শনিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২২, ০৭:০৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
খুলনার বৃক্ষমেলায় প্রায় ৪৯ লাখ টাকার  চারা বিক্রি রূপসায় চিংড়ির পঁচা মাথার গন্ধে মারাত্নক পরিবেশ দুষন, জনজীবন অতিষ্ঠ অবৈধ সরকার অর্থনীতিসহ সার্বিক পরিস্থিতিতে চলতি মাসও টিকে থাকতে পারবে না : বিএনপি রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের চুরি হওয়া মালামালসহ ০৪ চোর আটক রূপসায় চিংড়িতে অপদ্রব্য পুশ করার সময় হাতেনাতে আটক, ৭জনের কারাদন্ড জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের বিশেষ বর্ধিত সভা বিশ্বকে বাংলাদেশের সক্ষমতা দেখিয়ে দিয়েছেন শেখ হাসিনা : সিটি মেয়র শিক্ষকদের পাণ্ডিত্য, গবেষণা ও ব্যক্তিত্ব শিক্ষার্থীরা অনুসরণ করে কুয়েট ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. কাজী সাজ্জাদ হোসেন মেয়াদকাল শেষ রামপাল কলেজ শিক্ষকের অনিয়মের সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিককে হুমকি, থানায় জিডি

স্বাধীনতা দিবস ও প্রাসঙ্গিক কিছু কথা

সংবাদদাতার নাম :
  • প্রকাশিত সময় মঙ্গলবার, ২৬ মার্চ, ২০১৯
  • ৭৭১ পড়েছেন

দীপক রায় :
এক নদী রক্ত পেরিয়ে বাংলার স্বাধীনতা আনলে যারা, আমরা তোমাদের ভূলব না। সত্যিই তো তোমাদের ঋণ কোনো কিছুর বিনিময়ে শোধ করা যায় না। শুধু অবনত মস্তকে তোমাদের সর্বোচ্চ সম্মান ও শ্রদ্ধা জানানো ছাড়া আমাদের ক্ষমতায় আর কিছুই কুলায় না। তাই প্রতিবছর যখন দিন পরিক্রমায় ২৬ মার্চ দিনটি আসে গোটা জাতি তখন শ্রদ্ধা ভক্তি ভালবাসায় দেশের শ্রেষ্ট সন্তান শহীদদের স্মরণ করে। বাঙালী গানে, গল্পে, বক্তৃতায়, আবৃতিতে তাদের বিরগাঁথা কাহিনী নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরে যেন; বাংলাদেশ ও বাঙালী যতদিন পৃথিবীতে থাকবে ততদিন স্বাধীনতার ইতিহাস বাংলার আকাশ বাতাস ও মাটিতে মিশে থাকে। মুক্ত স্বাধীন বাংলাদেশ, তার বুকে আকাশে পত পত করে উড়ছে সবুজের বুকে লাল পতাকা এ সবই তোমাদের জন্য।

১৯০ বছরের শাসন শোষন নিপীড়নের বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ি আন্দোলনের পর ভারতবর্ষকে স্বাধীনতা দিয়েছিল ধূর্ত বনিক ইংরেজরা। সে স্বাধীনতার প্রেক্ষিতেই ১৯৪৭ সালে জন্ম হয় পাকিস্তান রাষ্ট্রের। দ্বি-জাতি তত্বের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা নতুন রাষ্ট্রের মূল মন্ত্র ছিল ধর্মীয় জাতীয়তাবাদ। মুসলিমরা ভাই ভাই তারা কখনও একে অন্যকে ঠকাবে না, শোষণ করবে না, কেই কাউকে হিংসা করবে না। এই ছিল সেদিনের মানুষের বিশ্বাস। কিন্তু অতি অল্প সময়ের মধ্যে সে বিশ্বাসে ফাটল ধরতে শুরু করল। পূর্ব ও পশ্চিম এ দুটি অঞ্চল নিয়ে গড়ে ওঠা পাকিস্তানের পশ্চিম অঞ্চলে রয়ে গেল রাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় শাসন। কেন্দ্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ট সকলেই ছিল অবাঙালী। পূরবের বাঙালীদের ভাষা সাহিত্য সংস্কৃতি এমনকি ধর্মের প্রতি ছিল তাদের চরম অবজ্ঞা এবং ঘৃনা।

পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টির মাত্র পাঁচ বছরের মধ্যেই ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে ঢাকার রাজপথ রঞ্জিত হলো বাঙালীদের রক্তে। ভাষা আন্দোলন থেকে স্বাধীনতা প্রাপ্তির পূর্ব পর্যন্ত বাঙালীরা আর থেমে থাকেনি। একটার পর একটা আন্দোলন পাকিস্তানীদের শক্ত ভিতকে নড়বড়ে করে দিয়েছিল। ১৯৫৪ সালে মুসলিম লীগের শোষনের বিরুদ্ধে গড়ে তোলা হয় যুক্তফ্রন্ট। ১৯৬২ সালের ছাত্র আন্দোলন। ১৯৬৬ সালে বাঙালীর প্রাণের দাবি ছয় দফা। ১৯৬৯ সালে ছয় দফা এবং এগার দফার দাবিতে গড়ে ওঠে প্রবল গণ-আন্দোলন। এরপর ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন। শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে সমগ্র বাঙালী মিলিত হলো আওয়ামী লীগের পতাকা তলে। নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করেও আওয়ামী লীগকে সরকার গঠন করতে দেওয়া হল না। এরপর কোনো সমঝোতায় না আসতে পেরে ১৯৭১ সালের ৭মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেসকোর্স ময়দানে ডাক দিলেন বাঙালীর স্বাধীনতা সংগ্রামের। এমনিই পাকিস্তানীদের প্রতি বাঙালীর চাপা ক্ষোভ ছিল ৭ মার্চ ভাষনের পর জ্বলন্ত আগুনে যেন ঘি ঢালা হলো। সারা বাংলায় আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ল। দিকে দিকে ধ্বনিত হতে লাগলো জয় বাংলা শ্লোগান। এই জয়বাংলা স্লোগান  ভিত সন্ত্রস্থ করে তুলল শোষক পাকিস্তানীদের।

