খুলনার উদ্ভাবনের জাতীয় স্বীকৃতি ‘কৃষকের হাসি’ থেকে ‘কৃষকের অ্যাপ’ : ডিজিটাল এ্যাপে ধান ক্রয়ের উদ্বোধন

26

খুলনা ব্যুরো।।

খুলনা জেলা প্রশাসনের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ কৃষক পর্যায়েও ডিজিটাল মোবাইল এ্যাপস-এর মাধ্যমে ধান ক্রয় প্রক্রিয়া এবার জাতীয় স্বকিৃতি পেয়েছে। করোনাকালীন সময়ে গত বছর সরকারের ধান সংগ্রহ কার্যক্রম সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন করতে খুলনা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে তৈরী করা হয় ডিজিটাল এ্যাপস ‘কৃষকের হাসি’। সেই প্রক্রিয়া সফল হওয়ায় খুলনা জেলা প্রশাসনের উদ্ভাবনী উদ্যোগককে জাতীয়ভাবে গ্রহন করে কৃষি মন্ত্রনালয়। চলতি বছর ধান সংগ্রহে করোনার সংক্রমনকে মাথায় রেখে খুলনার উদ্ভাবিত ‘কৃষকের হাসি এ্যাপস’কে অনুসরন করে আইসিটি বিভাগ ও খাদ্য অধিদপ্তর এবং কম্পিউটার কাউন্সিলের সহযোগিতায় আরও উন্নয়নের মাধ্যমে সামগ্রিকভাবে জাতীয়ভিত্তিক ‘কৃষকের এ্যাপ’ নামে ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় ধান ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যা বর্তমান সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে আরও একধাপ এগিয়ে নেবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ঠরা। বুধবার খুলনার ডুমুরিয়ায় কৃষি মন্ত্রনালয়ের স্বীকৃত ‘কৃষকের এ্যাপ’-এর মাধ্যমে ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় সারা দেশে একযোগে সরকারের ধান সংগ্রহ কার্যক্রমে জুম অ্যাপে সংযুক্ত থেকে প্রধান অতিথি হিসেবে উদ্বোধন করেন কৃষি মন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক এমপি।

এ সময় কৃষি মন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, খুলনায় কৃষি বিভাগ ও প্রশাসন যেভাবে সমন্বিতভাবে কাজ করছেন সেকারনে খুলনাঞ্চলে কৃষিতে বিপ্লব ঘটছে।তিনি বলেন, বর্তমান সরকার টেকসই খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে কৃষি ও কৃষক বান্ধব কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।প্রধানমন্ত্রী কৃষি পণ্যের ন্যায্য মূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিতকল্পে কাজ করে যাচ্ছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

কিৃষি মন্ত্রী আরও বলেন, করোনাকালীন সময়ে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে এবং কৃষকদের ঘরে রেখে কিভাবে খাদ্যশস্য সংগ্রহ করা যায় তা নিয়ে চিন্তায় ছিলাম। কিন্তু গত বছর খুলনা জেলা প্রশাসন ডিজিটাল উদ্ভাবনী ‘কৃষকের হাসি এ্যাপস’-এর  মাধ্যমে  ধান ক্রয় করে সফলতা অর্জন করেছিল। খুলনার সেই উদ্ভাবনী উদ্যোগককে কৃষি মন্ত্রনালয় গ্রহন করে জাতীয়ভাবে সেটাকে আরও উন্নয়ন করে এবছর ‘কৃষকের এ্যাপ’ নামে ডিজিটাল মাধ্যমে আমরা ধান ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। খুলনা যে পথ দেখিয়েছে সেই পথেই আমরা এগিয়ে গেলে কৃষি ও কৃষক আর উন্নত হবে বলে আশা করেন মন্ত্রী। তিনি খুলনার উদ্ভাবনী উদ্যোগ ‘কৃষকের হাসি’ অ্যাপসের মাধ্যমে ধান সংগ্রহ কার্যক্রমেরও প্রশংসা করেন।তিনি বলেন, কৃষির উন্নয়নে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ বাস্তবায়নে প্রশাসন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এটা যেন অব্যাহত থাকে সেদিকে নজর দিতে সবাইকে আহবান জানান।

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলা কমপ্লেক্স চত্ত্বরে আয়োজিত ধান সংগ্রহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জুম অ্যাপে সংযুক্ত ছিলেন খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুম এবং খুলনার বিভাগীয় কমিশনার  মোঃ ইসমাইল হোসেন।জেলা খাদ্য শস্য সংগ্রহ কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোঃ মাহবুবুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক) মোঃ ইউসুপ আলী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(শিক্ষা ও আইসিটি) মোঃ সাদিকুর রহমান খান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ হাফিজুর রহমান, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাম্মাদ বাবুল হোসেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: আব্দুল ওয়াদুদ, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি শাহনেওয়াজ হোসেন জোয়ার্দ্দার, উপজেলা কৃষি অফিসার মোসাদ্দেক হোসেনসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ।

