ঢাকা ০৭:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

দাকোপে ভারি বর্ষণে তরমুজ চাষীদের মাথায় হাত

গোলাম মোস্তফা খান,দাকোপ, খুলনা :
সুস্বাদু ও সেরা জাতের তরমুজ চাষের জন্য খুলনার দাকোপ উপজেলাধীন বাজুয়া বিখ্যাত।
প্রতিবছর বাজুয়া এলাকার ৫টি ইউনিয়নের প্রায় ৬শ হেক্টর জমিতে কম করে হলেও ৩০ কোটি টাকার উন্নতমানের তরমুজ উৎপাদন হয়। এখানকার তরমুজ অত্যন্ত ভাল মানের ও সুস্বাধু হওয়ায় ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন জেলা এমনকি বিদেশের বাজারেও রয়েছে বিশেষ চাহিদা ও সুনাম ।

তাইতো এবারও কৃষকরা লাভের আশায় উচ্চ মূল্ল্যের বিদেশী বীজ কিনে প্রায় ২৫ দিন আগে থেকে চাষাবাদ শুরু করে করে বীজ বপন করে। শত শত একর জমির মাঠে মাঠে নানান জাতের তরমুজের সবুজ চারা বেড়ে উঠতে শুরু করেছে। প্রতিটি গাছে ২/৩ পাতাও গজিয়েছে কিন্তু গত ৩দিন যাবৎ টানা অকাল বর্ষণে সব শেষ, ডুবে গেছে, ভেসে গেছে, পচে গেছে তরমুজের কচি চারা গাছগুলো, এয়াড়া অনান্য রবি শস্য কুমড়ো, ঝাল, ঝিঙে, ঢেড়শ, করলা সহ এ মৌসুমে চাষ করা সকল ফসলের ক্ষেত পানিতে ডুবে গেছে। তরমুজ চাষে ৯০ দিনে ফসল পাওয়া যায় বলে স্বল্প সময়ে অধীক মুনাফার আশায় জনপ্রতি কৃষক শুধুমাএ তরমুজ চাষ করতেই ব্যাক্তিগত জমানো বা সরকারী বেসরকারী প্রতিষ্ঠান থেকে লোন নিয়ে ৫০ হাজার টাকা থেকে দেড়/দুই লক্ষ টাকা খরচ করে তরমুজ চাষ করে থাকে প্রতি বছর। কিন্তু বুধবার দিবাগত সারারাত ভারি বর্ষণে সব ডুবে গেছে, শেষ আশাটুকু আর বেঁচে নেই। কারণ জলাবদ্ধতা একদম সয্য করতে পারেনা তরমুজের কচি চারা গাছ। এ ব্যাপারে বাজুয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান দেব প্রসাদ গাইন, কৃষকনেতা ও শিক্ষক গৌরাঙ্গ প্রসাদ রায়ের সাথে কথা বললে তারা জানান ৩দিনের টানা ভারি বর্ষণে ৫টি ইউনিয়নের হাজার হাজার একর জমির মুল্যবান তরমুজ সহ সকল ফসলের ক্ষেত একেবারেই নষ্ট হয়ে গেছে ফলে কোটি কোটি টাকার ক্ষতি হয়ে গেল কৃষকের।

আলাপ হয় দাকোপ উপজেলার উপ সহকারি কৃষি কর্মকর্তা দাস বিভুতি রনজনের সাথে তিনি বলেন বৃষ্টির পর আজ বুধবার অনেক কৃষক বাজুয়া থেকে এ বিষয় ট্রেনিং এ এসেছিলেন আমরা করনীয় কি শিখিয়ে ছিলাম কিন্তু বুধবার দিবাগত সারারাত টানা ভারি বৃষ্টিতে সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয়ে গেছে, এরপর আর ক্ষেত তৈরী করে চাষাবাদ করার সময় সুযোগও থাকছে না।

