ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’-এর বৈরী আবহাওয়ায় বন্ধ ঘোষণা সুন্দরবনের রাস উৎসব

0
84

অফিস ডেস্ক :
সুন্দরবনের দুবলার চরের দুই শতাধিক বছরের ঐতিহ্যবাহী রাস উৎসব ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’-এর প্রভাবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। একই সাথে আগামী ১০ থেকে ১২ নভেম্বরের অনুষ্ঠিতব্য রাস উৎবের সকল আয়োজন বাতিল করেছে আয়োজক কমিটি। আগামীকাল সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সবাইকে অবহিত করা হবে বলে জানিয়েছেন রাস মেলা আয়োজক কমিটির সাধারন সম্পাদক সোমনাথ দে।

সুন্দরবনের গভীরে দুবলার চরের আলোরকোলে দুই শতাধিক বছর ধরে ঐতিহ্যবাহী এই লোক উৎসব অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। প্রতি বছর কার্তিকের পূর্ণিমা তিথিতে এই উৎসব পালন করা হয়। তিথি অনুযায়ী আগামী ১০ থেকে ১২ নভেম্বর পর্যন্ত এই উৎসব আয়োজনের কথা ছিল। পুণ্যস্নান ও উৎসব উপলক্ষে প্রতিবছর লক্ষাধিক দেশী-বিদেশী তীর্থযাত্রী ও দর্শনার্থী সেখানে আগমন ঘটে।

দুবলার চর রাস উৎসব জাতীয় কমিটির সাধারন সম্পাদক সোমনাথ দে জানান, আবহাওয়া দপ্তরের বুলেটিন অনুসারে ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ আগামীকাল শনিবার বা রবিবার বাংলাদেশ উপকুলে আঘাত হানার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’-এর প্রভাবে বৈরী আবহা্ওয়ার কারনে জানমালের নিরাপত্তার বিবেচনায় বড় ধরনের দুর্যোগের আশঙ্কায় এবারের রাস উৎসব বন্ধ ঘোষণা কর হয়েছে। একই সাথে পুণ্যার্থী, পূজারি ও দর্শনার্থীদের এবার দুবলার রাস উৎসবে যাত্রা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। তবে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে উৎসব না হলেও সংক্ষিপ্ত পরিসরে মন্দিরে পূজা ও ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান পালিত হবে বলেও তিনি জানান।

প্রতি বছর পূনির্মা তিথিতে রাস উৎসব অনুষ্ঠিত হয় দুবলার চরের আলোরকোলে সাগর তীরে। এলাকাটি সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের অন্তর্গত এবং সংরক্ষিত বনাঞ্চল। উৎসবে যেতে তাই বন বিভাগের অনুমতি লাগে। দুর্যোগময় আবহাওয়ার কারণে বন বিভাগও উৎসবে যেতে পাস দেয়া বন্ধ করেছে। পাশাপাশি সুন্দরবন ও উপকূলে জেলেদেরও ফিরে আসতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দুবলার চর রাস উৎসব জাতীয় কমিটির যুগ্মসম্পাদক প্রদীপ বসু সন্তু জানান, ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’-এর কারনে শুক্রবার সকাল থেকে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। সুন্দরবনের দুবলার চরের আলোরকোলে ঐতিহ্যবাহী রাস উৎসবের এবারের আয়োজন দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে পূজাসহ ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান চলবে। শনিবার খুলনায় প্রেসব্রিফিংয়ের মাধ্যমে সবাইকে অবহিত করা হবে।

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদের সভাপতিত্বে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির ওই সভায় পুলিশ সুপার পংকজ চন্দ্র রায়, জেলার ৯টি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা, ফায়ার সার্ভিস, পানি উন্নয়ন বোর্ড, রেড ক্রিসেন্ট, সিপিপিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ জানান, সুন্দরবনের দুবলার চরের রাস উৎসব ছাড়াও দুবলার বিভিন্ন চরে শুঁটকি মৌসুমকে ঘিরে কয়েক হাজার জেলে অবস্থান করছেন। সেখানে জেলেদের জন্য তিনটি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র আছে। ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানার আগেই দুবলার চরের শুঁটকিপল্লির জেলেদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি সতর্কসংকেত বাড়লে উপকূলীয় লোকজনকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে এবং সংলগ্ন আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য মাইকিং করার জন্য উপজেলা প্রশাসনকে নিদের্শনা দেয়া হয়েছে। ঘুনির্ঝড়ের প্রভাব মোকাবেলায় জেলা প্রশাসন সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে বলেও তিনি জানান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here