শনিবার, ২৮ মে ২০২২, ০১:৩৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম
খুলনার সর্বস্তরের মানুষের ভালোবাসার কাছে কৃতজ্ঞ ও ঋনী :  মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক দেশের সব অনিবন্ধিত হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধের নির্দেশ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের, দ্রুত কার্যকরের দাবী পাইকগাছায় পূজা পরিষদের পৌর শাখা কমিটি গঠন খুলনায় বিএনপির ৮৯২ নেতাকর্মীর নামে মামলা : ২৯ জন জেল-হাজতে, ১২নারী নেতাকর্মীর জামিন কয়রার মহারাজপুর ইউনিয়নের উন্মুক্ত বাজেট ঘোষনা  ছাত্রলীগ-যুবলীগ ও পুলিশ তান্ডব চালিয়ে উল্টো মামলা দিয়ে বিএনপির নেতার্মীদের গ্রেফতার করছে : মনা পাইকগাছায় সারদা আশ্রমের উদ্যোগে শিক্ষা উপকরন বিতরন নগরীতে ইজিবাইক ও ব্যাটারিচালিত রিকশার লাইসেন্স প্রদানের দাবিতে সমাবেশ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৩তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন খুলনা নগরীর অধিকাংশ অসহায় মানুষকে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচীতে যুক্ত করা যায়নি

ইয়াসের পর অশনি’র সংকেত, দূর্যোগ ও দুর্ভোগ উপকূলবাসীর চিরসঙ্গী

সংবাদদাতার নাম :
  • প্রকাশিত সময় রবিবার, ৮ মে, ২০২২
  • ৪৪ পড়েছেন

মধুসূদন মন্ডল, শ্যামনগর, সাতক্ষীরা:

ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের তান্ডব আঘাতে উপকূল বাসী দীর্ঘদিন জনদূর্ভোগের পর এলাকা একটু শান্ত ও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছিলো। প্রাকৃতিক দূর্যোগের ঘনঘটা যেন উপকূলবাসীর চিরদিনের সঙ্গীসাথী।ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে দক্ষিণাঞ্চলের অপূরণীয় ক্ষয়ক্ষতির হিসাব বলে শেষ করা যাবেনা। যার ক্ষয়ক্ষতির রেশ ও স্বাভাবিকতা এখনও কাটেনি।অধিকাংশ বাসগৃহ লন্ড ভন্ড হয়ে যায়। সুপেয় খাওয়ার পানির প্রায় সকল উৎস, টিউবওয়েল, মিষ্টি পানির পুকুর সব নষ্ট হয়ে যায়। এদিকে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের জন্য পরিবার ও জনপ্রতি পানির ট্যাংকিও পর্যাপ্ত নেই। যার কারণে এলাকায় পানিবাহিত রোগ ও সুপেয় পানির দূর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছিলো। এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিলো।নতুন পুরাতন ইটের সোলিং, মেঠো রাস্তাসহ কার্পেটিং রাস্তার সীমাহীন ক্ষতি ও চলাচলে যোগাযোগ ব্যবস্হা একেবারে অসম্ভব ছিলো।নদীর ওয়াপদা রাস্তা ও ঝুঁকিপূর্ণ বেড়ীবাঁধ ভেঙ্গে মতস্য এলাকা ও জানমাল সম্পূর্ণ প্লাবিত হয়ে কোটি কোটি টাকার লোকসান হয়েছিলো, যা অপূরণীয়।

