ঢাকা ০৭:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

দাকোপে বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রোপে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী

প্রতিনিধি, দাকোপ
খুলনার দাকোপের বিভিন্ন এলাকাসহ উপজেলা সদর চালনা পৌরসভার সর্বত্র বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রোপ আশংকা জনক ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে পথচারীসহ এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায় দীর্ঘদিন যাবৎ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বেওয়ারিশ কুকুরের অবাধ বিচরন দেখা গেলেও স¤প্রতি মাত্রাতিরিক্ত বৃদ্ধি পাওয়ায় পথচারীসহ গ্রামবাসী অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে পৌর এলাকার বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে এসব কুকুরের দল বেশি দেখা গেলেও পৌর কর্তৃপক্ষের তেমন কোন ভূমিকা চোখে পড়েনি। রাত ৯টা পর লোকজনের চলাচল একটু ফাঁকা হলেই কুকুরগুলো জড় হয় এবং পথচারীদের উপর চিৎকার দিয়ে আক্রমন করতে দেখা যায়। এমনকি কুকুরের ভয়ে স্কুলগামী কোমলমতি শিশুরা পর্যন্ত স্কুলে যেতে পারছে না। কোন কোন সময় দেখা গেছে ছেলে মেয়েরা স্কুলে যাওয়ার সময় তাদের হাতে খাবার থাকলে এসব কুকুর আক্রমন করে এবং ভয়ে তাদের খাবার ফেলে পালাতে। এতে অভিভাবকরাও আতংকের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। আবার অনেক সময় দেখা গেছে এসব কুকুর বিভিন্ন খাবার হোটেলে প্রবেশ করতে। এছাড়া যেখানে সেখানে কুকুরের মল ত্যাগেও পরিবেশ মরাত্মক ভাবে দূষিত হচ্ছে।

সাধারনত কুকুরের শরীরে জলাতংক রোগের জীবানু বহন করে থাকে। কুকুরে কামড়ালে রোগীর জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা পৌর সভায়ও সরকারী বরাদ্ধের কোন ভ্যাকসিন পাওয়া যাচ্ছে না। মাঝে মধ্যে আমদানী নির্ভর ও উচ্চমূলের এ ভ্যাকসিন বাইরের ওষুধের দোকানে পাওয়া গেলেও দোকানীরা ইচ্ছামতো দাম নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

পৌরসভার নলোপাড়া এলাকার মোঃ মিনারুল শেখ জানান সম্প্রতি কয়েক দিন পূর্বে এলাকা থেকে তাকে কুকুরে কামড়ানোর পর হাসপাতালে এবং পৌরসভায় গিয়ে ভ্যাকসিন না পেয়ে তিনি গ্রাম্য কবিরাজের চিকিৎসা নিয়েছেন। কুকুরের আক্রমনের ভয়ে কোমলমতি শিশুরা স্কুলে যেতে পারছে না এবং এঘটনার পূর্বেও ওই এলাকার বেশ কয়েকজন কুকুরের কামড়ে আহত হয়েছে বলে তিনি জানান। বিষযটি তিনি পৌর কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও কোন প্রতিকার পায়নি।

এবিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচএ) ডাঃ মোজাম্মেল হক নিজামী বলেন জেলা শহর ছাড়া উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালে সরকারী বরাদ্ধের কোন ভ্যাকসিন পাওয়া যায় না। কুকুরে কামড়ানো কোন রোগী আসলে আমরা বাইরে থেকে ভ্যাকসিন এনে অথবা রোগীরা ভ্যাকসিন আনলে তা দিয়ে চিকিৎসা করি। এব্যাপারে চালনা পৌরসভার মেয়র সনত কুমার বিশ্বাস বলেন জায়গা নির্ধারন না করে কুকুর নিধনের অভিযান পরিচালনা করা যাচ্ছে না। আগে একবার কুকুর নিধনের পর নদীর চরে পুতে রাখলে দূর্গন্ধ ছড়াচ্ছে বলে লোকে নানান কথা বলেছে। এবার সবার সাথে কথা বলে পুতে রাখার জায়গা নির্ধারন করে উপজেলা নির্বাচনের পর কুকুর মারা শুরু করব।

Tag :
About Author Information

বাংলার দিনকাল

Editor and publisher
জনপ্রিয় সংবাদ

খুবিতে ‘জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ উদ্বোধন

দাকোপে বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রোপে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী

প্রকাশিত সময় ০৭:৩৫:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মার্চ ২০১৯

প্রতিনিধি, দাকোপ
খুলনার দাকোপের বিভিন্ন এলাকাসহ উপজেলা সদর চালনা পৌরসভার সর্বত্র বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রোপ আশংকা জনক ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে পথচারীসহ এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায় দীর্ঘদিন যাবৎ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বেওয়ারিশ কুকুরের অবাধ বিচরন দেখা গেলেও স¤প্রতি মাত্রাতিরিক্ত বৃদ্ধি পাওয়ায় পথচারীসহ গ্রামবাসী অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে পৌর এলাকার বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে এসব কুকুরের দল বেশি দেখা গেলেও পৌর কর্তৃপক্ষের তেমন কোন ভূমিকা চোখে পড়েনি। রাত ৯টা পর লোকজনের চলাচল একটু ফাঁকা হলেই কুকুরগুলো জড় হয় এবং পথচারীদের উপর চিৎকার দিয়ে আক্রমন করতে দেখা যায়। এমনকি কুকুরের ভয়ে স্কুলগামী কোমলমতি শিশুরা পর্যন্ত স্কুলে যেতে পারছে না। কোন কোন সময় দেখা গেছে ছেলে মেয়েরা স্কুলে যাওয়ার সময় তাদের হাতে খাবার থাকলে এসব কুকুর আক্রমন করে এবং ভয়ে তাদের খাবার ফেলে পালাতে। এতে অভিভাবকরাও আতংকের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। আবার অনেক সময় দেখা গেছে এসব কুকুর বিভিন্ন খাবার হোটেলে প্রবেশ করতে। এছাড়া যেখানে সেখানে কুকুরের মল ত্যাগেও পরিবেশ মরাত্মক ভাবে দূষিত হচ্ছে।

সাধারনত কুকুরের শরীরে জলাতংক রোগের জীবানু বহন করে থাকে। কুকুরে কামড়ালে রোগীর জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা পৌর সভায়ও সরকারী বরাদ্ধের কোন ভ্যাকসিন পাওয়া যাচ্ছে না। মাঝে মধ্যে আমদানী নির্ভর ও উচ্চমূলের এ ভ্যাকসিন বাইরের ওষুধের দোকানে পাওয়া গেলেও দোকানীরা ইচ্ছামতো দাম নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

পৌরসভার নলোপাড়া এলাকার মোঃ মিনারুল শেখ জানান সম্প্রতি কয়েক দিন পূর্বে এলাকা থেকে তাকে কুকুরে কামড়ানোর পর হাসপাতালে এবং পৌরসভায় গিয়ে ভ্যাকসিন না পেয়ে তিনি গ্রাম্য কবিরাজের চিকিৎসা নিয়েছেন। কুকুরের আক্রমনের ভয়ে কোমলমতি শিশুরা স্কুলে যেতে পারছে না এবং এঘটনার পূর্বেও ওই এলাকার বেশ কয়েকজন কুকুরের কামড়ে আহত হয়েছে বলে তিনি জানান। বিষযটি তিনি পৌর কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও কোন প্রতিকার পায়নি।

এবিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচএ) ডাঃ মোজাম্মেল হক নিজামী বলেন জেলা শহর ছাড়া উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালে সরকারী বরাদ্ধের কোন ভ্যাকসিন পাওয়া যায় না। কুকুরে কামড়ানো কোন রোগী আসলে আমরা বাইরে থেকে ভ্যাকসিন এনে অথবা রোগীরা ভ্যাকসিন আনলে তা দিয়ে চিকিৎসা করি। এব্যাপারে চালনা পৌরসভার মেয়র সনত কুমার বিশ্বাস বলেন জায়গা নির্ধারন না করে কুকুর নিধনের অভিযান পরিচালনা করা যাচ্ছে না। আগে একবার কুকুর নিধনের পর নদীর চরে পুতে রাখলে দূর্গন্ধ ছড়াচ্ছে বলে লোকে নানান কথা বলেছে। এবার সবার সাথে কথা বলে পুতে রাখার জায়গা নির্ধারন করে উপজেলা নির্বাচনের পর কুকুর মারা শুরু করব।