ঢাকা ০৭:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২২, ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

কেশবপুরের ইউনিয়ন ভুমি কর্মকর্তা আমজাদ হোসেনের দলিল জালিয়াতি, দূর্নীতি ও হয়রানির সাম্রাজ্য, কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী

যশোরের কেশবপুরের সহকারী ইউনিয়ন ভুমি কর্মকর্তা আমজাদ হোসেনের বিরুদ্ধে এলাকার মানুষের জমির দলিল জালিয়াতি, ঘুষ ছাড়া কাজ না করা, ঘুষ নিয়েও প্রতারণা, জাল নামজারি করে অন্যের জমি দখল এবং অনিয়ম ও দূর্নীতির ব্যাপক অভিযোগ পাওয়া গেছে। ইতিমধ্যেই আমজাদ হোসেন উপজেলার কাটাখালী ও পাঁজিয়া ভুমি অফিসে গড়ে তুলেছেন এলাকার জমির দলিল জালিয়াতি এবং অনিয়ম ও দূর্নীতির সিন্ডিকেট সাম্রাজ্য। ভুমি অফিসের দালাল ও জালিয়াতি সিন্ডিকেটের সদস্য হাবিবুর রহমানসহ এই চক্রের গডফাদার হিসেবে কাজ করছেন আমজাদ হোসেন। দীর্ঘদিন ধরে ভুমি অফিসে কাজ করার ‍সুবাদে এলাকর সাধারন মানুষের জমির দলিল জালিয়াতি, নামজারি করে জমি দখল এবং অনিয়ম ও দূর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে গড়ে তুলেছেন বিপুল সম্পদের পাহাড়। ইতিমধ্যেই এলাকার জমির মালিকরা আমজাদ হোসেনের জালিয়াতি, জমি দখল এবং অনিয়ম ও দূর্নীতির সঠিক তদন্ত পূর্বক কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানিয়েছেন। সম্প্রতি কাটাখালী ও পাঁজিয়া সহকারী ইউনিয়ন ভুমি কর্মকর্তা আমজাদ হোসেনের চরম হয়রানি, ঘুষ-দূর্নীতি এবং নির্যাতনের শিকার জমির মালিকরা তার বিচার ও শাস্তির দাবীতে খুলনার বিভাগীয় কমিশনার, যশোরের জেলা প্রশাসক, কেশবপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার(ভুমি) বরাবর গনপিটিশন দাখিল করেছেন। গনঅভিযোগে এলাকার জমির মালিক ও হয়রানির শিকার শেখ শাহাজাহান, মো: শামিম, দুলাল চন্দ্র সাহা, সেলিনা বেগম, মো: কামরুজ্জামান, অমল কান্তি বিশ্বাস, আশুতোষ সাহা, দুলাল পাল, মো: ফারুক হোসেন, আবুল কালাম, মো: আকবর, মো: হোসেন আলী, আবুল কালাম, মো: হাশেম,, সুমন হোসেন, জাকির হোসেনসহ অর্ধশতাধিক এলাকাবাসী গনস্বাক্ষরে অভিযোগ করেছেন।

