করে দুই অর্থবছরের বাকী টাকা আত্নসাত করেছেন।।এ কাজের বিষয়ে মেসার্স নূরজাহান এন্টারপ্রাইজের মালিক জাফর ইসলাম শান্ত জানান, তিনি কোন মেরামত ও সংস্কার কাজ করেননি। তার নাম ব্যবহার করে নির্বাহী প্রকৌশলী মো: কামরুজ্জামানের আস্তাভজান মো: নাসির উদ্দিন করেছেন। এছাড়া মেসার্স সুন্দরবন এন্টারপ্রাইজের মালিক মো: মনজুর হোসেন লাবলু জানান, তিনিও গত ২০২০-২১ বা ২০২১-২২ অর্থবছরে কোন মেরামত ও সংস্কার কাজ করেননি। তার লাইসেন্স ও প্রতিষ্টানের নাম ব্যবহার করে নির্বাহী প্রকৌশলী মো: কামরুজ্জামান ও তার সিন্ডিকেটের সদস্য হিসাব সহকারী আমিরুল ইসলাম করেছেন। এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না বলে জানান। এভাবে নির্বাহী প্রকৌশলী মো: কামরুজ্জামান ও তার সিন্ডিকেটের সদস্যরা বছরের পর বছর ধরে সরকারী কোটি কোটি টাকা যেমন আত্নসাত করছেন। তেমনি ঠিকাদারদের হয়রানি ও দুরব্যবহার করে বিভিন্ন ফান্ড ও কর্মকর্তাদের নাম ব্যবহার করে কোটি কোটি টাকা লুটে নিচ্ছে বলে ঠিকাদাররা অভিযোগ করেছেন। যার কারনে বেশ কিছু ঠিকাদার ইতিমধ্যেই পথে বসেছে। অনেকেই আবার এলজিইডিতে ঠিকাদারী ছেড়ে দেওয়ার কথাও বলেছেন।।

অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ ২১বছরের মাষ্টারোল কর্মচারী কার্যসহকারী মো: নাসির উদ্দিন সংবাদপত্রে এলজিইডির যেসব বিজ্হাপন দেয়া হয় সেগুলো থেকে টাকার বিনিময়ে অখ্যাত সব পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেয়। এছাড়া বিজ্ঞাপন বিল দেয়ার সময়ও সেইসব পত্রিকার প্রতিনিধিদের কাছ থেকে আবারও কবমিশন নেয়। এভাবে নাসির উদ্দিনকে তার চাহিদামত টাকা না দিলে যেমন কোন পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেয়া হয় না। তেমনি বিজ্ঞাপনের বিলের চেক দেয়ার সময়ও নাসির উদ্দিন নিদির্ষ্টহারে কমিশন নিয়ে থাকে বলে অভিযোগ দীর্ঘদিনের।খুলনার স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকার একাধিক প্রতিনিধি ও সাংবাদিক অভিযোগ করে বলেছেন, এলজিইডিতে বিজ্ঞাপন প্রদানের ক্ষেত্রে নারি উদ্দিনকে টাকা দিতেই হবে। যা নির্বাহী প্রকৌশলী মো: কামরুজ্জামানও অবগত। তাই স্থানীয় সাংবাদিক ও জাতীয় পত্রিকার প্রতিনিধিরা নাসিরের কাছে অসহায় হয়েই টাকা দিয়ে বিজ্ঞাপন নিতে বাধ্য হয়।এছাড়া বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলী মো: কামরুজ্জামান মাষ্টারোল কর্মচারী নাসির উদ্দিনকে দিয়েই ঠিকাদারদের পাশবই, চুক্তিপত্র ইত্যাদির কাজ করিয়ে তাকে। যে কারনে ঠিকাদাররা নাসিরকে কমিশন দিতে বাধ্য হয়। এভাবে মাষ্টারোল একজন কর্মচারী দীর্ঘ ২১বছর ধরে এ কাজ করে যাচ্ছেন নির্বাহী প্রকৌশলীদের ঘুষ, কমিশন ও দূর্নীতির হাতিয়ার হিসেবে। এ সুযোগককে কাজে লাগিয়ে নাসির উদ্দিনও কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।ইতিমধ্যেই নাসির তার গ্রামের বাড়ীতে ৭০-৮০বিঘা জমি কিনেছেনে। এছাড়া খুলনা শহরের ৯৯সাউথ সেন্ট্রাল রোডে বহুতরা বাড়ী করছেন। এবং সোনাডাঙ্গার হাফিজনগর রোডে তার স্ত্রীল নামেও জমি কিনেছেন। এভাবে নির্বাহী প্রকৌশলী মো: কামরুজ্জামান ও তার সিন্ডিকেটের সদস্য নরেশ চন্দ্র সাহা, হিসাব সহকারী আমিরুল ইসলামগংরা সরকারের অর্ধশতাধিক কোটি টাকা লোপাট করছে বলে ঠিকাদাররা অভিযোগ করেছেন। এই সিন্ডিকেটের মূল হোতা নির্বাহী প্রকৌশলী মো: কামরুজ্জামানসহ তার সহযোগীদের এ অনিয়ম, ঘুষ ও কমিশন বানিজ্য এবং র্নীতির বিষয়ে তদন্তপূর্বক বদলীসহ কঠোর ব্যভস্থা নিতে প্রধান প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ঠ দপ্তরের মন্ত্রীর কাছে দাবী জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ঠিকাদাররা।

অনিয়ম, ঘুষ, কমিশন বানিজ্য ও দূর্নীতির বিষয়ে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মাষ্টারোল কর্মচারী নাসির উদ্দিন। তবে তিনি তার বিষয়ে আরও খোজ খবর নেয়ার অনুরোধ করেন। এলজিইডির হিসাব সহকারী মো: আমিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে তার মোবাইলে ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে নির্বাহী প্রকৌশলী মো: কামরুজ্জামান অনিয়ম, ঘুষ, কমিশন বানিজ্য ও দূর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার বিষয়ে কোন কথা বলেননি। তিনি মিটিংয়ে আছেন বলে এ বিষয়ে কথা বলতে বুধবার তার অফিসে দেখা করার জন্য অনুরোধ জানান।।

এদিকে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী শেখ মোহাম্মদ মহসিন মুঠোফোনে এ প্রতিবেদককে বলেন, খুলনার এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী মো; কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে অনিয়ম, ঘুষ, কমিশন বানিজ্য ও দূর্নীতির অভিযোগের কোন কপি আমার হাতে পৌছায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত পূর্বক দোষী সাব্যস্ত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। # #

সংবাদটি শেয়ার করার জন্য অনুরোধ করা হলো

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ ধরনের আরো সংবাদ

© All rights reserved by www.banglardinkal.com (Established in 2017)

Hwowlljksf788wf-Iu