শুক্রবার, ১২ অগাস্ট ২০২২, ০৬:২৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম
মোংলায় নাসা অ্যাপস চ্যালেঞ্জ বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন দলনেতা সুমিতকে সংবর্ধনা আমাদের শিক্ষা ও সংস্কৃতির ঐতিহ্য অন্তর্ভুক্ত করেই কারিকুলা বিশ্বমানের করতে হবে : খুবি উপাচার্য খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের  উপাচার্য সম্পাদিত গবেষণা গ্রন্থ প্রকাশ বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দর্শন বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে : সিটি মেয়র খুলনায় জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচি কুয়েটের বঙ্গবন্ধু চেয়ার প্রফেসর নিয়োগ পেলেন প্রফেসর ড. খুরশীদা বেগম রূপসায় বিভিন্ন অনিয়মের প্রতিবাদে প্রধান শিক্ষককে ৩ ঘন্টা অবরুদ্ধ, মানববন্ধন এবং ভাঙচুর নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মানোন্নয়নে সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন : সিটি মেয়র চুকনগরে কথিত সাংবাদিক ও সহযোগীদের চাঁদা দাবী : যুবকের আত্মহত্যা সময়ের চাহিদা অনুযায়ী আইন শিক্ষায় প্রযুক্তির সংশ্লেষ ঘটাতে হবে : খুবি উপাচার্য

তরুণদের ভাবনায় কয়রা ডিজিটাল ব্লাড ব্যাংক গ্রুপ

সংবাদদাতার নাম :
  • প্রকাশিত সময় সোমবার, ২৭ মে, ২০১৯
  • ১০৩১ পড়েছেন

ওবায়দুল কবির(সম্রাট) কয়রা : সমাজের অবহেলিত, দুস্থ ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে এগিয়ে নিতে প্রাতিষ্ঠানিক সমাজকর্মের ভূমিকা অপরিসীম। বর্তমানে এ খাতে হাজার হাজার তরুণ-তরুণী আত্ননিয়োগ করেছে। তারা শিশু কল্যাণ, যুব কল্যাণ, শারীরিক ও মানসিক অসমর্থ্য ব্যক্তিদের কল্যাণ, বয়স্ক শিক্ষা, পূর্ণবাসন, দুস্থদের কল্যাণ, দরিদ্র রোগীদের সেবা, রক্তদানসহ নানাবিধ মানবকল্যানে নিয়োজিত। এরি ধারাই রক্তদানে খুলনা জেলার কয়রা থানাধীন কয়রা ব্লাড ব্যাংক ফেসবুক গ্রুপের ভূমিকা অসামান্য। মূমুর্ষ রোগীদের জরুরী রক্তের চাহিদা পূরণে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।

রক্তদান হচ্ছে সবচেয়ে বড় একটি মানবসেবা। এটা একটা এবাদত। একজন মুর্মূর্ষ রোগীকে রক্তদান করে প্রাণে বাঁচানোর ঋণ শোধ করা যায় না। একবিংশ শতাব্দিতে বিজ্ঞানের আর্শীবাদে জীবন ও জগতের উন্নতি হওয়া সত্বেও রক্তের কোন বিকল্প আবিষ্কার হয়নি। রক্তের বিকল্প শুধু রক্ত যা টাকার পরিমাপে মূল্যায়ণ অসম্ভব। একজন মূমুর্ষ রোগীর জন্য যখন জরুরী রক্তের প্রয়োজন হয় তখন বোঝা যায় রক্তের মূল্য কতখানি। প্রতিনিয়ত রক্তের অভাবে ঝরে যায় হাজারো প্রাণ। কিন্তু সামাজিকভাবে বাংলাদেশে স্বেচ্ছায় রক্তদানের সংখ্যা নিতান্তই অপ্রতুল। এর কারন বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আমরা রক্তদান সম্পর্কে সচেতন নই, রক্তদানের কথা শুনলে আমরা ভয় পাই। কিন্তু আমরা যদি রক্তদান সম্পর্কে জানতে পারি, নিজেকে সচেতন করতে পারি ও মানবসেবায় নিজেকে উজ্জিবিত করতে পারি তাহলে রক্তদান সম্পর্কে ভয়টাকে জয় করতে পারি। কারন ১৮-৫০ বছরের সকল নারী পুরুষ শারীরিকভাবে সুস্থ্য থাকলে ৯০ দিন পর পর এক ব্যাগ রক্ত দান করতে পারে। রক্তদান সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি ও রক্তদানকে একটি সামাজিক আন্দোলন হিসেবে গড়ে তোলার মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে কিছু উদীয়মান মানবসেবী তরুনের অক্লান্ত পরিশ্রমে যাত্রা শুরু করে স্বেচ্ছায় রক্তদানকারী সংগঠন কয়রার ব্লাড ব্যাংক গ্রুপ।