খুলনার জেলা প্রমাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন জানান, এ বছর সারা দেশে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। খাদ্য নিরাপত্তা টেকসই করতে এ বাম্পার ফলনের যথাযথ সংরক্ষণ যেমন প্রয়োজন তেমনি ভবিষ্যতে কৃষকের ধান উৎপাদনে আগ্রহ ধরে রাখার ক্ষেত্রে সঠিক মূল্য নিশ্চিত করা প্রয়োজন। কৃষকের উৎপাদিত ধান সংগ্রহ ও মজুদ নির্বিঘ্ন উপায়ে এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সাথে সম্পাদন করতে সরকার এক অনন্য ডিজিটাল উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। আইসিটি বিভাগ ও খাদ্য অধিদপ্তরের সহযোগিতায় এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের পরিচালনায় ‘কৃষকের অ্যাপ’ নামক মোবাইল অ্যাপ তৈরি করা হয়েছে। এই অ্যাপের মাধ্যমে কৃষকেরা ঘরে বসেই রেজিস্ট্রেশনপূর্বক লগইন করে সরকার নির্ধারিত ন্যায্য মূল্যে ধান বিক্রয় করতে পারবেন। এতে একদিকে যেমন সেবা সহজীকরণ সম্ভব হবে তেমনি অপরদিকে কৃষকদের ভোগান্তি দূর হবে এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমবে। এই অ্যাপের মাধ্যমে ধান বিক্রয়ের অর্থ সহজেই কৃষকের বিকাশ একাউন্টে বা ব্যাংক হিসাবে সরাসরি চলে যাবে। করোনাকালীন লকডাউনে প্রচলিত ব্যবস্থার বিকল্প হিসেবে লকডাউন কার্যকর করতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। ফলে সরকারের এই উদ্যোগ পরোক্ষভাবে করোনাকালীন স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনেও সহযোগিতা করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি আরও জানান, গত বছর বোরো মৌসুমে করোনাকালে প্রচলিত বাজার ব্যবস্থার ভীড় এড়িয়ে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও দ্রুততার সাথে ধান সংগ্রহের লক্ষ্যে দেশে সর্বপ্রথম খুলনা জেলা প্রশাসনের একান্ত উদ্যোগে ‘কৃষকের হাসি’ তৈরি করা হয়। এই মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম অত্যন্ত সফল হয় এবং তা খাদ্য মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়সহ সারা বাংলাদেশের কৃষকদের নিকট থেকে ভূয়সী প্রশংসা অর্জন করে।তারই ধারাবাহিকতায় খুলনার উদ্ভাবনী উদ্যোগ কৃষি মন্ত্রনালয় গ্রহন করে  সমন্বিত ভাবে এ বছর খুলনাসহ সারা দেশে ‘কৃষকের অ্যাপ’-এর সাথে সাথে ‘ডিজিটাল রাইস প্রকিউরমেন্ট অ্যাপস’-এর মাধ্যমেও চাল সংগ্রহ করা হবে।

খুলনা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো: হাফিজুর রহমান জানান, এ বছর খুলনা জেলায় বোরো ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ হাজার ৯ শত ৫৭ মেট্রিক টন এবং সিদ্ধ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ১৭ হাজার ৫ শত ২২ মেট্রিক টন। ২৮ এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ থেকে শুরু করে ১৬ আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে নির্ধারিত পরিমাণ ধান ও চাল সংগ্রহের লক্ষ্য রয়েছে। ‘কৃষকের অ্যাপ’ এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্ধারিত পরিমাণ ধান ও চাল স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও ঝামেলাবিহীনভাবে সংগ্রহ করা সম্ভব হবে। জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার ন্যায় ডিজিটাল অ্যাপ ব্যবহার করে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে অন্যান্য উপজেলাতেও সম্প্রসারিত করা হবে।

উল্লেখ্য, ‘কৃষকের অ্যাপ’-এর মাধ্যমে ধান বিক্রয় করতে আগ্রহী কৃষকদের সুবিধার্থে জানানো হয়েছে-কৃষক তার এন্ড্রয়েড মোবাইল ফোনের গুগল প্লে-স্টোরে গিয়ে সহজেই অ্যাপটি ডাউনলোড করতে পারবেন। ডাউনলোডকৃত অ্যাপে রেজিস্ট্রেশন করে আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহারের মাধ্যমে লগইন করে ধান বিক্রয় করতে পারবেন। ##

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here