কয়রায় ভাঙ্গা বাঁধ মেরামতের কাজ দেখতে গিয়ে জনতার রোষানলের শিকার সংসদ সদস্য, নিজেও বাঁধলেন

48

খুলনা ব্যুরো।।

খুলনার কয়রায় র্ঘুনিঝড় ইয়াসের প্রভাবে ভেঙ্গে যাওয়া বেড়িবাঁধ স্বেচ্ছাশ্যমে মেরামতের কাজ দেখতে গিয়ে জনতার রোষানলের শিকার হয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. আক্তারুজ্জামান বাবু। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে কয়রা উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের দশালিয়া ভাঙ্গা বাঁধ এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা ও পুলিশের সহযোগীতায় ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রতিকী বাধের সংস্কার কাজ করে ফিরে আসেন। এ সময় স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ মেরামতরত এলাকাবাসী মেরামত কাজ বাদ দিয়ে চলে যান।

স্থানীয়রা জানান, গত ২৬মে ঘূর্ণিঝড় ইয়াস ভারতে আঘাত হানলেও এর প্রভাবে  ব্যাপক জলোচ্ছ্বাসে ২৭মে কয়রা উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের দশালিয়া এলাকার পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধটি ভেঙে যায়। ভাঙ্গা বাঁধ দিয়ে পানি ঢুকে এলাকার ১৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে পানিবন্দি হয় প্রায় ১৫ হাজার মানুষ। ভেঙ্গে যায় অনেকের ঘরবাড়িও। পরে এলাকাবাসী বাঁ মেরামতের আবেদন জানালেও পানি উন্নয়ন র্বোড বাঁধটি মেরামত করতে পারেনি। পরে সোমবার থেকে  স্বেচ্ছাশ্রমে এলাকার প্রায় তিন হাজার মানুষ বাঁধ মেরামতের কাজ শুরু করে। মঙ্গলবারও এলাকার হাজারো মানুষ বাঁধ মেরামতের কাজে নামে। পরে মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় সংসদ সদস্য মো: আক্তারুজ্জামান বাবু তার ৫০-৬০ জন অনুসারী নিয়ে  ট্রলারে করে স্বেচ্ছাশ্রমে ভাঙ্গা বাঁধ মেরামত কাজের এলাকায় আসেন। তখন এমপিকে দেখে বাঁধ মেরামতরত এলাকাবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে এমপির ট্রলারের দিকে কাঁদা ছুড়ে তাকে ফিরে যেতে বলেন।এ সময় অনেকেই ক্ষিপ্ত হয়ে  নদীতে নেমে আসেন। এ অবস্থায় এমপি আকতারুজ্জামান বাবু ট্রলার ঘুরিয়ে একটু দুরে নিয়ে যান। এবং সেখানেই এমপি বাঁধ এলাকার একটু দূরে ট্রলার থেকে নেমে নেতার্কমীদের নিয়ে হেটে বাঁধ মেরামতের কাজের কাছে আসেণ। এ সময় এলাকার কিছু আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

ঘটনার প্রত্যক্ষর্দশী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় ইউপি সদস্য ও স্থানীয়রা জানান, স্থানীয়  এমপি ভাঙ্গাবাঁধ এলাকায় এলে স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ মেরামতরত এলাকাবাসীর রোষানলে পড়েন তিনি।এক পর্যায়ে এমপিকে লক্ষ্য করে অনেক শ্রমিক কাদাও ছুড়তে থাকেন।পরে কিছুটা দুরে ট্রলার থেকে নেমে ঘটনাস্থলে আসেন তিনি। পরে উপস্থিত এলাকাবাসীর উদ্দেশে মাইকে বক্তৃতা করেন। তারপর তিনি নিজেই বাঁধ মেরামতের কাজে নামেন। এমপিকে বাঁধ মেরামত কাজে নামতে দেখে অধিকাংশ স্বেচ্ছাশ্রমিক বাঁধ মেরামতের কাজ ফেলে চলে যান।

এ সময় পুলিশ ঘটনা নিয়ন্ত্রণ করতে চেষ্টা করে। কিন্তু পুলিশ র্ব্যথ হওয়ায় স্থানীয় আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। পরে এমপি বাঁধের কাজ শুরু করতে গেলে অধিকাংশ জনগণ কাজ ছেড়ে চলে যান। এমন অপ্রত্যাশিত ঘটনা না ঘটলে মঙ্গলবার বাঁধের কাজ সম্পন্ন হতো এবং এলাকাবাসী জোয়ারের লবন পানির হাত থেকে মুক্তি পেতো।

স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ মেরামতের কাজে আসা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক মানুষ জানান, কয়রা-পাইকগাচা এরাকায় প্রতি বছর বাঁধ ভেঙ্গে যায়। এসব বাঙ্গাবাঁধ মেরামতের কাজ সরকার থেকে আসলেই এমপি তার নিজের প্রতিষ্টান এবং আত্মীয়-স্বজনদের দিয়েই কাজ করান। ফলে বাঁধ মেরামতের কাজ কখনও ভালো হয় না। একটু ঝড়-বৃষ্টি হলেই বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হয় সাধারণ জনগণ। সে কারণে এমপির ওপর উপজেলার অধিকাংশ মানুষের ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। আজেকে মানুষের ক্ষোভের বহি:প্রকাশ ঘটেছে বলেও জানান তারা।

সংসদ সদস্যের সাথে থাকা কয়রা থানার অফিসার ওসি মো. রবিউল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ভাঙ্গাবাঁধ মেরামতরত কিছু উচ্ছৃঙ্খল মানুষ এমপি সাহেবের আগমনের কথা শুনে একটু সমস্যা করেছিল। পরে এমপি সাহেব ঘটনাস্থলে গিয়ে বক্তৃতা করলে সবাই শান্ত হয়ে যায়। একানে বড় কোন ঘটনা ঘটেনি।

তবে ভাঙ্গা বাঁধ এলাকায় কোন অপ্রীতিকর ঘটনা কথা অস্বীকার করে সংসদ সদস্য মো: আক্তারুজ্জামান বাবু সাংবাদিকদের বলেন, আমি দশহালিয়া ভাঙ্গা বাঁধ এলাকায় স্বেচ্ছাশ্রমে মেরামতরত এলাকাবাসীদের সঙ্গে একসাথে কাজ করেছি এবং তাদেরকে খাবার খেতে দিয়েছি। এলাকাবাসীর দাবী-দাওয়া থাকতে পারে। ক্ষোভ-বিক্সোভের কোন প্রশ্নই ওঠেনি। তবে ভেঙ্গে যাওয়া বাঁধ দ্রুতই সংস্কার করা হবে বলেও তিনি জানান। ##

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here