কয়রায় পানিবন্দি ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে মেয়াদোত্তীর্ণ ও নিম্নমানের খাদ্য বিতরণের অভিযোগ, পেটের পীড়ায় অসুস্থ্য হচ্ছেন শিশু-বৃদ্ধরা

97

অরবিন্দ কুমার মণ্ডল, কয়রা, খুলনাঃ

খুলনার কয়রায় র্ঘুনিঝড় ইয়াসের প্রভাবে বাঁধ ভেঙ্গে পানিবন্দি ও ক্ষত্রিগ্রস্থদের মাঝে মেয়াদোত্তীর্ণ ও নিম্নমানের খাদ্য বিতরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে যে ত্রান সহায়তা দেয়া হয়েছে সেসব খাদ্য মানুষের খাবার অনুপোযোগী। এমনকি এসব খাবার খেয়ে অনেকেই পেটের পীড়ায় অসুস্থ্য হয়ে পড়েছেন। এ নিয়ে পানিবন্দি ও ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।তবে প্রশাসেনের কর্মকর্তারা বলছেন মন্ত্রনালয় থেকে দেওয়া ত্রান সহায়তার প্যাকেটজাত খাবার তারা পরীক্সা না করেই বিতরন করেছেন।তবে ভবিষ্যতে এ বিষয়ে আগেইর্ সর্তকতা   ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অভিযোগ উঠেছে দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া খাদ্য সামগ্রী চরম নিম্নমানের ও মেয়াদোত্তীর্ণ।উপজেলার ঝড়ে বিধ্বস্ত ও পানিবন্দি এলাকায় বিতরনকৃত  ঐ খাদ্য খেয়ে শিশুসহ বয়স্করা অসুস্থ হয়ে পড়ার খবর চারিদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে জনমনে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার চরম ক্ষতিগ্রস্থ মহারাজপুর ইউনিয়নের পশ্চিম দেয়াড়া, শিমলারাইট, গোবিন্দপুর, খেজুরডাঙ্গা, মঠবাড়ী গুচ্ছ গ্রাম, পূর্ব মঠবাড়ী এবং উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের গাঁতিরঘেরী, হরিহরপুর ও পদ্মপুকুরসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকায় মানুষের সবকিছুই পানিতে ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় তাদের ঘরে খাদ্য নেই। আবার কাজের সুযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে খাদ্য সংকট। বুধবার ট্রলার যোগে গাঁতীরঘেরী এলাকায় পৌঁছালে ত্রান সহায়তা দেয়ার কথা ভেবে খাদ্যের জন্য ছুটে আসেন শতাধিক মানুষ।এ সময় ক্ষতিগ্রস্থ মানুষ তাদের খাবারের সংকটের কথা জানান। তাদের হাতে কাজ না থাকায় এবং পানিতে সবকিছুই ভেসে যাওয়ায় সবাই কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।কোন আয় না থাকায় তারা পরিবারের জন্য খাবার কিনতে পারছেন না।চরম অসহায় অবস্থায় পড়েছেন পরিবার-পরিজন নিয়ে। তারা সরকারের কাছে খাবার সহায়তা দেয়ার দাবী জানান। ইতিমধ্যেই ত্রান সহায়তা হিসেবে যেটুকু খাবার পেয়েছিলেন তাও খাবার অনুপোযোগী।অনেকেই বাধ্য হয়ে ওই খাবার খেয়ে পেটের পীড়ায় অসুস্থ্য হয়ে পড়েছেন।

উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের গাঁতিরঘেরী এলাকার অনিশ মাহাতো বলেন, বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হওয়ার পর আমাদের খেয়ে না খেয়ে থাকতে হচ্ছে।৩/৪ দিন পর চেয়ারম্যান মেম্বররা যে খাদ্য সামগ্রী দিয়েছেন তা খেয়ে আমাদের শিশুরাসহ বয়স্করা অসুস্থ হয়ে পড়েছে। পরে দেখি খাবার মেয়াদোত্তীর্ণ ছিলো। আর চিড়া খাওয়ার অনুপোযুক্ত হওয়ায় ফেলে দিয়েছি।এলাকার সুজাতা দাসও একই কথা বলেন। তিনি জানান, পানিবন্দি মানুষকে যে খাবার দেয়া হয়েছে সেখানে সরবরাহকৃত চিড়ে তিতো ও নুডুলস দুর্গন্ধ যা খাবার অনুপোযোগী।

