ঢাকা ০৭:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

দাকোপে আকর্ষিক টর্নেডোর আঘাতে ঘরবাড়ী বিধ্বস্ত; প্রায় ৫’শ পরিবার খোলা আকাশের নীচে

 দাকোপ(খুলনা)সংবাদদাতা :
খুলনার দাকোপে আকর্ষিক ঘুর্ণিঝড় টর্নেডোর আঘাতে অসংখ্য ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। এসময়ে ১২ জন আহত সহ হাজার হাজার গাছপালা উপড়ে মানুষের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ৫ শতাধিক পরিবার খোলা আকাশের নীচে মানবেতর জীবন যাপন করছে। এ ঘটনায় নব নির্বাচিত উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলানির্বাহী অফিসার ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন করেছেন।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আকাশে কালো মেঘের সৃষ্টি হয়ে মুহুর্তের মধ্যে প্রচন্ড গতিতে শুরু হয় ঝড়ো হাওয়া এবং বজ্রসহ শিলাবৃষ্টি। এরমধ্যে উপজেলার সুতারখালী ইউনিয়নের গুনারী কালিবাড়ি, সুতারখালী মডেল গ্রামে ও তিলডাঙ্গা ইউনিয়নের গড়খালী, কামনিবাসীয়া এলাকায় আকর্ষি কঘূর্ণিঝড় টর্নেডো আঘাত হানে। ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে মুহুর্তের মধ্যে লন্ডভন্ড হয়ে যায় অসংখ্য কাঁচাপাঁকা বাড়িঘর। উপড়ে পড়ে হাজার হাজার গাছপালা। এসময়ে দিক বিদিক ছুটো ছুটি করতে গিয়ে আহত হয়েছে ১২জন। বর্তমানে দু‘টি ইউনিয়নের প্রায় ৫ শতাধিক পরিবার খোলা আকাশের নীচে অর্ধহারে অনাহারে মানবেতর জীবন যাপন করছে বলে এলাকার জনপ্রনিধিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে। এঘটনার পর গতকাল বুধবার নব নির্বাচিত উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ মুনসুর আলী খান ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আবদুল ওয়াদুদ ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন করেছেন।

তিলডাঙ্গা ইউনিয়নের ৪নং ইউপি সদস্য সুপ্রভাত মন্ডল বলেন কামনিবাসী এলাকায় তার নিজ ওয়ার্ডে প্রায় দুইশতাধিক কাঁচাপাঁকা ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে। এছাড়া ইউনিয়নের অন্যান্য ওয়ার্ডে আরো প্রায় দুই শতাধিক ঘরবাড়ি আংশিক বিধ্বস্ত হয়েছে। তাছাড়া ঝড়ের সময়ে ১২ জন আহত হয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। বর্তমানে তারা খোলা আকাশের নীচে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে বলে তিনি জানান।

সুতারখালী ইউপি চেয়ারম্যান মাসুম আলী ফকির জানান ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে গুনারী কালিবাড়ি ও সুতারখালী মডেল গ্রামে প্রায় ৩ শতাধিক ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে। এছাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে আরো প্রায় ৪ শতাধিক ঘরবাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ সহ ধানের গোলা, পলের গাদা ক্ষতি গ্রস্থ হয়েছে। এছাড়া অসংখ্য গাছপালা উপড়ে পড়ে এবং ঘের পুকুর তলিয়ে মানুষের ব্যাপক ক্ষয় ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি জানান।

উপজেলানির্বাহী অফিসার মোঃ আবদুল ওয়াদুদ বলেন তিনি ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং প্রাথমিক ভাবে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ৯৮০টি ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে এরমধ্যে ২৭০টি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত বলে তিনি জানান। তিনি বলেন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে গুনারী কালিবাড়ি ও কামনিবাসীয়া এলাকায়। এসব এলাকায় তিনি ১ মেট্রিক টন করে চাউলও ২০ হাজার কওে টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন এবং পর্যাপ্ত বান্ডেল টিন ও আরো ত্রান বরাদ্দ চেয়ে উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষের কাছে পত্র প্রেরণ করেছেন বলে জানান।
এবিষয়ে নব নির্বাচিত উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ মুনসুর আলী খান বলেন তিনি ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন গিয়ে ক্ষতিগ্রস্থদের সাথে কথা বলেছেন এবং এসময়ে তিনি তাদের সহযোগীতার আশ্বাস দিয়েছেন। এসময়ে তার সাথে আ‘লীগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

