মঙ্গলবার, ১৬ অগাস্ট ২০২২, ০৯:৩৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
তেরখাদায় অস্ত্রসহ একাধিক মামলার আসামি আটক তেরখাদায় নানা কর্মসূচির মাধ্যমে জাতীয় শোক দিবস পালন জাতীয় শোক দিবসের বিশেষ নিবন্ধ : ১৫ আগষ্ট বাঙালি জাতির একটি কলঙ্কিত ইতিহাস যশোরে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির উদ্যোগে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত সাভারে সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিকের উপর হামলা, হত্যার চেষ্টা শোকাবহ আগস্টে অপশক্তি ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান : এমপি সালাম মূর্শেদী জাতীয় শোক দিবসে বিশেষ প্রতিবেদন : সেই শিশু আজ জগৎ জোড়া কয়রার দক্ষিণ বেদকাশীর রিংবাঁধ ভেঙ্গে এলাকা প্লাবিত, দূর্ভোগে হাজারো মানুষ ভেড়ামারায় তেল পাম্পে ট্যাংকি বিস্ফোরণে নিহত-২, আহত-৪ শিক্ষা কারিকুলায় আঞ্চলিক সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন : উপাচার্য

মহান মে দিবস

সংবাদদাতার নাম :
  • প্রকাশিত সময় মঙ্গলবার, ৩০ এপ্রিল, ২০১৯
  • ৪৭৯ পড়েছেন

সময়ের আবর্তে একটু ভাল থাকার জন্যে, সমাজ পরিবার পরিজন নিয়ে নিরাপত্তার সাথে বেঁচে থাকার তাগিদে যুগে যুগে মানুষ কখনো সরকার অবার কখনো শিল্পমালিকদের কাছে তাদের ন্যায্য দাবি জানিয়ে আসছে। তাদের সে সব ন্যায়সঙ্গত দাবি অনেক সময় সহজে আদায় হয়েছে আবার কখনো কখনো তা রক্তাক্ত আন্দোলনে রূপ নিয়েছে।

১৮৮৬ সালের ১ মে আমেরিকার শিকাগোর রাস্তায় শ্রমিকদের আন্দোলনটি ছিল অধিকার আদায়ের ন্যায়সঙ্গত একটি আন্দোলন। সেদিন আট ঘন্টার শ্রমদিবস, মজুরি বৃদ্ধি, কাজের উন্নত পরিবেশ সৃষ্টি ইত্যাদির দাবিতে একটি শ্রমিক সংগঠন শিল্প ধর্মঘটের ডাক দেয়। ১মে শিকাগোর রাজপথে সংঘটিত ঘটনা এবং পরবর্তি ঘটনা প্রবাহের আলোকে মে দিবস বা আন্তর্জাতিক শ্রমদিবসের জন্ম হয়েছে। ১৮৮৬ সালের ১মে শিকাগোর রাস্তায় শান্তিপূর্নভাবেই পালিত হচ্ছিল ধর্মঘট আন্দোলন। অত্যন্ত বর্বর ও নিষ্ঠুর পন্থায় সে ধর্মঘট দমন করা হয়। এ খবর চারিদিক ছড়িয়ে পড়লে শ্রমিক সংগঠনগুলি আন্দোলকে চরমে রূপ দেওয়ার সংকল্প নিয়ে সংগঠিত হতে থাকে। ৩মে ধর্মঘটি শ্রমিকদের এক প্রতিবাদ সমাবেশে পুলিশ গুলি চালায় এতে ৬ জন শ্রমিকের করুন মৃত্যু হয়। সংগঠনের নেতা-কর্মীরা নিহত শ্রমিকদের হারিয়ে শোক শক্তিতে রূপান্তরিত করে এবং পরের দিন হে মার্কেটে শ্রমিকরা প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়, আন্দোলনকে স্তমিত করার উদ্দেশ্যে কারখানা মালিকরা নিরীহ শ্রমিকের উপর বোমা বিস্ফোরণ ঘটায় এবং তখন আবারও ৪ জন শ্রমিক প্রাণ হারায়। ধর্মঘট সংঘটিত করার দায়ে অগাষ্ট স্পাইস নামের এক শ্রমিক নেতাকে ফাঁসির আদেশ দেওয়া হয়।

শ্রমিক সংগঠনগুলির এ মানবিক দাবি এবং আন্দোলনের কারণে প্রাণহানি পৃথিবীর সকল পর্যায়ের মানুষকে ভাবিয়ে তোলে । এরপর ১৮৮৯ সালের ১৪ জুলাই অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল সোশ্যালিষ্ট কংগ্রেসে ১মে শ্রমিক দিবস হিসেবে ঘোষিত হয় এবং তখন থেকে দিবসটি বহু দেশে শ্রমিক শ্রেণি কর্তৃক পালিত হয়ে আসছিল। পরবর্তিকালে রাশিয়াসহ আরও বেশ কয়েকটি দেশে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব সংঘটিত হওয়ার পর মে দিবসের গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। তখন শ্রমিক আন্দোলনের বিষয়টি মানুষের কাছে অধিকার আদায়ের জন্য একটি আদর্শ আন্দোলন হিসাবে স্থান পায়। এরপর জাতিসংঘের একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক শাখা হিসেবে আর্ন্তজাতিক শ্রম সংস্থা (আই এল ও) প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে শ্রমিকদের অধিকারসমূহ স্বীকৃতি লাভ করে। আইএলও শ্রমিকদের অধিকারের কথা বিবেচনায় এনে কতকগলি নিয়ম-কানুন তৈরী করে সকল দেশের শিল্পমালিক ও শ্রমিকদের তা মেনে চলার আহবান জানায় এবং এমনিভাবে শ্রমিক ও মালিকদের অধিকার সংরক্ষণ করে। বাংলাদেশ আইএলও কর্তৃক প্রণীত নীতিমালায় স্বাক্ষরকারী একটি দেশ। বর্তমানে পৃথিবীর বহু দেশে রাজনৈতিক দলেও পৃথক পৃথক শ্রমিক সংগঠন গঠন করা হয়েছে।

সমাজতান্ত্রিক দেশগুলিতে শ্রমিকদের প্রাধান্য এবং গুরুত্ব বেশী থাকায় দিবসটি তারা গুরুত্বের সাথে পালন করে থাকে। তবে সব সমাজতান্ত্রিক দেশে দিবসটি সাধারণ ছুটি পালিত হয় না। তবে সমাজতান্ত্রিক দেশ না অথচ অনেক দেশেই দিবসটিতে সাধারণ ছুটি পালিত হয় তাদের মধ্যে আমাদের বাংলাদেশও রয়েছে। আজকের দিনে বাংলাদেশ ও পৃথিবীর সকল শ্রমিককে শুভেচ্ছা, সাথে সাথে প্রতিটি অধিকার আদায়ের আন্দোলনে আমন্ত্রন।

দীপক রায়

দাকোপ,খুলনা

একজন উন্নয়ন কর্মী সাংবাদিক।

সংবাদটি শেয়ার করার জন্য অনুরোধ করা হলো

এ ধরনের আরো সংবাদ

© All rights reserved by www.banglardinkal.com (Established in 2017)

Hwowlljksf788wf-Iu