ঢাকা ০৭:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

দাকোপে রোহিঙ্গা আতঙ্কে উত্তেজক গ্রামবাসীদের শান্ত করতে অনাকাংক্ষিত ঘটনা, ‘‘ছেলে ধরা’’ রোহিঙ্গা আতঙ্ক সম্পূর্ণ গুজব

পাপ্পু সাহা দাকোপ : খুলনা জেলার দাকোপ উপজেলায় “ছেলে ধরা” রোহিঙ্গা আতঙ্কে সাধারণ মানুষ। রোহিঙ্গারা দিনে অথবা রাতে ছদ্দবেশে অপহরণ কিংবা অন্য কোন অপরাধমূলক কর্মকান্ড করছে এমন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে দাকোপ উপজেলার সর্বত্র।

পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি সম্পূর্ণ গুজব বলে জানানো হয়। গুজবে কান না দিয়ে দাকোপবাসীকে সর্তক থাকতে বলেন পুলিশ প্রশাসন। জানা যায়, গত ১০মে শুক্রবার চালনা পৌরসভার কলেজপাড়া এলাকায় সন্ধ্যা নামতেই খবর ছড়িয়ে পড়ে পাড়ায় ছেলে ধরা রোহিঙ্গা ঢুকেছে। এক কান দুকান করে এ খবর গ্রামময় ছড়িয়ে পড়তেই নীরিহ গ্রামবাসী লাঠিসোটা নিয়ে শুক্রবার রাত সাড়ে ১১ টার সময় চালনা এম এম কলেজ সংলগ্ন মোঃ জব্বার তালুকদারের বাড়ি ছেলে ধরা রোহিঙ্গারা আছে ভেবে আক্রমন করতে আসে।

খবর পেয়ে দাকোপ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনা স্থলে যেয়ে জনতার রোষানল থেকে সন্দেহভাজন রোহিঙ্গাদের উদ্ধার করেন। এসময় উত্তেজক জনতার রোষানল মোকাবেলা করতে যেয়ে এ,এস,আই জাফরের সাথে দাকোপ রিপোটার্স ক্লাবের সদস্য সাংবাদিক আজিজুর রহমানের ভুলবোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। এ,এস,আই জাফর বলেন, গুজবের সুত্রধরে আগত কয়েক শত নীরিহ গ্রামবাসীদের মোকাবেলা করতে যেয়ে সাংবাদিক আজিজুর রহমানের গায়ে থাক্কা লেগে তার হাতে থাকা মোবাইল ফোনটি পড়ে যায়। ১৬ জন নারী-পুরুষের জীবন বাচাঁতে গিয়ে নিজের অজান্তে যদি কিছু ঘটেও থাকে সেটা অনাকাংঙ্গিত।

এস,আই পলাশ দাশ জানান, কলেজ সংলগ্ন মোঃ জব্বার তালুকদারের বাড়ি ভাড়া নিয়ে ক্রোকারীজের সামগ্রী গ্রামে গ্রামে বিক্রয়ের জন্য ১৬ জন নারী-পুরুষ (কুমিল্লার বিভিন্ন থানার) অবস্থান করেন। তাদের ভোটার আইডি কার্ড যাচাই, কুমিল্লার বিভিন্ন থানা এবং উক্ত এলাকার চেয়ারম্যানদের সাথে যোগাযোগ করে দেখা যায় তারা প্রকৃত ভ্রাম্যমান ক্রোকারীজ ব্যাবসায়ী। সকল প্রমান এর ভিত্তিতে তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হয়। দাকোপ উপজেলা রিপোটার্স ক্লাবের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহবায়ক রতন কুমার মন্ডলের নেতৃত্ত্বে সাংবাদিক প্রতিনিধিদল দেখা করেন দাকোপ থানা অফিসার ইনচার্জ জনাব মো. মোকাররম হোসেনের সাথে।

দাকোপ থানা অফিসার ইনচার্জ জনাব মো. মোকাররম হোসেন বলেন, অতি উৎসাহী হয়ে ভিত্তিহীন গুজবে কান না দিয়ে আগন্তুক কাউকে ছেলে ধরা রোহিঙ্গা ভেবে অপ-প্রচার না চালানোর জন্য দাকোপবাসীর প্রতি আহবান জানান এবং প্রতিটা ইউনিয়নে মাইকিং করে জন সাধারনের মনের যে ভুল ধারনা সেটা ভেঙ্গে দেওয়ার জন্য জনপ্রতিনিধিদের প্রতি আহব্বান জানান। সেই সাথে তিনি সাংবাদিকদের বলেন সাংবাদিক হল পুলিশের বন্ধু বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশে দাকোপ থানা পুলিশ সব সময় আপনাদের সাহায্য করবে।

