ঢাকা ০৮:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

দেশ বরেণ্য সংগীতশিল্পী সুবীর নন্দী আর নেই

অনলাইন ডেক্স: দেশ বরেণ্য সংগীতশিল্পী সুবীর নন্দী আজ চলে গেলেন না ফেরার দেশে। বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৪টায় সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে মারা যান তিনি।

উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ৩০ এপ্রিল থেকে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন দেশের বরেণ্য সংগীতশিল্পী সুবীর নন্দী। গত শনিবার থেকেই তার অবস্থা নিয়ে সন্দিহান ছিলো চিকিৎসকরা। সংশয়ে ছিলেন তার পরিবারের সদস্যরাও। গত দুই দিনে (শনি ও রবিবার) তিনবার হার্ট অ্যাটাক হয় সুবীর নন্দীর। দুইবার হার্ট অ্যাটাকের পর চারটি রিং পরানো হয়েছিলো সুবীর নন্দীর হার্টে, কিন্তু এরপরেও রবিবার রাতে আবার হার্ট অ্যাটাক করেন তিনি। এরপর চিকিৎসকরাও সুবীর নন্দীর সুস্থতা নিয়ে আশা হারিয়ে ফেলেছিলেন।

পারিবারিক সূত্রে জানানো হয়, সিঙ্গাপুরের চিকিৎসকরা তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। তবু শেষ পর্যন্ত বাঁচানো গেলো না তাকে। উন্নত চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে নিজের দেশে আর ফিরতে পারলেন না এই সংগীতশিল্পী।

গত ১২ এপ্রিল পরিবারের সবাই মিলে মৌলভীবাজারে আত্মীয়ের বাড়িতে যান। সেখানে একটি অনুষ্ঠান ছিল। ১৪ এপ্রিল ঢাকায় ফেরার ট্রেনে ওঠার জন্য বিকেলে মৌলভীবাজার থেকে শ্রীমঙ্গলে আসেন তারা। ট্রেনেই অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি।

ভাগ্যক্রমে সেখানে একজন চিকিৎসক থাকায় তার পরামর্শে সুবীর নন্দীকে নিয়ে তাঁরা ঢাকার বিমানবন্দর স্টেশনে নেমে যান। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় রাত ১১টার দিকে তাঁকে দ্রুত সিএমএইচে নিয়ে যাওয়া হয়।

ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন থাকাকালীন ১৬ দিন  লাইফ সাপোর্টে ছিলেন সুবীর নন্দী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ৩০ এপ্রিল ঢাকার সিএমএইচ থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় একুশে পদকপ্রাপ্ত এই সংগীতশিল্পীকে। দীর্ঘদিন ধরে কিডনি ও হার্টের অসুখে ভুগছিলেন তিনি।

৪০ বছরের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে আড়াই হাজারেরও বেশি গান গেয়েছেন সুবীর নন্দী। রেডিও, টেলিভিশন, চলচ্চিত্রে নিয়মিত গাইছেন এখনও। ১৯৮১ সালে তার প্রথম একক অ্যালবাম ‘সুবীর নন্দীর গান’ প্রকাশিত হয়। চলচ্চিত্রে তিনি প্রথম গান করেন ১৯৭৬ সালে। ছবির নাম ‘সূর্যগ্রহণ’।

সুবীর নন্দী জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন চারবার। সংগীতে অবদানের জন্য এ বছর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদক পান তিনি।

তার গাওয়া উল্লেখযোগ্য গানের মধ্যে রয়েছে- আমার এ দুটি চোখ, বন্ধু হতে চেয়ে, আমি বৃষ্টির কাছ থেকে কাঁদতে শিখেছি, চাঁদের কলঙ্ক আছে, দিন যায় কথা থাকে, একটা ছিল সোনার কন্যা, হাজার মনের কাছে, কত যে তোমাকে বেসেছি ভালো, পাহাড়ের কান্না, বন্ধু হতে চেয়ে তোমার প্রভৃতি।

এদিকে, বরেণ্য এই সংগীত শিল্পীর মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

