মঙ্গলবার, ১৬ অগাস্ট ২০২২, ০৯:৫১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
তেরখাদায় অস্ত্রসহ একাধিক মামলার আসামি আটক তেরখাদায় নানা কর্মসূচির মাধ্যমে জাতীয় শোক দিবস পালন জাতীয় শোক দিবসের বিশেষ নিবন্ধ : ১৫ আগষ্ট বাঙালি জাতির একটি কলঙ্কিত ইতিহাস যশোরে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির উদ্যোগে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত সাভারে সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিকের উপর হামলা, হত্যার চেষ্টা শোকাবহ আগস্টে অপশক্তি ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান : এমপি সালাম মূর্শেদী জাতীয় শোক দিবসে বিশেষ প্রতিবেদন : সেই শিশু আজ জগৎ জোড়া কয়রার দক্ষিণ বেদকাশীর রিংবাঁধ ভেঙ্গে এলাকা প্লাবিত, দূর্ভোগে হাজারো মানুষ ভেড়ামারায় তেল পাম্পে ট্যাংকি বিস্ফোরণে নিহত-২, আহত-৪ শিক্ষা কারিকুলায় আঞ্চলিক সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন : উপাচার্য

প্রচন্ড তাপদাহে পাইকগাছায় জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি; প্যারাসিটামল গ্রুপের সিরাপের সংকট দেখা দিয়েছে

সংবাদদাতার নাম :
  • প্রকাশিত সময় মঙ্গলবার, ১১ জুন, ২০১৯
  • ৫৯৩ পড়েছেন

তৃপ্তি রঞ্জন সেন পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধিঃ
প্রচন্ড তাপদহে খুলনার পাইকগাছায় হঠাৎ করে জ্বরের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। ঈদের পর থেকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার প্রায়ই বাড়ির কেউ না কেউ মারাত্মক জ্বর, মাথা ব্যাথা ও সর্দি কাশিতে আক্রান্ত হয়ে বিছানায় শুয়ে আছে। জ্বরের সাথে রয়েছে প্রচন্ড গা ব্যাথাও। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আগত বহিঃ বিভাগের প্রায় ৩০% ই জ্বরের রোগী। অপরদিকে গত কয়েকদিনে হঠাৎ করে জ্বরের রোগী বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলার বিভিন্ন ঔষধের দোকানে প্যারাসিটামল গ্রুপের (বিশেষ করে) সিরাপের সংকট দেখা দিয়েছে। হঠাৎ করে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় কোম্পানি চাহিদামত ঔষধ সরবরাহ করতে পারছে না। ফলে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে রোগীদের।

