ঢাকা ০৯:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

৪০দিনেও হদিস মেলেনি হ্যাপির

বেল্লাল হোসেন সজল :
নগরীর খালিশপুর মেগার মোড় এলাকার চায়ের দোকানদার মাজেদা বেগমের মেয়ে হ্যাপী ফারজানা (১৪) নিখোঁজ। গত ১৬ মে বৈকালী ইউসুফ টেকনিক্যাল স্কুল থেকে বাসায় ফেরার পথে শেষবার মুঠোফোনে কথা বলেন মায়ের সাথে। এরপর থেকে তার মুঠোফোন বন্ধ। শতচেষ্ঠা করেও মা খুজে পাননি মেয়েকে। মায়ের অভিযোগ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর আন্তরিকতার অভাবে এতদিনেও সন্ধান মিলছে না হ্যাপীর।

চোঁখের জল আর উপরওয়ালার কাছে প্রাথনা ছাড়া বুঝি কোন উপায় নেই মাজেদা বেগমের। মেয়ে হারিয়েছে এক মাসেরও বেশি সময়। গত মাসের ১৬ তারিখে হারিয়েছে তার মেঝ মেয়ে। সেদিন থেকে তার চায়ের দোকান বন্ধ। রোজ ফজর থেকে শুরু হয় সুশীল সামাজের মানুষের দারে দারে সাহায্যের অনুরোধ। কে করবে সাহায্য? লিখে দেবে একটা ভদ্র-সুশীল ভাষায় দরখাস্ত। সুশীল সমাজের মানুষরা তো আর মুখের ভাষা বোঝে না। সে জন্য যে অফিসে যায় না কেন, সবাই নাকি তাকে বলে কেঁদে কোন লাভ নাই, লিখিত অভিযোগ নিয়ে আসো। থানার প্রতিটি মানুষই এখন তাকে চেনে। খুলনা শহরের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অফিসগুলো, আদালত, মানবধিকার, সেচ্ছাসেবী সংগঠন সব জায়গাতেই বিচরন করেছেন। তারপরও তার মেয়েকে সন্ধানের তৎপরতা কতটুকু তা আর নাই বললাম। হ্যাপীর মা জানান, মেয়ে হারাবার এক সপ্তাহ পরে তার বড় ভাই রুবেল এর বন্ধু বাপ্পীর ফোনে ভারত থেকে একটা ফোন আসে। সে বলে আমি একপথচারী। আমার সাথে হ্যাপীর কথা হয়েছে। সে খুব বিপদে আছে। তাকে ভারতের গুজরাটে বিক্রি করা হয়েছে। তার উপর নির্যাতন করা হচ্ছে। আপনি তার পরিবারের সাথে আমাকে কথা বলাই দেন। আর একটি ইমো নাম্বার দেন। আমি কিছু ছবি পাঠাতে চাই। এখানে যে ছেলে তাকে ভারতে বিক্রি করেছে তার ছবি আছে। সে নওয়াপাড়া থাকে। এরপর একবার আমি ঐ লোকের সাথে কথা বলি। সে আমাদের ৬ টা ছবি দিছে আর যে বিক্রি করেছে তার নাম বলেছে। এরপর ঐদিনই আমি খালিশপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী- ১০৪২, তারিখ-২২/০৫/২০১৯ করি। এ বিষয়ে সিনিয়ার সহকারী পুলিশ কমিশনার (খালিশপুর জোন) মোঃ তারিক রহমানকে বিষটি অবগত করলে, তিনি মামলা করার পরামর্শ দেন।

এ ছাড়া খালিশপুর থানার এস আই মোঃ মান্নান এ প্রতিবেদক কে জানান, আমাদের কার্যক্রম চলছে।

Tag :
About Author Information

বাংলার দিনকাল

Editor and publisher
জনপ্রিয় সংবাদ

খুবিতে ‘জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ উদ্বোধন

৪০দিনেও হদিস মেলেনি হ্যাপির

প্রকাশিত সময় ০৮:০৭:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ জুন ২০১৯

বেল্লাল হোসেন সজল :
নগরীর খালিশপুর মেগার মোড় এলাকার চায়ের দোকানদার মাজেদা বেগমের মেয়ে হ্যাপী ফারজানা (১৪) নিখোঁজ। গত ১৬ মে বৈকালী ইউসুফ টেকনিক্যাল স্কুল থেকে বাসায় ফেরার পথে শেষবার মুঠোফোনে কথা বলেন মায়ের সাথে। এরপর থেকে তার মুঠোফোন বন্ধ। শতচেষ্ঠা করেও মা খুজে পাননি মেয়েকে। মায়ের অভিযোগ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর আন্তরিকতার অভাবে এতদিনেও সন্ধান মিলছে না হ্যাপীর।

চোঁখের জল আর উপরওয়ালার কাছে প্রাথনা ছাড়া বুঝি কোন উপায় নেই মাজেদা বেগমের। মেয়ে হারিয়েছে এক মাসেরও বেশি সময়। গত মাসের ১৬ তারিখে হারিয়েছে তার মেঝ মেয়ে। সেদিন থেকে তার চায়ের দোকান বন্ধ। রোজ ফজর থেকে শুরু হয় সুশীল সামাজের মানুষের দারে দারে সাহায্যের অনুরোধ। কে করবে সাহায্য? লিখে দেবে একটা ভদ্র-সুশীল ভাষায় দরখাস্ত। সুশীল সমাজের মানুষরা তো আর মুখের ভাষা বোঝে না। সে জন্য যে অফিসে যায় না কেন, সবাই নাকি তাকে বলে কেঁদে কোন লাভ নাই, লিখিত অভিযোগ নিয়ে আসো। থানার প্রতিটি মানুষই এখন তাকে চেনে। খুলনা শহরের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অফিসগুলো, আদালত, মানবধিকার, সেচ্ছাসেবী সংগঠন সব জায়গাতেই বিচরন করেছেন। তারপরও তার মেয়েকে সন্ধানের তৎপরতা কতটুকু তা আর নাই বললাম। হ্যাপীর মা জানান, মেয়ে হারাবার এক সপ্তাহ পরে তার বড় ভাই রুবেল এর বন্ধু বাপ্পীর ফোনে ভারত থেকে একটা ফোন আসে। সে বলে আমি একপথচারী। আমার সাথে হ্যাপীর কথা হয়েছে। সে খুব বিপদে আছে। তাকে ভারতের গুজরাটে বিক্রি করা হয়েছে। তার উপর নির্যাতন করা হচ্ছে। আপনি তার পরিবারের সাথে আমাকে কথা বলাই দেন। আর একটি ইমো নাম্বার দেন। আমি কিছু ছবি পাঠাতে চাই। এখানে যে ছেলে তাকে ভারতে বিক্রি করেছে তার ছবি আছে। সে নওয়াপাড়া থাকে। এরপর একবার আমি ঐ লোকের সাথে কথা বলি। সে আমাদের ৬ টা ছবি দিছে আর যে বিক্রি করেছে তার নাম বলেছে। এরপর ঐদিনই আমি খালিশপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী- ১০৪২, তারিখ-২২/০৫/২০১৯ করি। এ বিষয়ে সিনিয়ার সহকারী পুলিশ কমিশনার (খালিশপুর জোন) মোঃ তারিক রহমানকে বিষটি অবগত করলে, তিনি মামলা করার পরামর্শ দেন।

এ ছাড়া খালিশপুর থানার এস আই মোঃ মান্নান এ প্রতিবেদক কে জানান, আমাদের কার্যক্রম চলছে।