শুক্রবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৩, ০৩:৪৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
বিএনপিকে রাজপথে শক্ত হাতে মোকাবেলা করা হবে লেখাপড়ার সাথে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চা একান্ত প্রয়োজন -সিটি মেয়র কলাপাড়ায় ২০ কেজি মাংসসহ দুই হরিন শিকারী আটক তেরখাদায় জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মফিজুর রহমানের শীতবস্ত্র বিতরণ শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহবান: তেরখাদায় এমপি আব্দুস সালাম মূর্শেদী মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক স্থাপনা নির্মাণে প্রধান শিক্ষকের চক্রান্ত ! চট্টগ্রামের হটহাজারীতে মন্দিরে হামলা ও ভাংচুর মামলার আসামীর কারাগারে মৃত্যু পতাকাসহ পাকিস্তান দলকে দেশে ফেরত পাঠানো উচিত : তথ্যপ্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ ভবদহের স্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসনে ভুক্তভোগীদের অবস্থান কর্মসূচি পালন করোনাকালীন এক লাখ ৩৫ হাজার শ্রমিককে চিকিৎসা সেবা দিয়েছে শ্রম কল্যাণ কেন্দ্র

মহান মে দিবস

সংবাদদাতার নাম :
  • প্রকাশিত সময় মঙ্গলবার, ৩০ এপ্রিল, ২০১৯
  • ৪২৮ পড়েছেন

সময়ের আবর্তে একটু ভাল থাকার জন্যে, সমাজ পরিবার পরিজন নিয়ে নিরাপত্তার সাথে বেঁচে থাকার তাগিদে যুগে যুগে মানুষ কখনো সরকার অবার কখনো শিল্পমালিকদের কাছে তাদের ন্যায্য দাবি জানিয়ে আসছে। তাদের সে সব ন্যায়সঙ্গত দাবি অনেক সময় সহজে আদায় হয়েছে আবার কখনো কখনো তা রক্তাক্ত আন্দোলনে রূপ নিয়েছে।

১৮৮৬ সালের ১ মে আমেরিকার শিকাগোর রাস্তায় শ্রমিকদের আন্দোলনটি ছিল অধিকার আদায়ের ন্যায়সঙ্গত একটি আন্দোলন। সেদিন আট ঘন্টার শ্রমদিবস, মজুরি বৃদ্ধি, কাজের উন্নত পরিবেশ সৃষ্টি ইত্যাদির দাবিতে একটি শ্রমিক সংগঠন শিল্প ধর্মঘটের ডাক দেয়। ১মে শিকাগোর রাজপথে সংঘটিত ঘটনা এবং পরবর্তি ঘটনা প্রবাহের আলোকে মে দিবস বা আন্তর্জাতিক শ্রমদিবসের জন্ম হয়েছে। ১৮৮৬ সালের ১মে শিকাগোর রাস্তায় শান্তিপূর্নভাবেই পালিত হচ্ছিল ধর্মঘট আন্দোলন। অত্যন্ত বর্বর ও নিষ্ঠুর পন্থায় সে ধর্মঘট দমন করা হয়। এ খবর চারিদিক ছড়িয়ে পড়লে শ্রমিক সংগঠনগুলি আন্দোলকে চরমে রূপ দেওয়ার সংকল্প নিয়ে সংগঠিত হতে থাকে। ৩মে ধর্মঘটি শ্রমিকদের এক প্রতিবাদ সমাবেশে পুলিশ গুলি চালায় এতে ৬ জন শ্রমিকের করুন মৃত্যু হয়। সংগঠনের নেতা-কর্মীরা নিহত শ্রমিকদের হারিয়ে শোক শক্তিতে রূপান্তরিত করে এবং পরের দিন হে মার্কেটে শ্রমিকরা প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়, আন্দোলনকে স্তমিত করার উদ্দেশ্যে কারখানা মালিকরা নিরীহ শ্রমিকের উপর বোমা বিস্ফোরণ ঘটায় এবং তখন আবারও ৪ জন শ্রমিক প্রাণ হারায়। ধর্মঘট সংঘটিত করার দায়ে অগাষ্ট স্পাইস নামের এক শ্রমিক নেতাকে ফাঁসির আদেশ দেওয়া হয়।

শ্রমিক সংগঠনগুলির এ মানবিক দাবি এবং আন্দোলনের কারণে প্রাণহানি পৃথিবীর সকল পর্যায়ের মানুষকে ভাবিয়ে তোলে । এরপর ১৮৮৯ সালের ১৪ জুলাই অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল সোশ্যালিষ্ট কংগ্রেসে ১মে শ্রমিক দিবস হিসেবে ঘোষিত হয় এবং তখন থেকে দিবসটি বহু দেশে শ্রমিক শ্রেণি কর্তৃক পালিত হয়ে আসছিল। পরবর্তিকালে রাশিয়াসহ আরও বেশ কয়েকটি দেশে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব সংঘটিত হওয়ার পর মে দিবসের গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। তখন শ্রমিক আন্দোলনের বিষয়টি মানুষের কাছে অধিকার আদায়ের জন্য একটি আদর্শ আন্দোলন হিসাবে স্থান পায়। এরপর জাতিসংঘের একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক শাখা হিসেবে আর্ন্তজাতিক শ্রম সংস্থা (আই এল ও) প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে শ্রমিকদের অধিকারসমূহ স্বীকৃতি লাভ করে। আইএলও শ্রমিকদের অধিকারের কথা বিবেচনায় এনে কতকগলি নিয়ম-কানুন তৈরী করে সকল দেশের শিল্পমালিক ও শ্রমিকদের তা মেনে চলার আহবান জানায় এবং এমনিভাবে শ্রমিক ও মালিকদের অধিকার সংরক্ষণ করে। বাংলাদেশ আইএলও কর্তৃক প্রণীত নীতিমালায় স্বাক্ষরকারী একটি দেশ। বর্তমানে পৃথিবীর বহু দেশে রাজনৈতিক দলেও পৃথক পৃথক শ্রমিক সংগঠন গঠন করা হয়েছে।

সমাজতান্ত্রিক দেশগুলিতে শ্রমিকদের প্রাধান্য এবং গুরুত্ব বেশী থাকায় দিবসটি তারা গুরুত্বের সাথে পালন করে থাকে। তবে সব সমাজতান্ত্রিক দেশে দিবসটি সাধারণ ছুটি পালিত হয় না। তবে সমাজতান্ত্রিক দেশ না অথচ অনেক দেশেই দিবসটিতে সাধারণ ছুটি পালিত হয় তাদের মধ্যে আমাদের বাংলাদেশও রয়েছে। আজকের দিনে বাংলাদেশ ও পৃথিবীর সকল শ্রমিককে শুভেচ্ছা, সাথে সাথে প্রতিটি অধিকার আদায়ের আন্দোলনে আমন্ত্রন।

দীপক রায়

দাকোপ,খুলনা

একজন উন্নয়ন কর্মী সাংবাদিক।

সংবাদটি শেয়ার করার জন্য অনুরোধ করা হলো

এ ধরনের আরো সংবাদ
© All rights reserved by www.banglardinkal.com (Established in 2017)
Hwowlljksf788wf-Iu