দুদিনের সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এখন ঢাকায়

140

ডেস্ক রিপোর্ট :

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে দুদিনের সফরে ঢাকায় এসে পৌঁছেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছাড়াও বিভিন্ন দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা তার সফরসঙ্গী হিসাবে যোগ দিয়েছেন। আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে তাকে বহনকারী বিমানটি। বিমানবন্দরে মোদিকে ফুল দিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসময় ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেয়া হয়। স্বাগত জানানো হয় ২১ বার তোপধ্বনি দিয়ে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে শেখ হাসিনা অভ্যর্থনা মঞ্চে পৌঁছালে তিন বাহিনীর সুসজ্জিত একটি দল গার্ড অব অনার দেয়। এরপর মোদিকে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য ও তিন বাহিনীর প্রধানগণের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী। বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিকতা সেরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধে নিহত শহীদদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য রওনা হন।

এরপর ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি জাদুঘরে জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। দুপুরের দিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এ সময় তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদর্শন করে। বিউগলে বাজানো হয় করুণ সুর। পরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন। তিনি স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন। বিকেলে জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে স্বাধীনতা দিবসের জাতীয় অনুষ্ঠানে তিনি যোগ দেন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এর আগে ২০১৫ সালে বাংলাদেশ সফর করেছিলেন। করোনাকালে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর এটাই প্রথম বিদেশ সফর এবং তার গন্তব্য প্রতিবেশি বাংলাদেশ। সফর প্রস্তুতির সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মোদির সফরে অন্তত ৬টি সমঝোতা স্মারক সইয়ের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। তবে কোন চুক্তি হচ্ছে না। সফর বিষয়ে একটি যৌথ ঘোষণা সই হবে, যাতে আগামী পথ চলার নির্দেশনা থাকবে। বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার পর বাণিজ্য ক্ষেত্রে সুবিধার ধরন কী হবে, তা নিয়ে ‘কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট (সেপা)’ চুক্তির প্রস্তাব করেছে ভারত। বর্তমানে বাংলাদেশ সাফটা চুক্তির আওতায় ভারতের কাছ থেকে বাণিজ্য সুবিধা পেয়ে থাকে। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়ন ঘটলে সেই সুবিধার ধরনে কী হবে, সে ব্যাপারে একটি যৌথ স্টাডির বিষয় যৌথ ঘোষণায় থাকতে পারে। বাংলাদেশের ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউট এবং ভারতের একটি প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে এ স্টাডি পরিচালনা করবে। অভিন্ন নদীগুলোর পানির ব্যবস্থাপনা নিয়ে দুই নেতার নির্দেশনা যৌথ ঘোষণায় থাকতে পারে। সীমান্ত হত্যা, ভারতের ঋণের বিভিন্ন প্রকল্পসহ সব ইস্যুতেই আলোচনা হবে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

সফরকালে মুজিবনগর স্বাধীনতা সড়ক, ঢাকা-জলপাইগুড়ি যাত্রীবাহী ট্রেন সার্ভিস, বঙ্গবন্ধু-বাপু মিউজিয়াম উদ্বোধন হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যৌথভাবে এসব উদ্বোধন করবেন। ভারতের সরকার প্রধানের সফরে কানেকটিভিটি, বাণিজ্য, কোভিড প্রতিরোধ, পানি বণ্টন, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা, বিদ্যুৎ সহযোগিতা ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

রাজধানী ঢাকার যেসব রাস্তায় মোদি চলাচল করেন, ওইসব রাস্তা বাংলাদেশ ও ভারতের জাতীয় পতাকা দিয়ে মনোরমভাবে সাজানো হয়েছে। মোদির সফর ঘিরে নেওয়া হয়েছে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা। রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে যান চলাচল সীমিত করা হয়েছে।

সফরকালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন। বৈঠকের পর দুই দেশের মধ্যে পাঁচটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হতে পারে। ইতোমধ্যে তিনটি চূড়ান্ত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যৌথভাবে ট্রেন সার্ভিসের উদ্বোধন করবেন। পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভার নির্বাচন সামনে থাকায় সেখানকার নির্বাচন কমিশন এভাবে ট্রেন সার্ভিস উদ্বোধনে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় শুধু বাংলাদেশ অংশে চালানো হবে। বাংলাদেশ-ভারত স্বাধীনতা সড়কের উদ্বোধন হবে। মুক্তিযুদ্ধকালে এই সড়কে ১৭টি গাড়ির বহর নিয়ে মুজিবনগরে এসে অস্থায়ী সরকারের শপথ অনুষ্ঠিত হয়। মুজিবনগর থেকে নদীয়া হয়ে কলকাতা পর্যন্ত গেছে এ সড়ক। সফরকালে আশুগঞ্জে একটি সমাধিসৌধ উদ্বোধন করা হবে। মুক্তিযুদ্ধে যেসব ভারতীয় সৈন্য আত্মাহুতি দিয়েছেন, তাদের স্মরণে এই সমাধিসৌধ।

এছাড়াও কুষ্টিয়ার শিলাইদহে কুটিবাড়িতে ভারতের অর্থায়নে যে সংস্কার কাজ হয়েছে, তারও উদ্বোধন করা হবে। বঙ্গবন্ধুকে গান্ধী শান্তি পুরস্কারে ভূষিত করার পর তার একটা আনুষ্ঠানিকতা থাকবে। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ৫০ বছর পালন উপলক্ষ্যে ১৮ দেশে যৌথভাবে কর্মসূচি উদযাপন করবে বাংলাদেশ ও ভারত। এই ১৮ দেশের নাম ঘোষণা করা হবে। উদযাপনে কী কী কর্মসূচি থাকবে, সেটিও ঘোষণা হবে।

দুদিনের সফরের দ্বিতীয় দিনে ২৭শে মার্চ সাতক্ষীরা ও গোপালগঞ্জ যাবেন মোদি। তিনি সাতক্ষীরার শ্যামনগরে যশোরেশ্বরী মন্দিরে প্রার্থনা করবেন। একই সঙ্গে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। সাতক্ষীরা সফর শেষে তিনি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায়। সেখানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। টুঙ্গিপাড়ায় তাকে স্বাগত জানাবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখান থেকে কাশিয়ানির ওড়াকান্দিতে মতুয়া সম্প্রদায়ের মন্দির পরিদর্শন করবেন। এই মন্দির পরিদর্শন শেষে মতুয়া সম্প্রদায়ের নেতাদের সাথে মতবিনিময় করবেন। সেখান থেকে হেলিকপ্টারযোগে ঢাকায় ফিরবেন। ওই দিনই তার দিল্লি ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here