মানুষকে সচেতন করতে বাজুয়ার গ্রামে গ্রামে ঘুরছেন যুবনেতা বিধান বিশ্বাস

544

বিশেষ প্রতিনিধি :

আজ বিশ্বজুড়ে একটি আতঙ্কের নাম করোনা ভাইরাস। আধুনিক বিশ্বের সমস্ত প্রযুক্তিকে হার মানিয়ে প্রতি মুহূর্তে কেড়ে নিচ্ছে মানুষের প্রাণ। ধণী-গরিব, শিক্ষিত-অশিক্ষিত, রাজা-মহারাজারা কেউ মাফ পাচ্ছেনা। প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে সারাবিশ্বের সমস্ত প্রান্তরে।

করোনা ভাইরাসের প্রভাবে অন্যান্য রাষ্ট্রের ন্যায় লকডাউন করা হয়েছে বালাদেশের রাজধানী সহ বিভিন্ন শহর ও জেলা-উপজেলা এবং ইউনিয়নের মত প্রত্যন্ত এলাকা। দেশব্যাপী বন্ধ হয়েছে গণপরিবহনসহ বিভিন্ন হাট বাজার দোকানপাট। করোনার আতঙ্কে দিশেহারা মানুষ আজ বদ্ধ ঘরে অস্বস্তির প্রহর গুনছে মৃত্যু ভয়ে। স্থবির হয়ে পড়েছে জীবনযাত্রা। আতঙ্কে দিন কাটছে শহর, মফস্বল ও উপকূল অঞ্চলের মানুষগুলোর। সীমিত হয়ে পড়েছে চলাচল। কর্মচঞ্চল জনজীবন আজ বিপন্ন। সভ্যতার ইতিহাসে মানুষ এই প্রথম প্রকৃতির কোন এক অদৃশ্য অনুজীবের সাথে নিরব মহাযুদ্ধে সামিল।

এ যুদ্ধে প্রত্যেক নাগরিক যেন আজ বাধ্যতামূলক যোদ্ধা। ঘরে বাইরে যেখানেই থাকুন যুদ্ধ এখন নিজের সাথে। খেয়ালে বেখেয়ালে একটি সামান্য অসাবধানতাই ডেকে আনতে পারে নিশ্চিত মৃত্যু। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার বিবৃতি অনুসারে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া অত্যন্ত জরুরী। নিজের সচেতনতার কোন বিকল্পনেই আজ।

এমতাবস্থায় সারাদেশজুড়ে ডাক্তার, প্রশাসন, সাংবাদিক ও রাজনীতিকের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবী কিছু মানুষ জীবনের মায়া ত্যাগ করে সমাজ তথা মানুষের কল্যাণে ঝুঁকিনিয়ে মানুষের দ্বারে দ্বারে সহানুৃভূতি ও সচেতনতার বাণী নিয়ে যাচ্ছে। তেমনি একজন দাকোপ উপজেলার বাজুয়া ইউনিয়নের সন্তান বিধান বিশ্বাস।

খুলনা মহানগরীর ‘প্রগতি মাদকাশক্ত নিরাময় কেন্দ্র’সহ একাধীক প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সাথে জড়িত জনদরদী যুব নেতা এই বিধান বিশ্বাস। জেলা শহরে যথেষ্ঠ প্রতিষ্ঠা থাকলেও সে শেকড়ের টানে দাকোপের মা মাটি মানুষের প্রতি দুর্বল। ইতোমধ্যে বিভিন্ন ইস্যূতে সামাজিক কর্মকাণ্ডে তার ব্যাপক অংশগ্রহণ ঘটেছে দাকোপের বিভিন্ন অঙ্গনে। তরূণ যুব সমাজকে মাদক থেকে দুরে রাখতে খেলার সামগ্রী প্রদান, গরিব মেধাবীদের শিক্ষায় সহযোগিতা, তথ্য প্রযুক্তি ও কম্পিউটার শিক্ষার গাইড লাইন বই প্রদান, বিপদগ্রস্থদের পাশে দাঁড়ানো, অসহায়কে চিকিৎসা সেবা দেওয়াসহ পরিবেশদূষণ রোধে ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে পোস্টার, লিফলেট, ফেস্টুন প্রদান ইত্যাদি কাজ সে করে চলেছেন। করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে যখন অনেকেই নিজ ঘরে অবস্থান করছেন তখন বিধান বিশ্বাস গ্রামে গ্রামে মানুষের কাছে পৌছে দিচ্ছেন সচেতনতামূলক মাইকিং, লিফলেট, মাস্ক, সাবান, হ্যাণ্ড গ্লোবসসহ সাধ্যমত উপকরণ। স্থানীয় সচেতন যুব সমাজকে উদ্বুদ্ধ করছেন পাড়ার মোড়ে কিম্বা গ্রাম্য বাজারের মোড়ে পানির ট্যাংকিতে ট্যাব বসিয়ে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করতে। প্রচণ্ড রোদে মাঠে কাজে ব্যস্ত কৃষকের কাছেও পৌছে দিচ্ছেন করোনা প্রতিরোধে করনীয় বার্তা। বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান জেলা আ.লীগ নেতা রঘুনাথ রায়ের হাতে মানুষকে দেওযার জন্য তুলে দিয়েছেন কিছু মাস্ক। এলাকায় সংরক্ষিত আসনের এমপি অ্যাড. গ্লোরিয়া ঝর্ণা’র উপস্থিতিতে ও অনুপস্থিতিতে তার বার্তাও পৌছে দিচ্ছেন মানুষের কাছে। এছাড়ও প্রতিমুহূর্তে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এলাকার মানুষের জন্য সচেতনতামূলক পোষ্ট ও সর্বশেষ তথ্য আপলোড করছেন তিনি।

এসব বিষয়ে সাস্থ্যকর্মী রাজদ্বীপ কবিরাজের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারের নিরলস ও আন্তরিক প্রচেষ্টার পাশাপাশি বিধান বিশ্বাসের মত স্বেচ্ছাসেবীদের ভূমিকা সমাজের পিছিয়ে পড়া প্রান্তিক জনগোষ্ঠির জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন।

তিনি আরো বলেন, সম্প্রতি পৃথিবী একটা মহাসংকটময় সময় অতিবাহিত করছে। প্রত্যেকটি মানুষ আজকে পারস্পরিক সম্পর্ক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। পৃথিবীর প্রত্যেকটি উপাদান আজ যেন বিষাক্ত হয়ে গেছে। তাই সমস্ত রোগ জীবানু থেকে নিরাপদে থাকতে ও করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে আমাদের কিছুক্ষণ পর পর হাতে সাবান বা যে কোনো পরিষ্কারক দিয়ে পরিষ্কার করা দরকার। সামাজিক ও দৈহিক দুরত্ব আজ জীবন রক্ষার মহৌষধ। প্রকৃতির যে কোন বস্তু এমনকি বাতাসও আজ মরণের বার্তা বাহকের ভূমিকায় অবতীর্ণ। এ যেন চারিদিকে প্রাণঘাতি শত্রুর নিরব অবস্থান। মনে রাখতে হবে এই করোনা মহামারী এড়াতে আত্ম সচেতনতার বিকল্প নেই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here