বুধবার, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৬:২১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিট জুনে চালু হবে  : হাইকমিশনার প্রনয় ভার্মা অবৈধ সংসদ বাতিল,তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন এবং নতুন নির্বাচন কমিশন করতে হবে : গয়েশ্বর রায় খুলনার কেন্দ্রীয় আর্য ধর্মসভা মন্দির কমিটির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত মহানগরীর লবনচরা থেকে ০৬টি ককটেলসহ গ্রেফতার-১ গঙ্গা বিলাস ভারত-বাংলাদেশের ঐতিহ্য ও ইকোট্যুরিজমের সম্ভাবনা উন্মোচন করবে -হাই কমিশনার প্রণয় ভার্মা রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিট জুনে চালু হবে : ভারতীয় হাইকমিশনার প্রনয় ভার্মা  অবৈধ সংসদ বাতিল,তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন এবং নতুন নির্বাচন কমিশন করতে হবে : গয়েশ্বর রায় দৌলতপুরে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের মাঝে ত্রান বিতরণ বাগেরহাটে অবৈধভাবে মজুদ করা ২০ হাজার মেট্রিক টন চাল জব্দ,  গুদাম সিলগালা-জরিমানা কয়রায় হরিণ ধরার ফাঁদসহ ১টি নৌকা আটক

কয়রায় কপোতাক্ষ নদের ঘাটাখালী বেঁড়িবাধ ভেঙ্গে এলাকা প্লাবিত

সংবাদদাতার নাম :
  • প্রকাশিত সময় সোমবার, ২২ এপ্রিল, ২০১৯
  • ৫৮৮ পড়েছেন

অরবিন্দ কুমার মণ্ডল,কয়রা(খুলনা) :
দূর্ভোগ যেন পিছু ছাড়ছেনা কয়রা বাসীর। এক বছরের কম সময়ের ব্যাবধানে সুন্দরবনের উপকূলবর্তী খুলনার কয়রার কপোতাক্ষ নদের ঘাটখালী বেঁড়িবাধে আবারো ভয়াবহ ভাঙ্গণ সৃষ্টি হয়েছে। গত ৩৬ ঘন্টার তীব্র ভাঙ্গণে বেড়িবাঁধের প্রায় ১শ ফুট যায়গার সিংহভাগ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ফলে চলতি বোরো মৌসুমের পাকা ধান, মাছের ঘের ক্ষয়-ক্ষতির পাশাপাশি বাড়ীঘরের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে।

উপজেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল ইসলামের তদারকিতে শতাধিক স্থানীয় জনগণ স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে ভাঙ্গণরোধে কাজ করে কোন রকমে পানি আটকানোর ব্যবস্থা করা হলেও জরুরী ভিত্তিতে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে আতঙ্ক কাটছেনা এলাকাবাসীর। শুধু ঘাটাখালী নয় অব্যাহত ভাঙণের কারণে কয়রা সদর ইউনিয়নের গোবরা, হরিণখোলা ও গোবরা পূর্বচক গ্রামের বাসিন্দারা আতঙ্কে রয়েছেন। ভাঙণ রোধে অবিলম্বে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে নদীর তীরবর্তী জনপদের বিস্তৃর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশংকা করছেন স্থানীয়রা।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, ১৩-১৪/২-নং পোল্ডারের গোবরা, ঘাটাখালী ও হরিণখোলার বেড়িবাঁধ প্রায় ধ্বংস হওয়ার উপক্রম হয়েছে । তাৎক্ষণিক এলাকাবাসী স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে বাঁধ রক্ষায় কাজ করে পানি প্রবেশের হাত থেকে রেহাই পেলেও ভাঙ্গণ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। ঘাটাখালী গ্রামের হানিফ, খাদিজা বেগম, আত্তাফ শেখ, হাফিজুর রহমান, মুদি দোকানি তৈয়েব আলী সহ অনেকেই বলেন, গত দুই সপ্তাহ ধরে বেড়িবাঁধের গোড়ার মাটিতে ধ্বস নেয়া বেড়েই চলেছে। হঠাৎ রবিবার রাতে মসজিদ সংলগ্ন বেড়িবাধ ভেঙ্গে এলাকা প্লাবিত হয়। যার ফলে মসজিদের মিনারসহ দু’টি ওয়াল নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে ও চলতি বোরো মৌসুমের পাকা ধান ক্ষতির পাশপাশি বহু মাছের ঘের তলিয়ে গিয়ে ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ইতিমধ্যে এলাকার অনেক মানুষ তাদের প্রয়োজনীয় জিনিষপত্র সহ গবাদী পশু অন্যত্র সরিয়ে নিতে দেখা গেছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকার মানুষও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য আলহাজ্ব আঃ গফ্ফার ঢালী বলেন, ভাঙ্গণরোধে কয়রা সদরের কর্মসৃজন প্রকল্পে নিযুক্ত শ্রমিক ও স্থানীয় এলাকাবাসী স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে কাজ করছে। তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী জানিয়েছেন।

কয়রা সদর ইউনয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মোস্তফা নাজমুছ ছায়াদাত বলেন, ভাঙ্গণ রোধে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে কয়রা সদরের দরিদ্র মানুষ বসতবাড়ীসহ ফসলী জমি হারিয়ে আরো নিঃস্ব হয়ে পড়বে। ইতিপূর্বে নদী ভাঙ্গণে ক্ষতিগ্রস্থদের অভিযোগ, প্রতি বছর নদী ভাঙ্গণ শুরু হলেই ভাঙ্গণ রোধের নামে সরকারী অর্থ লুটপাটের তোড়জোড় শুরু হয়। যা শুধুই অপচয় মাত্র। স্থানীয়দের দাবী, নদীভাঙ্গণ রোধে টেকসই ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। কয়রা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিমুল কুমার সাহা ভাঙ্গণ এলাকা পরিদর্শণ করে বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও জনসাধারনের সহযোগীতায় বাঁধের কাজ চলমান রয়েছে। এ ব্যাপারে পাউবোর উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জরুরী ভিত্তিতে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলা হয়েছে ।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান খান, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী নাহিদুজ্জামান ও আমাদী সেকশন কর্মকর্তা মশিউল আলম ঘাটাখালী এলাকার ভাঙ্গণ কবলিত বেড়িবাধটি পরিদর্শণ করেছেন। এসময় উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোঃ নাহিদুজ্জামান বলেন, এখানকার ২৫০ মিটার বাঁধের টেণ্ডার আগামীকাল ২৩ এপ্রিল ওপেন হবে। টেণ্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে ঠিকাদার ভাঙ্গণ কবলিত বেড়িবাঁধে কাজ করতে পারবেন বলে জানান।

সংবাদটি শেয়ার করার জন্য অনুরোধ করা হলো

এ ধরনের আরো সংবাদ
© All rights reserved by www.banglardinkal.com (Established in 2017)
Hwowlljksf788wf-Iu