Tag :
About Author Information

বাংলার দিনকাল

Editor and publisher
জনপ্রিয় সংবাদ

খুবিতে ‘জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ উদ্বোধন

দেশ বরেণ্য সংগীতশিল্পী সুবীর নন্দী আর নেই

প্রকাশিত সময় ০৫:০১:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ মে ২০১৯

অনলাইন ডেক্স: দেশ বরেণ্য সংগীতশিল্পী সুবীর নন্দী আজ চলে গেলেন না ফেরার দেশে। বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৪টায় সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে মারা যান তিনি।

উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ৩০ এপ্রিল থেকে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন দেশের বরেণ্য সংগীতশিল্পী সুবীর নন্দী। গত শনিবার থেকেই তার অবস্থা নিয়ে সন্দিহান ছিলো চিকিৎসকরা। সংশয়ে ছিলেন তার পরিবারের সদস্যরাও। গত দুই দিনে (শনি ও রবিবার) তিনবার হার্ট অ্যাটাক হয় সুবীর নন্দীর। দুইবার হার্ট অ্যাটাকের পর চারটি রিং পরানো হয়েছিলো সুবীর নন্দীর হার্টে, কিন্তু এরপরেও রবিবার রাতে আবার হার্ট অ্যাটাক করেন তিনি। এরপর চিকিৎসকরাও সুবীর নন্দীর সুস্থতা নিয়ে আশা হারিয়ে ফেলেছিলেন।

পারিবারিক সূত্রে জানানো হয়, সিঙ্গাপুরের চিকিৎসকরা তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। তবু শেষ পর্যন্ত বাঁচানো গেলো না তাকে। উন্নত চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে নিজের দেশে আর ফিরতে পারলেন না এই সংগীতশিল্পী।

গত ১২ এপ্রিল পরিবারের সবাই মিলে মৌলভীবাজারে আত্মীয়ের বাড়িতে যান। সেখানে একটি অনুষ্ঠান ছিল। ১৪ এপ্রিল ঢাকায় ফেরার ট্রেনে ওঠার জন্য বিকেলে মৌলভীবাজার থেকে শ্রীমঙ্গলে আসেন তারা। ট্রেনেই অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি।

ভাগ্যক্রমে সেখানে একজন চিকিৎসক থাকায় তার পরামর্শে সুবীর নন্দীকে নিয়ে তাঁরা ঢাকার বিমানবন্দর স্টেশনে নেমে যান। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় রাত ১১টার দিকে তাঁকে দ্রুত সিএমএইচে নিয়ে যাওয়া হয়।

ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন থাকাকালীন ১৬ দিন  লাইফ সাপোর্টে ছিলেন সুবীর নন্দী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ৩০ এপ্রিল ঢাকার সিএমএইচ থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় একুশে পদকপ্রাপ্ত এই সংগীতশিল্পীকে। দীর্ঘদিন ধরে কিডনি ও হার্টের অসুখে ভুগছিলেন তিনি।

৪০ বছরের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে আড়াই হাজারেরও বেশি গান গেয়েছেন সুবীর নন্দী। রেডিও, টেলিভিশন, চলচ্চিত্রে নিয়মিত গাইছেন এখনও। ১৯৮১ সালে তার প্রথম একক অ্যালবাম ‘সুবীর নন্দীর গান’ প্রকাশিত হয়। চলচ্চিত্রে তিনি প্রথম গান করেন ১৯৭৬ সালে। ছবির নাম ‘সূর্যগ্রহণ’।

সুবীর নন্দী জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন চারবার। সংগীতে অবদানের জন্য এ বছর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদক পান তিনি।

তার গাওয়া উল্লেখযোগ্য গানের মধ্যে রয়েছে- আমার এ দুটি চোখ, বন্ধু হতে চেয়ে, আমি বৃষ্টির কাছ থেকে কাঁদতে শিখেছি, চাঁদের কলঙ্ক আছে, দিন যায় কথা থাকে, একটা ছিল সোনার কন্যা, হাজার মনের কাছে, কত যে তোমাকে বেসেছি ভালো, পাহাড়ের কান্না, বন্ধু হতে চেয়ে তোমার প্রভৃতি।

এদিকে, বরেণ্য এই সংগীত শিল্পীর মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।