শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় খুদে ডাক্তারের ভূমিকা

0
56

মো. আবদুল ওয়াদুদ :
একটি দেশের সামগ্রিক মানবসম্পদের উন্নয়ন হচ্ছে জাতীয় উন্নয়নের চাবিকাঠি, তেমনি গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে জন্মলগ্ন থেকেই মানবসম্পদের যথাযথ পরিচর্যা। আজকের যারা বয়স্ক মানুষ, তাদের আচরণগত পরিবর্তন অনেক কঠিন। কিন্তু আজকের বয়স্ক মানুষটি কি চিন্তা করবে, কিভাবে করবে, কতটুকু তার চিন্তা শক্তি কাজে লাগাতে পারবে তা নির্ভর করে শিশুবেলায় তার গঠনে, মননে কি রকম গুনগত প্রভাব পড়ছে তার উপর ।

মূলত: মাতৃগর্ভ থেকেই শিশুর শারীরিক মানসিক বুদ্ধিবৃত্তিক ও আবেগিত বিকাশ শুরু হয়। তখনকার চারপাশের পরিবেশের প্রভাবই তার ভবিষ্যৎ আদল বা ব্যক্তিত্বের পরিচায়ক। বস্তুত একটি চমৎকার সুন্দর পরিবেশে জন্মগ্রহণ এবং একটি আনন্দময় পরিবেশে বেড়ে ওঠার সুযোগ শিশুর জন্মগত অধিকার।

শুধু তাই নয় প্রতি ১০ হাজার মানুষের জন্য ২৫ জন স্বাস্থ্যকর্মী থাকার বিধান রয়েছে। বাংলাদেশে লক্ষ্যমাত্রা থেকে অনেক পিছিয়ে আছে। খুদে চিকিৎসকেরা এ অভাব পূরণ করতে পারে। উপযুক্ত প্রশিক্ষণ পেলে এরাই তাদের পাড়া বা মহল্লায় কত মানুষ আছেন, কার উচ্চ রক্তচাপ আছে এ বিষয়গুলো জানাতে পারে।

প্রত্যন্ত অঞ্চল যেখানে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল নয়, কাছে কোনো হাসপাতাল বা ডাক্তার নেই, এরকম এলাকায় কোন বাচ্চা অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা পদ্ধতি খুদে চিকিৎসকেরা জানাতে পারে। উদাহরণ স্বরূপ- কুকুরে কামড়ালে ক্ষতস্থানটি সাবান দিয়ে ধুলে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত জীবাণু মারা যায়। এ তথ্যটি শিশুদের জানা থাকলে গোটা সমাজ উপকৃত হতে পারে। শিশুর নিয়মিত উচ্চতা ও ওজন মেপে বয়স অনুযায়ী উচ্চতা ও ওজন সঠিক রাখতে সঠিক খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে সাহায্য করতে পারে।

সেলফোন নির্ভর সেবা ব্যবস্থায় খুদে চিকিৎসকেরা অনাভিজ্ঞ সাধারণ মানুষের তথ্য প্রদান করে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। জনগণকে সেবা দিতে সেলফোন নির্ভর এ ব্যবস্থা তৈরিতে বাংলাদেশী দুই তরুণ ডা. আতিকুর রহমান ও বাহারুল ইসলাম গবেষক হিসেবে কাজ করেছেন জেমস কুক ইউনিভার্সিটি সিংগাপুর ক্যাম্পাসে। তাদের তৈরি সিস্টেম ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করেছে উন্নয়নশীল দেশের স্বাস্থ্য সেক্টরে। স্বল্পমূল্যের মুঠোফোনের মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশ বিশেষ করে আফ্রিকা এবং এশিয়ার অনেক দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের মাঝে কীভাবে-এ স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেয়া যায়, সেই চিন্তা থেকে এক বছর নিরলস গবেষণার পর এ সাফল্য এসেছে। বাংলাদেশী দুই গবেষক আতিকুর ও বাহারুল এমন একটা পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন যার মাধ্যমে ডাক্তার ছাড়াই এক থেকে আট বছর বয়সের বাচ্চাদের শ্বাস কষ্টজনিত রোগ যেমন- সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়া, ব্রঙ্কাইটিস ইত্যাদির প্রথমিক অবস্থা জানা যাবে এবং সে মোতাবেক চিকিৎসাও দেওয়া যাবে।

আমাদের গ্রামগঞ্জের রাস্তা ঘাটে আখের রস, তালের রস, লেবুর সরবত অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বিক্রি হচ্ছে আর স্কুলে টিফিন বা ছুটির পর শিশুরা সেখানে ভিড় করছে। তাছাড়া বাহারী মোড়কের আইসক্রিম, কোমল পানীয়, প্রিজারবেটিভযুক্ত জুসসহ বিভিন্ন খাবার খেয়ে থেকে যা মানবস্বাস্থ্যের জন্য খুব ক্ষতিকর। তাই শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও মেধা বিকাশে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে খুদে চিকিৎসকেরা সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

খুদে চিকিৎসকরা শিশুদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে দেখার পর, কেউ অসুস্থ থাকলে তাকে যেন কমিউনিটি ক্লিনিক ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিসার ব্যবস্থা করা হয়, সে ব্যাপারে উদ্যোগ নিতে হবে।
লেখক : মো. আবদুল ওয়াদুদ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, দাকোপ-খুলনা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here