ঢাকা ০৯:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

দাকোপে বোরো ধান ও সূর্যমুখী চাষে ব্যাপক সাড়া পড়েছে

দাকোপ (খুলনা) সংবাদদাতা :
বাংলাদেশ ধান ও কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগীতায় খুলনার দাকোপে উপকূলীয় লবণাক্ত এলাকায় বোরোও সূর্যমুখী চাষে কৃষকরা লাভবান হওয়ায় গত বারের তুলনায় এবারও ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এবং দিনদিন এ চাষাবাদ বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায় উপকূলীয় এই উপজেলায় জানুয়ারী মাস থেকে লবণ পানির চাপ বাড়তে থাকে। ফলে বোরো মৌসুমে স্বাদু পানির অভাবে ও মাটিতে অতিরিক্ত লবণাক্তার কারণে প্রায় সব জমিই পতিত থাকে। তাই লবণাক্ত এই অঞ্চলের অধিকাংশ দরিদ্র জন গোষ্টির জমির উৎপাদনশীলতা ও কৃষকের আয় বৃদ্ধির লক্ষে বাংলাদেশ, ভারত ও অষ্ট্রেলিয়ার যৌথ অর্থায়নে এসিআইএআর প্রকল্পের সহযোগীতায় বাংলাদেশ ধান ও কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট এবং খুলনা বিশ^বিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে উপকূলীয় এলাকায় ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধি করণ প্রকল্পের মাধ্যমে ২০১৬ সাল থেকে অন্য স্থানের ন্যায় এ উপজেলার আনন্দ নগর, ছোট চালনা, খ্টাাইল, তিলডাঙ্গা ও পানখালী এলাকায় পরিচালিত হয়ে আসছে। উক্ত প্রকল্পের আওতায় গতবারের তুলনায় এবছর ছয় গুন চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে অর্থাৎ এবছর ২৮ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ এবং ১৫ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখীর চাষ করা হয়েছে। গতবার চাষ হয়েছিল ৪ হেক্টরে বোরো আর মাত্র ২ হেক্টরে সূর্যমুখী। এ বছর ওই প্রকল্পের আওতায় ১১৮ জন কৃষক অধিকাংশ জমিতে লবণ সহিঞ্চু ব্রিধান ৬৭ ও ২৮ জাতের ধান এবং সূর্যমুখী, ভূট্টা, মিষ্টিকুমড়া ও তরমুজের আবাদ করেছেন। এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আরো ৮০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছে বলে উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে। বোরো ও সূর্যমুখীর ফলনও হয়েছে ভাল।

খাটাইল এলাকার কৃষক আব্দুল রাজ্জাক শেখ জানান গতবার ৪ বিঘা জমিতে বোরো চাষ কওে ৩৩ শতকের বিঘাপ্রতি ৩৩ মন ধান পেয়েছিলেন। ভাল ফলন এবং লাভ পাওয়ায় এবার তিনি ৯ বিঘা জমিতে বোরো চাষ করেছেন। এবারও ৫০শতকের বিঘাপ্রতি প্রায় ৫০ মন ধান পাবেন বলে আশা ব্যক্ত করেন।

পানখালী এলাকার কৃষক মোঃ মোস্তাক ফকির বলেন এবার তিনি ১বিঘা জমিতে সূর্য মুখীর চাষ করেছেন। এবার তিনি ১০ থেকে ১২ মন ফল পাবেন বলে আশা করেন। গতবার চাষ করে ৮ মন ফল পেয়ে মাড়াই করে সারা বছরের তেল যোগান দিয়ে বাকিটা ২‘শ টাকা কেজি দরে বিক্রি করে বেশ লাভ করেন।

উপজেলা সিনিয়ার কৃষি অফিসার মোঃ মেহেদী হাসান বলেন লবণাক্তার কারনে কৃষকরা বোরো চাষ ভাল ফলন পায়না। রিসার্স সেন্টার থেকে যে জাতের ধান দেয় সেগুলো কৃষকের মাঝে প্রদর্শনী দিয়ে কৃষকদের বোরোচাষে আরো আগ্রহ বাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

এ বিষয়ে প্রকল্পের প্রধান গবেষকও ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (গাজীপুর) ড. মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন উপকূলীয় লবণাক্ত এলাকার অধিকাংশ দরিদ্র কৃষকদের জমির উৎপাদন শীলতা ও আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে আমাদের প্রকল্পের আওতায় লবন সহিঞ্চু ধানচাষে উদ্ভুদ্ধ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আগে শুষ্ক মৌসুমে যেখানে সব জমিই পতিত থাকতো এখন সেখানে শুধু সবুজের সমারোহ। ভবিষ্যতে কৃষকের পানির প্রাপ্যতা বৃদ্ধি করতে পারলে বোরো আবাদ আগামীতে আরো বাড়বে বলে তিনি মনে করেন।

