খুলনায় পাওনা পরিশোধের দাবিতে পাটকল শ্রমিকদের অবস্থান ধর্মঘট পালন

49

খুলনা অফিস ।।

খুলনার খালিশপুর জুট মিল ও দৌলতপুর জুট মিলসহ ৫টি মিলের ১২হাজার অস্থায়ী ও দৈনিক ভিত্তিক শ্রমিকদের সকল বকেয়া পাওনা পরিশোধের দাবিতে অবস্থান ধর্মঘট পালন করেছে শ্রমিকরা। সোমবার খালিশপুর জুটমিল ও দৌলতপুর জুটমিল শ্রমিক কমিটির উদ্যেগে বিকাল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত অবস্থান ধর্মঘট পালিত হয়। শ্রমিকদের দাবি সমুহ হলো-বন্ধ সকল পাটকল রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে চালু করা, ২০১৫ সালের মজুরি কমিশনের এরিয়ার টাকা প্রদান, করোনা কালীন ০২মাসের লকডাউনের টাকা প্রদান, ০২ মাসের পে নোটিশের টাকা  প্রদান এবং মজুরি কমিশন অনুযায়ী ঈদুল আজহা ও ঈদুল ফিতরের বোনাস ঈদের পূর্বেই প্রদান করতে হবে।

খালিশপুর জুটমিলের কারখানা কমিটির আহ্বায়ক আবু বক্করের সভাপতিত্বে অবস্থান কর্মসূচীর সমাবেশে বক্তৃতা করেন সদস্য সচিব আলমগীর কবির, শ্রমিক-কৃষক-ছাত্র-জনতা ঐক্যের সমন্বয়ক রুহুল আমিন, খালিশপুর জুটমিলের সিবিএ সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মনির, নারী শ্রমিক নাসিমা খাতুন, নুর ইসলাম, দৌলতপুর জুটমিলের শ্রমিক নেতা চান মিয়া, ক্রিসেন্ট জুটমিলের শ্রমিক নেতা মোশাররফ হোসেন, স্টার জুমিলের শ্রমিক নেতা আলমগীর হোসেন, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন খুলনা জেলা আহ্বাবায়ক শেখ আলামিনসহ নেতৃবৃন্দ।

অবস্থান সমাবেশে বক্তারা বলেন, সারা বংলাদেশে অন্যন্য জুটমিলের বদলি শ্রমিকদের যখন পাওনা পরিশোধ করা হচ্ছে তখন খালিশপুর জুটমিল ও দৌলতপুর জুটমিলসহ ৫টি জুটমিলের ১২হাজারের অধিক অস্থায়ী ও দৈনিক ভিত্তিক শ্রমিকদের পাওনার দাবিতে রাস্তায় আন্দোলন করতে হচ্ছে। একদিন পরে কোরবানির ঈদ এই পরিস্থিতে পরিবার পরিজন নিয়ে এই সকল শ্রমিকদের রাজপথে পেটের দায়ে নামতে হচ্ছে। অথচ একই মিলের কর্মকর্তারা ঈদ বোনাসসহ বেতন ভাতার সমস্ত সুবিধা ভোগ করছেন।

শ্রমিক নেতৃবৃন্দ বলেন, ২৬টি পাটকল বন্ধের পর ২১টি মিলের শ্রমিকরা তাদের এরিয়ার টাকা পেলেও এই ৫টি মিলের শ্রমিকরা কোন টাকা পাচ্ছে না। যা সম্পূর্ণ অগনতান্ত্রিক ও আইন বিরুদ্ধ। অবস্থান ধর্মঘট থেকে ঈদের পূর্বেই এই সকল পাটকল শ্রমিকদের টাকা পরিশোধের জন্য জোর দাবি জানানো হয়।তারপরও সরকার যদি পাওনা টাকা পরিশোধ না করে তবে জীবনের বিনিময়ে আমরা আমাদের দাবী আদায় করে নেয়ার হুশিয়ারী দেয়া হয়।##