মঙ্গলবার, ১৬ অগাস্ট ২০২২, ০৯:০৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
তেরখাদায় অস্ত্রসহ একাধিক মামলার আসামি আটক তেরখাদায় নানা কর্মসূচির মাধ্যমে জাতীয় শোক দিবস পালন জাতীয় শোক দিবসের বিশেষ নিবন্ধ : ১৫ আগষ্ট বাঙালি জাতির একটি কলঙ্কিত ইতিহাস যশোরে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির উদ্যোগে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত সাভারে সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিকের উপর হামলা, হত্যার চেষ্টা শোকাবহ আগস্টে অপশক্তি ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান : এমপি সালাম মূর্শেদী জাতীয় শোক দিবসে বিশেষ প্রতিবেদন : সেই শিশু আজ জগৎ জোড়া কয়রার দক্ষিণ বেদকাশীর রিংবাঁধ ভেঙ্গে এলাকা প্লাবিত, দূর্ভোগে হাজারো মানুষ ভেড়ামারায় তেল পাম্পে ট্যাংকি বিস্ফোরণে নিহত-২, আহত-৪ শিক্ষা কারিকুলায় আঞ্চলিক সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন : উপাচার্য

পাইকগাছা উপজেলায় প্রায় ৩ হাজার ক্ষতিগ্রস্থ ঘর-বাড়ি ও ঝুকিপুর্ণ বেড়িবাঁধ ; সার্বক্ষণিক খোঁজ রাখছেন এমপি বাবু

সংবাদদাতার নাম :
  • প্রকাশিত সময় শনিবার, ৪ মে, ২০১৯
  • ৫৭৬ পড়েছেন
দেলুটিতে চলছে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে বাঁধ মেরামতের কাজ

তৃপ্তি সেন পাইকগাছাঃ
ঘুর্ণিঝড় ফণীর প্রভাবে পাইকগাছা উপজেলায় প্রায় তিন হাজার কাঁচা-পাকা ঘর-বাড়ি, ৩০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও প্রায় ৫’শত হেক্টর জমির আমের ফসলের ক্ষতি হয়েছে। দেলুটি ইউপির কালিনগর ও গড়ইখালীর শান্তার ওয়াপদার বেড়িবাঁধে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে বাঁধ মেরামতের কাজ চললেও এখনও শঙ্কামুক্ত নয়।

ইউপি চেয়ারম্যানদের তত্ত্বাবধায়নে এলাকাবাসী স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে বাঁধ মেরামতের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। তবে যেকোন মুহুর্তে ক্ষতিগ্রস্থ বাঁধ ধ্বসে গিয়ে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশংকা করছেন এলাকাবাসী। এদিকে গত শুক্রবার থেকে আসা বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে আগত লোকজনের খোঁজ খবর নিয়েছেন নবনির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান গাজী মোহাম্মদ আলী ও পৌরসভার মেয়র সেলিম জাহাঙ্গীর। এ সময় তারা আশ্রয়কেন্দ্রে আগত লোকজনের মাঝে শুকনা খাবার বিতরন করেন।

এছাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার জুলিয়া সুকায়না শনিবার উপজেলার বিভিন্নস্থানে আশ্রয় কেন্দ্র পরিদর্শন করেন এবং তাদের সার্বিক বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়েছেন। সকালে ইউএনও বিভিন্ন ইউনিয়নের ও পৌরসভার জনপ্রতিনিধিদের কাছে ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে প্রেরিত চাল, ডাল, আটা, চিড়া, তেলসহ বিভিন্ন শুকনা খাদ্র্য সামগ্রী তুলে দেন।

অপরদিকে পাইকগাছা-কয়রার সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আকতারুজ্জামান বাবু নির্বাচনী এলাকা কয়রায় অবস্থান করে পাইকগাছা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এবং দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে সার্বিক বিষয়ে খোঁজ খবর নেওয়া অব্যাহত রেখেছেন। গত দু’দিন যাবত এমপি বাবু নির্বাচনী এলাকা কয়রায় অবস্থান করে সকল কার্যক্রম মনিটরিং করছেন।

