ঢাকা ০৮:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

বিধ্বংসী ফণা তুলে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ফণি-প্রস্তুত খুলনা জেলা প্রশাসন

স্বপন কুমার মণ্ডল, খুলনা : বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদফতরের খবরে বলা হয়েছে, বর্তমানে পশ্চিম মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ফনি সামান্য উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে।

এটি বৃহস্পাতিবার সকাল ৯টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১০৬৫ কিমি দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ১০২৫ কিমি দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৯১৫ কিমি দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৯২৫ কিমি দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল।

এটি আরও ঘণীভূত ও উত্তর/উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে শুক্রবার বিকাল নাগাদ ভারতের উড়িষ্যা উপকূল অতিক্রম করতে পারে এবং পরবর্তীতে উড়িষ্যা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে হয়ে শুক্রবার মে সন্ধ্যা নাগাদ খুলনা ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল এলাকায় পৌঁছাতে পারে।
আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক বলেন, খুলনা ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় শুক্রবার সকাল নাগাদ অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ফনি এর অগ্রবর্তী অংশের প্রভাব শুরু হতে পারে।
‘ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৭৪ কিমির মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৬০ কিমি, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১৮০ কিমি পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটে সাগর খুবই বিক্ষুব্ধ রয়েছে।’

বাংলাদেশের মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে সাত নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। যে বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ফনির তাণ্ডবের শঙ্কা, সেখানে ১০ কোটির বেশি মানুষ বাস করেন। এতে আসন্ন দুর্যোগ মোবাবেলায় বুধবার থেকেই বিপুল প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে দুই প্রতিবেশী দেশ ভারত ও বাংলাদেশ।

খুলনা জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় ফণি মোকাবেলায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি এবং ৯টি উপজেলায় ৯টি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে। খুলে দেয়া হয়েছে ২৫০টি সাইক্লোন শেল্টার। প্রস্তুত রাখা হয়েছে ২৫৬ মেট্রিক টন চাল, নগদ তিন লাখ ৩২ হাজার টাকা, ২০৪ বান্ডিল ঢেউ টিন ও শুকনো খাবার। স্থানীয় লোকজনকে সতর্ক করতে উপকূলীয় উপজেলাগুলোতে মাইকিং করা হয়েছে।

খুলনার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন জানান, ভারতীয় উপকূলে আঘাত হানার পর কিছুটা দুর্বল হয়ে আগামী শনিবার বাংলাদেশে আঘাত হানতে পারে ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’। ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসন এ ঝড় মোকাবেলায় ইতোমধ্যে ব্যাপক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে। সবার জ্ঞতার্থে নিয়ন্ত্রণ কক্ষসমূহের ফোন নম্বর দিয়ে দেওয়া হয়েছে। জনস্বার্থে নিয়ন্ত্রণ কক্ষে ফোন করে তথা আদান-প্রদান করা যাবে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে জেলার ৩২৫টি আশ্রয়কেন্দ্র। এ মুহূর্তে স্থানীয় উপকূলের বাসিন্দাদের সতর্ক করতে মাইকিং-প্রচারণা চলছে। একই সঙ্গে অন্যান্য সব ধরণের প্রস্তুতিও সম্পন্ন করা হয়েছে।

তিনি জানান, খুলনার তিন উপকূলীয় উপজেলা কয়রায় প্রায় সাড়ে তিন হাজার স্বেচ্ছাসেবকদের প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জেলার সকল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা আজিজুল হক জোয়ার্দার বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় ফণী’র সম্ভাব্য ক্ষতি এড়াতে জেলার ৩২৫টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া উপকূলীয় উপজেলা কয়রায় ১ হাজার ৯৫ জন ও দাকোপ উপজেলায় ১ হাজার ৩৬৫ জন স্বেচ্ছাসেবকসহ ২ হাজার ৪৬০জন স্বেচ্ছাসেবককে প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

খুলনার সিভিল সার্জন আব্দুর রাজ্জাক জানান, সার্বিক পরিস্থিতি মোকাবেলায় ১১৪টি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় “ফণী” মোকাবেলার জন্য জেলা প্রশাসন, খুলনা ও উপজেলা পর্যায়ে কন্ট্রোল রুম এর ফোন নাম্বার সমূহ – জেলা প্রশাসন, খুলনাঃ ০৪১২৮৩০০৫১

উপজেলা প্রশাসনঃ
বটিয়াঘাটাঃ ০৪০২২-৫৬০৪৯ ফুলতলাঃ ০১৭১৬৭৭১২৮১ দাকোপঃ ০৪০২৩-৫৬০৬২, ০১৯১৭১৭৩০৬৯ কয়রাঃ ০৪০২৬৫৬০৪৭, ০১৭০০৭১৭০০৮ ডুমুরিয়াঃ ০১৭৩০৯৯৬২৬৯, ০১৭১১৪৪৮৯৬১, ০৪০২৫৫৬১১ দিঘলিয়াঃ ০৪১-৮৯০১৭৮, ০১৭১২২৫০৪৮৭ পাইকগাছাঃ ০৪০২৭৫৬০০১ রূপসাঃ ০১৭১৯৪৫৭৮০৫, ০১৭৪৭৬০৬০৬০ তেরখাদাঃ ০১৭৯৪৪৯২১৫৭, ০১৭১৭৯১৬৭৯৮