Tag :
About Author Information

বাংলার দিনকাল

Editor and publisher
জনপ্রিয় সংবাদ

খুবিতে ‘জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ উদ্বোধন

দাকোপে বোরো ধান ও সূর্যমুখী চাষে ব্যাপক সাড়া পড়েছে

প্রকাশিত সময় ০৬:২৫:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ এপ্রিল ২০১৯

দাকোপ (খুলনা) সংবাদদাতা :
বাংলাদেশ ধান ও কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগীতায় খুলনার দাকোপে উপকূলীয় লবণাক্ত এলাকায় বোরোও সূর্যমুখী চাষে কৃষকরা লাভবান হওয়ায় গত বারের তুলনায় এবারও ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এবং দিনদিন এ চাষাবাদ বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায় উপকূলীয় এই উপজেলায় জানুয়ারী মাস থেকে লবণ পানির চাপ বাড়তে থাকে। ফলে বোরো মৌসুমে স্বাদু পানির অভাবে ও মাটিতে অতিরিক্ত লবণাক্তার কারণে প্রায় সব জমিই পতিত থাকে। তাই লবণাক্ত এই অঞ্চলের অধিকাংশ দরিদ্র জন গোষ্টির জমির উৎপাদনশীলতা ও কৃষকের আয় বৃদ্ধির লক্ষে বাংলাদেশ, ভারত ও অষ্ট্রেলিয়ার যৌথ অর্থায়নে এসিআইএআর প্রকল্পের সহযোগীতায় বাংলাদেশ ধান ও কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট এবং খুলনা বিশ^বিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে উপকূলীয় এলাকায় ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধি করণ প্রকল্পের মাধ্যমে ২০১৬ সাল থেকে অন্য স্থানের ন্যায় এ উপজেলার আনন্দ নগর, ছোট চালনা, খ্টাাইল, তিলডাঙ্গা ও পানখালী এলাকায় পরিচালিত হয়ে আসছে। উক্ত প্রকল্পের আওতায় গতবারের তুলনায় এবছর ছয় গুন চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে অর্থাৎ এবছর ২৮ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ এবং ১৫ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখীর চাষ করা হয়েছে। গতবার চাষ হয়েছিল ৪ হেক্টরে বোরো আর মাত্র ২ হেক্টরে সূর্যমুখী। এ বছর ওই প্রকল্পের আওতায় ১১৮ জন কৃষক অধিকাংশ জমিতে লবণ সহিঞ্চু ব্রিধান ৬৭ ও ২৮ জাতের ধান এবং সূর্যমুখী, ভূট্টা, মিষ্টিকুমড়া ও তরমুজের আবাদ করেছেন। এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আরো ৮০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছে বলে উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে। বোরো ও সূর্যমুখীর ফলনও হয়েছে ভাল।

খাটাইল এলাকার কৃষক আব্দুল রাজ্জাক শেখ জানান গতবার ৪ বিঘা জমিতে বোরো চাষ কওে ৩৩ শতকের বিঘাপ্রতি ৩৩ মন ধান পেয়েছিলেন। ভাল ফলন এবং লাভ পাওয়ায় এবার তিনি ৯ বিঘা জমিতে বোরো চাষ করেছেন। এবারও ৫০শতকের বিঘাপ্রতি প্রায় ৫০ মন ধান পাবেন বলে আশা ব্যক্ত করেন।

পানখালী এলাকার কৃষক মোঃ মোস্তাক ফকির বলেন এবার তিনি ১বিঘা জমিতে সূর্য মুখীর চাষ করেছেন। এবার তিনি ১০ থেকে ১২ মন ফল পাবেন বলে আশা করেন। গতবার চাষ করে ৮ মন ফল পেয়ে মাড়াই করে সারা বছরের তেল যোগান দিয়ে বাকিটা ২‘শ টাকা কেজি দরে বিক্রি করে বেশ লাভ করেন।

উপজেলা সিনিয়ার কৃষি অফিসার মোঃ মেহেদী হাসান বলেন লবণাক্তার কারনে কৃষকরা বোরো চাষ ভাল ফলন পায়না। রিসার্স সেন্টার থেকে যে জাতের ধান দেয় সেগুলো কৃষকের মাঝে প্রদর্শনী দিয়ে কৃষকদের বোরোচাষে আরো আগ্রহ বাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

এ বিষয়ে প্রকল্পের প্রধান গবেষকও ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (গাজীপুর) ড. মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন উপকূলীয় লবণাক্ত এলাকার অধিকাংশ দরিদ্র কৃষকদের জমির উৎপাদন শীলতা ও আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে আমাদের প্রকল্পের আওতায় লবন সহিঞ্চু ধানচাষে উদ্ভুদ্ধ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আগে শুষ্ক মৌসুমে যেখানে সব জমিই পতিত থাকতো এখন সেখানে শুধু সবুজের সমারোহ। ভবিষ্যতে কৃষকের পানির প্রাপ্যতা বৃদ্ধি করতে পারলে বোরো আবাদ আগামীতে আরো বাড়বে বলে তিনি মনে করেন।