খুলনায় নির্মিত হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম গণহত্যা জাদুঘর, ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে গনহত্যার সঠিক ইতিহাস তুলে ধরবে

65

খুলনা ব্যুরো।।

খুলনায় নির্মিত হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম গণহত্যা জাদুঘর। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার সংগ্রামের সময়ে সংঘটিত ইতিহাসের ভয়াবহতম গণহত্যা-নির্যাতনের স্মৃতি আগামী প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এই প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে। ২০১৪ সালের ১৭ মে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু অধ্যাপক ড. মুনতাসীর মামুনের উদ্যোগে দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র গণহত্যা জাদুঘর হিসেবে খুলনায় যাত্রা শুরু করে গণহত্যা-নির্যাতন আর্কাইভ ও জাদুঘর সংক্ষেপে যেটি ‘গণহত্যা জাদুঘর’ নামেই পরিচিত।এই গনহত্যা জাদুঘর আজকে ৭ম বছরে পদার্পণ করেছে।প্রতিবছর এই দিনটাকে কেন্দ্র করে গণহত্যা জাদুঘর নানাবিধ আয়োজন করে থাকে; কিন্তু এবার বৈশ্বিক মহামারি পরিস্থিতিতে ভিন্নভাবে এই প্রতিষ্ঠা দিবস উদযাপন করা হচ্ছে।

গণহত্যা জাদুঘরের ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন জানান, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে সংঘটিত ইতিহাসের ভয়াবহতম গণহত্যা-নির্যাতনের স্মৃতি আগামী প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে ২০১৪ সালের ১৭মে এটি স্থাপন করা হয়। খুলনায় স্থাপিত এই জাদুঘরটি বাংলাদেশের এবং দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম এবং এখন পর্যন্ত একমাত্র গণহত্যা জাদুঘর। এই প্রতিষ্ঠান এখন নানা প্ল্যাটফর্মে কাজ করছে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই জাদুঘর প্রতিষ্ঠায় খুলনার ২৬, সাউথ সেন্ট্রাল রোডে একটি দোতলা বাড়িসহ জমি প্রদান করেন। বর্তমানে সেই ভবনটি ভেঙ্গে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের তত্ত্বাবধানে ০৬তলা অত্যাধুনিক জাদুঘর নির্মাণের প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। যেটি হবে এশিয়ার বৃহত্তম গণহত্যা জাদুঘর।

এছাড়া সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আরেকটি বিশেষ প্রকল্প ‘গণহত্যা-নির্যাতন ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষণা কেন্দ্র’ গত ০৪ বছর ধরে সারাদেশে মুক্তিযুদ্ধ ও গণহত্যার গবেষণায় কাজ করছে। একই সাথে সারাদেশের গণহত্যা-বধ্যভূমি, গণকবরের তালিকা ও এগুলোর ডিজিটাল ম্যাপিং তৈরী করছে।

তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে রাশিয়া, ইউক্রেন, বসনিয়া ও বেলারুশের গণহত্যা জাদুঘর বাংলাদেশের এই জাদুঘরের সাথে যৌথভাবে কাজ করছেন। গণহত্যা-নির্যাতনের নানা স্মারকে একাত্তরের ভয়াবহতার নিদর্শন এই জাদুঘরটি বর্তমানে অস্থায়ী ভাবে খুলনার সোনাডাঙ্গায় পরিচালিত হচ্ছে। আশা করা যায় ২০২২ সালের মধ্যেই চলমান প্রকল্পের কাজ শেষ হলে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের মতো গণহত্যা জাদুঘরও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি প্রদর্শনের অন্যতম কেন্দ্রে পরিণত হবে বলে প্রত্যাশা তার।

এই গনহত্যা জাদুঘর পরিচালনার জন্য একটি ট্রাষ্টি বোর্ড রয়েছে। অধ্যাপক মুনতাসীর মামুনকে সভাপতি ও শিল্পী হাশেম খানকে সহসভাপতি করে ১১ সদস্যের একটি ট্রাস্টি বোর্ডের অধীনে জাদুঘরটি পরিচালিত হয়। লেখক সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির, কবি তারিক সুজাত, অধ্যাপক মাহবুবর রহমান, কর্নেল (অব.) সাজ্জাদ আলী জহির বীর প্রতীক, অধ্যাপক শংকর কুমার মল্লিক, অধ্যাপক মোসাম্মৎ হোসনে আরা, অমল কুমার গাইন এ ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য এবং ড. চৌধুরী শহীদ কাদের ট্রাস্টি বোর্ডের সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

গণহত্যা জাদুঘরের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ এমপি, প্রাক্তন মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এমপি, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এম. এ. মান্নান এমপি, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ বদরুল আরেফীনসহ গণহত্যা জাদুঘরের সকল শুভানুধ্যায়ীদের শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। শীঘ্রই বাংলাদেশসহ সমগ্র বিশ্ব এই মহামারী থেকে স্বাভাবিক জীবন-যাপনে ফিরে আসবে বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।একই সাথে গণহত্যা জাদুঘরের আগামী দিনের পথচলায় সবাইকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়ার আহ্বান জানিয়ে সকলের কাছে দোয়া কামনা করেছেন। ##

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here