Tag :
About Author Information

বাংলার দিনকাল

Editor and publisher
জনপ্রিয় সংবাদ

খুবিতে ‘জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ উদ্বোধন

দাকোপে রোহিঙ্গা আতঙ্কে উত্তেজক গ্রামবাসীদের শান্ত করতে অনাকাংক্ষিত ঘটনা, ‘‘ছেলে ধরা’’ রোহিঙ্গা আতঙ্ক সম্পূর্ণ গুজব

প্রকাশিত সময় ০৭:২৮:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ মে ২০১৯

পাপ্পু সাহা দাকোপ : খুলনা জেলার দাকোপ উপজেলায় “ছেলে ধরা” রোহিঙ্গা আতঙ্কে সাধারণ মানুষ। রোহিঙ্গারা দিনে অথবা রাতে ছদ্দবেশে অপহরণ কিংবা অন্য কোন অপরাধমূলক কর্মকান্ড করছে এমন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে দাকোপ উপজেলার সর্বত্র।

পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি সম্পূর্ণ গুজব বলে জানানো হয়। গুজবে কান না দিয়ে দাকোপবাসীকে সর্তক থাকতে বলেন পুলিশ প্রশাসন। জানা যায়, গত ১০মে শুক্রবার চালনা পৌরসভার কলেজপাড়া এলাকায় সন্ধ্যা নামতেই খবর ছড়িয়ে পড়ে পাড়ায় ছেলে ধরা রোহিঙ্গা ঢুকেছে। এক কান দুকান করে এ খবর গ্রামময় ছড়িয়ে পড়তেই নীরিহ গ্রামবাসী লাঠিসোটা নিয়ে শুক্রবার রাত সাড়ে ১১ টার সময় চালনা এম এম কলেজ সংলগ্ন মোঃ জব্বার তালুকদারের বাড়ি ছেলে ধরা রোহিঙ্গারা আছে ভেবে আক্রমন করতে আসে।

খবর পেয়ে দাকোপ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনা স্থলে যেয়ে জনতার রোষানল থেকে সন্দেহভাজন রোহিঙ্গাদের উদ্ধার করেন। এসময় উত্তেজক জনতার রোষানল মোকাবেলা করতে যেয়ে এ,এস,আই জাফরের সাথে দাকোপ রিপোটার্স ক্লাবের সদস্য সাংবাদিক আজিজুর রহমানের ভুলবোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। এ,এস,আই জাফর বলেন, গুজবের সুত্রধরে আগত কয়েক শত নীরিহ গ্রামবাসীদের মোকাবেলা করতে যেয়ে সাংবাদিক আজিজুর রহমানের গায়ে থাক্কা লেগে তার হাতে থাকা মোবাইল ফোনটি পড়ে যায়। ১৬ জন নারী-পুরুষের জীবন বাচাঁতে গিয়ে নিজের অজান্তে যদি কিছু ঘটেও থাকে সেটা অনাকাংঙ্গিত।

এস,আই পলাশ দাশ জানান, কলেজ সংলগ্ন মোঃ জব্বার তালুকদারের বাড়ি ভাড়া নিয়ে ক্রোকারীজের সামগ্রী গ্রামে গ্রামে বিক্রয়ের জন্য ১৬ জন নারী-পুরুষ (কুমিল্লার বিভিন্ন থানার) অবস্থান করেন। তাদের ভোটার আইডি কার্ড যাচাই, কুমিল্লার বিভিন্ন থানা এবং উক্ত এলাকার চেয়ারম্যানদের সাথে যোগাযোগ করে দেখা যায় তারা প্রকৃত ভ্রাম্যমান ক্রোকারীজ ব্যাবসায়ী। সকল প্রমান এর ভিত্তিতে তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হয়। দাকোপ উপজেলা রিপোটার্স ক্লাবের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহবায়ক রতন কুমার মন্ডলের নেতৃত্ত্বে সাংবাদিক প্রতিনিধিদল দেখা করেন দাকোপ থানা অফিসার ইনচার্জ জনাব মো. মোকাররম হোসেনের সাথে।

দাকোপ থানা অফিসার ইনচার্জ জনাব মো. মোকাররম হোসেন বলেন, অতি উৎসাহী হয়ে ভিত্তিহীন গুজবে কান না দিয়ে আগন্তুক কাউকে ছেলে ধরা রোহিঙ্গা ভেবে অপ-প্রচার না চালানোর জন্য দাকোপবাসীর প্রতি আহবান জানান এবং প্রতিটা ইউনিয়নে মাইকিং করে জন সাধারনের মনের যে ভুল ধারনা সেটা ভেঙ্গে দেওয়ার জন্য জনপ্রতিনিধিদের প্রতি আহব্বান জানান। সেই সাথে তিনি সাংবাদিকদের বলেন সাংবাদিক হল পুলিশের বন্ধু বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশে দাকোপ থানা পুলিশ সব সময় আপনাদের সাহায্য করবে।