Tag :
About Author Information

বাংলার দিনকাল

Editor and publisher
জনপ্রিয় সংবাদ

খুবিতে ‘জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ উদ্বোধন

দাকোপে ভারি বর্ষণে তরমুজ চাষীদের মাথায় হাত

প্রকাশিত সময় ০৫:৩৯:১১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১ মার্চ ২০১৯

গোলাম মোস্তফা খান,দাকোপ, খুলনা :
সুস্বাদু ও সেরা জাতের তরমুজ চাষের জন্য খুলনার দাকোপ উপজেলাধীন বাজুয়া বিখ্যাত।
প্রতিবছর বাজুয়া এলাকার ৫টি ইউনিয়নের প্রায় ৬শ হেক্টর জমিতে কম করে হলেও ৩০ কোটি টাকার উন্নতমানের তরমুজ উৎপাদন হয়। এখানকার তরমুজ অত্যন্ত ভাল মানের ও সুস্বাধু হওয়ায় ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন জেলা এমনকি বিদেশের বাজারেও রয়েছে বিশেষ চাহিদা ও সুনাম ।

তাইতো এবারও কৃষকরা লাভের আশায় উচ্চ মূল্ল্যের বিদেশী বীজ কিনে প্রায় ২৫ দিন আগে থেকে চাষাবাদ শুরু করে করে বীজ বপন করে। শত শত একর জমির মাঠে মাঠে নানান জাতের তরমুজের সবুজ চারা বেড়ে উঠতে শুরু করেছে। প্রতিটি গাছে ২/৩ পাতাও গজিয়েছে কিন্তু গত ৩দিন যাবৎ টানা অকাল বর্ষণে সব শেষ, ডুবে গেছে, ভেসে গেছে, পচে গেছে তরমুজের কচি চারা গাছগুলো, এয়াড়া অনান্য রবি শস্য কুমড়ো, ঝাল, ঝিঙে, ঢেড়শ, করলা সহ এ মৌসুমে চাষ করা সকল ফসলের ক্ষেত পানিতে ডুবে গেছে। তরমুজ চাষে ৯০ দিনে ফসল পাওয়া যায় বলে স্বল্প সময়ে অধীক মুনাফার আশায় জনপ্রতি কৃষক শুধুমাএ তরমুজ চাষ করতেই ব্যাক্তিগত জমানো বা সরকারী বেসরকারী প্রতিষ্ঠান থেকে লোন নিয়ে ৫০ হাজার টাকা থেকে দেড়/দুই লক্ষ টাকা খরচ করে তরমুজ চাষ করে থাকে প্রতি বছর। কিন্তু বুধবার দিবাগত সারারাত ভারি বর্ষণে সব ডুবে গেছে, শেষ আশাটুকু আর বেঁচে নেই। কারণ জলাবদ্ধতা একদম সয্য করতে পারেনা তরমুজের কচি চারা গাছ। এ ব্যাপারে বাজুয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান দেব প্রসাদ গাইন, কৃষকনেতা ও শিক্ষক গৌরাঙ্গ প্রসাদ রায়ের সাথে কথা বললে তারা জানান ৩দিনের টানা ভারি বর্ষণে ৫টি ইউনিয়নের হাজার হাজার একর জমির মুল্যবান তরমুজ সহ সকল ফসলের ক্ষেত একেবারেই নষ্ট হয়ে গেছে ফলে কোটি কোটি টাকার ক্ষতি হয়ে গেল কৃষকের।

আলাপ হয় দাকোপ উপজেলার উপ সহকারি কৃষি কর্মকর্তা দাস বিভুতি রনজনের সাথে তিনি বলেন বৃষ্টির পর আজ বুধবার অনেক কৃষক বাজুয়া থেকে এ বিষয় ট্রেনিং এ এসেছিলেন আমরা করনীয় কি শিখিয়ে ছিলাম কিন্তু বুধবার দিবাগত সারারাত টানা ভারি বৃষ্টিতে সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয়ে গেছে, এরপর আর ক্ষেত তৈরী করে চাষাবাদ করার সময় সুযোগও থাকছে না।