Tag :
About Author Information

বাংলার দিনকাল

Editor and publisher
জনপ্রিয় সংবাদ

খুবিতে ‘জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ উদ্বোধন

দাকোপে আকর্ষিক টর্নেডোর আঘাতে ঘরবাড়ী বিধ্বস্ত; প্রায় ৫’শ পরিবার খোলা আকাশের নীচে

প্রকাশিত সময় ০৭:২০:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ এপ্রিল ২০১৯

 দাকোপ(খুলনা)সংবাদদাতা :
খুলনার দাকোপে আকর্ষিক ঘুর্ণিঝড় টর্নেডোর আঘাতে অসংখ্য ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। এসময়ে ১২ জন আহত সহ হাজার হাজার গাছপালা উপড়ে মানুষের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ৫ শতাধিক পরিবার খোলা আকাশের নীচে মানবেতর জীবন যাপন করছে। এ ঘটনায় নব নির্বাচিত উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলানির্বাহী অফিসার ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন করেছেন।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আকাশে কালো মেঘের সৃষ্টি হয়ে মুহুর্তের মধ্যে প্রচন্ড গতিতে শুরু হয় ঝড়ো হাওয়া এবং বজ্রসহ শিলাবৃষ্টি। এরমধ্যে উপজেলার সুতারখালী ইউনিয়নের গুনারী কালিবাড়ি, সুতারখালী মডেল গ্রামে ও তিলডাঙ্গা ইউনিয়নের গড়খালী, কামনিবাসীয়া এলাকায় আকর্ষি কঘূর্ণিঝড় টর্নেডো আঘাত হানে। ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে মুহুর্তের মধ্যে লন্ডভন্ড হয়ে যায় অসংখ্য কাঁচাপাঁকা বাড়িঘর। উপড়ে পড়ে হাজার হাজার গাছপালা। এসময়ে দিক বিদিক ছুটো ছুটি করতে গিয়ে আহত হয়েছে ১২জন। বর্তমানে দু‘টি ইউনিয়নের প্রায় ৫ শতাধিক পরিবার খোলা আকাশের নীচে অর্ধহারে অনাহারে মানবেতর জীবন যাপন করছে বলে এলাকার জনপ্রনিধিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে। এঘটনার পর গতকাল বুধবার নব নির্বাচিত উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ মুনসুর আলী খান ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আবদুল ওয়াদুদ ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন করেছেন।

তিলডাঙ্গা ইউনিয়নের ৪নং ইউপি সদস্য সুপ্রভাত মন্ডল বলেন কামনিবাসী এলাকায় তার নিজ ওয়ার্ডে প্রায় দুইশতাধিক কাঁচাপাঁকা ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে। এছাড়া ইউনিয়নের অন্যান্য ওয়ার্ডে আরো প্রায় দুই শতাধিক ঘরবাড়ি আংশিক বিধ্বস্ত হয়েছে। তাছাড়া ঝড়ের সময়ে ১২ জন আহত হয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। বর্তমানে তারা খোলা আকাশের নীচে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে বলে তিনি জানান।

সুতারখালী ইউপি চেয়ারম্যান মাসুম আলী ফকির জানান ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে গুনারী কালিবাড়ি ও সুতারখালী মডেল গ্রামে প্রায় ৩ শতাধিক ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে। এছাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে আরো প্রায় ৪ শতাধিক ঘরবাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ সহ ধানের গোলা, পলের গাদা ক্ষতি গ্রস্থ হয়েছে। এছাড়া অসংখ্য গাছপালা উপড়ে পড়ে এবং ঘের পুকুর তলিয়ে মানুষের ব্যাপক ক্ষয় ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি জানান।

উপজেলানির্বাহী অফিসার মোঃ আবদুল ওয়াদুদ বলেন তিনি ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং প্রাথমিক ভাবে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ৯৮০টি ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে এরমধ্যে ২৭০টি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত বলে তিনি জানান। তিনি বলেন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে গুনারী কালিবাড়ি ও কামনিবাসীয়া এলাকায়। এসব এলাকায় তিনি ১ মেট্রিক টন করে চাউলও ২০ হাজার কওে টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন এবং পর্যাপ্ত বান্ডেল টিন ও আরো ত্রান বরাদ্দ চেয়ে উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষের কাছে পত্র প্রেরণ করেছেন বলে জানান।
এবিষয়ে নব নির্বাচিত উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ মুনসুর আলী খান বলেন তিনি ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন গিয়ে ক্ষতিগ্রস্থদের সাথে কথা বলেছেন এবং এসময়ে তিনি তাদের সহযোগীতার আশ্বাস দিয়েছেন। এসময়ে তার সাথে আ‘লীগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।