কয়রা উপজেলা মহিলা আ’লীগের সভানেত্রী ও সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ড মেম্বর নিলীমা চক্রবর্তী বলেন, উপজেলার সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছেন। তাদেরকে বিতরণের আগে দেখা উচিত ছিল খাদ্য সামগ্রীর মেয়াদ আছে কিনা বা নিন্মমানের কিনা। আর এই খাদ্য অজোপাড়া গাঁয়ের মহিলারা রান্না করে তাদের শিশুদের খাওয়ালে তারা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। তিনি আরো বলেন, বাঁধ ভেঙে সব কিছু হারিয়ে আমরা ভিখারি হয়ে গেছি। এভাবে মেয়াদ উত্তীর্ণ খাদ্য দিয়ে না মেরে আমাদের কিছু খরচের টাকা দেন আমরা এলাকা ছেড়ে চলে যাই।

মহারাজপুর ইউনিয়নের পশ্চিম দেয়াড়া গ্রামের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন পশ্চিম দেয়াড়া একতা সংঘের সহ-সভাপতি মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, জলোচ্ছ্বাসে আমাদের এখানে অনেকের ঘর পড়ে গেছে এখনো রয়েছে পানিবন্দী। পানিতে আমাদের প্রধান আয়ের উৎস মাছের ঘের ভেসে গেছে। ফলে এলাকায় অভাব অনটন খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সুদীপ বালা জানান, মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার খেলে শিশু ও বয়স্কদের পেটের পীড়া হতে পারে।যা ক্ষতিগ্রস্থ এলাকায় মহামারী আকারেও দেখা দেয়ার আশংকা রয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনিমেষ বিশ্বাস জানান, মন্ত্রণালয় থেকে প্যাকেট করে পাঠানো খাবার আমরা কেউ খুলে দেখিনি। বিতরণ করার পরে আমরা জানতে পেরেছি মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার ছিলো। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়েছি যেন এ ধরনের খাবার পরবর্তীতে না দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, র্ঘুনিঝড় ইয়াসের প্রভাবে জলোচ্ছ্বাসে নদীর বাঁধ ভাঙ্গনে উপকূলীয় কয়রা উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের প্রায় অর্ধশতাধিক গ্রাম নোনা পানিতে প্লাবিত হয়। উপজেলার ২০টি স্থানে বেড়িবাঁধ ভেঙে যায়। তবে উপজেলা চেয়ারম্যান এসএম শফিকুল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ ইঞ্জিনিয়ার মাহবুব আলম, উপজেলা ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল্ মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম বাহারুল ইসলাম, ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও জনপ্রতিনিধিবৃন্দ সহযোগীতায় এলাকার হাজার হাজার মানুষের সেচ্ছাশ্রমের কাজের মাধ্যমে উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের গাঁতিরঘেরী ও দশহালিয়া ব্যতীত বাকি বাঁধগুলো সংস্কার করা সম্ভব হয়েছে।এখনো পানিবন্দী রয়েছে ৪০’গ্রামের ২৫সহস্রাধিক মানুষ। আশ্রয়কেন্দ্রসহ উঁচু বেড়িবাঁধে রয়েছে ১০সহস্রাধিক মানুষ। এলাকা পানিবন্দী থাকায় এবং মানুষের আয়ের পথ বন্ধ হওয়ায় খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে চরম আকারে। সরকারী ও বেসরকারী উদ্যোগে কিছু খাদ্য বিতরণ করা হলেও তা পর্যাপ্ত নয়। ##

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here