খুলনার বিভাগীয় কমিশনার ও যশোরের জেলা প্রশাসক বরাবর দাখিলকৃত গনঅভিযোগে জানা গেছে, উপজেলার কাটাখালী ও পাঁজিয়া সহকারী ইউনিয়ন ভুমি কর্মকর্তা আমজাদ হোসেনের চরম হয়রানি, ঘুষ-দূর্নীতি এবং নির্যাতন করে চলেছেন। সে ০৮নং সুফলাকাঠি ইউনিয়নের নারায়নপুর গ্রামের আনিসুর রহমান বিশ্বাসের ছেলে হাবিবুর রহমানসহ একটি জালিয়াতি ও ঘুষ-দূর্নীতির সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। গত দেড় দশক ধরে আমজাদ হোসেন এই চক্রের মাধ্যমে এলাকার জমির মালিকদের জমির দলিল জালিয়াতি করে হয়রানি করছে। তেমনি নানান অজুহাতে জমি রেজিষ্ট্রি ও নামজারি করতে গেলে অতিরিক্ত টাকা দাবী করে। টাকা দিতে ব্যর্থ হলে জমির মালিকদেরকে বিভিন্নভাবে হয়রানি ও নির্যাতন করে চলেছে।আমজাদ হোসেন সিন্ডিকেটের সাথে যোগ সাজসে অনৈতিক আর্থিক লেনদেনের মা্ধ্যমে দশকাহুনিয়ার মো: শামিম হোসেনদের ২০০৫ সালের ২৯মে দলিলকৃত ৩১৬৬নং দলিলে নারায়নপুর মৌজার ২৫৩২দাগে ০৯শতক, ২৭৭৪দাগে ০৭শতক, ২৮৩০দাগে ০৫শতক, ২৮৩১দাগে ০৪শতক ও ২৮৩৪দাগে ০৮শতকসহ মোট ৩৩শতক জমি থাকলেও একই তারিখ দেখিয়ে দলিল জালিয়াতি করে ০৫টি দাগের পরিবর্তে ২-১টি দাগ সঠিক রেখে ০৬টি ভুয়া দাগ দেখিয়ে নামজারি কেস নং-২৬২৯/৯-১/১৬-১৭ আদেশের মা্যধমে দলিল গ্রহীতার নামে ১৬৭৯খতিয়ানভুক্ত করে। মূল দলিলের ২৮৩০ দাগ ঠিক রেখে বাকী ২৭৯৫, ২৭৯৬, ২৭৯৭, ২৯০৬, ২৯৫৩দাগ জালিয়াতির মাধ্যমে প্রতিষ্থাপন করে জাল দলিল এবং নামজারিও করে দেয়। এতে জমির মূল মালিকরা পেশিশক্তির কাছে জমি হারাচ্ছে এবং চরম ক্ষতির শিকার হচ্ছে। একইভাবে দলিল জালিয়াতির মাধ্যমে দুলাল সাহার ২৭১খতিয়ানের ১৬৭দাগ থেকে ৪.৮০শতক জমি প্রতারণা করে লাখ লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে নামজারি করে দিয়েছে আমজাদ হোসেন। এছাড়া সেলিনা বেগমের ভিটেবাড়ি নামজারির জন্য ৭০হাজার টাকা নিয়েছে। শেখ শাহাজাহান, অমল কান্তি বিশ্বাস, সুভাষ চন্দ্র হালদারসহ অনেকের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা ঘুষ নিয়ে কাজ না করে হয়রানি করেছে। এসব বিষয়ে আমজাদ হোসনের সাথে কথা বলতে গেলে জমির মালিকদেরকে হুমকি-ধামকি এবং অন্যদের নামে জমির দলিল ও নামজারির ভয়ভতি দেখিয়ে চরম হয়রানি করে যাচ্ছেন। কাটাখালী ও পাঁজিয়া সহকারী ইউনিয়ন ভুমি কর্মকর্তা আমজাদ হোসেনের চরম হয়রানি, ঘুষ-দূর্নীতি এবং নির্যাতনের বিষয়ে যথাযথ তদন্তপূর্বক  বিচার ও কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহনে ভুমি মন্ত্রনালয়েলর সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন জমির মালিকরা।

অভিযোগের বিষয়ে কাটাখালী ও পাঁজিয়া সহকারী ইউনিয়ন ভুমি কর্মকর্তা আমজাদ হোসেনের ০১৭১২-৬৪২৭২৮ নং মোবাইলে কয়েকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি মোবাইল রিসিভ করেননি। তবে কেশবপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভুমি) মো: আরিফুজ্জামান জানান, সকহারী ভুমি কর্মকর্তা আমজাদ হোসেনের বিরুদ্ধে আমাকে অভিযোগের অনুলিপি দিলেও সেটা এখনও গোচরীভুত হয়নি। তবে অভিযোগকারীরা তার কাছে সরাসরি অভিযোগ নিয়ে গেলে তদন্তপূর্বক যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাস দেন তিনি। ##