Tag :
About Author Information

বাংলার দিনকাল

Editor and publisher
জনপ্রিয় সংবাদ

খুবিতে ‘জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ উদ্বোধন

বিধ্বংসী ফণা তুলে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ফণি-প্রস্তুত খুলনা জেলা প্রশাসন

প্রকাশিত সময় ০৯:৪৭:৩৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ মে ২০১৯

স্বপন কুমার মণ্ডল, খুলনা : বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদফতরের খবরে বলা হয়েছে, বর্তমানে পশ্চিম মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ফনি সামান্য উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে।

এটি বৃহস্পাতিবার সকাল ৯টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১০৬৫ কিমি দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ১০২৫ কিমি দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৯১৫ কিমি দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৯২৫ কিমি দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল।

এটি আরও ঘণীভূত ও উত্তর/উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে শুক্রবার বিকাল নাগাদ ভারতের উড়িষ্যা উপকূল অতিক্রম করতে পারে এবং পরবর্তীতে উড়িষ্যা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে হয়ে শুক্রবার মে সন্ধ্যা নাগাদ খুলনা ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল এলাকায় পৌঁছাতে পারে।
আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক বলেন, খুলনা ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় শুক্রবার সকাল নাগাদ অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ফনি এর অগ্রবর্তী অংশের প্রভাব শুরু হতে পারে।
‘ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৭৪ কিমির মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৬০ কিমি, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১৮০ কিমি পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটে সাগর খুবই বিক্ষুব্ধ রয়েছে।’

বাংলাদেশের মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে সাত নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। যে বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ফনির তাণ্ডবের শঙ্কা, সেখানে ১০ কোটির বেশি মানুষ বাস করেন। এতে আসন্ন দুর্যোগ মোবাবেলায় বুধবার থেকেই বিপুল প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে দুই প্রতিবেশী দেশ ভারত ও বাংলাদেশ।

খুলনা জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় ফণি মোকাবেলায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি এবং ৯টি উপজেলায় ৯টি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে। খুলে দেয়া হয়েছে ২৫০টি সাইক্লোন শেল্টার। প্রস্তুত রাখা হয়েছে ২৫৬ মেট্রিক টন চাল, নগদ তিন লাখ ৩২ হাজার টাকা, ২০৪ বান্ডিল ঢেউ টিন ও শুকনো খাবার। স্থানীয় লোকজনকে সতর্ক করতে উপকূলীয় উপজেলাগুলোতে মাইকিং করা হয়েছে।

খুলনার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন জানান, ভারতীয় উপকূলে আঘাত হানার পর কিছুটা দুর্বল হয়ে আগামী শনিবার বাংলাদেশে আঘাত হানতে পারে ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’। ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসন এ ঝড় মোকাবেলায় ইতোমধ্যে ব্যাপক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে। সবার জ্ঞতার্থে নিয়ন্ত্রণ কক্ষসমূহের ফোন নম্বর দিয়ে দেওয়া হয়েছে। জনস্বার্থে নিয়ন্ত্রণ কক্ষে ফোন করে তথা আদান-প্রদান করা যাবে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে জেলার ৩২৫টি আশ্রয়কেন্দ্র। এ মুহূর্তে স্থানীয় উপকূলের বাসিন্দাদের সতর্ক করতে মাইকিং-প্রচারণা চলছে। একই সঙ্গে অন্যান্য সব ধরণের প্রস্তুতিও সম্পন্ন করা হয়েছে।

তিনি জানান, খুলনার তিন উপকূলীয় উপজেলা কয়রায় প্রায় সাড়ে তিন হাজার স্বেচ্ছাসেবকদের প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জেলার সকল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা আজিজুল হক জোয়ার্দার বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় ফণী’র সম্ভাব্য ক্ষতি এড়াতে জেলার ৩২৫টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া উপকূলীয় উপজেলা কয়রায় ১ হাজার ৯৫ জন ও দাকোপ উপজেলায় ১ হাজার ৩৬৫ জন স্বেচ্ছাসেবকসহ ২ হাজার ৪৬০জন স্বেচ্ছাসেবককে প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

খুলনার সিভিল সার্জন আব্দুর রাজ্জাক জানান, সার্বিক পরিস্থিতি মোকাবেলায় ১১৪টি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় “ফণী” মোকাবেলার জন্য জেলা প্রশাসন, খুলনা ও উপজেলা পর্যায়ে কন্ট্রোল রুম এর ফোন নাম্বার সমূহ – জেলা প্রশাসন, খুলনাঃ ০৪১২৮৩০০৫১

উপজেলা প্রশাসনঃ
বটিয়াঘাটাঃ ০৪০২২-৫৬০৪৯ ফুলতলাঃ ০১৭১৬৭৭১২৮১ দাকোপঃ ০৪০২৩-৫৬০৬২, ০১৯১৭১৭৩০৬৯ কয়রাঃ ০৪০২৬৫৬০৪৭, ০১৭০০৭১৭০০৮ ডুমুরিয়াঃ ০১৭৩০৯৯৬২৬৯, ০১৭১১৪৪৮৯৬১, ০৪০২৫৫৬১১ দিঘলিয়াঃ ০৪১-৮৯০১৭৮, ০১৭১২২৫০৪৮৭ পাইকগাছাঃ ০৪০২৭৫৬০০১ রূপসাঃ ০১৭১৯৪৫৭৮০৫, ০১৭৪৭৬০৬০৬০ তেরখাদাঃ ০১৭৯৪৪৯২১৫৭, ০১৭১৭৯১৬৭৯৮