জানা গেছে, ঈদের পর থেকে উপজেলায় ভাইরাস জনিত জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা অনেকাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। উপজেলার প্রায়ই’শ বাড়ির কেউ না কেউ ভাইরাস জ্বরের আক্রান্ত হয়ে বিছানায় শুয়ে আছেন। বিশেষ করে ছোট বাচ্চারা বেশী আক্রান্ত হচ্ছে। বড়রাও বাদ পড়ছেনা এই জ্বরের হাত থেকে। বয়বৃদ্ধরা জানিয়েছেন, এক সময় মানুষের শরীরে জ্বর একশ এক-দুই ডিগ্রিতে থাকতো। কিন্তু এখন ভাইরাস জনিত যে জ্বর হচ্ছে তা একশ দুই থেকে একশ চার ডিগ্রি পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্যারাসিটামল গ্রুপের ঔষধ খেলে জ্বর সাথে সাথে কমে যাচ্ছে। কিন্তু একেবারেই জ্বর সেরে যাচ্ছেনা। এন্টিবায়োটিকে তেমন কোন কাজ হচ্ছেনা বলেও অনেকে জানিয়েছেন। ঔষধ খেলেও জ্বর সেরে যাচ্ছে না। কমপক্ষে ৭ থেকে ১০ দিন পরে এই জ্বর সেরে যাচ্ছে। জ্বর সেরে যাওয়ার পরে শরীর আবার খুব দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। গা-মাথা ঘুরছে বলে আক্রান্তরা জানিয়েছেন। প্রচন্ড তাপদাহে শরীরে ঘাম হচ্ছে এরপর সেই ঘাম শরীরে বসে গিয়ে কাশি, সর্দি ও জ্বর হচ্ছে। আবহাওয়া জনিত কারনে জ্বর, মাথা ব্যাথা ও সর্দি কাশিতে আক্রান্ত হচ্ছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী এস এম মোস্তাফিজুর রহমান পারভেজ জানিয়েছেন, ঈদের দিন থেকে তিনি ছেলেসহ মারাত্মক জ্বর নিয়ে বিছানায় শুয়ে আছেন। ঈদের নামাজ আদায় শেষে মোনাজাত করতেও পারেননি। জ্বরে শরীর এতটাই খারাপ হয়ে গেছে। এই জ্বরের মারাত্মক গা ব্যাথাও হচ্ছে। বিছানা থেকে উঠার মত অবস্থা থাকছে না। জ্বর সেরে যাওয়ার পর শরীর খুব দুর্বল হয়ে পড়েছে। গা মাথা খুব ঘুরাচ্ছে। সকল খাবারেই অরুচি, কোন কিছু খেতে ইচ্ছে করছে না। খাবার দেখলে রাগ হচ্ছে। অথচ পেটে খুব ক্ষুধা। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডাঃ সাফিকুল ইসলাম শিকদার জানিয়েছেন, বহিঃ বিভাগে যে সমস্ত রোগী আসছে তার প্রায় অর্ধেক জ্বরে আক্রান্ত রোগী। অপর মেডিকেল অফিসার ডাঃ প্রশান্ত কুমার মন্ডল জানিয়েছেন, আবহাওয়া জনিত কারনে ভাইরাস জ্বর অনেকাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্যক্তিগত চেম্বারের যদি দশ জন রোগী আসে তারমধ্যে ৬ জনই জ্বর নিয়ে আসছে। নতুন বাজারের পল্লী চিকিৎসক নিরাপদ কবিরাজ জানিয়েছেন, তার চেম্বারের বেশীর ভাগ রোগীই শিশু। তারা সকলেই ভাইরাস জ্বরে আক্রান্ত। সাথে রয়েছে সর্দি, কাশি। এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ এ এস এম মারুফ হাসান এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, জলবায়ুর পরিবর্তনের কারনে প্রচন্ড তাপদাহে শরীরে প্রচুর পরিমানে ঘাম তৈরী হচ্ছে। সেই ঘাম শরীরে বসে ঠান্ডার কারনে সর্দি জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছে সকলে। এ ছাড়া ভাইরাসের কারনেও জ্বর হচ্ছে। উপজেলার প্রধান স্বাস্থ্যকর্তা বলেন, প্রখর রৌদ্রে যতদুর সম্ভব কম চলাফেরা করতে হবে। শরীরের ঘাম হলে সাথে সাথে তা মুছে ফেলতে হবে। যাতে করে শরীরে ঘাম জমা না হতে পারে। প্রচুর পরিমানে পানি খেতে হবে। এছাড়া লেবুর জল ও শরবত বেশী বেশী করে খাওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, জ্বর আসলে পানি দিয়ে গা বারবার মুছতে হবে এবং গোসল করতে হবে। এদিকে হঠাৎ করে জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা অনেকাংশে বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলার বিভিন্ন ফার্মেসীতে প্যারাসিটামল গ্রুপের সিরাপের সংকট দেখা দিয়েছে।

ফার্মেসী মালিক পঙ্কজ কুমার জানিয়েছেন, প্রতিদিন প্রায় ৩০/৪০ ভায়েল প্যারাসিটামল সিরাপ বিক্রয় হচ্ছে। অথচ কোম্পানী চাহিদামত সরবরাহ করতে পারছেনা। বাংলাদেশ কেমিষ্ট এ্যান্ড ড্রাগিষ্ট সমিতির উপজেলা সভাপতি মোঃ আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, গতকাল সোমবার বেলা ১২ টা পর্যন্ত তার দোকানে ৪৫ ভায়েল প্যারাসিটামল গ্রুপের সিরাপ বিক্রয় হয়েছে। হঠাৎ করে জ্বরের রোগীর সংখ্যা অনেকাংশে বৃদ্ধি পাওয়ায় পৌর সদরসহ উপজেলার বিভিন্ন ফার্মেসীতে শিশুদের প্যারাসিটামল গ্রুপের সিরাপের সংকট দেখা দিয়েছে। তাদের চাহিদার তুলনায় কোম্পানী কম সরবরাহ করছে। কারন হিসেবে জানিয়েছেন, রোগী সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং কোম্পানীর উৎপাদন কম থাকায় এ সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। তবে খুব তাড়াতাড়ি এ সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে বলে তিনি এ প্রতিনিধিনিকে জানিয়েছেন।

সংবাদটি শেয়ার করার জন্য অনুরোধ করা হলো

এ ধরনের আরো সংবাদ

© All rights reserved by www.banglardinkal.com (Established in 2017)

Hwowlljksf788wf-Iu