বাঙালীর ন্যায়সংগত আন্দোলনকে থামাতে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তান সরকার পাক বাহিনীকে লেলিয়ে দেয় বাংলার সাধারণ মানুষের উপর। সেদিন নিরীহ মানুষদের নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। নারীদের উপর চলে হত্যা ধর্শন ও নির্যাতন। ২৫ মার্চ গভীর রাতে শেখ মুজিবকে গ্রেপ্তার করে পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয়। তখন দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া বাঙালী আর বসে থাকতে পারেনি তাই আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধোর ঘোষনার অপেক্ষা না করে অনেকেই যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধের ঘোষনা হওয়ার পর বাঙালী প্রতিবেশি ভারত থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে হানাদার বাহিনীর সাথে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধের পর মুক্তি বাহিনীর কাছে পাক সেনারা আত্ম সমর্পন করে। এ যুদ্ধে প্রায় ৩০ লক্ষ মানুষ জীবন দেয়, ২ লক্ষ মা বোন ধর্ষিত হয় এবং ভারতে ১ কোটি মানুষ আশ্রয় নেয়।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গ্রেপ্তার হন। শেখ মুজিব গ্রেপ্তার হবার ২৫ মার্চ রাত ১২টার পর অর্থাৎ ২৬মার্চ প্রথম প্রহরে তিনি স্বাধীনতার ঘোষনা পত্রে স্বাক্ষর করেন যা চট্টগ্রামে অবস্থিত ততকালীন ই,পি,আর ট্রান্সমিটারে প্রচার করার জন্য পাঠানো হয়। দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭২ সালের ২২ জানুয়ারী এক প্রজ্ঞাপনে দিনটি জাতীয় দিবস হিসাবে পালন করার সিদ্ধান্ত গৃহিত হয় এবং দিনটি সরকারী ছুটির দিন ঘোষনা করা হয়। এমনিভাবে আন্দোলন সংগ্রাম এবং রক্তের বিনিময়ে দেশ স্বাধীন হয়। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, বাঙালীর স্বাধীনতার সংগ্রাম শেষ হলেও আমাদের মুক্তির সংগ্রাম আজও শেষ হয়ে যায়নি।

স্বাধীনতার ৪৮ বছরেও এখনও প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক তালিকা তৈরী করা সম্ভব হয়নি। খুলনার দাকোপের মুক্তিযোদ্ধা অমুল্য’র মত অনেক প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা না খেতে পেয়ে বিনা চিকিৎসায় মারা যাচ্ছে এটা জাতীর জন্য অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। আবার দেখা যায় অনেকেই মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করেনি বরং তখন বিরোধীতা করেছিল তারা মুক্তি যোদ্ধার সার্টিফিকেট নিয়ে সকল সু্িবধা ভোগ করছে। যত শীঘ্র সম্ভব মুক্তিযোদ্ধার তালিকা সংশোধন করা দরকার। মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী আওয়ামী লীগ এখন রাষ্ট্র ক্ষমতায় তাই দেশের মানুষ তাদের কাছে অনেক কিছুই আশা করে। প্রসঙ্গত দেশের অনেক বদ্ধভূমি এখনও অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে সেগুলি স্থানীয় মানুষের সহযোগিতা নিয়ে চিহ্নিত করে সেখানে শহীদস্মৃতি স্তম্ভ নির্মান করে শহীদদের সম্মান প্রদর্শন করতে হবে।

আর একটি কথা না বললেই নয়; জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান কৃষকদের উন্নয়নে নানামুখি পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। জননেত্রী শেখ হাসিনাকেও দায়িত্ব নিতে হবে কৃষকের ভাগ্য গড়ে দেবার। রাষ্ট্রীয় সকল সুযোগ সুবিধায় সব মানুষের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নাগরিক অধিকারের ক্ষেত্রে বৈষম্য কমাতে হবে। দেশ থেকে সন্ত্রাস, ঘুষ, দূর্নীতি ও মাদককে দূর করতে হবে। তাহলে স্বাধীনতার স্বপ্নদ্রষ্টা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের আত্মা শান্তি পবে। আ’লীগের নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে এ অগ্রযাত্রাকে ধরে রাখতে হবে। দেশকে ভালোবেসে দেশের একতা এবং সংহতি বজায় রেখে দেশের স্বাধীনতাকে মর্যাদা দিতে হবে।

সংবাদটি শেয়ার করার জন্য অনুরোধ করা হলো

এ ধরনের আরো সংবাদ

© All rights reserved by www.banglardinkal.com (Established in 2017)

Hwowlljksf788wf-Iu