করোনা নিয়ন্ত্রনে খুলনা মহানগরীর তিন থানা ও এক উপজেলায় এক সপ্তাহ দোকানপাট ও শপিং মল বন্ধসহ কঠোরবিধি নিষেধ

15

খুলনা ব্যুরো।।

খুলনায় র্সাবিক করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় ৪জুন থেকে এক সপ্তাহের জন্য খুলনা মহানগরীর সদর, সোনাডাঙ্গা ও খালিশপুর থানা ও রূপসা উপজেলায় সব দোকানপাট ও শপিং মল বন্ধসহ কঠোরবিধি নিষেধ আরোপ করা হয়েছে। একই সাথে মাক্স পরা বাধ্যতামূলক করতে এবং জরুরী প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হলেই মোবাইল র্কোটের মাধ্যমে জেল-জরিমানাসহ সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদানে কঠোর হতে র্নিদেশনা দেয়া হয়েছে।বুধবার দুপুরে করোনাভাইরাস প্রতিরোধ সংক্রান্ত জেলা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক।সভায় খুলনা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব(সমন্বয় ও সংস্কার) মোঃ কামাল হোসেন ও খুলনার বিভাগীয় কমিশনার মোঃ ইসমাইল হোসেন অনলাইনে যুক্ত থেকে করোনা সংক্রমন প্রতিরোধে করনীয় বিষয়ে পর্রামশ দেন।

সভায় খুলনা মহানগরী ও জেলার ৯টি উপজেলার সার্বিকভাবে করোনা পরিস্থিতির বিশ্লেষন তুলে ধরা হয়। সেখানে দেখা যায়, মে মাসে খুলনা মহানগরীর ৮টি থানার সদরে ৩৫শতাংশ অর্থাৎ ৩৪৮জন, খালিশপুরে ২৪৯জন অর্থাৎ ২৫শতাংশ, সোনাডাঙ্গায় ১৬৮জন অর্থাৎ ১৭শতাংশ, দৌলতপুরে ৯৯জন অর্থাৎ ১০শতাংশ, খানজাহান আলী থানায় ৮০জন অর্থাৎ ৮শতাংশ এবং লবনচরায় ২০জন, হরিনটানায় ১৯জন ও আড়ংঘাটা থানায় ১০জন আক্রান্ত হয়েছে। অন্যদিকে, ৯টি উপজেলার মধ্যে রূপসা উপজেলায় ৪৮জন অর্থাৎ ৪.১৮শতাংশ, দাকোপে ১৫জন, বটিয়াঘাটায় ১৪জন, তেরকাদায় ২জন, দিঘলিয়ায় ১৯জন, ফুলতলায় ১৬জন, ডুমুরিয়ায় ১৮জন, পাইকগাছায় ১৯জন, কয়রায় ৩জন আক্রান্ত হয়েছে। সংক্রমনের হারের এই সংখ্যা এপ্রিল মাসে আরও অনেক কম ছিল। ঈদের সময় বাইরে থেকে অনেক লোক খুলনায় আসা এবং ভারত থেকে অনেকেই ফিরে আসায় সংক্রমনের হার কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে।র্সাবিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে করোনা নিয়ন্ত্রণে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা এবং জনসমাগমের স্থানসমূহ ও করোনা সংক্রমণের আধিক্য বিবেচনায় রূপসা উপজেলা, খুলনা মহানগরীর সদর, সোনাডাঙ্গা এবং খালিশপুর থানায় জরুরি সেবা ব্যতিত সকল দোকান, শপিং মল এবং জন সমাবেশের স্থানগুলি ৪ জুন থেকে ১০জুন পর্যন্ত এক সপ্তাহ বন্ধ ঘোষনা করা হয়। এছাড়া রূপসা উপজেলা ও মহানগরীতে সন্ধ্যার পর দোকানপাট বন্ধ রাখা, হোটেলগুলোতে লোক সমাগম নিয়ন্ত্রণ এবং যত্রতত্র মানুসের চলাফেরা নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় জেলা প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা নেবে। এ সময় মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করতে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জেল, জরিমানা আদায়সহ সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান, স্বাস্থ্যবিধি পালনে মনিটরিং জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। একই সাথে প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের না হতে প্রশাসন, পুলিশ, স্বাস্থ্য বিভাগ ও সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে প্রচার-প্রচারণা চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