এতকিছুর ক্ষয়ক্ষতি কিন্তু নতুন কিছু নয়।এটি উপকূলীয় অঞ্চলের চিরদিনের সঙ্গীসাথী বলা যেতে পারে।প্রতিকূল আবহাওয়া ও বৈরী পরিবেশের সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় এখন আছড়ে পড়ছে উপকূলের গর্ভে।যার প্রভাবে উপকূলীয় জনপদ বারবার বিধ্বস্ত ও কালের সর্বনাশা স্রোতে হারিয়ে যেতে বসেছে উপকূলীয় জনপদ।নদীর নাব্যতা হ্রাস এবং নদীর গতিপথ বিঘ্নতা, জোয়ার ভাটার স্বাভাবিকতা হ্রাস, নদীর চরের জায়গা দখল, নদী সংলগ্ন এলাকার সরকারী-বেসরকারী খাল/জলাশয়ের জায়গা দখল-ভরাট জোয়ারভাটার বিঘ্নতা সৃষ্টি, উপকূলীয় ভঙ্গুর বেড়ীবাঁধ, এলাকার মৎস্য চিংড়ি ঘের ও লোনা পানির প্রবেশ, ওয়াপদা রাস্তা কেটে নাইনটি ওভারপাইপ সৃষ্টি, ধানচাষ ও মিষ্টি পানির অভাব, আবহাওয়া-জলবায়ুর অন্যান্য বিরুপ প্রভাবের কারণে বারবার এই প্রাকৃতিক দূর্যোগ ও ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হচ্ছে। বারবার আছড়ে পড়ছে উপকূলবাসীর বুকের উপর, লন্ডভন্ড করে দিচ্ছে উপকূলীয় জনপদ। সরকারী-বেসরকারী উদ্দ্যোগে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণসহ অন্যান্য বিষয়াদির ধকল কাটিয়ে সুষ্ঠু ও স্বাভাবিক জীবনযাপনসহ উপকূলীয় জনপদ কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেও আবার সামনে আসছে ঘূর্ণিঝড় অশনির অশনিসংকেত। এ যেন মড়ার উপরে খাঁড়ার ঘা। উপকূলবাসীর কাছে ত্রাণকাজের চেয়ে এখন নিরাপদ আবাসযোগ্য ভূমি যার সুরক্ষার ঢাল হিসেবে জরুরী প্রয়োজন এলাকাভিত্তিক পর্যাপ্ত সংখ্যক সাইক্লোন শেল্টার, সুপেয় পানি বন্দোবস্হা, টেকসই ও মজবুত বেড়ীবাঁধের সুরক্ষা।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় বাংলাদেশ সরকার,স্হানীয় প্রশাসন ও স্হানীয় সরকার ব্যাপক উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে এবং ইতিমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে। যার সুনাম সমগ্র দেশসহ সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। বিদেশী সাহায্য সংস্থা ও এনজিও সংগঠনগুলোর মানবিক সহায়তাসহ অন্যান্য সামাজিক কর্মকাণ্ডগুলো চোখে পড়ার মত ও প্রশংসনীয়। সরকারের পাশাপাশি তারা যথেষ্ট উন্নয়নমূলক কাজ করেছে। সব প্রকল্প এগিয়ে গেলেও কয়েকটি প্রকল্প এখনও পুরোপুরি কিংবা সম্পন্ন হয়নি।
(১) টেঁকসই ও মজবুত বেড়ীবাঁধ সুরক্ষা।
(২) এলাকাভিত্তিক শক্তিশালী কাম সাইক্লোন শেল্টার।
(৩) সুপেয় পানির সুব্যবস্হা।
(৪) উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্হা প্রকল্পের নামে বিশেষ এই চারটি প্রকল্প এখনও যথাযথ প্রয়োগ ও সম্পন্ন হয়নি। কিছু কিছু ক্ষেত্রে হয়েছে এবং অনেক জায়গায় আংশিক ওয়াপদা রাস্তার কাজ হয়েছে।জরুরী প্রকল্পগুলোর কাজ বৃষ্টি মৌসুমের আগে সম্পন্ন হওয়া উচিত ছিলো, যেমন টেকসই ও মজবুত বেড়ীবাঁধ সুরক্ষা না হওয়ার কয়েকটি কারণ রয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের গাফিলতি ও স্বল্প পরিমানে বাজেট। তবে এখন অনেকটা শক্তিশালী, দায়িত্বশীল ও জনবান্ধব হয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান গুলো প্রাপ্ত বাজেট সঠিকভাবে প্রয়োগ করছে কিনা সন্দেহ কিংবা প্রকল্পের কাজ সঠিকভাবে করছেনা। সরকারের বাজেটের পরিমাণ কম হতে পারে, কিন্তু এখন বাড়িয়েছে। অসমাপ্ত কাজ বৃষ্টি মৌসুমের আগে সম্পন্ন না করা কিংবা আর কাজ না করার মানসিকতা। স্হানীয় সরকারের অযোগ্য ও অনভিজ্ঞ স্হানীয় জন প্রতিনিধি। এগুলো সরকারের প্রশাসনের ক্ষতিয়ে দেখা জরুরী।উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ বেড়ীবাঁধ গুলোর অনেক জায়গায় চলমান কাজগুলো সমাপ্ত হয়নি। স্বাভাবিক জোয়ারের পানি সেখানে কানায় কানায় থাকে। ওয়াপদা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কর্মসূচী ও বাজেটের আর্থিক বরাদ্দসহ সকল তথ্য সমৃদ্ধ সাইনবোর্ড পাওয়া গেলেও তাদের প্রকল্পের কাজ কিন্তু এখনও সমাপ্ত হয়নি, বিষয়টি জনমনে প্রশ্ন থেকে যায়।

