ঢাকা ০৭:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২২, ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

দাকোপে ভয়াবহ নদী ভাঙ্গনে বিলিন হতে চলেছে বানিশান্তা বাজার

বিধান চন্দ্র ঘোষ দাকোপ (খুলনা) প্রতিনিধি :
পশুর নদীর ভয়াবহ ভাঙ্গনে বিলিন হতে চলেছে খুলনার দাকোপের ঐতিহ্যবাহী বানিশান্তা বাজার। ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ভাঙ্গনে প্লাবিত হওয়ার আশংকায় নদীর তীরবর্তী বাজার এলাকার প্রায় ২৫০টি পরিবারের হাজার মানুষ দিনাতিপাত করে চলেছে। বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে দায়সারা মেরামত চলছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।

সরেজমিনে এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায় এ উপজেলার চারপাশ জুড়ে থাকা অসংখ্য নদ-নদীর মধ্যে রাক্ষুসী পশুর নদী অন্যতম। এই নদীর এক তীরে অবস্থিত মোংলা বন্দও অপর তীরে এ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বানিশান্তা বাজার। পূর্বে কয়েক বার এই বাজারের উত্তর ও পূর্ব পাশের ওয়াপদা ভেঁড়িবাঁধ পশুর নদীগর্ভে বিলিন হওয়ার পর পূনরায় বিকল্প বাঁধ নির্মান করা হয়। ফলে পূর্বের তুলনায় বাজারটি অনেক ছোট্ট হয়ে যায়। বর্তমানে এই বাজারের উত্তর পাশের ওয়াপদা বেড়িবাাঁধ মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি ওই ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধের পৃথক দু‘টি স্থানে প্রায় বিশ হাত করে ভেঙ্গে বাজার এলাকা প্লাবিত হয়। পানিবন্দি হয়ে পড়ে বাজার এলাকার প্রায় ২৫০ পরিবার। ভেসে যায় অনেক পুকুরের লাখ লাখ টাকার মাছ।

এ ঘটনার সাথে সাথে ভাঙ্গন কবলিত স্থান পরিদর্শন করেন এলাকার জনপ্রতিনিধি, থানা অফিসার ইনচার্জ, উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা। এসময় তাদের উপস্থিতিতেই ভাঙ্গন কবলিত স্থান বালির বস্তা দিয়ে আটকানো হয়। বর্তমানে প্রায় ২‘শ হাতের মত ঝুঁকিপূর্ণ ভেঁড়িবাঁধ বালির বস্তা দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মেরামত চলছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। বানিশান্তা বাজার এলাকার করিম গাজী, লাখি বেগম, রিনা বেগম, মজিদ খাঁ, কুদ্দুস ফকির, হালিম হাওলাদার সহ আরো অনেকে সরেজমিনে জানান এ পর্যন্ত অনেক লোকের বাড়িঘর পশুর নদীগর্ভে বিলিন হয়েছে। সম্প্রতি ঝুঁকিপূর্ণ পৃথক দু‘টি স্থান ভেঙ্গে এলাকা প্লাবিত হলে কোন মতে বালিরবস্তা দিয়ে আটকানো হয়েছে। তারা অভিযোগ করে বলেন বর্তমানে প্রায় ২‘শ হাতের মত ঝুঁকিপূর্ণ ভেঁড়িবাঁধ বালির বস্তা দিয়ে দায় সারা ভাবে ঝুঁকিপূর্ণ মেরামত চলছে। টেকসই ভেঁড়িবাঁধ না হলে যে কোন সময় এসব ঝুঁকিপূর্ণ স্থান ভেঙ্গে আবারও এলাকা ব্যাপকভাবে প্লাবিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। আর এতে বাজারের শত শত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ এলাকার ২৫০টি পরিবারের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়ে পথে বসতে পারেন। যে কারনে প্লাবিত হওয়ার আশংকায় এলাকাবাসী ভয়াবহ ভাঙ্গনের ভয়ে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে এবং তারা অত্যন্ত মানবেতর জীবন যাপন করছেন বলে জানান।

ইউপি সদস্য শ্যামল মন্ডল জানান খুব দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে টেকসই মেরামত না করলে শুধু এই এলাকা নয় মোট ৫টি ইউনিয়ন প্লাবিত হবে বলে তিনি মনে করেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবদুল ওয়াদুদ বলেন তিনি দাঁড়িয়ে থেকে ভাঙ্গন কবলিত স্থান মেরামত করিয়েছেন। যাতে নতুন করে ভাঙতে না পারে তার জন্য বালির বস্তা দিয়ে মেরামত করা হচ্ছে। মূল নতুন ওয়াপদা রাস্তার কাজ করবে বিশ^ ব্যাংকের অর্থায়নে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

এ ব্যাপাওে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন বলেন ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধের পাশ দিয়ে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে নতুন বাঁধ নির্মান কাজ শুরু হয়েছে। তাছাড়া বাজারের কাছে ১কিঃ মিঃ নদী শাসন ব্যবস্থার জন্যে ইতিমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে।

