করোনায় কর্মহীন নারী-পুরুষদের স্বাবলম্বী করfর ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

12

সৌমি লাবন্য ।।

খুলনায় করোনায় কর্মহীন ও অসহায় হয়ে পড়া মানুষকে শুধুই খাদ্য সহায়তাই নয়-এবার হতদরিদ্র পিছিয়ে পড়া নিন্মআয়ের কর্মহীন নারী-পুরুষকে স্বাবলম্বী করার ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন।এই কার্যক্রমের আওতায় করোনাকালীন লকডাউনে সর্বস্ব হারানো কর্মহীনদের কর্মসংস্থানের লক্ষে ২৫ জন হতদরিদ্র নারীকে সেলাই মেশিন ও ১০ জন বিভিন্ন পেশার শ্রমিককে ভ্যানগাড়ি প্রদান করা হয়েছে। এরআগে নিজস্ব স্কিল ডেভলপমেন্ট প্রজেক্টের আওতায় এসব নারী-পুরুষকে এক মাসের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।এ নিয়ে গত ৬মাসে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রায় একশো নারী ও মজুরী ভিত্তিক শ্রমিককে এ সহায়তা প্রদান করা হলো। বৃহষ্পতিবার খুলনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সহায়ক উপকরণ বিতরন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ সালাহউদ্দিন ‍জুয়েল।জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগের মাধ্যমে সেলাই মেশিন ও ভ্যানগাড়ী পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এসব কর্মহীন নারী-পুরুষরা।

এ প্রকল্পের উদ্যোক্তা খুলনার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন জানান, করোনা ভাইরাস সংক্রমণ বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে দেশব্যাপী সর্বাত্মক লকডাউন ঘোষণা করার ফলে দৈনন্দিন আয়ের উপর নির্ভরশীল অনেক হতদরিদ্র,ছিন্নমূল ও নিন্মআয়ের নারী এবং বিভিন্ন পেশার শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছে। কাজ ও রোজগার হারিয়ে এ সকল অসহায় ছিন্নমূল পরিবার সংসার চালাতে না পেরে মানবেতর জীবন যাপন করছে।কর্মহীন এসব নারী ও শ্রমিকদের শুধুই দান-খয়রাত নয় তাদের স্বাবলম্বী করতে উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন।এজন্য নিজস্ব স্কিল ডেভলপমেন্ট প্রজেক্টের আওতায় তালিকাভুক্ত কর্মহীন নারীদের উপযোগী করতে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের সহযোগিতায় দুই পর্যায়ে দুই সপ্তাহব্যাপী সেলাই প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, করোনায় কর্মহীন অসহায় নারীরা প্রশিক্ষণ ও উপকরণ হিসেবে সেলাই মেশিন পাওয়ায় তারা করোনায় বাড়ী বাইরে না এসে ঘরে বসেই উপার্জন করতে সক্ষম হবে। অপরদিকে, কর্মহীন শ্রমিকরা বিতরণকৃত ভ্যানগাড়ির মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি গিয়ে শাক-সবজি ও নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি করে পরোক্ষভাবে সাধারণ জনগনকে ঘরের বাইরে না আসতে বিরাট ভূমিকা রাখবে।একই সাথে সরকারের লকডাউন কার্যকর করতে এবং করোনাকালীন অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে সহযোগিতা করবে। অসহায় ও কর্মহীন নিন্মআয়ের নারী-পুরুষকে স্বাবলম্বী করতে এ কার্যক্রম অব্যাত থাকবে বলে তিনি জানান।

প্রশিক্ষণ ও সেলাই মেশিন সহায়তা পাওয়া খালিশপুর ক্রিসেন্ট গেট রেল কলোনী এলাকার হরিজন সম্প্রদায়ের বৃষ্টি বাশু ও ডালিয়া বাশু বলেন, আমরা করোনার সময়ে খুব কষ্টে আছি। এমনিতেই আমাদের কোন কাজ নেই। আমাদের স্বামীরাও বেকার। আমরাও বাড়িতে কিছু করতে পারিনা। তাই সেলাইয়ের কাজ শিখে ডিসি স্যারের কাছে আবেদন করেছিলাম। আমরা এ সেলাই মেশিন পেয়ে খুবই খুশি। এখন বাড়িতে বসে সেলাইয়ের কাজ করে কিছু টাকা আয় করতে পারবো। আমাদের সংসারের দুঃখ কষ্ট কিছুটা হলেও দূর হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ডিসি স্যারকে আমরা ধন্যবাদ জানাই।

ভ্যানগাড়ী সহায়তা পাওয়া ডুমুরিয়া উপজেলার জামিরা হাট এলাকার মো. শহীদ হোসেন, খালিশপুর থানার বি.আই.ডি.সি রোড এলাকার মো. রফিক ও সোনাডাঙ্গা থানার হরিজন কলোনী এলাকার মো. শুকুর আলী বলেন, করোনায় আমরা একেবারেই বেকার হয়ে পড়েছিলাম। স্ত্রী, সন্তান, মা-বাবা নিয়ে অনেক কষ্টের মধ্যে ছিলাম। একটি ভ্যানগাড়ী দিয়ে আমারে নতুন জীবন দিয়েছেন। এখন ভ্যানে করে শাক-সবজি বিক্রি থেকে আয় দিয়ে ভালভাবে সংসার চালাতে পারবো। আমরা ডিসি স্যারকে ধন্যবাদ জানাই-তিনি আমাদের ভ্যান গাড়ী দিয়ে আমাদের ভালভাবে বাঁচার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেনের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে খুলনা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ হারুনুর রশিদ, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এমডিএ বাবুল রানা, অতিরিক্তি জেলা প্রশাসক ইকবাল হোসেন, খুলনা প্রেস ক্লাবের সভাপতি এসএম জাহিদ হোসেন, সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. মুন্সি মাহবুব আলম সোহাগসহ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন ।

উল্লেখ্য, কর্মহীনদের স্বাবলম্বী করতে এই প্রকল্পের আওতায় গত ৬মাসে স্কিল ডেভলপমেন্ট প্রজেক্টের আওতায় প্রশিক্ষণ প্রদান শেষে প্রথম ধাপে ২০ জন ও ২য় ধাপে ৩০ জনসহ ৫০জন মহিলাকে সেলাই মেশিন এবং ০৬ জন কর্মহীন শ্রমিককে ০৫ টি ভ্যানগাড়ি ও ০১ টি রিক্সা বিতরণ করে খুলনা জেলা প্রশাসন। ##

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here