এটা নিশ্চিত ও নিঃসন্ধেহে বলা যায় বেড়ীবাঁধ সুরক্ষা প্রকল্পের কাজগুলো বাস্তবে ও ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির পূর্বে সম্পন্ন না করলে সামনের ঘূর্ণিঝড় অশনির অশনিসংকেত ও প্রভাবে উপকূলীয় জনপদ আবারও প্লাবিত হবে। চিত্রে দেখা যায়,,চিংড়ীসমৃদ্ধ শ্যামনগর উপজেলার ৯নং বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড পূর্ব দূর্গাবাটীর টুঙ্গিপাড়া বেড়ীবাঁধ আনুমানিক ১কিমি, কিছুদূর কাজ করার পর পশ্চিম দূর্গাবাটী সাইক্লোন শেল্টার বেড়ীবাঁধ ৫০০ মিটার, ৫নং ওয়ার্ড মাদিয়া ও খন্তাখাটা বেড়ীবাঁধ আনুমানিক ৬০০ মিটার, ৭নং ওয়ার্ড দাতিনাখালী বেড়ীবাঁধ আনুমানিক ৫০০ মিটার, ১২ নং গাবুরা ইউনিয়নের গাবুরা বাজার ১কিমি, জেলিয়াখালী, পার্শ্বেমারী ৫০০ মিটার, নাপিতখালী ৬০০ মিটার, সোরা ৩০০ মিটাট, ১১নং পদ্মপুকুর ইউনিয়নের কামালকাটী ৩ কিমি, ঝাঁপা ৫০০ মিটার,পাতাখালী ১কিমি, খুঠিকাটা ১কিমি বেড়ীবাঁধ গুলো এখনও ঝূ্ঁকিপূর্ণ প্রকল্পের কাজ এখনও সম্পন্ন হয়নি আবার উন্নয়নের ছিটেফোঁটাও লাগেনি এসব বেড়ীবাঁধ গুলোতে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড, স্হানীয় সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বারবার দৃষ্টি আকর্ষণ করা স্বত্বেও এখনও কাজের কোন অগ্রগতি দেখা যায়নি।সাধারণ জনগনের দাবি সংশ্লিষ্ট অনেকেই গাফিলতি ও ত্রাণ নির্ভর স্হানীয় রাজনীতিতে সীমাবদ্ধ। এজন্য উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ ও উন্নয়ন সঠিকভাবে হচ্ছেনা। কিছুদিন পূর্বে স্হানীয় সরকারের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অনেক জায়গায় নতুন জন প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছেন, প্রকল্পের কাজ এখনও হাতে পাননি। পূর্বের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা প্রকল্পের কাজ দেখভাল করতেন, কাজগুলো সমাপ্ত হওয়া জরুরী ছিলো। নতুন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাজের অভিজ্ঞতা ও অগ্রগতি দেখেই সাধারণ জনগন বুঝে নেবে কাজ করার মানসিকতা ও জনসেবার মান কতটুকু।