Tag :
About Author Information

Banglar Dinkal

কেশবপুরের ইউনিয়ন ভুমি কর্মকর্তা আমজাদ হোসেনের দলিল জালিয়াতি, দূর্নীতি ও হয়রানির সাম্রাজ্য, কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী

প্রকাশিত সময় ১২:৫১:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ নভেম্বর ২০২২

যশোরের কেশবপুরের সহকারী ইউনিয়ন ভুমি কর্মকর্তা আমজাদ হোসেনের বিরুদ্ধে এলাকার মানুষের জমির দলিল জালিয়াতি, ঘুষ ছাড়া কাজ না করা, ঘুষ নিয়েও প্রতারণা, জাল নামজারি করে অন্যের জমি দখল এবং অনিয়ম ও দূর্নীতির ব্যাপক অভিযোগ পাওয়া গেছে। ইতিমধ্যেই আমজাদ হোসেন উপজেলার কাটাখালী ও পাঁজিয়া ভুমি অফিসে গড়ে তুলেছেন এলাকার জমির দলিল জালিয়াতি এবং অনিয়ম ও দূর্নীতির সিন্ডিকেট সাম্রাজ্য। ভুমি অফিসের দালাল ও জালিয়াতি সিন্ডিকেটের সদস্য হাবিবুর রহমানসহ এই চক্রের গডফাদার হিসেবে কাজ করছেন আমজাদ হোসেন। দীর্ঘদিন ধরে ভুমি অফিসে কাজ করার ‍সুবাদে এলাকর সাধারন মানুষের জমির দলিল জালিয়াতি, নামজারি করে জমি দখল এবং অনিয়ম ও দূর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে গড়ে তুলেছেন বিপুল সম্পদের পাহাড়। ইতিমধ্যেই এলাকার জমির মালিকরা আমজাদ হোসেনের জালিয়াতি, জমি দখল এবং অনিয়ম ও দূর্নীতির সঠিক তদন্ত পূর্বক কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানিয়েছেন। সম্প্রতি কাটাখালী ও পাঁজিয়া সহকারী ইউনিয়ন ভুমি কর্মকর্তা আমজাদ হোসেনের চরম হয়রানি, ঘুষ-দূর্নীতি এবং নির্যাতনের শিকার জমির মালিকরা তার বিচার ও শাস্তির দাবীতে খুলনার বিভাগীয় কমিশনার, যশোরের জেলা প্রশাসক, কেশবপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার(ভুমি) বরাবর গনপিটিশন দাখিল করেছেন। গনঅভিযোগে এলাকার জমির মালিক ও হয়রানির শিকার শেখ শাহাজাহান, মো: শামিম, দুলাল চন্দ্র সাহা, সেলিনা বেগম, মো: কামরুজ্জামান, অমল কান্তি বিশ্বাস, আশুতোষ সাহা, দুলাল পাল, মো: ফারুক হোসেন, আবুল কালাম, মো: আকবর, মো: হোসেন আলী, আবুল কালাম, মো: হাশেম,, সুমন হোসেন, জাকির হোসেনসহ অর্ধশতাধিক এলাকাবাসী গনস্বাক্ষরে অভিযোগ করেছেন।

