মঙ্গলবার, ১৬ অগাস্ট ২০২২, ০৯:২৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
তেরখাদায় অস্ত্রসহ একাধিক মামলার আসামি আটক তেরখাদায় নানা কর্মসূচির মাধ্যমে জাতীয় শোক দিবস পালন জাতীয় শোক দিবসের বিশেষ নিবন্ধ : ১৫ আগষ্ট বাঙালি জাতির একটি কলঙ্কিত ইতিহাস যশোরে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির উদ্যোগে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত সাভারে সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিকের উপর হামলা, হত্যার চেষ্টা শোকাবহ আগস্টে অপশক্তি ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান : এমপি সালাম মূর্শেদী জাতীয় শোক দিবসে বিশেষ প্রতিবেদন : সেই শিশু আজ জগৎ জোড়া কয়রার দক্ষিণ বেদকাশীর রিংবাঁধ ভেঙ্গে এলাকা প্লাবিত, দূর্ভোগে হাজারো মানুষ ভেড়ামারায় তেল পাম্পে ট্যাংকি বিস্ফোরণে নিহত-২, আহত-৪ শিক্ষা কারিকুলায় আঞ্চলিক সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন : উপাচার্য

কয়রায় কপোতাক্ষ নদের ঘাটাখালী বেঁড়িবাধ ভেঙ্গে এলাকা প্লাবিত

সংবাদদাতার নাম :
  • প্রকাশিত সময় সোমবার, ২২ এপ্রিল, ২০১৯
  • ৬৮৪ পড়েছেন

অরবিন্দ কুমার মণ্ডল,কয়রা(খুলনা) :
দূর্ভোগ যেন পিছু ছাড়ছেনা কয়রা বাসীর। এক বছরের কম সময়ের ব্যাবধানে সুন্দরবনের উপকূলবর্তী খুলনার কয়রার কপোতাক্ষ নদের ঘাটখালী বেঁড়িবাধে আবারো ভয়াবহ ভাঙ্গণ সৃষ্টি হয়েছে। গত ৩৬ ঘন্টার তীব্র ভাঙ্গণে বেড়িবাঁধের প্রায় ১শ ফুট যায়গার সিংহভাগ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ফলে চলতি বোরো মৌসুমের পাকা ধান, মাছের ঘের ক্ষয়-ক্ষতির পাশাপাশি বাড়ীঘরের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে।

উপজেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল ইসলামের তদারকিতে শতাধিক স্থানীয় জনগণ স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে ভাঙ্গণরোধে কাজ করে কোন রকমে পানি আটকানোর ব্যবস্থা করা হলেও জরুরী ভিত্তিতে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে আতঙ্ক কাটছেনা এলাকাবাসীর। শুধু ঘাটাখালী নয় অব্যাহত ভাঙণের কারণে কয়রা সদর ইউনিয়নের গোবরা, হরিণখোলা ও গোবরা পূর্বচক গ্রামের বাসিন্দারা আতঙ্কে রয়েছেন। ভাঙণ রোধে অবিলম্বে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে নদীর তীরবর্তী জনপদের বিস্তৃর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশংকা করছেন স্থানীয়রা।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, ১৩-১৪/২-নং পোল্ডারের গোবরা, ঘাটাখালী ও হরিণখোলার বেড়িবাঁধ প্রায় ধ্বংস হওয়ার উপক্রম হয়েছে । তাৎক্ষণিক এলাকাবাসী স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে বাঁধ রক্ষায় কাজ করে পানি প্রবেশের হাত থেকে রেহাই পেলেও ভাঙ্গণ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। ঘাটাখালী গ্রামের হানিফ, খাদিজা বেগম, আত্তাফ শেখ, হাফিজুর রহমান, মুদি দোকানি তৈয়েব আলী সহ অনেকেই বলেন, গত দুই সপ্তাহ ধরে বেড়িবাঁধের গোড়ার মাটিতে ধ্বস নেয়া বেড়েই চলেছে। হঠাৎ রবিবার রাতে মসজিদ সংলগ্ন বেড়িবাধ ভেঙ্গে এলাকা প্লাবিত হয়। যার ফলে মসজিদের মিনারসহ দু’টি ওয়াল নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে ও চলতি বোরো মৌসুমের পাকা ধান ক্ষতির পাশপাশি বহু মাছের ঘের তলিয়ে গিয়ে ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ইতিমধ্যে এলাকার অনেক মানুষ তাদের প্রয়োজনীয় জিনিষপত্র সহ গবাদী পশু অন্যত্র সরিয়ে নিতে দেখা গেছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকার মানুষও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য আলহাজ্ব আঃ গফ্ফার ঢালী বলেন, ভাঙ্গণরোধে কয়রা সদরের কর্মসৃজন প্রকল্পে নিযুক্ত শ্রমিক ও স্থানীয় এলাকাবাসী স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে কাজ করছে। তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী জানিয়েছেন।

কয়রা সদর ইউনয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মোস্তফা নাজমুছ ছায়াদাত বলেন, ভাঙ্গণ রোধে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে কয়রা সদরের দরিদ্র মানুষ বসতবাড়ীসহ ফসলী জমি হারিয়ে আরো নিঃস্ব হয়ে পড়বে। ইতিপূর্বে নদী ভাঙ্গণে ক্ষতিগ্রস্থদের অভিযোগ, প্রতি বছর নদী ভাঙ্গণ শুরু হলেই ভাঙ্গণ রোধের নামে সরকারী অর্থ লুটপাটের তোড়জোড় শুরু হয়। যা শুধুই অপচয় মাত্র। স্থানীয়দের দাবী, নদীভাঙ্গণ রোধে টেকসই ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। কয়রা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিমুল কুমার সাহা ভাঙ্গণ এলাকা পরিদর্শণ করে বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও জনসাধারনের সহযোগীতায় বাঁধের কাজ চলমান রয়েছে। এ ব্যাপারে পাউবোর উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জরুরী ভিত্তিতে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলা হয়েছে ।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান খান, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী নাহিদুজ্জামান ও আমাদী সেকশন কর্মকর্তা মশিউল আলম ঘাটাখালী এলাকার ভাঙ্গণ কবলিত বেড়িবাধটি পরিদর্শণ করেছেন। এসময় উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোঃ নাহিদুজ্জামান বলেন, এখানকার ২৫০ মিটার বাঁধের টেণ্ডার আগামীকাল ২৩ এপ্রিল ওপেন হবে। টেণ্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে ঠিকাদার ভাঙ্গণ কবলিত বেড়িবাঁধে কাজ করতে পারবেন বলে জানান।

সংবাদটি শেয়ার করার জন্য অনুরোধ করা হলো

এ ধরনের আরো সংবাদ

© All rights reserved by www.banglardinkal.com (Established in 2017)

Hwowlljksf788wf-Iu