খুলনাঞ্চলের উপকূলে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণই সমাধান

34

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি।।

সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাটের উপকূল এলাকায় ঘুর্ণিঝড়, বন্যা ও জলোচ্ছাস প্রভৃতি প্রাকৃতিক দুর্যোগ অনেক বেড়ে গেছে। এখানকার জনজীবন আজ বিপর্যস্ত, প্রাণহানির ঘটনাও অহরহ ঘটছে। নদীর বাঁধ ভেঙে নোনা পানিতে উপকূল এলাকা প্রায়শঃ প্লাবিত হচ্ছে। সারাবছর কৃষি জমি পানির নিতে তলিয়ে থাকায় উপকূলীয় জনগোষ্ঠী তীব্র খাদ্য সঙ্কটে ভুগছে; ভেঙে পড়েছে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বাসস্থান ব্যবস্থা। উপকূলের অর্থনীতির ভঙ্গুর চিত্র উঠে আসছে। অতি সম্প্রতি ঘুর্ণিঝড় ইয়াসের লেজটা ছোঁয়া দিয়ে গেছে বাংলাদেশের উপকূলে। তাতেই জোয়ারটা স্বাভাবিকের চেয়ে দুই থেকে চার  ফুট উচ্চতায় বেড়ে  গেছে। এতে উপকূলীয় অঞ্চলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পুরো সুন্দরবন ডুবে গেছে। বাদ যায়নি কুয়াকাটা, সেন্টমার্টিনও। জোয়ারের পানিতে তলিয়ে জীবনবৈচিত্র্য, মানুষের ঘরবাড়ি, ফসলসহ নানা সম্পদের ক্ষতি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সুতরাং উপকূলবাসীকে বাঁচাতে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণেই সমাধান দেখছেন অভিজ্ঞজনেরা। বুধবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে ঢাকাস্থ বৃহত্তর খুলনা সমিতি, বাগেরহাট , খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলা সমিতির  নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন। এ সময় সামাজিক আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিআকর্ষণে যত দ্রুত সম্ভব স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ, উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে বিশেষ বরাদ্দ এবং জলবায়ু তহবিলের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিতে উপকুলীয় উন্নয়নবোর্ড গঠনসহ স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী পদক্ষেপ গ্রহণের আহবান জানান। ঢাকাস্থ বৃহত্তর খুলনা সমিতির সভাপতি ও এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদের সভাপতিত্বে মানববন্ধন কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দ দিদার বখত, সমিতির সহ-সভাপতি সেখ মোয়াজ্জেম হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. কাজী মনিরুজ্জামান, হাফেজ সুলতান আহমেদ, অ্যাডভোকেট মোঃ শামসুজ্জামান, প্রচার সম্পাদক রেজাউল হক রেজা, অ্যাডঃ আব্দুস সালাম, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মহাসচিব অ্যাডঃ ইয়ারুল ইসলাম, পাইকগাছা সমিতির সভাপতি একেএম সাঈদ হোসেন, নির্বাহী কমিটির সদস্য মোঃ আসাদুল্লাহিল গালিব প্রমুখ।

মানববন্ধনে ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ বলেন, খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটে বন্যা ও জলোচ্ছাস ইদানীং ঘন ঘন হানা দিচ্ছে। ফলে স্থানীয় শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মৎস সম্পদসহ কৃষি অর্থনীতি মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। দক্ষিণাঞ্চলের প্রাকৃতিক সুরক্ষাব্যুহ সুন্দরবন আজ বিধ্বস্ত-বিপর্যস্ত। জলোচ্ছাসে মৃত হরিণ ভেসে আসার মতো হৃদয়বিদারক ঘটনা আগে ঘটে নাই। সুন্দরবনের সাথে অসুন্দর ব্যবহারের মাশুল দেওয়া শুরু হয়েছে। এক ঘুর্ণিঝড় থেকে পরের ঘুর্ণিঝড়ের সময়গত দূরত্ব কমছে। বাড়ছে বন্যা-জলোচ্ছাস। দুর্যোগের পরপরই প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি দেয়া হয়।যা দিন কয়েক পরেই পথ হারায় এবং আরেকটি ঝড় এসে সবকিছু তছনছ করার পর আবার সবাই সাময়িকের জন্য জেগে ওঠেন। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এভাবে নিঃশেষ হয়ে যেতে পারে না একটি সমৃদ্ধ সম্ভাবনার অর্থনীতি, জনপদ ও জনসম্পদ। ঢাকায় বসবাসরত সাতক্ষীরা-খুলনা-বাগেরহাটের(যেখানে আমাদের নাড়ি পোতা) উপকূলের মানুষ হিসেবে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ##

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here