মঙ্গলবার, ১৬ অগাস্ট ২০২২, ১০:১৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
তেরখাদায় অস্ত্রসহ একাধিক মামলার আসামি আটক তেরখাদায় নানা কর্মসূচির মাধ্যমে জাতীয় শোক দিবস পালন জাতীয় শোক দিবসের বিশেষ নিবন্ধ : ১৫ আগষ্ট বাঙালি জাতির একটি কলঙ্কিত ইতিহাস যশোরে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির উদ্যোগে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত সাভারে সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিকের উপর হামলা, হত্যার চেষ্টা শোকাবহ আগস্টে অপশক্তি ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান : এমপি সালাম মূর্শেদী জাতীয় শোক দিবসে বিশেষ প্রতিবেদন : সেই শিশু আজ জগৎ জোড়া কয়রার দক্ষিণ বেদকাশীর রিংবাঁধ ভেঙ্গে এলাকা প্লাবিত, দূর্ভোগে হাজারো মানুষ ভেড়ামারায় তেল পাম্পে ট্যাংকি বিস্ফোরণে নিহত-২, আহত-৪ শিক্ষা কারিকুলায় আঞ্চলিক সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন : উপাচার্য

কয়রায় বাগদা চিংড়ির ঘেরে ভয়াবহ মড়ক; দিশেহারা চাষীরা

সংবাদদাতার নাম :
  • প্রকাশিত সময় রবিবার, ২১ এপ্রিল, ২০১৯
  • ১৬২৭ পড়েছেন

অরবিন্দ কুমার মণ্ডল,কয়রা (খুলনা) : 
খুলনার উপকূলীয় অঞ্চল কয়রা উপজেলার বিভিন্ন ঘেরে মারা যাচ্ছে বাগদা চিংড়ি। এর কারণ হিসেবে চাষীরা ভাইরাস সংক্রমণের কথা বলছেন। তবে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এস এম আলাউদ্দীন আহমেদ বলছেন অন্য কথা।

তিনি বলেন, মরা চিংড়িতে আমরা কোনো রোগ-বালাই খুঁজে পাচ্ছি না। তিনি আরো বলেন, ঘেরে চিংড়ি চাষের জন্য পর্যাপ্ত পানির অভাব রয়েছে। তা ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তণের কারণে বৃষ্টির প্রভাব ও প্রচন্ড তাপদাহে পানিতে লবণাক্ততার পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার ফলে চিংড়ি মারা যাচ্ছে।

কয়রা সদর ইউনিয়নের চিংড়ি চাষী আবুল হোসেন সরদার বলেন, ২০০৩ সাল থেকে আমি ঘের করে আসছি। এ বারও ১৫ বিঘা জমিতে বাগদা চিংড়ির চাষ করেছি। কিন্তু বছরের প্রথম থেকেই চিংড়ির পোনায় মড়ক লেগেছে। পোনা ছাড়ার ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে বেশীর ভাগ পোনা মারা যায়। তিনি দাবী করেন, তাঁর ঘেরে পর্যাপ্ত পানি রয়েছে। তা ছাড়া নিয়মিত পরিচর্যা থেকে শুরু করে পর্যাপ্ত খাদ্যও দিয়ে থাকেন।উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের সাহেব আলী বলেন, তিনি এবার ১০ বিঘা জমিতে চিংড়ি চাষ করেছেন। বছরের প্রথমে অবমুক্ত করা বাগদা চিংড়ি মে মাসের শেষের দিকে মারা গেছে। এতে তাঁর প্রায় ২ লাখ টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে। তাঁর এলাকার ঘেরগুলোতে পর্যাপ্ত পানি নেই বলে জানান তিনি। কয়রার অধিকাংশ চিংড়ি চাষীরা বলেন, উপজেলার বেশির ভাগ ঘেরেই কম বেশী বাগদা চিংড়ি মারা যাচ্ছে। যেসব চিংড়ি অস্বাভাবিকভাবে মারা যাচ্ছে, বরফে দিলেই সেগুলোর রং পাল্টে যাচ্ছে এবং অপেক্ষাকৃত নরম হয়ে পড়ছে। তাই এগুলো বিক্রিও করা যাচ্ছে না।

উপজেলা মৎস্য কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে,কয়রায় ছোট-বড় প্রায় চার হাজার মৎস্য ঘের রয়েছে। এর আয়তন প্রায় ৫ হাজার হেক্টর। এ বছর প্রায় ঘেরেই বাগদা চিংড়ি মারা যাচ্ছে। গত বছর চিংড়িতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ছয় হাজার মেট্রিক টন। কিন্তু বাগদা চিংড়ি মরে যাওয়ায় ঐ লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। গত বারের মতো এবারও মৌসুমের শুরুতেই ব্যাপক হারে বাগদা চিংড়ি মারা যাওয়ায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বাগদা চিংড়ির ঘের গুলোতে খাবারের সংকট রয়েছে বলে অনেক চাষী মন্তব্য করেন। এ ভাবেই বছরের শুরুতেই যে হারে বাগদা চিংড়িতে মড়ক লেগেছে তাতে কয়রার মৎস্য চাষীদের পথে বসার উপক্রম হয়েছে। অন্যদিকে বৈদশিক মুদ্রা অর্জন থেকে বঞ্চিত হবে দেশ।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এস এম আলাউদ্দীন আহমেদ আরও বলেন, বাগদা চাষের জন্য উপযুক্ত তাপমাত্রা ২৫ থেকে ৩০ ডিগ্রী সেলসিয়াস। আর লবণ সহিষ্ণু মাত্রা হলো সর্বোচ্চ ২৫ পার্টস পার থাউস্যান্ড (পিপিটি)। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন জনিত কারণে পরিবেশের তাপমাত্রা অনেক বেড়ে গেছে। পাশাপাশি চিংড়ি চাষের জন্য যে পরিমাণ পানির প্রয়োজন তা ঘেরগুলোতে নেই। এ কারণে লবণাক্ততা বেড়ে গিয়ে গরমের কারণে বাগদা চিংড়ি মারা যাচ্ছে। তা ছাড়া হঠাৎ বৃষ্টি হলে তাপমাত্রা কমে যাচ্ছে। তাপমাত্রার এ তাৎক্ষণিক পরিবর্তনে চিংড়ির ক্ষতি হচ্ছে। এ সকল সমস্যা সমাধানে চাষীদের নিয়মিত কয়রা উপজেলা মৎস্য দপ্তরের মাধ্যমে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করার জন্য অনুরোধ করা হলো

এ ধরনের আরো সংবাদ

© All rights reserved by www.banglardinkal.com (Established in 2017)

Hwowlljksf788wf-Iu