উপমহাদেশের প্রথম নারী চিকিৎসক কাদম্বিনী দেবীর জন্মদিনে শ্রদ্ধার্ঘ

54

বিশেষ প্রতিবেদক।।
ইউরোপীয় চিকিৎসা শাস্ত্রে শিক্ষিত দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম মহিলা চিকিৎসক কাদম্বিনী গঙ্গোপাধ্যায়ের (গাঙ্গুলী) জন্মদিন ১৮ জুলাই। ১৮৬১ সালের এ দিনে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের বিহার রাজ্যের ভাগলপুরে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ব্রিটিশ ভারতে প্রথম যে দু’জন মহিলা স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন তাঁদেরই একজন কাদম্বিনী গঙ্গোপাধ্যায়; অপরজন হলেন চন্দ্রমুখী বসু।
কাদম্বিনীর পৈতৃকনিবাস বাংলাদেশের বরিশালে। পিতা ব্রজকিশোর বসু ভাগলপুর স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছিলেন।
কাদম্বিনী বসু ও চন্দ্রমুখী বসু- দু’জনই ১৮৮৩ সালে বেথুন কলেজ থেকে বিএ পাস করেন। স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর কাদম্বিনী দেবী সিদ্ধান্ত নেন যে, তিনি ডাক্তারি পড়বেন। ১৮৮৩ সালে মেডিকেল কলেজে ঢোকার পরেই শিক্ষক দ্বারকানাথ গাঙ্গুলীকে বিয়ে করেন। এর স্বামীর বংশীয় উপাধি ধারণ করে ‘কাদম্বিনী বসু’ থেকে ‘কাদম্বিনী গাঙ্গুলী’ হয়ে যান।
দ্বারকানাথ বিখ্যাত সমাজসংস্কারক ও মানবদরদী সাংবাদিক হিসেবে খ্যাত ছিলেন। যখন তিনি বিয়ে করেন তখন ৩৯ বছর বয়সের বিপত্নীক। আর কাদম্বিনীর বয়স ছিল মাত্র ২১ বছর। কাদম্বিনীকে ১৮৮৬ সালে জিবিএমসি (গ্র্যাজুয়েট অফ বেঙ্গল মেডিক্যাল কলেজ) ডিগ্রি দেয়া হয়। তিনি ছিলেন প্রথম ভারতীয় মহিলা; যিনি পাশ্চাত্য চিকিৎসা রীতিতে চিকিৎসা করবার অনুমতি পান। মেডিক্যাল কলেজে পড়াকালীন তিনি সরকারের স্কলারশিপ পান; যা ছিল মাসে ২০ টাকা।
কাদম্বিনীতি পাঁচ বছর মেডিক্যাল কলেজে পড়াশোনা করার পর বিলেত যাবার আগে ১৮৮৮ সালে কিছুদিন লেডি ডাফরিন মহিলা হাসপাতালে মাসিক ৩০০ টাকা বেতনে চাকরি করেছিলেন।
১৮৮৯ খ্রিষ্টাব্দে বোম্বে শহরে কংগ্রেসের পঞ্চম অধিবেশনে প্রথম যে ছয় জন নারী প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছিলেন কাদম্বিনী ছিলেন তাদের অন্যতম একজন। পরের বছর কলকাতায় কংগ্রেসের ষষ্ঠ অধিবেশনে বক্তব্য রাখেন তিনি। তিনি ছিলেন কংগ্রেসের প্রথম মহিলা বক্তা।
কাদম্বিনী গান্ধীজীর সহকর্মী হেনরি পোলক প্রতিষ্ঠিত ট্রানসভাল ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশনের প্রথম সভাপতি এবং ১৯০৭ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতায় অনুষ্ঠিত মহিলা সম্মেলনের সদস্য ছিলেন। ১৯১৪ সালে তিনি কলকাতায় সাধারণ ব্রাহ্ম সমাজের অধিবেশনে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এই অধিবেশন মহাত্মা গান্ধীর সম্মানের জন্য আয়োজন করা হয়েছিল।
কাদম্বিনী চা বাগানের শ্রমিকদের শোষণের বিষয়ে অবগত ছিলেন এবং তিনি তার স্বামীর দৃষ্টিভঙ্গি সমর্থন করেন; যিনি আসামের চা বাগানের শ্রমিকদের কাজে লাগানোর পদ্ধতির নিন্দা করেছিলেন।
কবি কামিনী রায়ের সঙ্গে কাদম্বিনী দেবী ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দে বিহার এবং ওড়িশার নারীশ্রমিকদের অবস্থা তদন্তের জন্য সরকার দ্বারা নিযুক্ত হয়েছিলেন।
কাদম্বিনী হিন্দু রক্ষনশীল সমাজের দ্বারা আক্রান্ত হয়েছিলেন। ১৮৯১ খ্রিষ্টাব্দে রক্ষনশীল বাংলা পত্রিকা বঙ্গবাসী তাকে পরোক্ষভাবে ‘বেশ্যা’ উল্লেখ করেছিল। এ ঘটনায় কাদম্বিনী পত্রিকাটির বিরুদ্ধে মামলা করে জেতেন।আদালতের রায়ে বঙ্গবাসী পত্রিকার সম্পাদক মহেশচন্দ্র পালকে ১০০ টাকা জরিমানা এবং ছয় মাসের জেল দেয়া হয়েছিল।
জন্মবার্ষিকীতে মহিয়সী এ নারীর প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা। ##