কয়রায় কোরবানির মাংস পেয়ে বেজায় খুশি দারিদ্ররা

203

ওবায়দুল কবির সম্রাট :

ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে গরিবদের মধ্যে ‘নিয়ম করে’ কোরবানির মাংস বিতরণ করেছেন কয়রা উপজেলার বিত্তবানসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন।ঈদের দিনে তাই মাংস পেয়ে বেজায় খুশি বাংলাদেশের সর্বদক্ষিনে সুন্দরবন বেষ্টিত উপকূলীয় অঞ্চল আম্পানে ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যন্ত কয়রা উপজেলা সদরের , সালাম, নবিছা, হালিমা, রহিম, করিমসহ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ ।

নিয়ম অনুযায়ী কোরবানির পর তিন ভাগের এক ভাগ গরিবের মধ্যে জন্য মহল্লায় /পাড়ার মসজিদে দেওয়া হয়। সেখান থেকে সেই মাংস গরিবদের মাঝে বণ্টন হয়। এছাড়া স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন
খুলনা ফুড ব্যাংক,ব্লাড ব্যাংক ও সোনার বাংলা ফেসবুক গ্রুপের উদ্যোগে আম্পানে ক্ষতিগ্রস্তি অসহায় হতদারিদ্র ও বানভাসি ১৫০ পরিবারের মাঝে কুরবানির মাংস, চাউল ও তৈল বিরতন করা হয়। কয়রা সদরে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন কয়রা উপজেলা নির্বাহী অফিসার অনিমেষ বিশ্বাস। এছাড়া স্থানীয় সামজিক সংগঠন মানব কল্যাণ ইউনিট ও বাঘ বিধবা নিয়ে কাজ করা সংগঠন আইসিডি ‘র পক্ষ থেকে বানভাসি হতদারিদ্র পরিবারের মাঝে কুরবানির মাংস পৌছে দেয় হয়।

সরেজমিনে কয়রা উপজেলা সদর, আমাদী, ৬নং কয়রা, উত্তর বেদকাশি, ২ নং কয়রা সহ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, গরিবের জন্য রাখা কুরবানির মাংস তালিকা করে দেওয়া হচ্ছে যাদের কোরবানি করার সামর্থ্য নেই তাদেরকে।

খুবই হিসাব করে গরিব পরিবারগুলোর মধ্যে বিতরণ করার সময় প্রথমে জমাকৃত মাংসের পরিমাপ করা হয়। তারপর জনপ্রতি কতটুকু পড়ে তার উপর পরিবারের সদস্য হিসাব করে মাংস দেওয়া হয়।

সামাজিক সংগঠন গুলো গ্রামের বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত, দরিদ্র, অসহায় মানুষের তালিকা তৈরী করে তাদের হাতে টোকেন দেয় সংগঠনের সদস্যরা। এরপর তালিকা ধরে তাদের মধ্যে মাংস বিতরণ করা হয়।

কথা হলো ১নং কয়রা গ্রামের আবুল হাসানের সঙ্গে।তিনি মাংস নিয়ে যাওয়ার সময় বলেন, “গরিব মানষের কুরবানি নিয়া যাবানচি। প্যাট পুরা গোস্ত খামু আইজ।”

উত্তর বেদকাশি ইউনিয়ের গাজী পাড়া গ্রামের কালাম হোসেন বলেন, “নিজে কুরবানি দিবার পাই নাই। ভাগ পাছি। বউ ছোল নিয়া বছরকার দিনের গোস্ত খামু।”

হশেন আলী নামে এক বৃদ্ধ বলেন, ‘আগে মাংস কিনে স্ত্রী, সন্তান নিয়ে ঈদের দিন খেতেন। কিন্তু বন্যা আর নদী ভাঙনে সব শেষ হওয়ায় এখন নি:স্ব হয়েছেন। যেটুকু মাংস পেয়েছি তাতে খুব ভালো লাগছে। আনন্দ করে স্ত্রীকে নিয়ে মাংস খেতে পারবো’।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here