শনিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২২, ০৫:৫৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
খুলনার বৃক্ষমেলায় প্রায় ৪৯ লাখ টাকার  চারা বিক্রি রূপসায় চিংড়ির পঁচা মাথার গন্ধে মারাত্নক পরিবেশ দুষন, জনজীবন অতিষ্ঠ অবৈধ সরকার অর্থনীতিসহ সার্বিক পরিস্থিতিতে চলতি মাসও টিকে থাকতে পারবে না : বিএনপি রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের চুরি হওয়া মালামালসহ ০৪ চোর আটক রূপসায় চিংড়িতে অপদ্রব্য পুশ করার সময় হাতেনাতে আটক, ৭জনের কারাদন্ড জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের বিশেষ বর্ধিত সভা বিশ্বকে বাংলাদেশের সক্ষমতা দেখিয়ে দিয়েছেন শেখ হাসিনা : সিটি মেয়র শিক্ষকদের পাণ্ডিত্য, গবেষণা ও ব্যক্তিত্ব শিক্ষার্থীরা অনুসরণ করে কুয়েট ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. কাজী সাজ্জাদ হোসেন মেয়াদকাল শেষ রামপাল কলেজ শিক্ষকের অনিয়মের সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিককে হুমকি, থানায় জিডি

সৃজনশীল পরিকল্পনায় স্কুলের প্রতি শিশুর আকর্ষণ বাড়ায় ঘটেছে নান্দনিক পরিবর্তন

সংবাদদাতার নাম :
  • প্রকাশিত সময় মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই, ২০১৯
  • ৭৪৪ পড়েছেন
ডিজিটাল হাজিরা দিচ্ছে চালনা কে সি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

দাকোপ(খুলনা): আধুনিকতার ছোয়ায় দাকোপ উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষায় এসেছে নান্দনিক পরিবর্তন। প্রাথমিক শিক্ষার মান-উন্নয়নে যুগের সাথে তার মিলিয়ে শিশুর মনোযোগ আকর্ষণে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা প্রশাসন নিয়েছে সৃজনশীল ও বিজ্ঞান ভিত্তিক নানান পরিকল্পনা। প্রত্যাশা করা হচ্ছে, উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো থেকে ঝরে পড়বে না আর একটি শিশুও।

বিদ্যালযের প্রতি শিশুর আকর্ষণসৃষ্টি আর পড়ালেখার প্রতি মনোযোগ সৃষ্টির জন্য গ্রহন করা হয়েছে বিভিন্নমূখী পদক্ষেপ। বিষয়টি সরেজমিনে দেখার জন্য ২৩ জুৃলাই ২০১৯ যাওয়া হয় দাকোপের চালনা পৌরসভার চালনা কে,সি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। দ্বি-তল ভবেনের স্কুলটি অত্যন্ত সাজানো এবং গুছানো। সেখানে দেখাযায়, ২য় তলায় ক্লাশরুমের সামনের বারান্দায় সারি সারি ফুলের টব, ফুটে আছে নানা জাতের ফুল দেখলেনই মন ভরে যায়। সিড়ি ও বারান্দার দেওয়ালে শোভা পাচ্ছে রঙ তুলি দিয়েলেখা বিভিন্ন মনিষিদের বাণী। নিয়মিত শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করানোর জন্য উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃঅহিদুল ইসলামের সহযোগীতায় জুন মাসে বসানো হয়েছে একটি ডিজিটাল হাজিরা যন্ত্র। স্কুল শুরুর আগে ছাত্র/ছাত্রীরা বিদ্যালয়ে প্রবেশ মুহূর্তে আঙ্গুলের ছাপ দিতেই অভিভাবকের মোবাইলে চলে যাবে একটি খুদে বার্তা, আবার ছুটির পরে স্কুল ত্যাগ করার পূর্বেও আঙ্গুলের ছাপ দিলে একই রূপ একটি খুদে বার্তা পাবেন অভিভাবকরা। যদি কোনো ছাত্র/ছাত্রী পরপর তিন দিন স্কুলে না আসে তাহলে অভিভাবকের মোবইলে চলে যাবে একটি খুদে বার্তা। এ ছাড়াও জানানো যাবে শিক্ষার্থীর মাসিক ও বার্ষিক গড় উপস্থিতির তথ্য, বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল ও অভিভাবক সমাবেশের তথ্য। বিদ্যালয় কতৃপক্ষের কাছে জানা যায়, বর্তমানে শিক্ষার্থীদের ডেটাবেজ প্রস্তুতের কাজ চলছে। এটা শেষ হলেই চালু হবে ডিজটিাল হাজিরা পদ্ধতি।

চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী নুসরাত বলে, আগে আমরা মাঝে মাঝে স্কুল শুরুর পরে আসতাম আবার মাঝে মাঝে ছুটির আগে চলে যেতাম কিন্তু ডিজিটাল হাজিরার কারণে প্রতিদিন নিয়মিত স্কুলে হাজিরা এবং প্রস্থান নিশ্চিত করতে হবে। তাই সময় মত স্কুলে আসতে হবে।

স্কুলের শুরুতে জাতীয় সঙ্গীত, ড্রাম সেটের তালে তালে দৃষ্টিনন্দন শারীরিক কসরত মুগ্ধ করে সবার। ক্লাশে সাধারণ পড়া-লেখার ফাঁকে চলে মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে পাঠ দান। এটা পর্দায় দেখানো হয় বলে শিশুরা খুব গুরুত্বের সাথে দেখে এবং শোনে। স্কুলে একটি অত্যাধুনিক কিবোর্ড,মাল্টিমিডিয়া সাউণ্ড সিস্টেমসহ অন্যান্য যন্ত্রপাতির মাধ্যমে নিয়মিত সাংস্কৃতি ক্লাশ হয় বলে গড়ে উঠেছে একটি চৌকশ সাংস্কৃতিক দল। নিয়মিত জাতীয় সঙ্গীত, শারীরিক কসরত, মা ও অভিভাবক সমাবেশ এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ঝরেপড়ারোধ করে শতভাগ শিশুকে স্কুলে উপস্থিত করতে সক্ষম হয়েছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অনজুমানারা। এসব কর্মকান্ডে ব্যাপক সাড়া পড়েছে এলাকায়।

অভিভাবক দীপ্তি মল্লিক ও আফসানা বেগম বলেন, স্কুলের শিক্ষকরা অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে পাঠদান করছেন সেকারণে স্কুলের রেজাল্ট দিন দিন ভালো হচ্ছে। শিক্ষকরা ডায়রীতে পড়া লিখে দেওয়ায় আমরা বাড়িতে বাচ্চার পড়ালেখা তদারকি করতে পারি। বাচ্চার বাড়িতে গিয়ে সকলের সাথে আধুনিক সব যন্ত্রপাতি, ক্লাশরুমের ভিতরে বাইরে সাজানো সব উপকরণ, সাস্থসম্মত পরিস্কার পরিচ্ছন্ন টয়লেট, বাহারী ফুলের গল্পে মেতে থাকে। ডিজিটাল হাজিরার কারণে আমরা বাড়িতে নিশ্চিন্তে থাকতে পারি।

প্রধান শিক্ষক আনজুমানারা বলেন, একসময় অনেক শিশু স্কুলে আসত না, আমি বাড়ী বাড়ী গিয়ে শিক্ষার্থী এবং শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের বুঝিয়ে তাদের বিদ্যালয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি। ডিজিটাল হাজিরা, নিয়মিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মা ও অভিভাবক সমাবেশ এবং সৃজনশীল পরিকল্পনা হাতে নেওয়ায় ঝরেপড়া শিশুরা আবার করে স্কুলে আসতে শুরু করেছে। স্কুলে আসার প্রতি শিশুদের যেমন আকর্ষণ সৃষ্টি হয়েছে তেমনি বেড়েছে শিক্ষার মান। অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর সমাপনী পরীক্ষার রেজাল্ট ভাল হয়েছে এবং বৃত্তি প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যাও বেড়েছে। অতি সম্প্রতি পৌরসভার সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিনা পয়সায় পোশাক দেওয়ার পদক্ষেপ গ্রহন করেছেন দাকোপ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা প্রশাসন।

উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ অহিদুল ইসলাম বাংলার দিনকাল  প্রতিবেদককে বলেন, দাকোপ উপজেলায় ১১৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও অভিভাবকরা এগিয়ে এলে এ অঞ্চলে আধুনিক প্রাথমিক শিক্ষার আলো প্রতিটি ঘরে পৌছে দেওয়া সম্ভব হবে। তিনি বলেন, চালনা কে,সি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় একটি আদর্শ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরিনত হয়েছে শিক্ষক এবং অভিভাবকদের প্রচেষ্টায়। দাকোপ থানার প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে এমনিভাবে গড়ে তুলতে হবে।

সংবাদটি শেয়ার করার জন্য অনুরোধ করা হলো

এ ধরনের আরো সংবাদ

© All rights reserved by www.banglardinkal.com (Established in 2017)

Hwowlljksf788wf-Iu