খুলনায় আ.লীগ সম্মেলনে প্রধান অতিথি কাদের, উদ্বোধক পীযুষ; উৎকন্ঠায় নেতা কর্মীরা

176

দিলীপ বর্মণ, খুলনাঃ
খুলনা আওয়ামী লীগের সম্মেলন আজ। প্রথমবারের মত মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন হবে একই মঞ্চে। একই দিন সম্মেলন হওয়ায় বাড়তি উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে নেতাকর্মীদের মাঝে। খুলনার গণমানুষের মধ্যেও আগ্রহ বেড়েছে। এই সম্মেলন ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে আওয়ামী লীগ। নগরীতে লিফলেট বিতরণ, মাইকিং ও ভ্রাম্যমাণ গাড়িতে সাউন্ডবক্স বাজিয়ে চলেছে সম্মেলনের প্রচারণা। নগরজুড়ে প্যানা, প্লাকার্ড, ফেস্টুন। সুবিশাল তোরণের দৃষ্টিনন্দন শোভালোক। সম্মেলন ঘিরে অনন্য সম্ভারে সজ্জিত নগরী। রূপসা থেকে ফুলতলা, ময়লাপোতা থেকে জিরো পয়েন্ট সর্বত্রই সম্মেলনের বাতাবরণে ঘেরা। ইতোমধ্যে নগরীতে ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন সম্মেলনের সফলতা কামনা করে আনন্দ মিছিল ও সমাবেশ করেছে।

সার্কিট হাউজ মাঠে সেজেছে নতুন সাজে। নৌকার আদলে গড়ে তোলা হয়েছে সুবিশাল মঞ্চ। খুলনায় স্বাধীনতার পর এত বড় মঞ্চ নির্মাণ করে সম্মেলন এই প্রথম। প্রতিদিন প্রায় ১শ শ্রমিক মঞ্চ ও প্যান্ডেল নির্মাণের কাজ করছে। সার্কিট হাউজের পূর্ব থেকে পশ্চিম পর্যন্ত ৪২০ ফুট দৈর্ঘ্য ও উত্তর থেকে দক্ষিণ পর্যন্ত ৩৪০ প্রস্থ নিয়ে প্যান্ডেল তৈরির হয়েছে। মঞ্চে দুই শতাধিক নেতার বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ডেলিগেট ও কাউন্সিলরদের জন্য ২৫ হাজার চেয়ার বসানো হয়েছে। এখানেই হবে নগর ও জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্ব। সভাস্থল ও এর বাইরে একধিক স্থানে প্রজেক্টরের মাধ্যমে সরাসরি দেখার ব্যবস্থা থাকবে। উদ্বোধন ও কাউন্সিল এই দুইটি ধাপে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এই মঞ্চে দাঁড়িয়ে উন্নত, সমৃদ্ধ বাংলাদেশের চালিকাশক্তিরা খুলনার আগামীর নেতৃত্ব ঘোষণা করবেন। ধারনা করা হচ্ছে দলীয় নেতা কর্মীসহ প্রায় ৬০ হাজার মানুষ এই সম্মেলনস্থলে উপস্থিত থাকবেন। শ্রোতাদের সুবিধার্থে সার্কিট হাউস ও এর আশপাশের সড়কে ১৩০ টি মাইক স্থাপন করা হয়েছে।

সম্মেলনে প্রধান অতিথি থাকবেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। উদ্বোধন করবেন আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য পীযুষ কান্তি ভট্টচার্য্য, প্রধান বক্তা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান, সম্মানিত অতিথি থাকবেন বাগেরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ হেলাল উদ্দিন এমপি, বিশেষ অতিথি থাকবেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম হানিফ ও প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান, বিশেষ বক্তা কেন্দ্রীয় সদস্য শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান এমপি, কেন্দ্রীয় সদস্য সাবেক প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম, খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য সেখ সালাহ উদ্দিন জুয়েল, খুলনার বিভাগীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এমপি, শ্রম সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, উপ-দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ূয়া, কেন্দ্রীয় সদস্য এস এম কামাল হোসেন, অ্যাড. আমিরুল আলম মিলন, বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ সারহান নাসের তন্ময়। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তৃতা করবেন মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সিটি মেয়র আলহাজ তালুকদার আব্দুল খালেক। এছাড়াও বক্তৃতা করবেন জাতীয় সংসদের হুইপ পঞ্চানন বিশ্বাস এমপি, সাবেক মন্ত্রী নারায়ন চন্দ্র চন্দ এমপি, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আক্তারুজ্জামান বাবু এমপি, খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম মূর্শেদী, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য গ্লোরিয়া ঝর্ণা সরকার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেখ হারুনুর রশীদ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ মিজানুর রহমান মিজান ও জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. সুজিত অধিকারী। এছাড়া দলের কেন্দ্রীয় শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা অতিথি থাকবেন।

সার্কিট হাউজ মোড়া থাকবে নিরাপত্তার চাদরে। অতিরিক্ত র‌্যাব, পুলিশ, গোয়েন্দা বিভাগসহ নিরাপত্তারক্ষীদের নিয়ন্ত্রণে থাকবে গোটা এলাকা। থাকবে ওয়ার্চ টাওয়ার, যা পর্যবেক্ষণ করবে গোটা সম্মেলন কেন্দ্রকে। মহানগর এবং জেলার কার্ডধারী ৩০ হাজার কাউন্সিলর ও ডেলিগেটসদের জন্য চেয়ারের ব্যবস্থা থাকবে। সাংবাদিকদের বসার জন্য থাকবে বিশেষ ব্যবস্থা। খুলনা ভিশন এই অনুষ্ঠান সরাসারি সম্প্রচার করবে। সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও অফিসার্স ক্লাবে থাকবে অস্থ্য়াী মেডিক্যাল ক্যাম্প। সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে ফায়ার সার্ভিস। সম্মেলনস্থলসহ নগরীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে সিসি ক্যামেরা থাকবে।

দলীয় সূত্র জানায়, সম্মেলনে মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির ৬৬ জন ও ৩৬টি ওয়ার্ড থেকে ১২ জন করে ৪৩২, ৫টি থানা থেকে ৫ জন করে ২৫ জন কাউন্সিলর অংশ নেবে। জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির ৬৭ জন ও নয়টি উপজেলা থেকে ১৫৭ জন কাউন্সিলর এবং ৪ হাজার ডেলিগেটস অংশ নেবে। এ ছাড়া ৩৬ সাংগঠনিক ওয়ার্ড থেকে ২শ জন করে ৭ হাজার ২শ জন ডেলিগেটস সম্মেলনে অংশ নেবে। ডেলিগেটের মধ্য থেকে ৫০ জন মহিলা রাখা বাধ্যতামূলক।

উল্লেখ্য ২০১৪ সালের ২৯ নভেম্বর মহানগর আওয়ামী লীগের সর্বশেষ সম্মেলনে তালুকদার আব্দুল খালেক সভাপতি ও মিজানুর রহমান মিজানকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। ২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে শেখ হারুনুর রশীদকে সভাপতি ও এসএম মোস্তফা রশিদী সুজা সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

এবারের সম্মেলনে মহানগর ও জেলার নেতৃত্ব পুনরায় পুরানোদের হাতে থাকবে না পরিবর্তন হবে তার অপেক্ষায় খুলনাবাসী।

https://www.banglardinkal.com/wp-content/uploads/2020/02/Mujibborsho-logo.jpg

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here