নতুন বছরে শুধু অশনি নয় আরো বেশকিছু ঘূর্ণিঝড় এর পূর্বাভাস রয়েছে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক আবহাওয়া অধিদপ্তরগুলোর, গণমাধ্যমে ইতিমধ্যে আমরা জানতে পেরেছি। পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন আমাদের ৫০% সুরক্ষা ও বিশুদ্ধ অক্সিজেন দিয়ে রেখেছেন এজন্য শুধু উপকূলীয় জনপদের দক্ষিণাঞ্চল নয় গোটা বাংলাদেশই সুরক্ষা পাচ্ছে। বাংলাদেশের একটি সিংহ ভাগ রাজস্ব আসে চিংড়ী ও মতস্যসমৃদ্ধ উপকূলীয় দক্ষিণাঞ্চল ও সুন্দরবন থেকে। এই রাজস্বের একভাগ পরিমাণের আর্থিক বরাদ্দ দেওয়া হলে সমগ্র উপকূলীয় জনপদের টেকসই বেড়ীবাঁধ ও মজবুত ওয়াপদা রাস্তা নির্মাণ সম্ভব।ইতিমধ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনার একনেকে উপকূলীয় বেড়ীবাঁধ সুরক্ষা প্রকল্পের কাজগুলোর জন্য বড় ধরনের আর্থিকসমৃদ্ধ বাজেট দিয়েছেন।আশা করছি এই প্রকল্পের কাজগুলো যথাযথ ভাবে প্রয়োগ ও সম্পন্ন করলে উপকূলীয় জনপদের দূর্ভোগ কমে যাবে। বেড়ীবাঁধ নির্মাণ প্রকল্পে দেশী-বিদেশী প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোর দ্বারা মনিটরিং এবং কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ প্রকল্পের মতন সমকাজ করলে উপকূলীয় জনপদের বেড়ীবাঁধ সুরক্ষা মজবুত ও দূর্ভোগ থাকবেনা।পাশাপাশি সারাদেশের সকল নদীগুলো বিশেষ করে লোনাপানি বেষ্ঠিত দক্ষিণাঞ্চলের বড়বড় নদীগুলো খনন প্রকল্পের আওতায় আনা জরুরী।নদীর সংযোগ সরকারী-বেসরকারী সকল খাল জলাশয়ও পুনঃখনন প্রকল্পের আওতায় দখলমুক্ত করা প্রয়োজন। স্হানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে প্রাকৃতিক দূর্যোগের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে উন্নত প্রযুক্তি ও সরঞ্জামের মাধ্যমে দূর্যোগ মোকাবেলার পূর্ব প্রস্তুতি ও পরবর্তী প্রস্তুতি বিষয়ে সম্যক জ্ঞান ও প্রশিক্ষণ দেয়া জরুরী।উপজেলা দূর্যোগ প্রস্তুতি কমিটির পাশাপাশি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে দূর্যোগ মনিটরিং কমিটি সার্বক্ষনিক পাহারায় থাকতে হবে। ইউনিয়ন লিডার, সিপিপি সদস্যসহ অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান ও সদস্যদেরও সার্বিক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে।এলাকায় দূর্যোগ সিগনাল এবং সার্বক্ষণিকভাবে সিপিপি ও অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবকদের দ্বারা জরুরী মাইকিং করা প্রয়োজন হয়। গণমাধ্যম, সংবাদকর্মী-সাংবাদিক, মিডিয়ায় এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে আপডেট তথ্য প্রদান করার জন্যও দায়িত্ব থাকে।সরকার, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, স্হানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিক, সুধী সমাজ সহ সচেতন নাগরিক একতাবদ্ধ ও পারস্পরিক সহযোগিতা থাকলে বাংলাদেশের যেকোন প্রাকৃতিক দূর্যোগ মোকাবেলা করে আবার সুষ্ঠু ও স্বাভাবিক জীবনযাপন ও জনপদ ফিরে পাওয়া সম্ভব।

সংবাদটি শেয়ার করার জন্য অনুরোধ করা হলো

এ ধরনের আরো সংবাদ

© All rights reserved by www.banglardinkal.com (Established in 2017)

Hwowlljksf788wf-Iu