১৯০২-২০১৯ কলকাতায় নোবেল এলো ৬ বার

0
102

অনলাইন ডেস্ক :

উৎসবের আড় ভেঙে সোমবারই কাজে যোগ দিয়েছিল তামাম বাঙালি। কিন্তু আধবেলা গড়াতে না গড়াতেই আবার উৎসব। সৌজন্যে অর্থনীতিতে নোবেল পাচ্ছেন অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়। সে আবার বঙ্গসন্তান। সংবাদ মাধ্যমে এই খবর প্রচার হতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় উদযাপন শুরু হয়ে যায় বাঙালির মন জুড়ে। দারিদ্র্য দূরীকরণে নতুন দৃষ্টিভঙ্গির সন্ধান দিয়েই অর্থনীতিতে নোবেল পেল অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়।

ঐতিহ্যবাহী প্রেসিডেন্সির প্রাক্তন ছাত্র অভিজিৎ এর হাত ধরেই নোবেল পুরস্কারের সঙ্গে ষষ্ঠবারের মত কলকাতার  নাম জুড়ে গেল।

১. রোনাল্ড রস: ১৯০২ সালে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পেয়েছিলেন রোনাল্ড রস। জন্ম উত্তর ভারতের আলমোরায় হলেও তাঁর বাবা-মা ছিলেন ব্রিটিশ। ১৮৯৮ সালে গবেষণার জন্য কলকাতায় আসেন তিনি। ম্যালেরিয়া নিয়ে গবেষণার কাজ শুরু করেন এই চিকিৎসক। তিনিই প্রথম আবিষ্কার করেন ম্যালেরিয়া আসলে মশাবাহিত রোগ। এবং তা নিরাময়েরও সন্ধান দেন তিনি। সেই প্রথম কলকাতার সঙ্গে জুড়ে যায় নোবেল পুরস্কারের নাম।

২. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: ১৯১৩ সালে প্রথম অইউরোপীয় ও অশ্বেতাঙ্গ হিসেবে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ। গীতাঞ্জলী ইংরাজিতে অনুবাদ করে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন কলকাতার জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির সন্তান।

৩. সিভি রমন: তৃতীয় বার কলকাতার নাম নোবেল পুরস্কারের সঙ্গে জুড়ে দেওয়ার পিছনে ছিলেন তামিল পদার্থ বিজ্ঞানী চন্দ্রশেখর ভেঙ্কট রমন। ১৯৩০ সালে পদার্থবিদ্যায় নোবেল পেয়েছিলেন এই তিনি। তৎকালীন মাদ্রাজের প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ করার পর কলকাতায় চলে আসেন রমন। গবেষণার কাজে যোগ দেন বউবাজারের ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর কাল্টিভেশন অফ সায়েন্সে। ১৯১৭ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকের চাকরি শুরু করেন রমন।

৪. মাদার টেরিজা: আলবেনিয়ার এই ক্রিশ্চিয়ান মিশনারি তাঁর গোটা জীবনটাই কাটিয়েছেন কলকাতায়। গরিবগুর্বো মানুষের জন্য সেবা করার যে দিগন্তপ্রসারী কর্মযজ্ঞ শুরু করেছিলেন টেরেসা সেই জন্য ১৯৭৯ সালে শান্তিতে নোবেল পান তিনি। ১৯৫০ সালে কলকাতায় মিশনারিজ অফ চ্যারিটির প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত এ শহরেই ছিলেন এই খ্রিষ্টান সন্ন্যাসিনী।

৫. অমর্ত্য সেন: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পর দ্বিতীয় বাঙালি হিসবে নোবেল পুরস্কার পান অমর্ত্য সেন। ১৯৯৮ সালে অর্থনীতিতে নোবেল পান তিনি। অমর্ত্য সেনের জন্ম শান্তিনিকেতনে। কিন্তু তাঁর পড়াশোনা শুরু হয় অভিবক্ত বাংলার ঢাকায়। দেশভাগের পর আবার শান্তিনিকেতনে ফিরে আসে তাঁদের পরিবার। ভর্তি হন কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে। স্নাতক হওয়ার পর শুরু করেন গবেষণা ও অধ্যাপনা। এই কাজের জন্যই ১৯৭২ সাল থেকে অধিকাংশ সময়েই দেশের বাইরে থাকতে হয়েছে তাঁকে।

৬. অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়: অমর্ত্য সেনের নোবেল পাওয়ার ২১ বছর পর ফের কোনও বাঙালি এই পুরস্কার পেলেন। সেই অর্থনীতিতেই। অভিজিৎবাবু আবার অমর্ত্য সেনেরই ছাত্র। ছাত্রের লেখা ‘পুওর ইকোনমিকস: আ র‍্যাডিক্যাল রিথিংকিং অফ দ্য ওয়ে টু ফাইট গ্লোবাল পভার্টি’ পড়ে অধ্যাপক সেন বলেছিলেন, “দুর্দান্ত বিশ্লেষণ। একেবারে গভীরে গিয়ে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।” অভিজিৎবাবু সাউথ পয়েন্ট স্কুলের পাঠ শেষ করে অর্থনীতি নিয়ে পড়া শুরু করেন প্রেসিডেন্সি কলেজে। তারপর দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়। সেখান থেকে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here