খুলনার বিভাগীয় কমিশনার ও যশোরের জেলা প্রশাসক বরাবর দাখিলকৃত গনঅভিযোগে জানা গেছে, উপজেলার কাটাখালী ও পাঁজিয়া সহকারী ইউনিয়ন ভুমি কর্মকর্তা আমজাদ হোসেনের চরম হয়রানি, ঘুষ-দূর্নীতি এবং নির্যাতন করে চলেছেন। সে ০৮নং সুফলাকাঠি ইউনিয়নের নারায়নপুর গ্রামের আনিসুর রহমান বিশ্বাসের ছেলে হাবিবুর রহমানসহ একটি জালিয়াতি ও ঘুষ-দূর্নীতির সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। গত দেড় দশক ধরে আমজাদ হোসেন এই চক্রের মাধ্যমে এলাকার জমির মালিকদের জমির দলিল জালিয়াতি করে হয়রানি করছে। তেমনি নানান অজুহাতে জমি রেজিষ্ট্রি ও নামজারি করতে গেলে অতিরিক্ত টাকা দাবী করে। টাকা দিতে ব্যর্থ হলে জমির মালিকদেরকে বিভিন্নভাবে হয়রানি ও নির্যাতন করে চলেছে।আমজাদ হোসেন সিন্ডিকেটের সাথে যোগ সাজসে অনৈতিক আর্থিক লেনদেনের মা্ধ্যমে দশকাহুনিয়ার মো: শামিম হোসেনদের ২০০৫ সালের ২৯মে দলিলকৃত ৩১৬৬নং দলিলে নারায়নপুর মৌজার ২৫৩২দাগে ০৯শতক, ২৭৭৪দাগে ০৭শতক, ২৮৩০দাগে ০৫শতক, ২৮৩১দাগে ০৪শতক ও ২৮৩৪দাগে ০৮শতকসহ মোট ৩৩শতক জমি থাকলেও একই তারিখ দেখিয়ে দলিল জালিয়াতি করে ০৫টি দাগের পরিবর্তে ২-১টি দাগ সঠিক রেখে ০৬টি ভুয়া দাগ দেখিয়ে নামজারি কেস নং-২৬২৯/৯-১/১৬-১৭ আদেশের মা্যধমে দলিল গ্রহীতার নামে ১৬৭৯খতিয়ানভুক্ত করে। মূল দলিলের ২৮৩০ দাগ ঠিক রেখে বাকী ২৭৯৫, ২৭৯৬, ২৭৯৭, ২৯০৬, ২৯৫৩দাগ জালিয়াতির মাধ্যমে প্রতিষ্থাপন করে জাল দলিল এবং নামজারিও করে দেয়। এতে জমির মূল মালিকরা পেশিশক্তির কাছে জমি হারাচ্ছে এবং চরম ক্ষতির শিকার হচ্ছে। একইভাবে দলিল জালিয়াতির মাধ্যমে দুলাল সাহার ২৭১খতিয়ানের ১৬৭দাগ থেকে ৪.৮০শতক জমি প্রতারণা করে লাখ লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে নামজারি করে দিয়েছে আমজাদ হোসেন। এছাড়া সেলিনা বেগমের ভিটেবাড়ি নামজারির জন্য ৭০হাজার টাকা নিয়েছে। শেখ শাহাজাহান, অমল কান্তি বিশ্বাস, সুভাষ চন্দ্র হালদারসহ অনেকের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা ঘুষ নিয়ে কাজ না করে হয়রানি করেছে। এসব বিষয়ে আমজাদ হোসনের সাথে কথা বলতে গেলে জমির মালিকদেরকে হুমকি-ধামকি এবং অন্যদের নামে জমির দলিল ও নামজারির ভয়ভতি দেখিয়ে চরম হয়রানি করে যাচ্ছেন। কাটাখালী ও পাঁজিয়া সহকারী ইউনিয়ন ভুমি কর্মকর্তা আমজাদ হোসেনের চরম হয়রানি, ঘুষ-দূর্নীতি এবং নির্যাতনের বিষয়ে যথাযথ তদন্তপূর্বক  বিচার ও কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহনে ভুমি মন্ত্রনালয়েলর সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন জমির মালিকরা।

অভিযোগের বিষয়ে কাটাখালী ও পাঁজিয়া সহকারী ইউনিয়ন ভুমি কর্মকর্তা আমজাদ হোসেনের ০১৭১২-৬৪২৭২৮ নং মোবাইলে কয়েকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি মোবাইল রিসিভ করেননি। তবে কেশবপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভুমি) মো: আরিফুজ্জামান জানান, সকহারী ভুমি কর্মকর্তা আমজাদ হোসেনের বিরুদ্ধে আমাকে অভিযোগের অনুলিপি দিলেও সেটা এখনও গোচরীভুত হয়নি। তবে অভিযোগকারীরা তার কাছে সরাসরি অভিযোগ নিয়ে গেলে তদন্তপূর্বক যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাস দেন তিনি। ##