সভায় সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন, সার্বিকভাবে করোনা নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্যবিভাগ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। জেল-জরিমাানসহ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করে যেকোন মূল্যে সন্ধ্যার পর একাধিক লোকের জনসমাগম বন্ধ করতে হবে। তিনি সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং সর্বক্ষেত্রে মাস্ক ব্যবহার করার নির্দেশনা দেন। এছাড়া মসজিদ, মন্দিরে মাক্স ব্যবহার ও জনসচেতনতা সৃষ্টিতে মসজিদের ইমামসহ ধর্মীয় নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে আহবান জানান।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন জানান, খুলনায় বরাবরই পুলিশ, স্বাস্থ্য বিভাগ, সিটি করপোরেশন ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে র্কাযকর ব্যবস্থা নিয়ে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে ছিল। কিন্তু গত ঈদে বাইরে থেকে খুলনায় বিপুল সংখ্যক মানুষ আসায় এবং সীমান্ত পথে ভারত থেকে প্রতিনিয়ত খুলনায় মানুষের প্রবেশের ফলে সংক্রমন কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে সেটা জাতীয় গ্রহনযোগ্য হার ও উদ্বেজনক নয়। কিছু পত্রপত্রিকায় ঢাকা থেকে স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের জাতীয় পর্রামশক কমিটির সুত্র দিয়ে যেগুলো লেখা হচ্ছে খুলনার অবস্থা সেরকম নয়। তারপরেও খুলনায় যেসব এলাকায় কিছুটা সংক্রমন বেড়েছে সেসব এলাকা বিশেষ করে মহানগরীল সদর, খালিশপুর ও সোনাডাঙ্গা থানা এবং রূপসা উপজেলায় আগামী এক সপ্তাহের জন্য সব দোকানপাট ও শর্পি মল বন্ধসহ কঠোর বিধি নিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এই সাতদিনের পুলিশ, প্রশাসন, সিটি করপোরেশন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। জরুরী প্রয়োজন চাড়া বাইরে বের হলে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে জেল ও জরিমানাসহ কটোর আইনগত ব্যভস্থা নেয়া হবে বলেও তিনি জানান। এছাড়া মহানগরীর রূপসা খেয়া ঘাট, জেলখানা ঘাট, বাসষ্ট্যান্ড, বিভিন্ন কাচাবাজার ও পাইকারী বাজারে যেন জনসমাগম না হয় সে ব্যবস্থাও নেয়া হবে। তিনি খুলনা করোনা প্রতিরোধ টেকনিক্যাল কমিটির অবজারভেশন ও তথ্য মোতাবেক এবং কোন সংবাদে যেন সাধারন মানুষ বিভ্রান্ত না হয় সেদিকে লক্ষ্য রেখে গনমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের আহবান জানান।

সভায় খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার সরদার রকিবুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুব হাসান, সিভিল সার্জন ডাঃ নিয়াজ মোহাম্মদ, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ মোঃ রবিউল হাসান, মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ ডাঃ মেহেদী নেওয়াজ, শহীদ শেখ আবু নাসের হাসপাতালের পরিচালক ডা: রেজা খন্দকার, খুলনা স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মোঃ ইকবাল হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক) মোঃ ইউসুপ আলী, জেলা ত্রান কর্মকর্তা মো: আজিজুল হক, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো: সিরাজুদ্দোহাসহ   সরকারি কর্মকর্তাসহ কমিটির সদস্যবৃন্দ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রোনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।##

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here