মঙ্গলবার, ১৬ অগাস্ট ২০২২, ১০:৩৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
তেরখাদায় অস্ত্রসহ একাধিক মামলার আসামি আটক তেরখাদায় নানা কর্মসূচির মাধ্যমে জাতীয় শোক দিবস পালন জাতীয় শোক দিবসের বিশেষ নিবন্ধ : ১৫ আগষ্ট বাঙালি জাতির একটি কলঙ্কিত ইতিহাস যশোরে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির উদ্যোগে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত সাভারে সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিকের উপর হামলা, হত্যার চেষ্টা শোকাবহ আগস্টে অপশক্তি ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান : এমপি সালাম মূর্শেদী জাতীয় শোক দিবসে বিশেষ প্রতিবেদন : সেই শিশু আজ জগৎ জোড়া কয়রার দক্ষিণ বেদকাশীর রিংবাঁধ ভেঙ্গে এলাকা প্লাবিত, দূর্ভোগে হাজারো মানুষ ভেড়ামারায় তেল পাম্পে ট্যাংকি বিস্ফোরণে নিহত-২, আহত-৪ শিক্ষা কারিকুলায় আঞ্চলিক সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন : উপাচার্য

“ঘূর্ণিঝড় ফণী’’ আতঙ্ক মুক্ত হলেও ভাঙণ শঙ্কায় দাকোপবাসী

সংবাদদাতার নাম :
  • প্রকাশিত সময় শনিবার, ৪ মে, ২০১৯
  • ৮১৫ পড়েছেন

অফিস ডেক্স : বড় ধরনের কোন ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই দাকোপ উপকূলের মানুষ পার করল ব্যাপক বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড় ফণী। ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ফণী আতঙ্কে খুলনার দাকোপ উপজেলার প্রায় ৩ লক্ষ মানুষ চরম আতঙ্ক ও উৎকন্ঠায় নির্ঘূম রাত কাটায় । যদিও এই দূর্যোগ মোকাবেলায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছিল ব্যাপক প্রস্তুতি। প্রশাসনের প্রস্তুতি দেখতে খুলনা জেলা প্রশাসক হেলাল হোসেন গতকাল পরিদর্শন করেন উপজেলার বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রগুলো ।

ঘূর্নীঝড় ফণী প্রবল বেগে উপকূলজুড়ে আঘাত হানতে পারে এমন সতর্ক বার্তা পাওয়ার পর থেকেই দাকোপ উপজেলা প্রশাসন গ্রহণ করতে থাকে ব্যাপক প্রস্তুতি। ০২ ও ০৩ মে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল ওয়াদুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়েছে দূর্যোগ প্রস্তুতি সভা। সেখানে উপস্থিত ছিলেন পর্যায়ক্রমে দাকোপ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শেখ আবুল হোসেন ও নবনির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগ নেতা মুনসুর আলী খান। উপস্থিত ছিলেন উপজেলার বিভিন্ন দফতরের সরকারী কর্মকর্তা, সাংবাদিক, এনজিও প্রতিনিধি, সিপিপি, পুলিশ প্রশাসনসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

প্রস্তুতি সভার মাধ্যমে প্রস্তত ছিল একটি কন্ট্রোল রুম, ৯৯টি সাইক্লোন সেল্টার, ১৪টি মেডিকেল টিম, সিপিপি, ফায়ার সার্ভিস, জনস্বাস্থের তত্তাবধানে ছিল একটি ভ্রাম্যমান ওয়াটার ওসমোসিস প্লান্ট, ১০হাজার পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, ১হাজারটি পানির ড্রাম। প্রতিটি ইউনিয়নে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান নিরুপনের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয় ট্যাগ অফিসার। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৫০ হাজার মানুষের সার্বিক সাপোর্ট দেওয়ার প্রস্তুতিও ছিল।

বিগত ২ দিন নদীতে জোয়ারের পানি অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওযায় সকল প্রকার নৌ-চলাচল ছিলো সিমিত। শুক্রবার দুপুরে পশুর নদের জোয়ারের চাপে বানিশান্তা বাজার সংলগ্ন ভেড়ীবাঁধ একদফা ভেঙে গেলে তা এলাকাবাসীর তৎপরতায় তাৎক্ষনিক মেরামত করা হলেও রাতের জোয়ারে আবারও ভেঙে গিয়ে প্লাবিত হয় তৎসংলগ্ন এলাকা। নদীতে বৃদ্ধি পাওয়া পানির চাপে বাণিশান্তা, গুনারীতে ঝুঁকিপূর্ণ ওয়াপদা ভেড়ীবাঁধ স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে রক্ষার চেষ্টা করেছে এলাকাবাসী।

শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি ও কয়েকদফা দমকা হাওয়া, নদীতে জোয়ারের বাড়তি পানির চাপ, সামাজিক গণ মাধ্যম ও সরকারি এবং দেশী বিদেশী গণ মাধ্যমে প্রচারিত সংবাদে রীতিমত আতঙ্ক ও চরম উৎকণ্ঠায় রাত কাটে উপকূলবাসীর। সকালের আলো ফুটতেই দেখা দেয় দকমা ঝড়ো হাওয়া বেলা বাড়তেই কমে যায় সে গতি। এদিকে গতরাতে আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া অসহায় ছিন্নমূল মানুষের মাঝে ৩১ টন চালসহ শুকনো খাবার বিতরন করা হয়েছে বলে জানান দাকোপ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুল কাদের।

দেশের অন্যান্য উপকূলীয় জেলা গুলোতে ঘূর্ণিঝড় ফণীর আঘাতে ব্যাপক ক্ষয় ক্ষতি হলেও খুলনার দাকোপ উপজেলাতে তেমন কোন বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি না হওয়ায় সুন্দরবনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সুন্দরবন রক্ষার আহবান ও সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করে আপাতত স্বস্তি প্রকাশ করেছেন তারা। একইসাথে সরকারের দূর্যোগ মোকাবেলায় নেওয়া আগাম প্রস্তুতি ও আন্তরিক প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ সংস্কারের জোরদাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

সংবাদটি শেয়ার করার জন্য অনুরোধ করা হলো

এ ধরনের আরো সংবাদ

© All rights reserved by www.banglardinkal.com (Established in 2017)

Hwowlljksf788wf-Iu