যারা স্বেচ্ছায় রক্তদাতা ও রক্ত গ্রহীতাদের সংযোগ সৃষ্টি করছে মানবতার সেবায়। কয়রার মাটিতে রক্তের অভাবে যেন একটি মানুষও মৃত্যুবরণ না করে এই উদ্দেশ্য নিয়ে ১ জানু ২০১৯ সালে কয়রার তরুণ মোস্তাফিজুর রহমান (সোহাগ ) ও সোহাগ বাবু তার কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে শুরু করে অনলাইন ভিত্তিক এই রক্তদান সংগঠন কয়রা ব্লাড ব্যাংক গ্রুপ ।
কয়রা ব্লাড ব্যাংকের গ্রুপের মূল কাজ ফেসবুক গ্রুপএর মাধ্যমে রক্ত গ্রহীতা ও রক্ত দাতাদের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করে দেওয়া। রক্তের জন্য আবেদন করার সুযোগ রয়েছে তাদের ফেসবুক গ্রুপে।

https://www.facebook.com/groups/2051610904917513/ এ জন্য তাদের রয়েছে একটি কল সেন্টারও আছে ; যার মোবাইল নম্বর 01926-161793 রক্তের প্রয়োজনে এজন্য রক্ত গ্রহীতা বা তার পক্ষ থেকে জানাতে হবে রক্তের গ্রুপ ও হাসপাতালের অবস্থান। কয়রা ব্লাড ব্যাংকে আছে রক্তদাতাদের একটি ঠিকানা , একটি কল সেন্টার, রক্ত গ্রহীতার কাছে রক্তদাতাকে পৌঁছে দিতে অসহায়দের জন্য ফ্রি যাতয়াত সুবিধা। যে কেউ রক্তের প্রয়োজনে কল সেন্টার নাম্বারে ফোন করলেই পাবেন রক্ত দাতাকে।

যারা রক্ত দিতে আগ্রহী তাঁরা কল সেন্টারে ফোন করে নাম নিবন্ধন ও সংযুক্ত থাকতে পারেন । কয়রা ব্লাড ব্যাংক গ্রুপ সেবা গ্রহীতার কাছ থেকে কোনো প্রকার আর্থিক লেনদেন করে না ও টাকা নেয় না ব্লাড ব্যাংক গ্রুপে।

প্রতিষ্ঠাতা বর্তমানে ২২ জন গ্রুপটি পরিচালনা করছেন । ১০০০+ রক্তদাতা বা ডোনারের বিস্তারিত আছে কয়রা ব্লাড ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদ এর কাছে। তাদের লক্ষ্য একটি ফিজিক্যাল ব্লাড ব্যাংক তৈরি করা এবং কমপক্ষে দুই লাখ মানুষের রক্ত সংক্রান্ত তথ্য বা ডাটাবেইজ সংরক্ষণ করা।কয়রা ও তার বাইরের মানুষের রক্ত দিয়ে জিবন বাচানো। এই সংগঠন বর্তমানে কয়রায় রোগীর রক্তের প্রয়োজন মেটাচ্ছে, যা রোগীদের জীবন বাঁচাতে দারুণ সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। কয়রা ব্লাড ব্যাংক গ্রুপ পরিচালনা পর্ষদ এর সদস্যরা জানান, প্রান্তিক মানুষদের সহযোগিতা করাই তাদের মূল লক্ষ্য।কয়রার একটি মানুষ যেন রক্তের অভাবে না মারা যান। এ পর্যন্ত তারা ৩০০ জনের বেশি ব্যক্তিকে রক্ত দিয়েছেন ।

সম্প্রতি, আন্তর্জাতিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম “ফেসবুক” অসাধারণ সহযোগিতা নিয়ে কয়রা ব্লাড ব্যাংক কাজ করে চলেছে। স্ব স্ব ইচ্ছায় যে যে ফেসবুককে নিজের রক্তের গ্রুপ এর তথ্য জানাচ্ছে, তখন সেই তথ্যটি ফেসবুক সংরক্ষণ করছে। যখন কারও রক্তের দরকার হচ্ছে তখনই ফেসবুক নোটিফিকেশন এর মাধ্যমে রক্ত গ্রহীতা ও রক্তদাতাদের যুক্ত করে দিচ্ছে।

শুরুটা কীভাবে হয় এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিষ্ঠাতা মোস্তাফিজুর রহমান (সোহাগ)বলেন , মানববতার সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করার ইচ্ছা পোষণ করি, সেচ্ছায় রক্তদান এর মত আর্ত মানবতা আর কিছু হতে পারেনা ভেবে আমি ও বন্ধু সোহাগ বাবু এবং কিছু বন্ধু কয়রায় ব্লাড ব্যাংক গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করি সর্বদাই চেষ্টা করি কয়রা যেন একটি লোক ও যেন রক্তের অভাবে মৃত্যু বরণ না করে।

‘মুমূর্ষু অবস্থায় একজন রোগীকে রক্তদান করার মত মহৎ কাজ আর হতে পারেনা। বাইরের যেকোন ব্যক্তির চাইতে কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থী ও তরুণদের রক্ত অনেক ভাল ও নির্ভেজাল। তাই শিক্ষার্থীদের ও তরুণদের উচিত রক্তদানের মাধ্যমে আর্ত-মানবতার সেবায় এগিয়ে আসা।’

সংবাদটি শেয়ার করার জন্য অনুরোধ করা হলো

এ ধরনের আরো সংবাদ

© All rights reserved by www.banglardinkal.com (Established in 2017)

Hwowlljksf788wf-Iu