Tag :
About Author Information

বাংলার দিনকাল

Editor and publisher

দাকোপে ভয়াবহ নদী ভাঙ্গনে বিলিন হতে চলেছে বানিশান্তা বাজার

প্রকাশিত সময় ০৮:১৯:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ এপ্রিল ২০১৯

বিধান চন্দ্র ঘোষ দাকোপ (খুলনা) প্রতিনিধি :
পশুর নদীর ভয়াবহ ভাঙ্গনে বিলিন হতে চলেছে খুলনার দাকোপের ঐতিহ্যবাহী বানিশান্তা বাজার। ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ভাঙ্গনে প্লাবিত হওয়ার আশংকায় নদীর তীরবর্তী বাজার এলাকার প্রায় ২৫০টি পরিবারের হাজার মানুষ দিনাতিপাত করে চলেছে। বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে দায়সারা মেরামত চলছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।

সরেজমিনে এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায় এ উপজেলার চারপাশ জুড়ে থাকা অসংখ্য নদ-নদীর মধ্যে রাক্ষুসী পশুর নদী অন্যতম। এই নদীর এক তীরে অবস্থিত মোংলা বন্দও অপর তীরে এ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বানিশান্তা বাজার। পূর্বে কয়েক বার এই বাজারের উত্তর ও পূর্ব পাশের ওয়াপদা ভেঁড়িবাঁধ পশুর নদীগর্ভে বিলিন হওয়ার পর পূনরায় বিকল্প বাঁধ নির্মান করা হয়। ফলে পূর্বের তুলনায় বাজারটি অনেক ছোট্ট হয়ে যায়। বর্তমানে এই বাজারের উত্তর পাশের ওয়াপদা বেড়িবাাঁধ মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি ওই ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধের পৃথক দু‘টি স্থানে প্রায় বিশ হাত করে ভেঙ্গে বাজার এলাকা প্লাবিত হয়। পানিবন্দি হয়ে পড়ে বাজার এলাকার প্রায় ২৫০ পরিবার। ভেসে যায় অনেক পুকুরের লাখ লাখ টাকার মাছ।

এ ঘটনার সাথে সাথে ভাঙ্গন কবলিত স্থান পরিদর্শন করেন এলাকার জনপ্রতিনিধি, থানা অফিসার ইনচার্জ, উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা। এসময় তাদের উপস্থিতিতেই ভাঙ্গন কবলিত স্থান বালির বস্তা দিয়ে আটকানো হয়। বর্তমানে প্রায় ২‘শ হাতের মত ঝুঁকিপূর্ণ ভেঁড়িবাঁধ বালির বস্তা দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মেরামত চলছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। বানিশান্তা বাজার এলাকার করিম গাজী, লাখি বেগম, রিনা বেগম, মজিদ খাঁ, কুদ্দুস ফকির, হালিম হাওলাদার সহ আরো অনেকে সরেজমিনে জানান এ পর্যন্ত অনেক লোকের বাড়িঘর পশুর নদীগর্ভে বিলিন হয়েছে। সম্প্রতি ঝুঁকিপূর্ণ পৃথক দু‘টি স্থান ভেঙ্গে এলাকা প্লাবিত হলে কোন মতে বালিরবস্তা দিয়ে আটকানো হয়েছে। তারা অভিযোগ করে বলেন বর্তমানে প্রায় ২‘শ হাতের মত ঝুঁকিপূর্ণ ভেঁড়িবাঁধ বালির বস্তা দিয়ে দায় সারা ভাবে ঝুঁকিপূর্ণ মেরামত চলছে। টেকসই ভেঁড়িবাঁধ না হলে যে কোন সময় এসব ঝুঁকিপূর্ণ স্থান ভেঙ্গে আবারও এলাকা ব্যাপকভাবে প্লাবিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। আর এতে বাজারের শত শত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ এলাকার ২৫০টি পরিবারের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়ে পথে বসতে পারেন। যে কারনে প্লাবিত হওয়ার আশংকায় এলাকাবাসী ভয়াবহ ভাঙ্গনের ভয়ে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে এবং তারা অত্যন্ত মানবেতর জীবন যাপন করছেন বলে জানান।

ইউপি সদস্য শ্যামল মন্ডল জানান খুব দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে টেকসই মেরামত না করলে শুধু এই এলাকা নয় মোট ৫টি ইউনিয়ন প্লাবিত হবে বলে তিনি মনে করেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবদুল ওয়াদুদ বলেন তিনি দাঁড়িয়ে থেকে ভাঙ্গন কবলিত স্থান মেরামত করিয়েছেন। যাতে নতুন করে ভাঙতে না পারে তার জন্য বালির বস্তা দিয়ে মেরামত করা হচ্ছে। মূল নতুন ওয়াপদা রাস্তার কাজ করবে বিশ^ ব্যাংকের অর্থায়নে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

এ ব্যাপাওে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন বলেন ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধের পাশ দিয়ে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে নতুন বাঁধ নির্মান কাজ শুরু হয়েছে। তাছাড়া বাজারের কাছে ১কিঃ মিঃ নদী শাসন ব্যবস্থার জন্যে ইতিমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে।