ঢাকা ০৭:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

১৯৭১ : গণহত্যা-নির্যাতন আর্কাইভ ও জাদুঘরের ৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

তথ্যবিবরণী : বাংলাদেশের প্রথম এবং একমাত্র গণহত্যা জাদুঘর ‘১৯৭১: গণহত্যা-নির্যাতন আর্কাইভ ও জাদুঘর’ এর ৫ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী ৪মে (শনিবার) বিকেলে খুলনায় উদযাপিত হয়। এ উপলক্ষে নগরীর বিএমএ ভবনের কাজী আজহারুল হক মিলনায়তনে শহিদ স্মৃতি স্মারক বক্তৃতার আয়োজন করে গণহত্যা-নির্যাতন ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষণা কেন্দ্র।

সাম্প্রদায়িকতা থেকে জঙ্গিবাদ : ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ড শিরোনামে স্মারক বক্তৃতা প্রদান করেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্য কবি আসাদ মান্নান। গণহত্যা জাদুঘর ট্রাস্টের সভাপতি বঙ্গবন্ধু অধ্যাপক ড. মুনতাসীর মামুন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।

স্মারক বক্তৃতায় খুবি ভিসি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুর হত্যাকান্ড কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। যে সাম্প্রদায়িক শক্তি মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে ছিল তারাই পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছিল। তারা প্রত্যেকেই কোন না কোন আদর্শের পুজারী ছিল। মাওলানা ভাসানীর পৃষ্ঠপোষকতায় প্রতিষ্ঠিত হুকুমতে রব্বানী এবং জাসদের মতো শক্তিও সাম্প্রদায়িকতাকে পৃষ্ঠ পোষকতা দিয়েছিল। অপাতদৃষ্টিতে এই সাম্প্রদায়িক শক্তিকে পরাজিত মনে হলেও তাদের তৎপরতা বাংলাদেশে থেমে নেই। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকান্ড, রমনার বটমূলে হামলা, ৫০টি জেলায় একযোগে বোমা হামলা কিংবা ২১শে আগস্টে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা চেষ্ঠার পেছনেও রয়েছে এই সাম্প্রদায়িক জঙ্গি গোষ্ঠীর অপতৎপরতা। তিনি জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতাকে দমনে মাধ্যমে মানব ধর্ম ও মানবতার রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আহবান জানান।

সভাপতির বক্তৃতায় অধ্যাপক ড. মুনতাসীর মামুন বলেন, বাংলাদেশের গণহত্যা বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি পায়নি কারণ এ দেশে গণহত্যা নিয়ে অপরাজনীতি হয়েছে। গণহত্যা নিয়ে এই অপরাজনীতি বন্ধ করতে এই আর্কাইভ ও জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। কেবল দমন করে জঙ্গিবাদ নির্মূল করা যাবে না উল্লেখ করে অধ্যাপক মামুন বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিবিদ ও প্রশাসন যদি ধর্মান্ধদের সাথে সমঝোতা বন্ধ না করে, নতুন প্রজন্মকে যদি মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয় তাহলে সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প এ দেশ থেকে কখনো দূরীভূত হবে না।

অনুষ্ঠানে আরও জানানো হয়, গত ৫ বছরে গণহত্যা জাদুঘরের অধীনে বিভিন্ন বধ্যভূমিতে ৩০ টি স্মৃতিফলক, ৩০ জেলায় গণহত্যা জরিপ, ৮০ টি গণহত্যা নির্ঘন্ট প্রকাশ ও ৩০০ জন গবেষককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, আর্কাইভে মুক্তিযুদ্ধ সংক্রান্ত প্রায় ৯ হাজার ছবি, ৬ হাজার গ্রন্থ এবং দুষ্প্রাপ্য পত্র-পত্রিকা রক্ষিত রয়েছে। এই জাদুঘরই প্রথম ডিজিটাল জেনোসাইড ম্যাপ তৈরি করেছে এবং এ সব ক্ষেত্রে সহায়তা করেছে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়। এই মন্ত্রণালয় জাদুঘরের জরাজীর্ণ ভবন ভেঙ্গে নতুন ভবন নির্মানের উদ্যোগ নিয়েছে।

অনুষ্ঠানে জাদুঘরের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যবৃন্দ, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও শিক্ষার্থী সহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জাদুঘরের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য শঙ্কর মল্লিক। উল্লেখ, ২০১৪ সালের ১৭ মে খুলনা শহরে এই জাদুঘর প্রতিষ্ঠিত হয়। রমজানের কারণে এবছর কিছু দিন এগিয়ে জাদুঘরের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপিত হয়।

Tag :
About Author Information

বাংলার দিনকাল

Editor and publisher
জনপ্রিয় সংবাদ

খুবিতে ‘জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ উদ্বোধন

১৯৭১ : গণহত্যা-নির্যাতন আর্কাইভ ও জাদুঘরের ৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

প্রকাশিত সময় ০৯:৪১:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ মে ২০১৯

তথ্যবিবরণী : বাংলাদেশের প্রথম এবং একমাত্র গণহত্যা জাদুঘর ‘১৯৭১: গণহত্যা-নির্যাতন আর্কাইভ ও জাদুঘর’ এর ৫ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী ৪মে (শনিবার) বিকেলে খুলনায় উদযাপিত হয়। এ উপলক্ষে নগরীর বিএমএ ভবনের কাজী আজহারুল হক মিলনায়তনে শহিদ স্মৃতি স্মারক বক্তৃতার আয়োজন করে গণহত্যা-নির্যাতন ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষণা কেন্দ্র।

সাম্প্রদায়িকতা থেকে জঙ্গিবাদ : ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ড শিরোনামে স্মারক বক্তৃতা প্রদান করেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্য কবি আসাদ মান্নান। গণহত্যা জাদুঘর ট্রাস্টের সভাপতি বঙ্গবন্ধু অধ্যাপক ড. মুনতাসীর মামুন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।

স্মারক বক্তৃতায় খুবি ভিসি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুর হত্যাকান্ড কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। যে সাম্প্রদায়িক শক্তি মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে ছিল তারাই পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছিল। তারা প্রত্যেকেই কোন না কোন আদর্শের পুজারী ছিল। মাওলানা ভাসানীর পৃষ্ঠপোষকতায় প্রতিষ্ঠিত হুকুমতে রব্বানী এবং জাসদের মতো শক্তিও সাম্প্রদায়িকতাকে পৃষ্ঠ পোষকতা দিয়েছিল। অপাতদৃষ্টিতে এই সাম্প্রদায়িক শক্তিকে পরাজিত মনে হলেও তাদের তৎপরতা বাংলাদেশে থেমে নেই। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকান্ড, রমনার বটমূলে হামলা, ৫০টি জেলায় একযোগে বোমা হামলা কিংবা ২১শে আগস্টে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা চেষ্ঠার পেছনেও রয়েছে এই সাম্প্রদায়িক জঙ্গি গোষ্ঠীর অপতৎপরতা। তিনি জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতাকে দমনে মাধ্যমে মানব ধর্ম ও মানবতার রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আহবান জানান।

সভাপতির বক্তৃতায় অধ্যাপক ড. মুনতাসীর মামুন বলেন, বাংলাদেশের গণহত্যা বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি পায়নি কারণ এ দেশে গণহত্যা নিয়ে অপরাজনীতি হয়েছে। গণহত্যা নিয়ে এই অপরাজনীতি বন্ধ করতে এই আর্কাইভ ও জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। কেবল দমন করে জঙ্গিবাদ নির্মূল করা যাবে না উল্লেখ করে অধ্যাপক মামুন বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিবিদ ও প্রশাসন যদি ধর্মান্ধদের সাথে সমঝোতা বন্ধ না করে, নতুন প্রজন্মকে যদি মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয় তাহলে সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প এ দেশ থেকে কখনো দূরীভূত হবে না।

অনুষ্ঠানে আরও জানানো হয়, গত ৫ বছরে গণহত্যা জাদুঘরের অধীনে বিভিন্ন বধ্যভূমিতে ৩০ টি স্মৃতিফলক, ৩০ জেলায় গণহত্যা জরিপ, ৮০ টি গণহত্যা নির্ঘন্ট প্রকাশ ও ৩০০ জন গবেষককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, আর্কাইভে মুক্তিযুদ্ধ সংক্রান্ত প্রায় ৯ হাজার ছবি, ৬ হাজার গ্রন্থ এবং দুষ্প্রাপ্য পত্র-পত্রিকা রক্ষিত রয়েছে। এই জাদুঘরই প্রথম ডিজিটাল জেনোসাইড ম্যাপ তৈরি করেছে এবং এ সব ক্ষেত্রে সহায়তা করেছে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়। এই মন্ত্রণালয় জাদুঘরের জরাজীর্ণ ভবন ভেঙ্গে নতুন ভবন নির্মানের উদ্যোগ নিয়েছে।

অনুষ্ঠানে জাদুঘরের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যবৃন্দ, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও শিক্ষার্থী সহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জাদুঘরের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য শঙ্কর মল্লিক। উল্লেখ, ২০১৪ সালের ১৭ মে খুলনা শহরে এই জাদুঘর প্রতিষ্ঠিত হয়। রমজানের কারণে এবছর কিছু দিন এগিয়ে জাদুঘরের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপিত হয়।