জানা গেছে, ফণীর আঘাতে উপজেলার দশটি ইউনিয়ন এবং একটি পৌরসভায় প্রায় তিন হাজার ঘর বাড়িসহ ৩০ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এ সময় ঘর-বাড়ি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের টিনের চাল উড়ে গেছে। পড়ে গেছে কয়েকশত কাঁচা ঘর। উপজেলার গড়ইখালী ইউপি চেয়ারম্যান রুহুল আমিন বিশ্বাস জানিয়েছেন, ইউনিয়নে কয়েকশত বাড়ি ঘরের টিনের চাল উড়ে গেছে এবং ফণী’র প্রভাবে শিবসা নদীর ভয়াবহ ভাঙ্গনে ইউনিয়নের শান্তা এলাকার বেড়িবাঁধ ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। যদিও লোকজনের সহযোগীতায় বাঁধটি মেরামত করা গেলেও এখনও শঙ্কামুক্ত নয়। যদি কোনভাবে বাঁধটি ধ্বসে যায় তাহলে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হওয়ার আশংকা রয়েছে। গদাইপুর ইউপি চেয়ারম্যান গাজী জুনায়েদুর রহমান জানিয়েছেন, ইউনিয়নের আলোকদ্বীপ গুচ্ছগ্রামের ১ নং ব্যারাকের টিনের চাল সম্পূর্ণ উড়ে গেছে। এছাড়া ২০/২৫ টি ঘর কমবেশী ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

দেলুটির ইউপি চেয়ারম্যান রিপন কুমার মন্ডল জানিয়েছেন, ইউনিয়নের কালিনগর এলাকার ওয়াপদার বেড়িবাঁধটি দীর্ঘদিন ক্ষতিগ্রস্থ রয়েছে। এর মধ্যে ঘুর্ণিঝড় ফণী’র প্রভাবে নদীর পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায় জোয়ারের প্রবল স্রোতে ভদ্রা নদীর ভয়াবহ ভাঙ্গনে কালিনগর এলাকার ১৫’শ ফুট বেড়িবাঁধ ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এলাকাবাসীকে সাথে নিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্থ বাঁধটি মেরামতের কাজ অব্যাহত রয়েছে। তবে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে মেরামতের কাজ যথেষ্ঠ নয় উল্লেখ করে ইউপি চেয়ারম্যান জানান, বাঁধ সংস্কার কাজ টেকসই করার জন্য জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপসহ সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছেন। তিনি আরো বলেন, ফণী’র প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্থ বাঁধটি যেকোন মুহুর্তে নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যেতে পারে। আর এটি হলে ইউনিয়নের ২২নং পোল্ডারের ৫টি ওয়ার্ডের ১৫টি গ্রামের বিস্তীর্ণ হলে প্রায় ১৫ হাজার অধিবাসীবৃন্দ পানিতে নিমজ্জিত হবেন। এছাড়া আনুমানিক ৫০ টি কাঁচা ঘর পড়ে গেছে এবং ২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ৪টি মন্দির, ২টি যাত্রী ছাউনি ও ২টি ক্লাবের টিনের চাল সম্পূর্ণ উড়ে গেছে এবং তরমুজের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

উপজেলা আওয়ামীলীগের আহবায়ক কমিটির সদস্য জিএম ইকরামুল ইসলাম জানিয়েছেন, চাঁদখালী ইউনিয়নের কাটাবুনিয়া গ্রামের মৃত কপিল উদ্দীন সরদারের ছেলে হাফিজুল সরদার, মৃত ফজর আলী সরদারের স্বামী পরিত্যক্ত মেয়ে মিলি খাতুন, সোহেল উদ্দীন সরদারের ছেলে গফুর সরদার, রাজ্জাক সরদারের ছেলে মনিরুল সরদার ও কালুয়া গ্রামের মৃত মুনছুর আলী সরদারের ছেলে বাহারুল ইসলামসহ অসংখ্য মানুষের ঘর-বাড়ী ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। সরল দীঘির পাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সাংবাদিক আব্দুল আজিজ জানিয়েছেন, অত্র বিদ্যালয়ের বারান্দার টিনের চাল ঝড়ে সম্পূর্ণ উড়ে গেছে। পাইকগাছার পৌর মেয়র সেলিম জাহাঙ্গীর জানিয়েছেন, গত শুক্রবার থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত পৌরসভার ৮ টি আশ্রয় কেন্দ্রে পর্যাপ্ত শুকনা খাবার দেওয়া হয়েছে এবং শনিবার দুপুরে সকলকে খিচুড়ি খাইয়ে সকলকে আশ্রয় কেন্দ্র থেকে বাড়িতে পৌছিয়ে দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার জুলিয়া সুকায়না জানিয়েছেন, উপজেলায় প্রায় তিন হাজার কাঁচা-পাকা ঘর-বাড়ি, ৩০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও প্রায় ৫’শত হেক্টর জমির আমের ফসলের ক্ষতি হয়েছে। তবে উপজেলার কোথায়ও বেশী ধরনের কোন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে ইউএনও জানিয়েছেন। 

দেলুটিতে চলছে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে বাঁধ মেরামতের কাজ

সংবাদটি শেয়ার করার জন্য অনুরোধ করা হলো

এ ধরনের আরো সংবাদ

© All rights reserved by www.banglardinkal.com (Established in 2017)

Hwowlljksf788wf-Iu